বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২৬ - শিক্ষাগুরুর মর্যাদা
১ শব্দার্থ লিখন
  • ১. অঙ্গুলি: আঙুল।
  • ২. অনর্গল: একটানা।
  • ৩. আনত-নয়নে: নিচু চোখে।
  • ৪. উচ্চরবে: উঁচু কণ্ঠে।
  • ৫. উচ্ছ্বাস: উল্লাস; আনন্দ।
  • ৬. কুর্নিশ করি: অভিবাদন জানিয়ে।
  • ৭. কেল্লা: দুর্গ।
  • ৮. খাস কামরা: নিজের ঘর বা একান্ত কক্ষ।
  • ৯. জাঁহাপনা: বাদশাহর জন্য সম্মানসূচক সম্বোধন।
  • ১০. টুটি: ভেঙে।
  • ১১. তফাতে: দূরে।
  • ১২. দিল্লীর পতি: দিল্লির অধিপতি বা শাসক।
  • ১৩. নিরালায়: নির্জনে; নিরিবিলিতে।
  • ১৪. নিস্তার: রক্ষা।
  • ১৫. পুলকিত হৃদে: আনন্দিত মনে।
  • ১৬. প্রক্ষালন: ধোয়ার কাজ।
  • ১৭. প্রাতে: সকালে।
  • ১৮. বারি: পানি বা জল।
  • ১৯. ভালে: কপালে।
  • ২০. সঞ্চারি: নাড়াচাড়া করে।
  • ২১. সযতনে: যত্নের সাথে।
  • ২২. স্পর্ধা: দুঃসাহস।
২ বাক্য গঠন (১০টি)
সেট ১ (৫টি)
উচ্ছ্বাস | খাস কামরা | প্রাতে | বারি | ভালে
  • উচ্ছ্বাস: পরীক্ষায় প্রথম হওয়ায় ছেলেটির চোখেমুখে উচ্ছ্বাস দেখা গেল।
  • খাস কামরা: বাদশাহ তাঁর খাস কামরায় বসে বিচারকাজ করতেন।
  • প্রাতে: প্রতিদিন প্রাতে উঠে হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
  • বারি: তৃষ্ণার্ত কাকটি বারি পানের জন্য এদিক-ওদিক ঘূরছিল।
  • ভালে: অতিরিক্ত চিন্তায় লোকটির ভালে বলিরেখা ফুটে উঠেছে।
সেট ২ (৫টি)
নিরালায় | পুলকিত হৃদে | প্রক্ষালন | সযতনে | অনর্গল
  • নিরালায়: নিরালায় বসে বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে।
  • পুলকিত হৃদে: পুরস্কার পেয়ে ছাত্রটি পুলকিত হৃদে বাড়ি ফিরল।
  • প্রক্ষালন: আহারের পূর্বে হাত প্রক্ষালন করা উচিত।
  • সযতনে: মা সযতনে শিশুটিকে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।
  • অনর্গল: লোকটি অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারে।
৩ শূন্যস্থান পূরণকরণ (১০টি)
নির্দেশনা: উপরের বক্স থেকে সঠিক শব্দটিতে ক্লিক করলে তা নিচের ফাঁকা স্থানে বসে যাবে। ভুল হলে ফাঁকা স্থানের শব্দে ক্লিক করে সেটি মুছে ফেলা যাবে। সবগুলো পূরণ হয়ে গেলে 'উত্তর মেলাও' বাটনে ক্লিক করো।
সেট ১ (৫টি)
বারি নিস্তার ধূলি স্পর্ধার মৌলবী পানি আরাম পণ্ডিত
১. কুমারে তাঁহার পড়াইত এক _____ দিল্লীর।
২. শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া ঢালিতেছে _____ গুরুর চরণে।
৩. শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের _____ ধুয়ে-মুছে সব করিতেছেন সাফ্।
৪. ভাবিলেন, আজি _____ নাহি, যায় বুঝি তাঁর সবি।
৫. দিল্লীপ্তির পুত্রের করে লইয়াছে পানি চরণের পরে, _____ কাজ!
সঠিক উত্তর:
১. মৌলবী
২. বারি
৩. ধূলি
৪. নিস্তার
৫. স্পর্ধার
সেট ২ (৫টি)
শিক্ষাগুরুর ভালে শাস্ত্রের পতি কেল্লাতে গল্পের গালে সেনাপতি
৬. ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিলো তাঁর _____।
৭. শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার, দিল্লীর _____ সে তো কোন্ ছার।
৮. বাদশাহ্ শুধালে _____ কথা শুনাব অনর্গল।
৯. বাদশাহর দূত শিক্ষককে ডেকে নিয়ে গেল _____।
১০. আজ হতে চির উন্নত হলো _____ শির।
সঠিক উত্তর:
৬. ভালে
৭. পতি
৮. শাস্ত্রের
৯. কেল্লাতে
১০. শিক্ষাগুরুর
৪ বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর (৫০টি)
নির্দেশনা: সঠিক উত্তরে ক্লিক করো। উত্তর সঠিক হলে সবুজ এবং ভুল হলে লাল দেখাবে। উত্তর দেওয়ার পর নিচে ব্যাখ্যা দেখতে পাবে।
১. 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটির কবির নাম কী?
(ক) জসীমউদ্দীন (খ) কাজী কাদের নেওয়াজ (গ) শামসুর রাহমান (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: (খ) কাজী কাদের নেওয়াজ।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ে কবিতাটির কবির নাম কাজী কাদের নেওয়াজ দেওয়া আছে।
২. বাদশাহ আলমগীর কোথায় রাজত্ব করতেন?
(ক) ঢাকায় (খ) আগ্রায় (গ) দিল্লিতে (ঘ) লাহোরে
উত্তর: (গ) দিল্লিতে।
ব্যাখ্যা: কবিতায় 'দিল্লীর পতি' ও 'মৌলবী দিল্লীর' উল্লেখ আছে।
৩. বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে কে পড়াতেন?
(ক) এক পণ্ডিত (খ) এক মৌলবী (গ) এক সেনাপতি (ঘ) এক দরবেশ
উত্তর: (খ) এক মৌলবী।
ব্যাখ্যা: "কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবী দিল্লীর।"
৪. একদিন সকালে বাদশাহ কী দেখলেন?
(ক) শাহজাদা খেলছে (খ) শাহজাদা বই পড়ছে (গ) শাহজাদা গুরুর পায়ে পানি ঢালছে (ঘ) শাহজাদা ঘুমাচ্ছে
উত্তর: (গ) শাহজাদা গুরুর পায়ে পানি ঢালছে।
ব্যাখ্যা: "শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া / ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে।"
৫. শাহজাদা কেমন করে পানি ঢালছিল?
(ক) পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে (খ) রাগান্বিত হয়ে (গ) বিরক্ত হয়ে (ঘ) হাসতে হাসতে
উত্তর: (ক) পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে।
ব্যাখ্যা: অত্যন্ত আনন্দিত মনে ও শ্রদ্ধাবনত হয়ে সে পানি ঢালছিল।
৬. শিক্ষক নিজের পায়ের ধুলো কীভাবে পরিষ্কার করছিলেন?
(ক) শাহজাদাকে দিয়ে (খ) নিজ হাত দিয়ে (গ) চাকর দিয়ে (ঘ) পানি দিয়ে ধুয়ে
উত্তর: (খ) নিজ হাত দিয়ে।
ব্যাখ্যা: "শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া নিজেরি পায়ের ধূলি / ধুয়ে-মুছে সব করিতেছেন সাফ্।"
৭. শাহজাদা যখন পানি ঢালছিল, তখন শিক্ষক কী ভাবলেন?
(ক) তিনি পুরস্কৃত হবেন (খ) তাঁর আর নিস্তার নেই (গ) বাদশাহ খুশি হবেন (ঘ) তিনি পদোন্নতি পাবেন
উত্তর: (খ) তাঁর আর নিস্তার নেই।
ব্যাখ্যা: তিনি ভাবলেন বাদশাহর ছেলেকে দিয়ে পায়ে পানি ঢালানোর অপরাধে তাঁর বুঝি আর নিস্তার নেই।
৮. শিক্ষকের কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল কেন?
(ক) স্পর্ধার কাজ করেছেন ভেবে (খ) বেতন না পাওয়ার ভয়ে (গ) ছাত্র পড়া না পারায় (ঘ) বাদশাহ ডেকেছেন বলে
উত্তর: (ক) স্পর্ধার কাজ করেছেন ভেবে।
ব্যাখ্যা: দিল্লিপতির পুত্রের হাতে পানি নেওয়ায় তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
৯. 'দিল্লীপ্তির' শব্দের অর্থ কী?
(ক) দিল্লির রাজপুত্র (খ) দিল্লির অধিপতি বা শাসক (গ) দিল্লির রাস্তা (ঘ) দিল্লির প্রাসাদ
উত্তর: (খ) দিল্লির অধিপতি বা শাসক।
ব্যাখ্যা: পতি অর্থ অধিপতি বা রাজা।
১০. হঠাৎ কী ভেবে শিক্ষক উঠে দাঁড়ালেন?
(ক) তিনি পালিয়ে যাবেন (খ) তিনি ভয় করেন না (গ) তিনি ক্ষমা চাইবেন (ঘ) তিনি কাঁদবেন
উত্তর: (খ) তিনি ভয় করেন না।
ব্যাখ্যা: "হঠাৎ কী ভাবি উঠি / কহিলেন, আমি ভয় করি নাকো।"
১১. শিক্ষক কার চেয়ে নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করলেন?
(ক) বাদশাহর চেয়ে (খ) উজিরের চেয়ে (গ) সবার চেয়ে (ঘ) সেনাপতির চেয়ে
উত্তর: (গ) সবার চেয়ে।
ব্যাখ্যা: "শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার"।
১২. "দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার"—এখানে 'কোন্ ছার' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) খুব বড় কিছু (খ) অতি তুচ্ছ বা নগণ্য (গ) অত্যন্ত সম্মানীয় (ঘ) সমান সমান
উত্তর: (খ) অতি তুচ্ছ বা নগণ্য।
ব্যাখ্যা: শিক্ষকের মর্যাদার কাছে বাদশাহর পদমর্যাদাও তুচ্ছ।
১৩. বাদশাহ যদি প্রশ্ন করেন, তবে শিক্ষক কী শোনাবেন বলে ভেবেছিলেন?
(ক) নিজের দুঃখের কথা (খ) শাস্ত্রের কথা (গ) আইনের কথা (ঘ) গল্পের কথা
উত্তর: (খ) শাস্ত্রের কথা।
ব্যাখ্যা: "বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।"
১৪. শিক্ষক কীসের চেয়ে মান বা সম্মানকে বড় মনে করেন?
(ক) টাকার চেয়ে (খ) প্রাণের চেয়ে (গ) ক্ষমতার চেয়ে (ঘ) সম্পদের চেয়ে
উত্তর: (খ) প্রাণের চেয়ে।
ব্যাখ্যা: "প্রাণের চেয়েও মান বড়ো আমি শুনাব শাহনশাহে।"
১৫. পরদিন সকালে কে শিক্ষককে ডাকতে এলো?
(ক) শাহজাদা (খ) উজির (গ) বাদশাহর দূত (ঘ) দারোয়ান
উত্তর: (গ) বাদশাহর দূত।
ব্যাখ্যা: "বাদশাহর দূত শিক্ষককে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।"
১৬. শিক্ষককে কোথায় নিয়ে যাওয়া হলো?
(ক) দরবারে (খ) কেল্লাতে খাস কামরায় (গ) জেলখানায় (ঘ) মাঠে
উত্তর: (খ) কেল্লাতে খাস কামরায়।
ব্যাখ্যা: বাদশাহ তাঁকে একান্ত কক্ষে বা খাস কামরায় ডেকেছিলেন।
১৭. 'খাস কামরা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) সাধারণ ঘর (খ) নিজের ঘর বা একান্ত কক্ষ (গ) রান্নার ঘর (ঘ) বসার ঘর
উত্তর: (খ) নিজের ঘর বা একান্ত কক্ষ।
ব্যাখ্যা: যেখানে ব্যক্তিগত আলাপ-আলোচনা হয়।
১৮. বাদশাহ শিক্ষককে কী প্রশ্ন করলেন?
(ক) কেন আপনি পায়ে পানি নিলেন? (খ) পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে? (গ) আপনি কি পড়াতে পারেন? (ঘ) আপনি কখন এসেছেন?
উত্তর: (খ) পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
ব্যাখ্যা: বাদশাহ তাঁর পুত্রের আদবকেতা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।
১৯. বাদশাহর মতে তাঁর পুত্র শিক্ষকের কাছ থেকে কী শিখেছে?
(ক) ভালো ব্যবহার (খ) শিষ্টাচার (গ) বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা (ঘ) বিদ্যা
উত্তর: (গ) বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা।
ব্যাখ্যা: "বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা।"
২০. বাদশাহ কেন মনে করলেন যে তাঁর পুত্র বেয়াদবি শিখেছে?
(ক) সে গুরুর পা ধুয়ে দেয়নি বলে (খ) সে পানি ঢেলেছিল বলে (গ) সে পড়া পারেনি বলে (ঘ) সে গুরুকে সালাম করেনি বলে
উত্তর: (ক) সে গুরুর পা ধুয়ে দেয়নি বলে।
ব্যাখ্যা: বাদশাহ দেখলেন ছেলে শুধু পানি ঢালছে, নিজ হাতে গুরুর পা ধুয়ে দিচ্ছে না।
২১. শিক্ষক প্রথমে বাদশাহর কথার অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন কি?
(ক) হ্যাঁ (খ) না (গ) কিছুটা (ঘ) একেবারেই না
উত্তর: (খ) না।
ব্যাখ্যা: শিক্ষক কন— ‘জাঁহাপনা, আমি বুঝিতে পারিনি, হায়’।
২২. 'জাঁহাপনা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বন্ধু (খ) শত্রু (গ) বাদশাহর জন্য সম্মানসূচক সম্বোধন (ঘ) শিক্ষক
উত্তর: (গ) বাদশাহর জন্য সম্মানসূচক সম্বোধন।
ব্যাখ্যা: রাজাকে সম্মান জানিয়ে এ নামে ডাকা হয়।
২৩. বাদশাহ আগের দিন সকালে কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলেন?
(ক) কাছে (খ) তফাতে বা দূরে (গ) ঘরের ভেতর (ঘ) বাগানে
উত্তর: (খ) তফাতে বা দূরে।
ব্যাখ্যা: "দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে"।
২৪. বাদশাহর আক্ষেপের কারণ কী ছিল?
(ক) ছেলে পানি ঢালছিল বলে (খ) ছেলে নিজ হাত দিয়ে গুরুর পা ধুয়ে দেয়নি বলে (গ) ছেলে দেরি করে উঠেছিল বলে (ঘ) শিক্ষক ছেলেকে মেরেছিলেন বলে
উত্তর: (খ) ছেলে নিজ হাত দিয়ে গুরুর পা ধুয়ে দেয়নি বলে।
ব্যাখ্যা: "নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে / ধুয়ে দিলো না’ক কেন সে চরণ"।
২৫. বাদশাহর মতে তাঁর পুত্রের কী করা উচিত ছিল?
(ক) শুধু পানি ঢালা (খ) নিজ হাতে গুরুর চরণ প্রক্ষালন করা (গ) গুরুর মাথায় পানি ঢালা (ঘ) গুরুকে বাতাস করা
উত্তর: (খ) নিজ হাতে গুরুর চরণ প্রক্ষালন করা।
ব্যাখ্যা: গুরুর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের জন্য এটি করা উচিত ছিল।
২৬. 'প্রক্ষালন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ধোয়ার কাজ (খ) মুছে ফেলা (গ) হাঁটা (ঘ) ঘুমানো
উত্তর: (ক) ধোয়ার কাজ।
ব্যাখ্যা: পা বা হাত ধোয়াকে প্রক্ষালন বলে।
২৭. বাদশাহর কথা শুনে শিক্ষকের মনে কী অনুভূতি হলো?
(ক) রাগ (খ) ভয় (গ) উচ্ছ্বাস বা আনন্দ (ঘ) দুঃখ
উত্তর: (গ) উচ্ছ্বাস বা আনন্দ।
ব্যাখ্যা: বাদশাহর মহানুভবতা দেখে শিক্ষকের হৃদয় উচ্ছ্বাসে ভরে যায়।
২৮. উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষক কীভাবে দাঁড়ালেন?
(ক) মাথা নিচু করে (খ) সগৌরবে বা গর্বের সাথে (গ) ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে (ঘ) লুকিয়ে
উত্তর: (খ) সগৌরবে বা গর্বের সাথে।
ব্যাখ্যা: শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তিনি সগৌরবে দাঁড়ালেন।
২৯. শিক্ষক কাকে কুর্নিশ করলেন?
(ক) শাহজাদাকে (খ) উজিরকে (গ) বাদশাহকে (ঘ) নিজেকে
উত্তর: (গ) বাদশাহকে।
ব্যাখ্যা: বাদশাহর উদারতা দেখে তিনি তাঁকে কুর্নিশ করেন।
৩০. 'কুর্নিশ করি' কথাটির অর্থ কী?
(ক) রাগ করে (খ) অভিবাদন জানিয়ে বা মাথা নত করে সম্মান দেখিয়ে (গ) ধমক দিয়ে (ঘ) হাত মিলিয়ে
উত্তর: (খ) অভিবাদন জানিয়ে বা মাথা নত করে সম্মান দেখিয়ে।
ব্যাখ্যা: এটি রাজদরবারে সম্মান প্রদর্শনের রীতি।
৩১. শিক্ষক উচ্চরবে কী ঘোষণা করলেন?
(ক) আজ হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির (খ) আমি রাজা হব (গ) আমি আর পড়াব না (ঘ) শাহজাদা খারাপ
উত্তর: (ক) আজ হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির।
ব্যাখ্যা: বাদশাহর উক্তিতে শিক্ষকের মর্যাদা সবার ওপরে প্রতিষ্ঠিত হলো।
৩২. শিক্ষক বাদশাহ আলমগীরকে কী বলে প্রশংসা করলেন?
(ক) নিষ্ঠুর (খ) মহান উদার (গ) কৃপণ (ঘ) দুর্বল
উত্তর: (খ) মহান উদার।
ব্যাখ্যা: "সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।"
৩৩. 'আনত-নয়নে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বড় চোখে (খ) নিচু চোখে বা শ্রদ্ধায় অবনত দৃষ্টিতে (গ) রাগি চোখে (ঘ) কানা চোখে
উত্তর: (খ) নিচু চোখে বা শ্রদ্ধায় অবনত দৃষ্টিতে।
ব্যাখ্যা: শাহজাদা গুরুর প্রতি শ্রদ্ধায় আনত-নয়নে পানি ঢালছিল।
৩৪. 'অনর্গল' বলতে কী বোঝায়?
(ক) থেমে থেমে (খ) একটানা বা বাধাহীনভাবে (গ) জোরে জোরে (ঘ) আস্তে আস্তে
উত্তর: (খ) একটানা বা বাধাহীনভাবে।
ব্যাখ্যা: শাস্ত্রের কথা একটানা বলে যাওয়ার কথা শিক্ষক ভেবেছিলেন।
৩৫. 'টুটি' শব্দের অর্থ কী?
(ক) গলা (খ) ভেঙে (গ) জুটে (ঘ) ফুটে
উত্তর: (খ) ভেঙে।
ব্যাখ্যা: "যায় যাবে শির টুটি" অর্থাৎ মাথা যদি ভেঙেও যায় বা কাটা যায়।
৩৬. 'শাহনশাহ' বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) শিক্ষককে (খ) রাজপুত্রকে (গ) রাজাদের রাজা বা বাদশাহকে (ঘ) সেনাপতিকে
উত্তর: (গ) রাজাদের রাজা বা বাদশাহকে।
ব্যাখ্যা: আলমগীরকে শাহনশাহ বা সম্রাট বলা হয়েছে।
৩৭. 'কেল্লা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বাজার (খ) বাড়ি (গ) দুর্গ (ঘ) বিদ্যালয়
উত্তর: (গ) দুর্গ।
ব্যাখ্যা: বাদশাহরা সুরক্ষিত কেল্লা বা দুর্গে বাস করতেন।
৩৮. 'প্রাতে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাতে (খ) সকালে (গ) দুপুরে (ঘ) সন্ধ্যায়
উত্তর: (খ) সকালে।
ব্যাখ্যা: প্রাতে বা প্রভাতে মানে ভোরবেলা বা সকাল।
৩৯. 'বারি' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
(ক) বাতাস (খ) আগুন (গ) পানি বা জল (ঘ) মাটি
উত্তর: (গ) পানি বা জল।
ব্যাখ্যা: বারি অর্থ পানি, যা গুরুর চরণে ঢালা হচ্ছিল।
৪০. 'ভালে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ভালোতে (খ) কপালে (গ) গালে (ঘ) চোখে
উত্তর: (খ) কপালে।
ব্যাখ্যা: চিন্তার রেখা কপালে দেখা দেয়।
৪১. 'সঞ্চারি' কথাটির অর্থ কী?
(ক) লুকিয়ে (খ) নাড়াচাড়া করে বা সঞ্চালন করে (গ) গড়িয়ে (ঘ) ধুয়ে
উত্তর: (খ) নাড়াচাড়া করে বা সঞ্চালন করে।
ব্যাখ্যা: আঙুল নাড়াচাড়া করে তিনি পা পরিষ্কার করছিলেন।
৪২. এই কবিতায় কার মর্যাদা সবচেয়ে বেশি দেখানো হয়েছে?
(ক) বাদশাহর (খ) শাহজাদার (গ) শিক্ষাগুরুর (ঘ) দূতের
উত্তর: (গ) শিক্ষাগুরুর।
ব্যাখ্যা: শিক্ষকের স্থান যে সমাজের সবার ওপরে, তা-ই এখানে প্রমাণিত।
৪৩. বাদশাহ আলমগীর ইতিহাসে কেন বিখ্যাত?
(ক) নিষ্ঠুরতার জন্য (খ) ন্যায়বিচার, সরলতা ও শিক্ষানুরাগের জন্য (গ) রাজ্য বিজয়ের জন্য (ঘ) গান গাওয়ার জন্য
উত্তর: (খ) ন্যায়বিচার, সরলতা ও শিক্ষানুরাগের জন্য।
ব্যাখ্যা: তিনি একজন মহান ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন।
৪৪. 'স্পর্ধা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ভয় (খ) দুঃসাহস (গ) শক্তি (ঘ) দুর্বলতা
উত্তর: (খ) দুঃসাহস।
ব্যাখ্যা: রাজার ছেলেকে দিয়ে পানি ঢালানোকে শিক্ষক প্রথমে দুঃসাহস ভেবেছিলেন।
৪৫. "প্রাণের চেয়েও মান বড়ো"—কথাটি কে বলেছেন?
(ক) শাহজাদা (খ) বাদশাহ (গ) শিক্ষক (ঘ) কবি
উত্তর: (গ) শিক্ষক।
ব্যাখ্যা: শিক্ষকের কাছে জীবনের চেয়ে সম্মানের মূল্য বেশি।
৪৬. বাদশাহর মতে, শিক্ষক যদি নিজে পা ধোন তবে ছাত্র কী শিখবে?
(ক) পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (খ) বেয়াদবি ও অবহেলা (গ) নম্রতা (ঘ) কিছুই না
উত্তর: (খ) বেয়াদবি ও অবহেলা।
ব্যাখ্যা: গুরুভক্তি না শিখলে ছাত্র অবিনয়ী হবে।
৪৭. 'স্বয়ং' শব্দের অর্থ কী?
(ক) অন্যজন (খ) নিজে (গ) স্বভাবে (ঘ) সব সময়
উত্তর: (খ) নিজে।
ব্যাখ্যা: স্বয়ং সকালবেলা মানে নিজে সকালবেলা।
৪৮. 'নিরালায়' বলতে কী বোঝায়?
(ক) সবার সামনে (খ) নির্জনে বা নিরিবিলিতে (গ) বাজারে (ঘ) রাস্তায়
উত্তর: (খ) নির্জনে বা নিরিবিলিতে।
ব্যাখ্যা: বাদশাহ খাস কামরায় নিরালায় শিক্ষককে ডাকেন।
৪৯. 'সৌজন্য' শব্দের অর্থ কী?
(ক) শিষ্টাচার বা ভালো ব্যবহার (খ) খারাপ ব্যবহার (গ) রাগ (ঘ) অহংকার
উত্তর: (ক) শিষ্টাচার বা ভালো ব্যবহার।
ব্যাখ্যা: বাদশাহ তাঁর পুত্রের শিষ্টাচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
৫০. 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
(ক) রাজাদের সম্মান করতে (খ) গুরুজন ও শিক্ষকদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান দিতে (গ) অহংকার করতে (ঘ) ভয় পেতে
উত্তর: (খ) গুরুজন ও শিক্ষকদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান দিতে।
ব্যাখ্যা: শিক্ষকদের মর্যাদা সমাজের সবার ওপরে, এই শিক্ষাই কবিতাটি দেয়।
৫ বিপরীত শব্দ ও সমার্থক শব্দ
বিপরীত শব্দ (২০টি)
প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ
আনতউন্নতসম্মানঅপমান
প্রাতে / সকালরাতে / সন্ধ্যাসৌজন্যবেয়াদবি / অসৌজন্য
আনন্দনিরানন্দ / দুঃখঅবহেলাযত্ন / কদর
শ্রেষ্ঠঅধম / নিকৃষ্টউন্নতঅবনত
ভয়সাহসমহাননীচ / ক্ষুদ্র
আজকালউদারসংকীর্ণ / কৃপণ
খাসআম / সাধারণতফাতেকাছে / নিকটে
নিরালায়লোকালয়েসাফময়লা / নোংরা
প্রশ্নউত্তরজীবন / প্রাণমরণ / মৃত্যু
গুরুশিষ্যউচ্চনিচু / নিম্ন
সমার্থক শব্দ (১০টি)
প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ
শিক্ষকগুরু, উস্তাদ, আচার্য
বাদশাহসম্রাট, রাজা, শাহনশাহ
বারিপানি, জল, সলিল
চরণপা, পদ
প্রাতেসকালে, প্রভাতে, ভোরে
শিরমাথা, মস্তক
উচ্ছ্বাসউল্লাস, আনন্দ, খুশি
ভালেকপালে, ললাটে
কেল্লাদুর্গ, কিল্লা
নয়নচোখ, নেত্র, আঁখি
৬ সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটি কার লেখা?
উত্তর: 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতাটি লিখেছেন কবি কাজী কাদের নেওয়াজ।
প্রশ্ন ২: বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে কে পড়াতেন?
উত্তর: বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিল্লির এক মৌলবী বা শিক্ষক পড়াতেন।
প্রশ্ন ৩: একদিন সকালে বাদশাহ কী দেখতে পেলেন?
উত্তর: একদিন সকালে বাদশাহ দেখলেন যে, শাহজাদা পাত্র হাতে নিয়ে গুরুর চরণে পানি ঢালছে আর গুরু নিজের হাতে পা ধুয়ে নিচ্ছেন।
প্রশ্ন ৪: শাহজাদা কীভাবে গুরুর চরণে পানি ঢালছিল?
উত্তর: শাহজাদা পুলকিত হৃদে ও আনত-নয়নে অর্থাৎ আনন্দিত মনে ও শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টিতে গুরুর চরণে পানি ঢালছিল।
প্রশ্ন ৫: শিক্ষক প্রথমে কী ভেবে ভয় পেয়েছিলেন?
উত্তর: দিল্লির অধিপতির ছেলেকে দিয়ে পায়ে পানি ঢালানোর মতো স্পর্ধার কাজ করায় বাদশাহ হয়তো তাঁকে কঠোর শাস্তি দেবেন, এই ভেবে শিক্ষক ভয় পেয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৬: শিক্ষকের কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল কেন?
উত্তর: রাজপুত্রকে দিয়ে পানি ঢালানোর অপরাধে তাঁর আর নিস্তার নেই এবং তাঁর সবকিছু শেষ হয়ে যাবে—এই দুশ্চিন্তায় শিক্ষকের কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল।
প্রশ্ন ৭: শিক্ষক হঠাৎ কী ভেবে মনে সাহস পেলেন?
উত্তর: শিক্ষক ভাবলেন, সবার ওপরে শিক্ষকের মর্যাদা। দিল্লির বাদশাহর চেয়েও শিক্ষকের সম্মান অনেক বড়। এই সত্যিটা ভেবে তিনি মনে সাহস পেলেন।
প্রশ্ন ৮: শিক্ষকের কাছে প্রাণের চেয়ে কোনটি বেশি বড়?
উত্তর: শিক্ষকের কাছে প্রাণের চেয়ে নিজের সম্মান বা শিক্ষাগুরুর মান অনেক বেশি বড়।
প্রশ্ন ৯: বাদশাহর দূত কেন শিক্ষকের কাছে এসেছিল?
উত্তর: পরদিন সকালে বাদশাহর নির্দেশে দূত শিক্ষককে কেল্লায় বা রাজপ্রাসাদে ডেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছিল।
প্রশ্ন ১০: বাদশাহ শিক্ষককে কোথায় ডেকেছিলেন?
উত্তর: বাদশাহ শিক্ষককে কেল্লার ভেতরে তাঁর খাস কামরা বা একান্ত কক্ষে ডেকেছিলেন।
প্রশ্ন ১১: বাদশাহ শিক্ষকের কাছে কী অভিযোগ করেছিলেন?
উত্তর: বাদশাহ অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর ছেলে গুরুর কাছ থেকে সৌজন্য বা শিষ্টাচার শেখেনি, বরং গুরুজনে অবহেলা করা ও বেয়াদবি শিখেছে।
প্রশ্ন ১২: বাদশাহর এই অভিযোগের কারণ কী ছিল?
উত্তর: বাদশাহ দেখেছিলেন যে, ছেলে শুধু গুরুর পায়ে পানি ঢালছে, কিন্তু নিজ হাতে গুরুর পা ধুয়ে দিচ্ছে না। এতে গুরুর প্রতি অসম্মান প্রকাশ পেয়েছে বলে বাদশাহ মনে করেছিলেন।
প্রশ্ন ১৩: শিক্ষকের পা কে ধুয়ে দিচ্ছিল?
উত্তর: শাহজাদা কেবল পানি ঢালছিল, শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধুলো ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করছিলেন।
প্রশ্ন ১৪: বাদশাহর কথা শুনে শিক্ষকের কেমন অনুভূতি হলো?
উত্তর: বাদশাহর কথা শুনে শিক্ষকের মনের ভয় দূর হয়ে গেল এবং তাঁর হৃদয় উচ্ছ্বাস ও আনন্দে ভরে উঠল।
প্রশ্ন ১৫: উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষক কী করলেন?
উত্তর: উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষক সগৌরবে উঠে দাঁড়ালেন এবং বাদশাহকে কুর্নিশ বা সম্মান জানিয়ে উচ্চকণ্ঠে কথা বললেন।
প্রশ্ন ১৬: শিক্ষক উচ্চকণ্ঠে কী ঘোষণা করলেন?
উত্তর: শিক্ষক উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করলেন, "আজ হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির।"
প্রশ্ন ১৭: শিক্ষক বাদশাহ আলমগীরকে কী বলে প্রশংসা করলেন?
উত্তর: শিক্ষক বাদশাহ আলমগীরকে মহান এবং উদার বাদশাহ বলে প্রশংসা করলেন।
প্রশ্ন ১৮: 'তফাতে' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'তফাতে' শব্দের অর্থ হলো দূরে বা দূরত্বে।
প্রশ্ন ১৯: 'প্রক্ষালন' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'প্রক্ষালন' বলতে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করার কাজকে বোঝায়।
প্রশ্ন ২০: এই কবিতাটি আমাদের কী বার্তা দেয়?
উত্তর: এই কবিতাটি আমাদের বার্তা দেয় যে, শিক্ষকের মর্যাদা সমাজের সবার ওপরে; এমনকি একজন পরাক্রমশালী বাদশাহও শিক্ষকের কাছে মাথা নত করেন।
৭ বিস্তৃত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: বাদশাহ আলমগীর একদিন সকালে কী দেখলেন এবং তখন তাঁর মনে কী ভাবনার উদয় হয়েছিল?
উত্তর: একদিন সকালে বাদশাহ আলমগীর দেখলেন যে, তাঁর পুত্র (শাহজাদা) একটি পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষক মৌলবীর পায়ে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজের হাত দিয়ে পায়ের ধুলো ধুয়ে পরিষ্কার করছেন। এই দৃশ্য দেখে বাদশাহ খুশি হতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন, গুরুর পায়ে শুধু পানি ঢালা যথেষ্ট নয়; গুরুর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনের জন্য শাহজাদার উচিত ছিল নিজ হাতে গুরুর পা ধুয়ে পরিষ্কার করে দেওয়া।
প্রশ্ন ২: শাহজাদা গুরুর পায়ে পানি ঢালার সময় শিক্ষকের মনের অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: শাহজাদা যখন গুরুর পায়ে পানি ঢালছিল, তখন শিক্ষক অত্যন্ত ভয় ও দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি ভাবছিলেন, দিল্লির মতো বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতির ছেলেকে দিয়ে পায়ে পানি ঢালানোর মতো দুঃসাহসিক কাজ তিনি করে ফেলেছেন। এই অপরাধের জন্য বাদশাহ হয়তো তাঁকে চরম শাস্তি দেবেন এবং তাঁর আর কোনো নিস্তার নেই—এই ভেবে তাঁর কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠেছিল।
প্রশ্ন ৩: শিক্ষক কীভাবে নিজের ভয় দূর করে মনে সাহস সঞ্চয় করলেন?
উত্তর: কিছুক্ষণ চিন্তার পর শিক্ষকের মনে হলো, পৃথিবীতে শিক্ষকের মর্যাদাই সবার ওপরে। রাজা বা বাদশাহ কেবল একটি দেশের শাসক, কিন্তু একজন শিক্ষক হলেন জ্ঞানদাতা ও জাতি গড়ার কারিগর। তাই বাদশাহর চেয়ে শিক্ষকের সম্মান অনেক বড়। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, বাদশাহ যদি কৈফিয়ত চান, তবে তিনি নির্ভয়ে শাস্ত্রের কথা শুনিয়ে দেবেন। এই মহৎ সত্য উপলব্ধি করেই তিনি ভয় দূর করে মনে সাহস সঞ্চয় করলেন।
প্রশ্ন ৪: "প্রাণের চেয়েও মান বড়ো আমি শুনাব শাহনশাহে"—উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: শিক্ষকের কাছে আত্মসম্মান ও পদের মর্যাদা নিজের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তিনি উপলব্ধি করেন যে, শিক্ষকের মর্যাদা রাজার মর্যাদার চেয়েও ঊর্ধ্বে। বাদশাহ যদি তাঁর ছেলের দিয়ে পানি ঢালানোর কারণে শিক্ষকের প্রাণদণ্ডও দেন, তবুও তিনি পিছপা হবেন না। তিনি মাথা উঁচু করে বাদশাহকে বুঝিয়ে দেবেন যে, শিক্ষাগুরুর সম্মান সবার ওপরে। আত্মমর্যাদাবোধের এই চরম প্রকাশই উক্তিটিতে ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ৫: বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে খাস কামরায় ডেকে কী বলেছিলেন?
উত্তর: পরদিন বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে তাঁর খাস কামরায় নিরালায় ডেকে পাঠান। সেখানে তিনি শিক্ষকের কাছে আক্ষেপ করে বলেন যে, তাঁর ছেলে গুরুর কাছ থেকে কোনো সৌজন্য বা শিষ্টাচার শেখেনি; বরং বেয়াদবি ও অবহেলা শিখেছে। বাদশাহ জানান, আগের দিন সকালে তিনি দূর থেকে দেখেছেন যে তাঁর ছেলে শুধু গুরুর পায়ে পানি ঢালছে, কিন্তু নিজ হাতে গুরুর পা ধুয়ে দিচ্ছে না। এটি গুরুর প্রতি চরম অসম্মান।
প্রশ্ন ৬: বাদশাহর অভিযোগ শুনে শিক্ষকের মনের অবস্থার কী পরিবর্তন হলো?
উত্তর: বাদশাহ খাস কামরায় ডাকলে শিক্ষক প্রথমে ভেবেছিলেন তাঁকে বুঝি শাস্তি দেওয়া হবে। কিন্তু যখন তিনি শুনলেন যে, বাদশাহ তাঁর ছেলের গুরুর পা নিজ হাতে না ধোয়ার কারণে আক্ষেপ করছেন এবং একে বেয়াদবি মনে করছেন, তখন শিক্ষকের সব ভয় দূর হয়ে গেল। বাদশাহর এই মহানুভবতা ও শিক্ষকের প্রতি অসীম শ্রদ্ধা দেখে তাঁর বুক গর্বে ও আনন্দে ফুলে উঠল।
প্রশ্ন ৭: শিক্ষকের উচ্ছ্বাসের কারণ কী ছিল?
উত্তর: শিক্ষকের উচ্ছ্বাসের প্রধান কারণ ছিল বাদশাহ আলমগীরের শিক্ষানুরাগ এবং শিক্ষকের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। শিক্ষক ভেবেছিলেন রাজপুত্রকে দিয়ে পানি ঢালানোর জন্য তিনি শাস্তি পাবেন। কিন্তু বাদশাহ উল্টো আক্ষেপ করলেন যে, রাজপুত্র কেন নিজ হাতে গুরুর পা ধুয়ে দিল না। দেশের শাসকের মুখে শিক্ষাগুরুর এমন সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা শুনেই শিক্ষক উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।
প্রশ্ন ৮: "আজ হতে চির উন্নত হলো শিক্ষাগুরুর শির"—এই লাইনটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: বাদশাহ আলমগীর যখন নিজের ছেলের মাধ্যমে গুরুর পা ধুইয়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন সমাজে শিক্ষকের অবস্থান সবার ওপরে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বয়ং দেশের অধিপতি যখন শিক্ষকের কাছে এতটা বিনত, তখন প্রমাণ হয় যে ক্ষমতার চেয়ে জ্ঞানের মর্যাদা বড়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার পর থেকে শিক্ষকের মাথা বা শির যুগ যুগের জন্য সম্মান ও গৌরবে উঁচু হয়ে গেল—এটিই কবি বোঝাতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন ৯: বাদশাহ আলমগীরের চরিত্রের কোন দিকটি এই কবিতায় সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে?
উত্তর: এই কবিতায় বাদশাহ আলমগীরের চরিত্রের শ্রেষ্ঠ দিকটি হলো তাঁর বিনয়, মহানুভবতা এবং শিক্ষাগুরুর প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা। একজন পরাক্রমশালী সম্রাট হয়েও তিনি অহংকার করেননি। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর সন্তান শুধু রাজপুত্র হিসেবে নয়, বরং গুরুভক্তি ও শিষ্টাচার শিখে একজন বিনয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক। তাঁর এই শিক্ষানুরাগ তাঁকে ইতিহাসে অমর করেছে।
প্রশ্ন ১০: শাহজাদা কীভাবে গুরুর সেবা করছিল এবং তাতে বাদশাহর অসন্তোষের কারণ কী?
উত্তর: শাহজাদা খুব আনন্দিত মনে এবং শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টিতে (পুলকিত হৃদে আনত-নয়নে) একটি পাত্র থেকে গুরুর পায়ে পানি ঢেলে দিচ্ছিল। কিন্তু বাদশাহ এতে অসন্তুষ্ট হন, কারণ তিনি মনে করতেন গুরুর প্রতি সম্মান প্রদর্শনে কোনো খামতি থাকা উচিত নয়। শুধু পানি ঢালা যথেষ্ট নয়, শাহজাদার উচিত ছিল নিজ হাতে গুরুর পা সযত্নে ঘষে ঘষে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেওয়া।
প্রশ্ন ১১: "দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার"—শিক্ষক কেন এ কথা ভেবেছিলেন?
উত্তর: শিক্ষক যখন নিজের মর্যাদার কথা চিন্তা করছিলেন, তখন তিনি উপলব্ধি করেন যে, জ্ঞানদানের মতো পবিত্র কাজের সাথে যুক্ত থাকায় সমাজে তাঁর স্থান সবার ওপরে। একজন রাজা বা দিল্লির পতি কেবল শাসনক্ষমতার অধিকারী, যা অস্থায়ী। কিন্তু শিক্ষকের দেওয়া জ্ঞান চিরস্থায়ী। তাই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত শিক্ষকের সম্মানের কাছে বাদশাহর ক্ষমতাকে তিনি অতি তুচ্ছ বা 'কোন্ ছার' বলে মনে করেছেন।
প্রশ্ন ১২: এই কবিতা থেকে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক সম্পর্কে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?
উত্তর: এই কবিতা আমাদের শিক্ষা দেয় যে, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক হবে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও স্নেহের। ছাত্রের প্রধান দায়িত্ব হলো গুরুর প্রতি বিনয়ী হওয়া, শিষ্টাচার বজায় রাখা এবং তাঁকে নিঃস্বার্থভাবে সম্মান করা। গুরুজনদের অবহেলা করা চরম বেয়াদবি। অন্যদিকে শিক্ষকেরও উচিত আত্মমর্যাদা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের সঠিক মূল্যবোধ ও আদবকেতা শিক্ষা দেওয়া।
প্রশ্ন ১৩: 'খাস কামরা' ও 'নিরালা' শব্দ দুটি ব্যবহারের তাৎপর্য কী?
উত্তর: খাস কামরা হলো বাদশাহর একান্ত ব্যক্তিগত কক্ষ এবং নিরালা মানে নির্জন জায়গা। বাদশাহ আলমগীর শিক্ষককে সবার সামনে দরবারে ডেকে অপমান করতে চাননি। তিনি একান্ত নির্জনে শিক্ষককে ডেকে তাঁর মনের আক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে বাদশাহর শালীনতাবোধ এবং শিক্ষকের প্রতি তাঁর সূক্ষ্ম সম্মানের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ১৪: "বুঝিতে পারিনি, হায়, / কী কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?"—শিক্ষকের এই অজ্ঞতার কারণ কী?
উত্তর: শিক্ষক একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তৎকালীন রাজতান্ত্রিক কাঠামোর ভয় থেকে মুক্ত হতে পারেননি। তিনি ভেবেছিলেন, বাদশাহ তাঁর ছেলের হাত দিয়ে গুরুর পায়ে পানি ঢালানোর অপরাধে তাঁকে শাস্তি দিতে নির্জনে ডেকেছেন। বাদশাহ যে গুরুর পা নিজ হাতে না ধোয়ার জন্য ছেলের ওপর রেগে আছেন, এমন মহান চিন্তা সাধারণ শিক্ষকের কল্পনারও বাইরে ছিল। তাই তিনি বাদশাহর কথা প্রথমে বুঝতে পারেননি।
প্রশ্ন ১৫: কবিতাটিতে 'শাস্ত্র' বলতে কী বোঝানো হয়েছে এবং শিক্ষক কেন শাস্ত্রের কথা শোনাতে চেয়েছিলেন?
উত্তর: 'শাস্ত্র' বলতে এখানে ধর্মগ্রন্থ, নীতিবাক্য ও শিষ্টাচারের বইগুলোকে বোঝানো হয়েছে। শাস্ত্রে সবসময় গুরু বা শিক্ষকদের মর্যাদা সবার ওপরে স্থান দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ভেবেছিলেন, বাদশাহ যদি তাঁকে রাজপুত্রের দিয়ে পানি ঢালানোর কারণ জিজ্ঞেস করেন, তবে তিনি শাস্ত্রের প্রমাণ দিয়ে অনর্গল বুঝিয়ে দেবেন যে শিক্ষকের সম্মান রাজার চেয়েও বড় এবং তিনি কোনো অপরাধ করেননি।
প্রশ্ন ১৬: "সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর"—শিক্ষকের এই প্রশংসার যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর: শিক্ষকের এই প্রশংসাটি সম্পূর্ণ যথার্থ। সাধারণত রাজারা অহংকারী হন এবং কেউ তাদের অবমাননা করলে চরম শাস্তি দেন। কিন্তু বাদশাহ আলমগীর ছিলেন এর ব্যতিক্রম। তিনি নিজের অহংকার ত্যাগ করে ছেলের শিক্ষককে নিজের চেয়েও বেশি সম্মান দিয়েছেন। তাঁর এই বিরল ঔদার্য ও বিনয় তাঁকে সত্যিই একজন মহান বাদশাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
প্রশ্ন ১৭: 'কুর্নিশ করি'—শিক্ষক কেন বাদশাহকে কুর্নিশ করেছিলেন?
উত্তর: শিক্ষক প্রথমে বাদশাহকে ভয় পেলেও, পরে যখন বুঝতে পারেন যে বাদশাহ স্বয়ং শিক্ষকের মর্যাদাকে এতটা উঁচুতে স্থান দিয়েছেন, তখন তাঁর হৃদয় আনন্দে ও কৃতজ্ঞতায় ভরে ওঠে। বাদশাহর এই বিশাল হৃদয়, মহানুভবতা ও শিক্ষানুরাগের প্রতি গভীর সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতেই শিক্ষক উচ্ছ্বাসভরে তাঁকে কুর্নিশ বা অভিবাদন জানিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১৮: শিক্ষাগুরুর মর্যাদা কবিতায় কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে?
উত্তর: কবিতায় মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব (বাদশাহ আলমগীর)-এর জীবনের একটি শিক্ষণীয় ঘটনার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি তাঁর পুত্রদের প্রকৃত শিক্ষা ও গুরুভক্তি শেখানোর ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। তাঁর এই মূল্যবোধের কারণেই তিনি ছেলের গৃহশিক্ষক মৌলবীর মর্যাদাকে সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছিলেন, যা ইতিহাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
প্রশ্ন ১৯: 'স্পর্ধা' ও 'বেয়াদবি'—শব্দ দুটি কবিতায় কীভাবে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: 'স্পর্ধা' বা দুঃসাহস শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে শিক্ষকের দৃষ্টিকোণ থেকে। শিক্ষক ভেবেছিলেন, রাজপুত্রকে দিয়ে পানি ঢালানো তাঁর স্পর্ধা। অন্যদিকে, 'বেয়াদবি' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে বাদশাহর দৃষ্টিকোণ থেকে। বাদশাহ মনে করেছিলেন, গুরুর পা নিজ হাতে না ধুয়ে শুধু পানি ঢালাটা শাহজাদার বেয়াদবি ও গুরুজনে অবহেলা।
প্রশ্ন ২০: "শিক্ষাগুরুর মর্যাদা" কবিতাটি তোমার জীবনে কী প্রভাব ফেলেছে?
উত্তর: "শিক্ষাগুরুর মর্যাদা" কবিতাটি পড়ে আমি শিক্ষকদের প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমি শিখেছি যে, পিতামাতার মতোই শিক্ষকরা আমাদের পরম পূজনীয়। জীবনে যতই বড় হই না কেন, শিক্ষকের প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল ও বিনয়ী হতে হবে এবং কখনো তাঁদের অবহেলা করা যাবে না।
৮ কবিতার মূলভাব লিখন
মূলভাব:
কবি কাজী কাদের নেওয়াজ রচিত 'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা' কবিতায় শিক্ষকের মর্যাদাকে সমাজের সর্বোচ্চ আসনে স্থান দেওয়া হয়েছে। মোগল সম্রাট বাদশাহ আলমগীর তাঁর পুত্রকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এক মৌলবীকে নিয়োগ দেন। একদিন বাদশাহ দেখেন যে, শাহজাদা গুরুর পায়ে শুধু পানি ঢেলে দিচ্ছে, আর গুরু নিজ হাতে পা পরিষ্কার করছেন। এ দৃশ্য দেখে বাদশাহ কষ্ট পান। পরদিন তিনি শিক্ষককে ডেকে আক্ষেপ করে বলেন যে, শাহজাদা নিজ হাতে গুরুর পা ধুয়ে না দিয়ে চরম বেয়াদবি করেছে। বাদশাহর এমন মহানুভবতা ও শিক্ষানুরাগ দেখে শিক্ষকের মন গর্বে ও আনন্দে ভরে ওঠে। তিনি উপলব্ধি করেন যে, বাদশাহর এই উদারতায় পৃথিবীতে শিক্ষাগুরুর সম্মান চিরকালের জন্য উন্নত ও সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।
৯ পদ নির্ণয় ও ক্রিয়ার কাল (১০টি)
পদ নির্ণয় (৫টি)
  • ১. শিক্ষক শুধু নিজ হাত দিয়া পরিষ্কার করছেন।
  • ২. তিনি মহান উদার বাদশাহ।
  • ৩. আমি ভয় করি নাকো।
  • ৪. শাহজাদা পাত্র হস্তে নিয়া বারি ঢালিতেছে।
  • ৫. বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা শিখেছে।
উত্তর: ১. বিশেষ্য (নাম পদ); ২. বিশেষণ (বাদশাহর গুণ বোঝাচ্ছে); ৩. সর্বনাম (নামের পরিবর্তে); ৪. ক্রিয়া (কাজ করা বোঝাচ্ছে); ৫. অব্যয় (দুটি পদ যুক্ত করেছে)।
ক্রিয়ার কাল নির্ণয় (৫টি)
  • ১. কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবী।
  • ২. শাহজাদা বারি ঢালিতেছে (ঢালছে)।
  • ৩. বাদশাহ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব।
  • ৪. বাদশাহর দূত শিক্ষককে ডেকে নিয়ে গেল।
  • ৫. আমি বুঝিতে পারিনি।
উত্তর: ১. অতীত কাল (সাধারণ অতীত / নিত্যবৃত্ত অতীত); ২. বর্তমান কাল (ঘটমান বর্তমান); ৩. ভবিষ্যৎ কাল; ৪. অতীত কাল (সাধারণ অতীত); ৫. অতীত কাল (পুরাঘটিত অতীত - নেতিবাচক অর্থে)।
১০ প্রশ্ন তৈরি ও বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (১০টি)
প্রশ্ন তৈরি (৫টি)
অনুচ্ছেদ: বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে দিল্লির এক মৌলবী পড়াতেন। একদিন সকালে শাহজাদা গুরুর চরণে পানি ঢালছিল। শিক্ষক নিজ হাতে পায়ের ধুলো পরিষ্কার করছিলেন। এ দৃশ্য দেখে বাদশাহ শিক্ষককে খাস কামরায় ডাকলেন। তিনি বললেন, শাহজাদা নিজ হাতে গুরুর পা না ধুয়ে বেয়াদবি করেছে।
  • ১. (কে):
  • ২. (কখন):
  • ৩. (কীভাবে):
  • ৪. (কোথায়):
  • ৫. (কেন):
উত্তর:
১. বাদশাহ আলমগীরের পুত্রকে কে পড়াতেন?
২. কখন শাহজাদা গুরুর চরণে পানি ঢালছিল?
৩. শিক্ষক কীভাবে পায়ের ধুলো পরিষ্কার করছিলেন?
৪. বাদশাহ শিক্ষককে কোথায় ডাকলেন?
৫. বাদশাহর মতে শাহজাদা কেন বেয়াদবি করেছে?
বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (৫টি বাক্য)
  • প্রদত্ত অনুচ্ছেদ: শিক্ষক কন জাঁহাপনা আমি বুঝিতে পারিনি হায় কী কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায় বাদশাহ কহেন সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ
  • সঠিক রূপ:
    শিক্ষক কন— ‘জাঁহাপনা, আমি বুঝিতে পারিনি, হায়,
    কী কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?’
    বাদশাহ্ কহেন, ‘সেদিন প্রভাতে
    দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
    নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
    পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
১১ সাধু থেকে চলিত রীতি পরিবর্তন
সাধু রূপচলিত রূপ
পড়াইতপড়াত
গিয়াগিয়ে
নিয়ানিয়ে
ঢালিতেছেঢালছে
ভাবিলেনভাবলেন
দিয়াদিয়ে
করিতেছেনকরছেন
ডাবিলেন (ডাকিলেন)ডাকলেন
সাধু রূপচলিত রূপ
লইয়াছেনিয়েছে
ভাবিতে ভাবিতেভাবতে ভাবতে
কহিলেনবললেন
শিখিয়াছেশিখেছে
দেখিলামদেখলাম
বুঝিতেবুঝতে
বলিতেবলতে
বুলাইয়াবুলিয়ে
১২ কবিতার লাইনকে গদ্য ভাষায় রূপান্তর
  • ক. কুমারে তাঁহার পড়াইত এক মৌলবি দিল্লীর。
    গদ্যরূপ: তাঁর কুমারকে দিল্লির এক মৌলবি পড়াতেন।
  • খ. শাহজাদা এক পাত্র হস্তে নিয়া ঢালিতেছে বারি গুরুর চরণে。
    গদ্যরূপ: শাহজাদা একটি পাত্র হাতে নিয়ে গুরুর পায়ে পানি ঢালছে।
  • গ. ভাবিতে ভাবিতে চিন্তার রেখা দেখা দিলো তাঁর ভালে。
    গদ্যরূপ: ভাবতে ভাবতে তাঁর কপালে চিন্তার রেখা দেখা দিল।
  • ঘ. বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে。
    গদ্যরূপ: বাদশাহর দূত শিক্ষককে ডেকে কেল্লাতে নিয়ে গেল।
  • ঙ. পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
    গদ্যরূপ: আমার ছেলে কি আপনার কাছে কিছু সৌজন্য বা শিষ্টাচার শিখেছে?
  • চ. পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ。
    গদ্যরূপ: আমার ছেলে শুধু পানি ঢেলে ওই পা ভেজাচ্ছে।
১৩ যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দগঠন
  • স্ত = (স + ত) = অস্ত, জলহস্তী, সস্তা
  • ত্ন = (ত + ন) = যত্ন, রত্ন
  • ম্প = (ম + প) = সম্পদ, সম্প্রীতি, কম্পন
  • ষ্ঠ = (ষ + ঠ) = শ্রেষ্ঠ, কাষ্ঠ, পৃষ্ঠা
  • ঙ্গ = (ঙ + গ) = অঙ্গ, বঙ্গ, জঙ্গল
  • ঞ্চ = (ঞ + চ) = সঞ্চারি, পঞ্চম, অঞ্চল
  • র্গ = (র-রেফ + গ) = স্বর্গ, দুর্গা, নির্গত
  • র্ধা = (র-রেফ + ধ) = স্পর্ধা, অর্ধ
  • স্ত্র = (স + ত + র-ফলা) = শাস্ত্র, অস্ত্র, বস্ত্র
  • ক্ষ = (ক + ষ) = প্রক্ষালন, শিক্ষা, রক্ষা
১৪ কাকে কী বলে সম্বোধন করি
সম্পর্কসম্বোধন (তুমি / আপনি / তুই)
সহপাঠীতুমি, তুই
খেলার সাথিতুমি, তুই
মাতুমি, আপনি
বাবাতুমি, আপনি
দাদাআপনি, তুমি
সম্পর্কসম্বোধন (তুমি / আপনি / তুই)
দাদুআপনি, তুমি
বড়ো ভাই-বোনতুমি, আপনি
ছোটো ভাই-বোনতুই, তুমি
শিক্ষকআপনি
বড়ো অপরিচিত মানুষআপনি
ছোটো অপরিচিত মানুষতুমি

(নোট: সম্বোধন অনেক সময় পারিবারিক রীতির ওপর নির্ভর করে, তবে এটি সাধারণ ব্যাকরণগত নিয়ম।)

১৫ এককথায় প্রকাশ (২০টি)
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১. ধোয়ার কাজ বা পানি দিয়ে পরিষ্কার করাপ্রক্ষালন
২. যা একনাগাড়ে বা অনবরত বলা হয়অনর্গল
৩. সম্মান জানিয়ে মাথা নত করাকুর্নিশ করা / অভিবাদন
৪. বাদশাহকে সম্মান জানিয়ে ডাকার নামজাঁহাপনা
৫. যেখানে ব্যক্তিগত বা গোপন কাজ করা হয়খাস কামরা / একান্ত কক্ষ
৬. রাজা বা বাদশাহর ছেলেশাহজাদা / কুমার
৭. যার মনে খুব আনন্দ বা উল্লাসউচ্ছ্বসিত / পুলকিত
৮. যে কাজ করা চরম সাহসের বা ঔদ্ধত্যেরস্পর্ধা
৯. ভালো ব্যবহারের রীতিনীতিসৌজন্য / শিষ্টাচার
১০. যা চোখের সামনে নেই বা দূরেতফাতে
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১১. চোখের দৃষ্টি নিচের দিকে রাখাআনত-নয়নে
১২. সকালের সময়প্রাতে / প্রভাত
১৩. যার হাত থেকে বাঁচার উপায় নেইনিস্তারহীন
১৪. যে রাজাদেরও রাজাশাহনশাহ
১৫. সংবাদ বা খবর বহন করে আনে যেদূত
১৬. সবকিছুর মধ্যে যে উত্তমশ্রেষ্ঠ
১৭. গুরুর প্রতি যে অবহেলা বা অসম্মানবেয়াদবি
১৮. মাথা উঁচু করে বা সম্মানের সাথেসগৌরবে / উন্নত শিরে
১৯. যার মন অনেক বড়মহান / উদার
২০. নিরিবিলি বা নির্জন স্থাননিরালা