১. কুমিল্লার ময়নামতিতে কোন শতকের নগর ছিল?
(ক) তৃতীয় শতকের
(খ) চতুর্থ শতকের
(গ) সাত-আট শতকের
(ঘ) নবম শতকের
উত্তর: (গ) সাত-আট শতকের।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যে বলা হয়েছে কুমিল্লার ময়নামতিতে সাত-আট শতকের দিকে নগর ছিল।
২. বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় কোন শতকের নগর গড়ে ওঠে?
(ক) খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকের
(খ) খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পরে
(গ) খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকের
(ঘ) খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকের
উত্তর: (খ) খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পরে।
ব্যাখ্যা: বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় তৃতীয় শতকের পরে নগর গড়ে ওঠে।
৩. মহাস্থানগড়ের চেয়েও পুরানো নগর কোথায় পাওয়া গেছে?
(ক) সোনারগাঁওয়ে
(খ) উয়ারী ও বটেশ্বরে
(গ) লালবাগে
(ঘ) পাহাড়পুরে
উত্তর: (খ) উয়ারী ও বটেশ্বরে।
ব্যাখ্যা: এগুলোর চেয়ে পুরানো নগর পাওয়া গেছে উয়ারী ও বটেশ্বরে।
৪. উয়ারী ও বটেশ্বর কোন জেলার দুটি গ্রাম?
(ক) ঢাকা
(খ) কুমিল্লা
(গ) নরসিংদী
(ঘ) বগুড়া
উত্তর: (গ) নরসিংদী।
ব্যাখ্যা: উয়ারী ও বটেশ্বর নরসিংদী জেলার দুটি গ্রাম।
৫. উয়ারী-বটেশ্বরে কত শতকে নগর গড়ে ওঠে বলে ধারণা করা হয়?
(ক) খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই হাজার
(খ) খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই-সাত
(গ) খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই-চার
(ঘ) খ্রিষ্টপূর্ব সাত
উত্তর: (গ) খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই-চার।
ব্যাখ্যা: ধারণা করা হয়, সেখানে খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই-চার শতকে নগর গড়ে ওঠে।
৬. উয়ারী-বটেশ্বরে কত সালে মাটি খনন করে প্রাচীন নগরের রাস্তার নমুনা পাওয়া গেছে?
(ক) ১৯৩৩ সালে
(খ) ১৯৫৫ সালে
(গ) ১৯৫৬ সালে
(ঘ) ২০০০ সালে
উত্তর: (ঘ) ২০০০ সালে।
ব্যাখ্যা: ২০০০ সালে মাটি খনন করে প্রাচীন নগরের রাস্তার নমুনা পাওয়া গেছে।
৭. নরসিংদী অঞ্চলের শীতলক্ষ্যা নদী কোন নদের একটি শাখা?
(ক) মেঘনা
(খ) ব্রহ্মপুত্র
(গ) পদ্মা
(ঘ) যমুনা
উত্তর: (খ) ব্রহ্মপুত্র।
ব্যাখ্যা: শীতলক্ষ্যা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা।
৮. ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীনকালে উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলের মানুষ কোন পথে বাণিজ্য করত?
(ক) মেঘনা নদীপথে
(খ) ব্রহ্মপুত্র নদপথে
(গ) শীতলক্ষ্যা নদীপথে
(ঘ) পদ্মা নদীপথে
উত্তর: (খ) ব্রহ্মপুত্র নদপথে।
ব্যাখ্যা: ব্রহ্মপুত্র নদপথে মানুষ বাণিজ্য করত।
৯. ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বঙ্গোপসাগর দিয়ে এখানকার মানুষের কোন সাম্রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ছিল?
(ক) গ্রিক সাম্রাজ্যের
(খ) পারস্য সাম্রাজ্যের
(গ) রোমান সাম্রাজ্যের
(ঘ) মুঘল সাম্রাজ্যের
উত্তর: (গ) রোমান সাম্রাজ্যের।
ব্যাখ্যা: বঙ্গোপসাগর হয়ে সমুদ্রপথে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ছিল।
১০. ১৯৩৩ সালে উয়ারী গ্রামে মাটি কাটার সময় শ্রমিকরা কী পেয়েছিল?
(ক) সোনার মূর্তি
(খ) একটা পাত্রে জমানো কিছু মুদ্রা
(গ) মাটির হাঁড়ি
(ঘ) রূপার থালা
উত্তর: (খ) একটা পাত্রে জমানো কিছু মুদ্রা।
ব্যাখ্যা: ১৯৩৩ সালে একটা পাত্রে জমানো কিছু মুদ্রা পাওয়া যায়।
১১. ১৯৩৩ সালে পাওয়া মুদ্রাগুলো কে সংগ্রহ করেছিলেন?
(ক) হাবিবুল্লাহ পাঠান
(খ) স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান
(গ) একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ
(ঘ) একজন শ্রমিক
উত্তর: (খ) স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান।
ব্যাখ্যা: সেখানকার স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান সেখান থেকে ২০-৩০টি মুদ্রা সংগ্রহ করেন।
১২. হানিফ পাঠান যে মুদ্রাগুলো সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলো কোন ধাতুর ছিল?
(ক) সোনা
(খ) তামা
(গ) ব্রোঞ্জ
(ঘ) রৌপ্য (রুপা)
উত্তর: (ঘ) রৌপ্য (রুপা)।
ব্যাখ্যা: এগুলো এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরানো রৌপ্যমুদ্রা।
১৩. ১৯৫৫ সালে বটেশ্বর গ্রামের শ্রমিকরা মাটি খুঁড়ে কী পেয়েছিল?
(ক) লোহার টুকরা
(খ) তামার পাত্র
(গ) রৌপ্যমুদ্রা
(ঘ) পাথরের পুঁতি
উত্তর: (ক) লোহার টুকরা।
ব্যাখ্যা: ১৯৫৫ সালে শ্রমিকরা দুটি পুরানো লোহার টুকরা পান।
১৪. ১৯৫৫ সালে পাওয়া লোহার টুকরাগুলোর আকার কেমন ছিল?
(ক) গোলাকার
(খ) চতুর্ভুজাকৃতির
(গ) ত্রিকোণাকৃতির
(ঘ) লম্বাটে
উত্তর: (গ) ত্রিকোণাকৃতির।
ব্যাখ্যা: এগুলোর ত্রিকোণাকৃতির এবং একদিকের সুচালো।
১৫. উয়ারী গ্রামে ১৯৫৬ সালে মাটি কাটার সময় কী পাওয়া যায়?
(ক) তামার পাত্র
(খ) রৌপ্যমুদ্রার একটি ভান্ডার
(গ) স্বর্ণমুদ্রা
(ঘ) পাথরের মূর্তি
উত্তর: (খ) রৌপ্যমুদ্রার একটি ভান্ডার।
ব্যাখ্যা: ১৯৫৬ সালে উয়ারী গ্রামে রৌপ্যমুদ্রার একটি ভান্ডার পাওয়া যায়।
১৬. ১৯৫৬ সালের রৌপ্যমুদ্রার ভান্ডারে কতগুলো মুদ্রা ছিল?
(ক) তিন হাজারের মতো
(খ) চার হাজারের মতো
(গ) পাঁচ হাজারের মতো
(ঘ) দশ হাজারের মতো
উত্তর: (খ) চার হাজারের মতো।
ব্যাখ্যা: সেখানে চার হাজারের মতো মুদ্রা ছিল।
১৭. হানিফ পাঠানের ছেলের নাম কী?
(ক) হাবিবুল্লাহ পাঠান
(খ) রহিম পাঠান
(গ) করিম পাঠান
(ঘ) আব্দুল্লাহ পাঠান
উত্তর: (ক) হাবিবুল্লাহ পাঠান।
ব্যাখ্যা: হানিফ পাঠানের পুত্র হাবিবুল্লাহ পাঠান।
১৮. হাবিবুল্লাহ পাঠান উয়ারী-বটেশ্বর থেকে পাওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলো কোথায় জমা দেন?
(ক) স্কুলে
(খ) জাদুঘরে
(গ) নিজের কাছে রাখেন
(ঘ) বিদেশে বিক্রি করেন
উত্তর: (খ) জাদুঘরে।
ব্যাখ্যা: পরে তিনি সেগুলো জাদুঘরে জমা দেন।
১৯. প্রত্নতত্ত্ববিদেরা উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় খননকাজ শুরু করেন কত সালে?
(ক) ১৯৩৩ সালে
(খ) ১৯৫৫ সালে
(গ) ১৯৫৬ সালে
(ঘ) ২০০০ সালে
উত্তর: (ঘ) ২০০০ সালে।
ব্যাখ্যা: ২০০০ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা খননকাজ শুরু করেন।
২০. খননকাজে মাটি নিচে কত বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগরের সন্ধান মেলে?
(ক) এক হাজার
(খ) দুই হাজার
(গ) আড়াই হাজার
(ঘ) তিন হাজার
উত্তর: (গ) আড়াই হাজার।
ব্যাখ্যা: আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগরের সন্ধান মেলে।
২১. উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় কয়টি পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে?
(ক) বিশটি
(খ) ত্রিশটি
(গ) চল্লিশটি
(ঘ) পঞ্চাশটি
উত্তর: (ঘ) পঞ্চাশটি।
ব্যাখ্যা: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় পঞ্চাশটি পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে।
২২. নিচের কোনটি উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশের পুরানো জায়গার নাম নয়?
(ক) রাজার টেক
(খ) সোনার তলা
(গ) কেন্দুয়া
(ঘ) মহাস্থানগড়
উত্তর: (ঘ) মহাস্থানগড়।
ব্যাখ্যা: মহাস্থানগড় বগুড়ায় অবস্থিত, এটি উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে নয়।
২৩. টঙ্গীর টেক কোন এলাকায় অবস্থিত?
(ক) কুমিল্লায়
(খ) বগুড়ায়
(গ) উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে
(ঘ) শিবপুরে
উত্তর: (গ) উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে।
ব্যাখ্যা: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় পঞ্চাশটি জায়গার মধ্যে একটি হলো টঙ্গীর টেক।
২৪. এসব গ্রামে কীসের প্রমাণ মিলেছে?
(ক) প্রাচীন বসতির
(খ) আধুনিক নগরের
(গ) বিশাল কারখানার
(ঘ) সমুদ্রবন্দরের
উত্তর: (ক) প্রাচীন বসতির।
ব্যাখ্যা: এসব গ্রামে প্রাচীন বসতির প্রমাণ মিলেছে।
২৫. প্রাচীনকালে এই নগরটি বিশ্বজুড়ে কী নামে পরিচিত ছিল?
(ক) সুবর্ণগ্রাম
(খ) সোনাগড়া
(গ) তাম্রলিপি
(ঘ) সোনারগাঁ
উত্তর: (খ) সোনাগড়া।
ব্যাখ্যা: এই সভ্যতা প্রাচীনকালে সোনাগড়া নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল।
২৬. উয়ারী-বটেশ্বর থেকে শিবপুর উপজেলা কত দূরে অবস্থিত?
(ক) ৫ কিলোমিটার
(খ) ۸ কিলোমিটার
(গ) ১০ কিলোমিটার
(ঘ) ১২ কিলোমিটার
উত্তর: (খ) ৮ কিলোমিটার।
ব্যাখ্যা: উয়ারী-বটেশ্বর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শিবপুর উপজেলা।
২৭. শিবপুর উপজেলার মন্দিরভিটায় কী আবিষ্কৃত হয়েছে?
(ক) একটি দুর্গ
(খ) একটি বৌদ্ধ পদ্মমন্দির
(গ) একটি শিবমন্দির
(ঘ) একটি মসজিদ
উত্তর: (খ) একটি বৌদ্ধ পদ্মমন্দির।
ব্যাখ্যা: এখানকার মন্দিরভিটায় একটি বৌদ্ধ পদ্মমন্দির আবিষ্কৃত হয়েছে।
২৮. শিবপুর উপজেলার জানখার টেক গ্রামে কীসের সন্ধান পাওয়া গেছে?
(ক) বৌদ্ধ পদ্মমন্দির
(খ) বৌদ্ধ বিহারের
(গ) রৌপ্যমুদ্রার
(ঘ) লোহার অস্ত্রের
উত্তর: (খ) বৌদ্ধ বিহারের।
ব্যাখ্যা: জানখার টেক গ্রামে একটি বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে।
২৯. 'ইতিহাসবিদ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) যিনি মাটি খুঁড়েন
(খ) যিনি ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ
(গ) যিনি মুদ্রা সংগ্রহ করেন
(ঘ) যিনি প্রাচীনকালের মানুষ
উত্তর: (খ) যিনি ইতিহাস বিষয়ে অভিজ্ঞ।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩০. 'দুর্গ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) থাকার জায়গা
(খ) শত্রুরা সহজে প্রবেশ করতে পারে না এমন স্থান
(গ) রাজার প্রাসাদ
(ঘ) মাটির নিচের শহর
উত্তর: (খ) শত্রুরা সহজে প্রবেশ করতে পারে না এমন স্থান।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩১. 'নিদর্শন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নির্দেশ
(খ) প্রমাণ বা উদাহরণ
(গ) মূর্তি
(ঘ) মুদ্রা
উত্তর: (খ) প্রমাণ বা উদাহরণ।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩২. 'প্রত্নতত্ত্ববিদ' কারা?
(ক) যারা প্রাচীন ইতিহাস ও উপকরণ নিয়ে কাজ করেন
(খ) যারা মাটি কাটেন
(গ) যারা মুদ্রা তৈরি করেন
(ঘ) যারা ইতিহাস লেখেন
উত্তর: (ক) যারা প্রাচীন ইতিহাস ও উপকরণ নিয়ে কাজ করেন।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩৩. 'মৃত্তিকা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) পাথর
(খ) লোহা
(গ) মাটি
(ঘ) বালি
উত্তর: (গ) মাটি।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩৪. 'রৌপ্যমুদ্রা' কী?
(ক) সোনার মুদ্রা
(খ) তামার মুদ্রা
(গ) রুপার তৈরি মুদ্রা বা টাকা
(ঘ) লোহার টাকা
উত্তর: (গ) রুপার তৈরি মুদ্রা বা টাকা।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩৫. 'সাম্রাজ্য' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ছোট গ্রাম
(খ) সম্রাটের শাসনাধীন রাজ্য
(গ) দুর্গ
(ঘ) বাণিজ্যপথ
উত্তর: (খ) সম্রাটের শাসনাধীন রাজ্য।
ব্যাখ্যা: 'অর্থ জেনে নিই' অংশে দেওয়া আছে।
৩৬. উয়ারী-বটেশ্বরের নগরটি কেমন ছিল বলে ধারণা করা হয়?
(ক) অত্যন্ত দরিদ্র
(খ) খুব ছোট
(গ) অত্যন্ত সমৃদ্ধ
(ঘ) সাধারণ গ্রাম
উত্তর: (গ) অত্যন্ত সমৃদ্ধ।
ব্যাখ্যা: পুরানো সেই নগর অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল।
৩৭. নগরটি কীভাবে গড়া ছিল?
(ক) এলোমেলোভাবে
(খ) যথাযথ পরিকল্পনায়
(গ) পাহাড়ে
(ঘ) নদীর নিচে
উত্তর: (খ) যথাযথ পরিকল্পনায়।
ব্যাখ্যা: নগরটিও ছিল যথাযথ পরিকল্পনায় গড়া।
৩৮. উয়ারী ও বটেশ্বর কী?
(ক) দুটি নদী
(খ) দুটি পাহাড়
(গ) দুটি গ্রাম
(ঘ) দুটি দেশ
উত্তর: (গ) দুটি গ্রাম।
ব্যাখ্যা: উয়ারী ও বটেশ্বর নরসিংদী জেলার দুটি গ্রাম।
৩৯. উয়ারী ও বটেশ্বর বর্তমানে কী অবস্থায় আছে?
(ক) পানির নিচে
(খ) মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে
(গ) সম্পূর্ণ অক্ষত আছে
(ঘ) পাহাড়ে আছে
উত্তর: (খ) মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে।
ব্যাখ্যা: সেই নগর এখন মাটির নিচে চাপা পড়েছে।
৪০. প্রাচীনকালে উয়ারী-বটেশ্বরের মানুষ বাণিজ্য করার জন্য কোন পথ ব্যবহার করত?
(ক) রেলপথ
(খ) আকাশপথ
(গ) ব্রহ্মপুত্র নদপথ
(ঘ) স্থলপথ
উত্তর: (গ) ব্রহ্মপুত্র নদপথ।
ব্যাখ্যা: ব্রহ্মপুত্র নদপথে মানুষ বাণিজ্য করত।
৪১. উয়ারী-বটেশ্বর থেকে পাওয়া মুদ্রাগুলো কী প্রমাণ করে?
(ক) এখানকার মানুষ গরিব ছিল
(খ) এখানকার মানুষের সাথে রোমান সাম্রাজ্যের বাণিজ্য ছিল এবং এটি সমৃদ্ধ ছিল
(গ) এটি একটি কৃষিভিত্তিক গ্রাম ছিল
(ঘ) এখানে কোনো রাজা ছিল না
উত্তর: (খ) এখানকার মানুষের সাথে রোমান সাম্রাজ্যের বাণিজ্য ছিল এবং এটি সমৃদ্ধ ছিল।
ব্যাখ্যা: রৌপ্যমুদ্রা ও অন্যান্য নিদর্শন এখানকার সমৃদ্ধি ও বাণিজ্যের প্রমাণ দেয়।
৪২. হাবিবুল্লাহ পাঠান কে ছিলেন?
(ক) একজন প্রত্নতত্ত্ববিদ
(খ) হানিফ পাঠানের পুত্র
(গ) একজন শ্রমিক
(ঘ) একজন রাজা
উত্তর: (খ) হানিফ পাঠানের পুত্র।
ব্যাখ্যা: হানিফ পাঠানের পুত্র হাবিবুল্লাহ পাঠান।
৪৩. উয়ারী-বটেশ্বরের খননকাজে কী কী পাওয়া গেছে?
(ক) ইটের ধাপ্পা, গলি, পোড়ামাটির ফলক
(খ) আধুনিক গাড়ি
(গ) প্লাস্টিকের জিনিসপত্র
(ঘ) বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি
উত্তর: (ক) ইটের ধাপ্পা, গলি, পোড়ামাটির ফলক।
ব্যাখ্যা: পাওয়া যায় ইটের ধাপ্পা, কঙ্কর, রাস্তা, গলি, পোড়ামাটির ফলক ইত্যাদি।
৪৪. উয়ারী-বটেশ্বরে পাওয়া নিদর্শনগুলোর মধ্যে ধাতব বস্তু কী ছিল?
(ক) শুধু লোহা
(খ) রৌপ্যমুদ্রা, ধাতব অস্ত্র
(গ) সোনার গয়না
(ঘ) ব্রোঞ্জের মূর্তি
উত্তর: (খ) রৌপ্যমুদ্রা, ধাতব অস্ত্র।
ব্যাখ্যা: মুদ্রা, গয়না, ধাতব অস্ত্র পাওয়া গেছে।
৪৫. উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলে খননকাজে যে জিনিসপত্র পাওয়া গেছে, তা থেকে কী ধারণা করা হয়?
(ক) এটি কোনো রাজ্যের রাজধানী ছিল
(খ) এটি একটি শ্মশান ছিল
(গ) এটি একটি সাধারণ জঙ্গল ছিল
(ঘ) এটি একটি সমুদ্রবন্দর ছিল
উত্তর: (ক) এটি কোনো রাজ্যের রাজধানী ছিল।
ব্যাখ্যা: এই স্থানটি সম্ভবত প্রাচীন কোনো রাজ্যের রাজধানী ছিল।
৪৬. ১৯৫৫ সালে পাওয়া লোহার টুকরাগুলোর আকৃতি কেমন ছিল?
(ক) ত্রিকোণাকৃতির এবং সুচালো
(খ) গোলাকার এবং চ্যাপ্টা
(গ) বর্গাকার
(ঘ) তারার মতো
উত্তর: (ক) ত্রিকোণাকৃতির এবং সুচালো।
ব্যাখ্যা: এগুলোর ত্রিকোণাকৃতির এবং একদিকের সুচালো।
৪৭. উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় পঞ্চাশটি পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কোনটি?
(ক) মহাস্থানগড়
(খ) সোনার তলা
(গ) লালবাগ
(ঘ) পাহাড়পুর
উত্তর: (খ) সোনার তলা।
ব্যাখ্যা: উদাহরণ হিসেবে রাজার টেক, সোনার তলা ইত্যাদির নাম আছে।
৪৮. উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারের পেছনে শুরুতে কাদের অবদান ছিল?
(ক) প্রত্নতত্ত্ববিদদের
(খ) সাধারণ শ্রমিকদের
(গ) রাজাদের
(ঘ) বিদেশি পর্যটকদের
উত্তর: (খ) সাধারণ শ্রমিকদের।
ব্যাখ্যা: এখানকার সাধারণ শ্রমিকরা মাটি কাটার সময়ে এখানে প্রায়ই পুরানো জিনিস পেতেন।
৪৯. রোমান সাম্রাজ্যের সাথে যোগাযোগের প্রধান জলপথ কী ছিল?
(ক) পদ্মা নদী হয়ে ভারত মহাসাগর
(খ) ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বঙ্গোপসাগর
(গ) মেঘনা নদী হয়ে প্রশান্ত মহাসাগর
(ঘ) যমুনা নদী হয়ে আরব সাগর
উত্তর: (খ) ব্রহ্মপুত্র নদ হয়ে বঙ্গোপসাগর।
ব্যাখ্যা: নদী থেকে বঙ্গোপসাগর হয়ে সমুদ্রপথে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ছিল।
৫০. উয়ারী-বটেশ্বর সম্পর্কে এখনও কী বলা যায়?
(ক) সবকিছু আবিষ্কৃত হয়ে গেছে
(খ) হয়তো আরও অনেক নিদর্শন ঢাকা পড়ে আছে মাটির আবরণে
(গ) এটি একটি ভুয়া শহর
(ঘ) এখানে আর কিছুই নেই
উত্তর: (খ) হয়তো আরও অনেক নিদর্শন ঢাকা পড়ে আছে মাটির আবরণে।
ব্যাখ্যা: হয়তো আরও অনেক নিদর্শন ঢাকা পড়ে আছে মাটির আবরণে।
প্রশ্ন ১: কুমিল্লার ময়নামতিতে কোন শতকের নগর ছিল?
উত্তর: কুমিল্লার ময়নামতিতে সাত-আট শতকের দিকে নগর ছিল।
প্রশ্ন ২: মহাস্থানগড় কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: মহাস্থানগড় বগুড়ায় অবস্থিত।
প্রশ্ন ৩: মহাস্থানগড় এলাকায় কোন শতকের নগর গড়ে ওঠে?
উত্তর: মহাস্থানগড় এলাকায় খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পরে নগর গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৪: উয়ারী ও বটেশ্বর কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: উয়ারী ও বটেশ্বর নরসিংদী জেলার দুটি গ্রাম।
প্রশ্ন ৫: উয়ারী-বটেশ্বরে কোন শতকে নগর গড়ে ওঠে বলে ধারণা করা হয়?
উত্তর: ধারণা করা হয়, উয়ারী-বটেশ্বরে খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই-চার শতকে নগর গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৬: ২০০০ সালে মাটি খনন করে উয়ারী-বটেশ্বরে কীসের নমুনা পাওয়া গেছে?
উত্তর: ২০০০ সালে মাটি খনন করে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাচীন নগরের রাস্তার নমুনা পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ৭: শীতলক্ষ্যা নদী কোন নদের শাখা?
উত্তর: নরসিংদী অঞ্চলের শীতলক্ষ্যা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা।
প্রশ্ন ৮: প্রাচীনকালে এখানকার মানুষ কোন পথে বাণিজ্য করত?
উত্তর: প্রাচীনকালে এখানকার মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদপথে বাণিজ্য করত।
প্রশ্ন ৯: প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলের কার সাথে যোগাযোগ ছিল?
উত্তর: প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলের রোমান সাম্রাজ্যের সাথে যোগাযোগ ছিল।
প্রশ্ন ১০: ১৯৩৩ সালে উয়ারী গ্রামে মাটি কাটার সময় কী পাওয়া যায়?
উত্তর: ১৯৩৩ সালে উয়ারী গ্রামে মাটি কাটার সময় একটা পাত্রে জমানো কিছু মুদ্রা পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ১১: হানিফ পাঠান কে ছিলেন?
উত্তর: হানিফ পাঠান ছিলেন উয়ারী-বটেশ্বর এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক, যিনি সেখান থেকে ২০-৩০টি প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা সংগ্রহ করেছিলেন।
প্রশ্ন ১২: ১৯৫৫ সালে শ্রমিকরা কী পেয়েছিল?
উত্তর: ১৯৫৫ সালে বটেশ্বর গ্রামের শ্রমিকরা দুটি পুরানো লোহার টুকরা পেয়েছিল।
প্রশ্ন ১৩: ১৯৫৬ সালে উয়ারী গ্রামে কী পাওয়া যায়?
উত্তর: ১৯৫৬ সালে উয়ারী গ্রামে মাটি কাটার সময় রৌপ্যমুদ্রার একটি ভান্ডার পাওয়া যায়, যেখানে চার হাজারের মতো মুদ্রা ছিল।
প্রশ্ন ১৪: হাবিবুল্লাহ পাঠান কে ছিলেন এবং তিনি কী করেছিলেন?
উত্তর: হাবিবুল্লাহ পাঠান ছিলেন স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠানের পুত্র। তিনি উয়ারী-বটেশ্বর থেকে প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো জাদুঘরে জমা দেন।
প্রশ্ন ১৫: প্রত্নতত্ত্ববিদেরা কবে খননকাজ শুরু করেন?
উত্তর: ২০০০ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় খননকাজ শুরু করেন।
প্রশ্ন ১৬: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে কতগুলো পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে?
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় পঞ্চাশটি পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ১৭: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশের কয়েকটি পুরানো জায়গার নাম লেখো।
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশের কয়েকটি পুরানো জায়গা হলো—রাজার টেক, সোনার তলা, কেন্দুয়া, মরজাল ইত্যাদি।
প্রশ্ন ১৮: প্রাচীনকালে উয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতা বিশ্বজুড়ে কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর: প্রাচীনকালে এই সভ্যতা বিশ্বজুড়ে 'সোনাগড়া' নামে পরিচিত ছিল।
প্রশ্ন ১৯: শিবপুর উপজেলা কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: শিবপুর উপজেলা উয়ারী-বটেশ্বর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
প্রশ্ন ২০: শিবপুর উপজেলায় কী আবিষ্কৃত হয়েছে?
উত্তর: শিবপুর উপজেলার মন্দিরভিটায় একটি বৌদ্ধ পদ্মমন্দির এবং জানখার টেক গ্রামে একটি বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন ১: (অনুশীলনী ২-এর 'ক') এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরানো নগর কোথায় পাওয়া গেছে?
উত্তর: কুমিল্লার ময়নামতি এবং বগুড়ার মহাস্থানগড়ের চেয়েও এ অঞ্চলের সবচেয়ে পুরানো নগর পাওয়া গেছে নরসিংদী জেলার উয়ারী ও বটেশ্বর নামক দুটি গ্রামে। ধারণা করা হয়, সেখানে খ্রিষ্টপূর্ব আড়াই-চার শতকে নগর গড়ে ওঠে।
প্রশ্ন ২: (অনুশীলনী ২-এর 'খ') উয়ারী ও বটেশ্বরে কী কী প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গেছে?
উত্তর: উয়ারী ও বটেশ্বরে খননকাজের ফলে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগরের সন্ধান মিলেছে। সেখানে পাওয়া গেছে ইটের ধাপ্পা, কঙ্কর, রাস্তা, গলি, পোড়ামাটির ফলক, মূল্যবান পাথর, কাঁচের পুঁতি, মুদ্রার ভান্ডার, ধাতব অস্ত্র, গয়না এবং প্রাচীন বসতির বিভিন্ন নিদর্শন।
প্রশ্ন ৩: (অনুশীলনী ২-এর 'গ') কীভাবে উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাচীন সভ্যতার খোঁজ পাওয়া যায়?
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বর নগরের খোঁজ হঠাৎ করে মেলেনি। এখানকার সাধারণ শ্রমিকরা মাটি কাটার সময়ে প্রায়ই পুরানো জিনিস পেতেন। ১৯৩৩ সালে উয়ারীতে কিছু রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া যায় যা স্কুলশিক্ষক হানিফ পাঠান সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে লোহার টুকরা এবং ১৯৫৬ সালে রৌপ্যমুদ্রার বড় ভান্ডার পাওয়া যায়। এই নিদর্শনগুলোর সূত্র ধরেই ২০০০ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা খননকাজ শুরু করেন এবং প্রাচীন সভ্যতার খোঁজ পান।
প্রশ্ন ৪: (অনুশীলনী ২-এর 'ঘ') দুর্গ কী?
উত্তর: দুর্গ হলো এমন একটি সুরক্ষিত এবং চারদিক থেকে ঘেরা শক্তিশালী স্থান, যেখানে শত্রুরা সহজে প্রবেশ করতে পারে না। প্রাচীনকালে রাজা বা শাসকেরা বাইরের শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেদের রাজ্য, সম্পদ এবং জনগণকে রক্ষা করার জন্য দুর্গ নির্মাণ করতেন।
প্রশ্ন ৫: (অনুশীলনী ২-এর 'ঙ') 'খুবই সমৃদ্ধ ছিল প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চল' - কীভাবে এটি বোঝা যায়?
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরে খননকাজের ফলে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন দুর্গ-নগর, ইটের ধাপ্পা, রাস্তা, গলি, পোড়ামাটির ফলক, মূল্যবান পাথর ও পাথরের পুঁতির মতো উন্নত জীবনযাপনের নিদর্শন পাওয়া গেছে। এছাড়া সেখান থেকে প্রচুর রৌপ্যমুদ্রার ভান্ডার এবং রোমান সাম্রাজ্যের সাথে তাদের বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে। এই নগরটি ছিল যথাযথ পরিকল্পনায় গড়া। এসব প্রমাণ দেখেই বোঝা যায়, প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলটি খুবই সমৃদ্ধ ছিল।
প্রশ্ন ৬: উয়ারী-বটেশ্বর অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীপথের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তর: উয়ারী ও বটেশ্বর গ্রাম দুটি নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শীতলক্ষ্যা নদী, যা ব্রহ্মপুত্র নদের একটি শাখা। প্রাচীনকালে এখানকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল নদীপথ। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই ব্রহ্মপুত্র নদপথ ব্যবহার করেই মানুষ বাণিজ্য করত এবং এই পথেই বঙ্গোপসাগর হয়ে রোমান সাম্রাজ্যের সাথে তাদের বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল।
প্রশ্ন ৭: হানিফ পাঠান এবং হাবিবুল্লাহ পাঠান কে ছিলেন এবং উয়ারী-বটেশ্বর আবিষ্কারে তাঁদের অবদান কী?
উত্তর: হানিফ পাঠান ছিলেন উয়ারী-বটেশ্বর এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক এবং হাবিবুল্লাহ পাঠান ছিলেন তাঁর পুত্র। ১৯৩৩ সালে মাটি কাটার সময় শ্রমিকরা যে রৌপ্যমুদ্রাগুলো পেয়েছিল, হানিফ পাঠান তার কিছু সংগ্রহ করে প্রথম এই প্রাচীন নিদর্শনের গুরুত্ব অনুধাবন করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র হাবিবুল্লাহ পাঠানও সেখান থেকে প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করে জাদুঘরে জমা দেন। মূলত তাঁদের এই প্রাথমিক সংগ্রহ ও সচেতনতার ফলেই পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা সেখানে খননকাজ শুরু করেন।
প্রশ্ন ৮: ১৯৫৫ এবং ১৯৫৬ সালে উয়ারী-বটেশ্বরে কী কী উল্লেখযোগ্য জিনিস পাওয়া গিয়েছিল?
উত্তর: ১৯৫৫ সালে বটেশ্বর গ্রামের শ্রমিকরা মাটি খুঁড়ে দুটি পুরানো লোহার টুকরা পান, যেগুলো ছিল ত্রিকোণাকৃতির এবং একদিকের সুচালো। এরপর ১৯৫৬ সালে উয়ারী গ্রামে মাটি কাটার সময় রৌপ্যমুদ্রার একটি বিশাল ভান্ডার পাওয়া যায়। এই ভান্ডারে প্রায় চার হাজারের মতো প্রাচীন রৌপ্যমুদ্রা ছিল, যা ওই অঞ্চলের প্রাচীন সমৃদ্ধির প্রমাণ দেয়।
প্রশ্ন ৯: ২০০০ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদদের খননকাজে উয়ারী-বটেশ্বর সম্পর্কে কী জানা যায়?
উত্তর: ২০০০ সালে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে খননকাজ শুরু করেন। এই খননকাজে মাটির নিচে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন একটি দুর্গ-নগরের সন্ধান মেলে। সেখানে ইটের ধাপ্পা, কঙ্কর, রাস্তা, গলি, পোড়ামাটির ফলক, মূল্যবান পাথর, কাঁচের পুঁতি এবং মুদ্রার ভান্ডার আবিষ্কৃত হয়। এটি থেকে প্রমাণিত হয় যে এখানে সুপরিকল্পিত এবং সমৃদ্ধ এক প্রাচীন সভ্যতা ছিল।
প্রশ্ন ১০: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে আবিষ্কৃত কয়েকটি পুরানো জায়গা ও সেখানকার নিদর্শন সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরের আশেপাশে প্রায় পঞ্চাশটি পুরানো জায়গার সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—রাজার টেক, সোনার তলা, কেন্দুয়া, মরজাল, টঙ্গী রাজার বাড়ি, মন্দির ভিটা, জানখার টেক এবং টঙ্গীর টেক। এসব স্থানে প্রাচীন বসতি, দুর্গ-প্রাচীর, ইটের টুকরা, মুদ্রা, গয়না, ধাতব অস্ত্র ইত্যাদি পাওয়া গেছে। এছাড়া শিবপুর উপজেলার মন্দিরভিটায় বৌদ্ধ পদ্মমন্দির এবং জানখার টেক গ্রামে বৌদ্ধ বিহারের সন্ধান মিলেছে।
প্রশ্ন ১১: উয়ারী-বটেশ্বরকে একটি রাজ্যের রাজধানী বলা হয় কেন?
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বর এবং এর আশেপাশের প্রায় পঞ্চাশটি গ্রাম জুড়ে প্রাচীন বসতির প্রমাণ মিলেছে। খননকাজে সেখানে দুর্গ-প্রাচীর, ইটের ধাপ্পা, রাস্তা, গলি, মূল্যবান পাথর, ধাতব অস্ত্র, গয়না এবং প্রচুর রৌপ্যমুদ্রা পাওয়া গেছে। নগরটির যথাযথ পরিকল্পনা এবং উন্নত জীবনযাপনের নিদর্শন দেখে প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধারণা করেন যে, এই স্থানটি সম্ভবত প্রাচীন কোনো বড় রাজ্যের রাজধানী ছিল।
প্রশ্ন ১২: প্রাচীন উয়ারী-বটেশ্বরের বৈশ্বিক পরিচিতি কেমন ছিল?
উত্তর: প্রাচীনকালে উয়ারী-বটেশ্বর কেবল বাংলাতেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। এই সভ্যতাটি প্রাচীনকালে 'সোনাগড়া' নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। ব্রহ্মপুত্র নদপথে বঙ্গোপসাগর হয়ে সুদূর রোমান সাম্রাজ্যের সাথে এখানকার মানুষের সরাসরি বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল, যা এর বৈশ্বিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।
প্রশ্ন ১৩: কুমিল্লার ময়নামতি এবং বগুড়ার মহাস্থানগড় সম্পর্কে পাঠ্যে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: পাঠ্যে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ অঞ্চলে প্রাচীনকালেও নগর গড়ে উঠেছিল। উদাহরণস্বরূপ কুমিল্লার ময়নামতিতে সাত-আট শতকের দিকে নগর ছিল। আর বগুড়ার মহাস্থানগড় এলাকায় খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পরে নগর গড়ে ওঠে। তবে এই দুটি বিখ্যাত প্রাচীন নগরের চেয়েও অনেক পুরোনো নগর পাওয়া গেছে নরসিংদীর উয়ারী ও বটেশ্বরে।
প্রশ্ন ১৪: 'প্রত্নতত্ত্ববিদ' এবং 'ইতিহাসবিদ'-এর কাজের পার্থক্য কী? (পাঠ্যের শব্দার্থ অনুযায়ী)
উত্তর: পাঠ্যের শব্দার্থ অনুযায়ী, 'ইতিহাসবিদ' হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি ইতিহাস বিষয়ে অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং অতীতের ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেন। অন্যদিকে 'প্রত্নতত্ত্ববিদ' হলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রাচীন ইতিহাস এবং প্রাচীন উপকরণ বা নিদর্শন (যেমন- মাটির নিচের স্থাপনা, মুদ্রা, পাত্র) নিয়ে সরাসরি কাজ করেন ও গবেষণা করেন।
প্রশ্ন ১৫: উয়ারী-বটেশ্বরের আবিষ্কার সম্পর্কে বর্তমান ধারণা কী?
উত্তর: উয়ারী-বটেশ্বরের অনেক কিছুই ইতোমধ্যে আবিষ্কৃত হলেও, পুরো রহস্য এখনও উন্মোচিত হয়নি। সেখানকার মাটির আবরণে হয়তো আরও অনেক প্রাচীন নিদর্শন ঢাকা পড়ে আছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই প্রাচীন ও সমৃদ্ধ নগরী সম্পর্কে আরও অনেক নতুন তথ্য জানা যেতে পারে।