১. 'শিষ্যের সাধনা' গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
(ক) দ্রোণ
(খ) একলব্য
(গ) তৃতীয় রাজপুত্র
(ঘ) অর্জুন
উত্তর: (খ) একলব্য।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যের শুরুতেই বলা হয়েছে, নাম তার একলব্য।
২. একলব্য সারাদিন কী নিয়ে মেতে থাকে?
(ক) বই-খাতা
(খ) তির-ধনুক
(গ) তলোয়ার
(ঘ) বল্লম
উত্তর: (খ) তির-ধনুক।
ব্যাখ্যা: সারাদিন তির-ধনুক নিয়ে মেতে থাকে ছেলেটা।
৩. একলব্যের হাতের নিশানা কেমন ছিল?
(ক) কাঁচা
(খ) অব্যর্থ
(গ) দুর্বল
(ঘ) ভুল
উত্তর: (খ) অব্যর্থ।
ব্যাখ্যা: অব্যর্থ তার হাতের নিশানা, অর্থাৎ তা কখনো বিফল হয় না।
৪. একলব্য কী হতে চায়?
(ক) রাজা
(খ) মস্ত বীর
(গ) শিকারি
(ঘ) মন্ত্রী
উত্তর: (খ) মস্ত বীর।
ব্যাখ্যা: গল্পে বলা হয়েছে, একলব্য মস্ত বীর হতে চায়।
৫. একলব্য কার কাছে ছুটল?
(ক) রাজার কাছে
(খ) গুরু দ্রোণের কাছে
(গ) তার বাবার কাছে
(ঘ) রাজপুত্রের কাছে
উত্তর: (খ) গুরু দ্রোণের কাছে।
ব্যাখ্যা: বীর হওয়ার আশায় সে গুরু দ্রোণের কাছে ছুটল।
৬. দ্রোণ কাদের তির চালনা শেখান?
(ক) রাজপুত্রদের
(খ) শিকারিদের
(গ) মন্ত্রীদের
(ঘ) সাধারণ ছেলেদের
উত্তর: (ক) রাজপুত্রদের।
ব্যাখ্যা: একলব্য শুনেছে, দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান।
৭. একলব্য কোথায় ঢুকে পড়ল?
(ক) রাজবাড়ির মাঠে
(খ) বনে
(গ) প্রাসাদে
(ঘ) কুঁড়েঘরে
উত্তর: (ক) রাজবাড়ির মাঠে।
ব্যাখ্যা: সাহসে বুক বেঁধে একলব্য ঢুকে পড়ল রাজবাড়ির মাঠে।
৮. মাঠে রাজপুত্ররা কীসের অনুশীলন করছিল?
(ক) তলোয়ার চালানোর
(খ) ঘোড়ায় চড়ার
(গ) ধনুক থেকে তির ছোড়ার
(ঘ) কুস্তির
উত্তর: (গ) ধনুক থেকে তির ছোড়ার।
ব্যাখ্যা: রাজপুত্ররা সেখানে তির ছোড়ার অনুশীলন করছিল।
৯. রাজবাড়ির মাঠে একলব্যকে কে প্রথম দেখতে পেল?
(ক) দ্রোণ
(খ) এক রাজপুত্র
(গ) রাজা
(ঘ) সেনাপতি
উত্তর: (খ) এক রাজপুত্র।
ব্যাখ্যা: হঠাৎ এক রাজপুত্র দেখতে পেল একলব্যকে।
১০. একলব্য নিজেকে কার ছেলে বলে পরিচয় দিল?
(ক) এক রাজার
(খ) এক শিকারির
(গ) এক কৃষকের
(ঘ) এক জেলের
উত্তর: (খ) এক শিকারির।
ব্যাখ্যা: একলব্য কাছে এসে বলল, 'আমি এক শিকারির ছেলে।'
১১. দ্রোণ কী করে একলব্যকে জিজ্ঞেস করলেন, "তা এখানে কেন?"
(ক) হেসে
(খ) ভুরু কুঁচকে
(গ) রেগে গিয়ে
(ঘ) কেঁদে
উত্তর: (খ) ভুরু কুঁচকে।
ব্যাখ্যা: দ্রোণ ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন।
১২. একলব্য ভয়ে ভয়ে কী বলল?
(ক) সে খেলতে এসেছে
(খ) সে তির চালনা শিখতে চায়
(গ) সে কাজ খুঁজতে এসেছে
(ঘ) সে শিকার করতে এসেছে
উত্তর: (খ) সে তির চালনা শিখতে চায়।
ব্যাখ্যা: সে দ্রোণের কাছে বিদ্যা শিখতে চেয়েছিল।
১৩. দ্রোণ একলব্যকে কী বলে ফিরিয়ে দিলেন?
(ক) আমি শুধু রাজকুমারদের শেখাই
(খ) তোমার বয়স কম
(গ) তুমি দুর্বল
(ঘ) আমার সময় নেই
উত্তর: (ক) আমি শুধু রাজকুমারদের শেখাই।
ব্যাখ্যা: বিরক্ত মুখে দ্রোণ এই কথা বলে তাকে ফিরিয়ে দেন।
১৪. দ্রোণের কথা শুনে একলব্যের কী অবস্থা হলো?
(ক) সে রেগে গেল
(খ) তার মুখ কালো হয়ে গেল
(গ) সে হাসল
(ঘ) সে দ্রোণকে মারল
উত্তর: (খ) তার মুখ কালো হয়ে গেল।
ব্যাখ্যা: প্রত্যাখ্যাত হয়ে সে মলিন মুখে চলে এলো।
১৫. দ্রোণ একদিন রাজপুত্রদের কী নিতে বনে এলেন?
(ক) বেড়াতে
(খ) পরীক্ষা নিতে
(গ) শিকার করতে
(ঘ) ঘুমাতে
উত্তর: (খ) পরীক্ষা নিতে।
ব্যাখ্যা: রাজপুত্ররা পারদর্শী হওয়ার পর দ্রোণ পরীক্ষা নিতে এলেন।
১৬. রাজপুত্রদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারত?
(ক) প্রথম জন
(খ) দ্বিতীয় জন
(গ) তৃতীয় জন
(ঘ) চতুর্থ জন
উত্তর: (গ) তৃতীয় জন।
ব্যাখ্যা: তৃতীয় রাজপুত্র সবচেয়ে ভালো তিরন্দাজ ছিল।
১৭. তৃতীয় রাজপুত্র বনে কী দেখতে পেল?
(ক) বাঘ
(খ) সিংহ
(গ) হরিণ
(ঘ) খরগোশ
উত্তর: (গ) হরিণ।
ব্যাখ্যা: সে একটা হরিণ দেখে তার পিছন পিছন ছুটতে লাগল।
১৮. তৃতীয় রাজপুত্রের সঙ্গে কী ছিল?
(ক) একটা শিকারি বিড়াল
(খ) একটা শিকারি কুকুর
(গ) একটা ঘোড়া
(ঘ) একটা বাজপাখি
উত্তর: (খ) একটা শিকারি কুকুর।
ব্যাখ্যা: তার সঙ্গে একটা শিকারি কুকুর ছিল।
১৯. কুকুরটা কার পিছু ছুটল?
(ক) বাঘের
(খ) হরিণের
(গ) পাখির
(ঘ) শিয়ালের
উত্তর: (খ) হরিণের।
ব্যাখ্যা: কুকুরটা হরিণের পিছু ছুটল।
২০. খানিক বাদে কুকুরটা ফিরে এলে রাজপুত্র কেন 'থ' হয়ে গেল?
(ক) কুকুরটি মারা গিয়েছিল
(খ) কুকুরটার মুখের চারপাশে পাঁচটা তির বিঁধে ছিল
(গ) কুকুরটি একটি হরিণ ধরেছিল
(ঘ) কুকুরটি কাঁদছিল
উত্তর: (খ) কুকুরটার মুখের চারপাশে পাঁচটা তির বিঁধে ছিল।
ব্যাখ্যা: সে অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখল।
২১. কুকুরটার মুখে তির বিঁধে থাকার কারণে কী হচ্ছিল?
(ক) সে মারা যাচ্ছিল
(খ) সে আর ডাকতে পারছিল না
(গ) সে দৌড়াচ্ছিল
(ঘ) সে হাসছিল
উত্তর: (খ) সে আর ডাকতে পারছিল না।
ব্যাখ্যা: তিরের কারণে কুকুরটির চিৎকার বা ডাক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
২২. কুকুরটার মুখে তির বিঁধে থাকলেও কী অবাক কাণ্ড দেখা গেল?
(ক) তার অনেক রক্ত পড়ছিল
(খ) তার মুখে এক ফোঁটা রক্তের দাগ নেই এবং যন্ত্রণার লক্ষণ নেই
(গ) সে হাসছিল
(ঘ) সে অজ্ঞান হয়ে গেছে
উত্তর: (খ) তার মুখে এক ফোঁটা রক্তের দাগ নেই এবং যন্ত্রণার লক্ষণ নেই।
ব্যাখ্যা: তিরের আঘাত এমন নিখুঁত ছিল যে কোনো ক্ষতি হয়নি।
২৩. রাজপুত্র শিকারিকে খুঁজতে খুঁজতে কী দেখতে পেল?
(ক) একটা প্রাসাদ
(খ) উঠানের মতো একফালি জায়গা
(গ) একটা পুকুর
(ঘ) একটা পাহাড়
উত্তর: (খ) উঠানের মতো একফালি জায়গা।
ব্যাখ্যা: সে বনের মাঝে এমন একটি জায়গা দেখতে পেল।
২৪. একফালি জায়গাটির চারপাশে কীসের বেড়া ছিল?
(ক) ইটের
(খ) কাঠের
(গ) লতাপাতার
(ঘ) লোহার
উত্তর: (গ) লতাপাতার।
ব্যাখ্যা: জায়গাটির চারপাশে লতাপাতার বেড়া ছিল।
২৫. সেখানে এক যুবক কী করছিল?
(ক) ঘুমাচ্ছিল
(খ) কাঠ কাটছিল
(গ) তির চালনার অনুশীলন করছিল
(ঘ) রান্না করছিল
উত্তর: (গ) তির চালনার অনুশীলন করছিল।
ব্যাখ্যা: যুবকটি একা একা তির মারছিল।
২৬. যুবকের তির চালনার কৌশল দেখে কার অহংকার ধুলায় মিশে গেল?
(ক) দ্রোণের
(খ) একলব্যের
(গ) তৃতীয় রাজপুত্রের
(ঘ) রাজার
উত্তর: (গ) তৃতীয় রাজপুত্রের।
ব্যাখ্যা: সে নিজেকে সেরা মনে করত, কিন্তু যুবকের বিদ্যা দেখে তার অহংকার চূর্ণ হলো।
২৭. 'অহংকার ধুলায় মিশে যাওয়া' বলতে কী বোঝায়?
(ক) অহংকার বেড়ে যাওয়া
(খ) অহংকার শেষ হয়ে যাওয়া বা চূর্ণ হওয়া
(গ) ধুলায় পড়ে যাওয়া
(ঘ) রেগে যাওয়া
উত্তর: (খ) অহংকার শেষ হয়ে যাওয়া বা চূর্ণ হওয়া।
ব্যাখ্যা: এটি একটি বাগধারা, যার অর্থ দর্প চূর্ণ হওয়া।
২৮. রাজপুত্র যুবককে কী জিজ্ঞাসা করল?
(ক) তুমি কে
(খ) তুমি কি আমার কুকুরের মুখে তির মেরেছ?
(গ) তুমি কোথায় থাকো
(ঘ) তুমি কী খাও
উত্তর: (খ) তুমি কি আমার কুকুরের মুখে তির মেরেছ?
ব্যাখ্যা: সে চেঁচিয়ে এই প্রশ্নটি করেছিল।
২৯. যুবক কুকুরের মুখে তির মেরেছিল কেন?
(ক) কুকুরটিকে মারার জন্য
(খ) কুকুরটি চিৎকার করে তার সাধনার ব্যাঘাত করছিল বলে
(গ) কুকুরটি তাকে কামড়াতে এসেছিল বলে
(ঘ) শিকার করার জন্য
উত্তর: (খ) কুকুরটি চিৎকার করে তার সাধনার ব্যাঘাত করছিল বলে।
ব্যাখ্যা: যুবক শান্তভাবে এই কারণটি জানায়।
৩০. যুবক কুকুরটির কোনো ক্ষতি বা কষ্ট না দিয়ে শুধু কী করেছিল?
(ক) তার পা বেঁধেছিল
(খ) তার চোখ বেঁধেছিল
(গ) তার চিৎকার বন্ধ করে দিয়েছিল
(ঘ) তাকে খাঁচায় ভরেছিল
উত্তর: (গ) তার চিৎকার বন্ধ করে দিয়েছিল।
ব্যাখ্যা: তিরের নিখুঁত নিশানায় সে শুধু মুখ বন্ধ করেছিল।
৩১. রাজপুত্র যখন জানতে চাইল যুবক কার কাছে তির ছোড়া শিখেছে, যুবক কী উত্তর দিল?
(ক) বাবার কাছে
(খ) নিজে নিজে
(গ) গুরু দ্রোণের কাছে
(ঘ) শিবের কাছে
উত্তর: (গ) গুরু দ্রোণের কাছে।
ব্যাখ্যা: সে দ্রোণকে নিজের গুরু বলে দাবি করে।
৩২. যুবকের উত্তর শুনে রাজপুত্র কেন চমকে উঠল?
(ক) সে দ্রোণকে চিনত না
(খ) এমন আশ্চর্য বিদ্যা দ্রোণ তাকে শেখাননি বলে
(গ) দ্রোণ মারা গেছেন বলে
(ঘ) দ্রোণ যুবকের বাবা বলে
উত্তর: (খ) এমন আশ্চর্য বিদ্যা দ্রোণ তাকে শেখাননি বলে।
ব্যাখ্যা: সে অবাক হলো যে গুরু তাকে না শিখিয়ে অন্য কাউকে এই বিদ্যা শিখিয়েছেন।
৩৩. দ্রোণ আর অন্য রাজপুত্ররা কোথায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন?
(ক) প্রাসাদে
(খ) নদীর ধারে
(গ) গাছের ছায়ায়
(ঘ) তাঁবুতে
উত্তর: (গ) গাছের ছায়ায়।
ব্যাখ্যা: বনে তারা গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন।
৩৪. দ্রোণ কুকুরটার দিকে কীভাবে তাকিয়ে রইলেন?
(ক) হেসে
(খ) হতভম্ব হয়ে
(গ) রাগ করে
(ঘ) কেঁদে
উত্তর: (খ) হতভম্ব হয়ে।
ব্যাখ্যা: এমন অভাবনীয় তির ছোড়া দেখে দ্রোণ অবাক বা হতভম্ব হয়ে যান।
৩৫. দ্রোণ রাজপুত্রকে কী বললেন?
(ক) আমিই তাকে শিখিয়েছি
(খ) এমন আশ্চর্য বিদ্যা আমি নিজেই জানি না
(গ) সে আমার ছেলে
(ঘ) কুকুরটিকে মেরে ফেলো
উত্তর: (খ) এমন আশ্চর্য বিদ্যা আমি নিজেই জানি না।
ব্যাখ্যা: দ্রোণ নিজেই এই বিদ্যার অধিকারী ছিলেন না।
৩৬. দ্রোণকে দেখে যুবক কী করল?
(ক) তির-ধনুক নিয়ে যুদ্ধ করতে এল
(খ) তির-ধনুক ফেলে ছুটে এসে পায়ের ধুলা নিল
(গ) পালিয়ে গেল
(ঘ) চুপ করে বসে রইল
উত্তর: (খ) তির-ধনুক ফেলে ছুটে এসে পায়ের ধুলা নিল।
ব্যাখ্যা: গুরুর প্রতি অসীম শ্রদ্ধায় সে এমন করল।
৩৭. যুবকটি নিজের কী পরিচয় দিল?
(ক) আমি একলব্য, আপনার শিষ্য
(খ) আমি এক রাজপুত্র
(গ) আমি শিকারি
(ঘ) আমি আপনার ছেলে
উত্তর: (ক) আমি একলব্য, আপনার শিষ্য।
ব্যাখ্যা: সে দ্রোণকে গুরু মেনে নিজেকে শিষ্য বলে পরিচয় দিল।
৩৮. দ্রোণ একলব্যকে কী বলেছিলেন?
(ক) আমি তোমাকে শিষ্য বলে গ্রহণ করেছি
(খ) আমি তো তোমাকে শিষ্য বলে গ্রহণ করিনি, ফিরিয়ে দিয়েছিলাম
(গ) তুমি আমার শ্রেষ্ঠ শিষ্য
(ঘ) তুমি খুব খারাপ
উত্তর: (খ) আমি তো তোমাকে শিষ্য বলে গ্রহণ করিনি, ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
ব্যাখ্যা: দ্রোণ তার স্মৃতি হাতড়ে এই কথা বলেন।
৩৯. একলব্য দ্রোণকে কী মেনে অনুশীলন করেছিল?
(ক) দেবতা
(খ) শত্রু
(গ) মনে মনে গুরু মেনে
(ঘ) রাজা
উত্তর: (গ) মনে মনে গুরু মেনে।
ব্যাখ্যা: গুরুর প্রতি অটুট ভক্তি রেখে সে তাকে মনে মনে গুরু মানে।
৪০. একলব্যকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছে কোনটি?
(ক) গুরুর সরাসরি শিক্ষা
(খ) জাদু
(গ) নিবিড় অনুশীলন
(ঘ) রাজপুত্রের সাহায্য
উত্তর: (গ) নিবিড় অনুশীলন।
ব্যাখ্যা: গল্পের শেষে বলা হয়েছে, নিবিড় অনুশীলন একলব্যকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছে।
৪১. 'অব্যর্থ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) যা ব্যর্থ হয়
(খ) বিফল হয় না এমন
(গ) যার অর্থ নেই
(ঘ) খুব দামি
উত্তর: (খ) বিফল হয় না এমন।
ব্যাখ্যা: যার নিশানা কখনো ফসকায় না বা বিফল হয় না।
৪২. 'নির্বিকার' শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাগান্বিত
(খ) নির্লিপ্ত বা আবেগহীন
(গ) খুব খুশি
(ঘ) অস্থির
উত্তর: (খ) নির্লিপ্ত বা আবেগহীন।
ব্যাখ্যা: যার মুখে কোনো ভাবের পরিবর্তন নেই।
৪৩. 'পারদর্শী' শব্দের অর্থ কী?
(ক) অপদার্থ
(খ) বোকা
(গ) দক্ষ বা নিপুণ
(ঘ) অলস
উত্তর: (গ) দক্ষ বা নিপুণ।
ব্যাখ্যা: যে কোনো কাজে খুব ভালো পারে।
৪৪. 'একফালি' বলতে কী বোঝায়?
(ক) গোল জায়গা
(খ) লম্বা এক টুকরা
(গ) এক বিঘত
(ঘ) এক কেজি
উত্তর: (খ) লম্বা এক টুকরা।
ব্যাখ্যা: একফালি জায়গা মানে এক টুকরো জায়গা।
৪৫. তৃতীয় রাজপুত্র এতদিন নিজেকে কী মনে করত?
(ক) পৃথিবীর সেরা রাজা
(খ) পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ
(গ) পৃথিবীর সেরা জ্ঞানী
(ঘ) পৃথিবীর সেরা শিকারি
উত্তর: (খ) পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ।
ব্যাখ্যা: গুরু দ্রোণও তাকে তাই বলতেন এবং সে নিজেও তাই ভাবত।
৪৬. এই গল্প থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
(ক) গুরু ছাড়া কিছুই শেখা যায় না
(খ) গুরুর প্রতি ভক্তি এবং একাগ্র অনুশীলন থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা যায়
(গ) রাজপুত্ররাই সেরা হয়
(ঘ) অহংকার করা ভালো
উত্তর: (খ) গুরুর প্রতি ভক্তি এবং একাগ্র অনুশীলন থাকলে যেকোনো অসাধ্য সাধন করা যায়।
ব্যাখ্যা: একলব্যের সাধনা আমাদের এই শিক্ষাই দেয়।
৪৭. 'হতভম্ব' শব্দের অর্থ কী?
(ক) খুব রাগ করা
(খ) অবাক বা হতবাক হওয়া
(গ) খুশি হওয়া
(ঘ) দুঃখ পাওয়া
উত্তর: (খ) অবাক বা হতবাক হওয়া।
ব্যাখ্যা: দ্রোণ অবাক হয়ে হতভম্ব হয়ে যান।
৪৮. 'ব্যাঘাত করা' বলতে কী বোঝায়?
(ক) সাহায্য করা
(খ) বাধা দেওয়া
(গ) আনন্দ দেওয়া
(ঘ) ঘুম পাড়ানো
উত্তর: (খ) বাধা দেওয়া।
ব্যাখ্যা: কুকুরের ডাক একলব্যের ধ্যানে বাধা বা ব্যাঘাত সৃষ্টি করছিল।
৪৯. একলব্যকে ফিরিয়ে দিয়ে দ্রোণ আসলে কী প্রমাণ করেছিলেন?
(ক) তিনি গরিবদের ভালোবাসেন না
(খ) তিনি তৎকালীন রাজপরিবারের নিয়মের কাছে বাধ্য ছিলেন
(গ) তিনি একলব্যকে ভয় পেতেন
(ঘ) তিনি কিছু জানতেন না
উত্তর: (খ) তিনি তৎকালীন রাজপরিবারের নিয়মের কাছে বাধ্য ছিলেন।
ব্যাখ্যা: সেকালে গুরুরা কেবল রাজপরিবারের সদস্যদেরই শিক্ষা দিতেন।
৫০. 'শিষ্যের সাধনা' গল্পটি মূলত কোন মহাকাব্য থেকে নেওয়া একটি পৌরাণিক কাহিনির ছায়া? (সাধারণ জ্ঞান)
(ক) রামায়ণ
(খ) মহাভারত
(গ) ইলিয়াড
(ঘ) ওডিসি
উত্তর: (খ) মহাভারত।
ব্যাখ্যা: একলব্য ও দ্রোণাচার্যের এই ঘটনাটি হিন্দু মহাকাব্য মহাভারতের একটি বিখ্যাত কাহিনি।
প্রশ্ন ১: একলব্য কে?
উত্তর: একলব্য হলো একজন সাধারণ শিকারির ছেলে, যার হাতের নিশানা ছিল অব্যর্থ।
প্রশ্ন ২: একলব্য কী হতে চাইত?
উত্তর: একলব্য মস্ত বড় একজন বীর হতে চাইত।
প্রশ্ন ৩: একলব্য কার কাছে বিদ্যা শিখতে চেয়েছিল?
উত্তর: একলব্য গুরু দ্রোণের কাছে তির চালনার বিদ্যা শিখতে চেয়েছিল।
প্রশ্ন ৪: গুরু দ্রোণ কাদের তির চালনা শেখাতেন?
উত্তর: গুরু দ্রোণ রাজবাড়ির রাজপুত্রদের তির চালনা শেখাতেন।
প্রশ্ন ۵: রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্ররা কী করছিল?
উত্তর: রাজবাড়ির মাঠে রাজপুত্ররা ধনুক থেকে তির ছোড়ার অনুশীলন করছিল।
প্রশ্ন ৬: একলব্যকে মাঠে দেখে দ্রোণ কী জিজ্ঞেস করলেন?
উত্তর: দ্রোণ ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলেন, "কে তুমি? কী চাও এখানে?"
প্রশ্ন ৭: দ্রোণ কেন একলব্যকে ফিরিয়ে দিলেন?
উত্তর: দ্রোণ কেবল রাজকুমারদেরই বিদ্যা শেখাতেন, তাই তিনি সাধারণ শিকারির ছেলে একলব্যকে ফিরিয়ে দিলেন।
প্রশ্ন ৮: দ্রোণ ফিরিয়ে দেওয়ার পর একলব্য কী সিদ্ধান্ত নিল?
উত্তর: দ্রোণ ফিরিয়ে দেওয়ার পর একলব্য সিদ্ধান্ত নিল যে সে এখন থেকে নিজেই তির চালনার অনুশীলন করবে।
প্রশ্ন ৯: রাজপুত্রদের মধ্যে কে সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারত?
উত্তর: রাজপুত্রদের মধ্যে তৃতীয় জন সবচেয়ে ভালো তির নিক্ষেপ করতে পারত।
প্রশ্ন ১০: বনে তৃতীয় রাজপুত্রের শিকারি কুকুরটি কার পিছু ছুটেছিল?
উত্তর: শিকারি কুকুরটি একটি হরিণের পিছু ছুটেছিল।
প্রশ্ন ১১: শিকারি কুকুরটি ফিরে আসার পর রাজপুত্র কেন অবাক হয়ে গেল?
উত্তর: কুকুরটি ফিরে এলে রাজপুত্র দেখল তার মুখের চারপাশে পাঁচটা তির বিঁধে আছে, অথচ এক ফোঁটা রক্তও পড়েনি।
প্রশ্ন ১২: কুকুরটার মুখে তির মারার কারণ কী ছিল?
উত্তর: কুকুরটা চিৎকার করে যুবকের (একলব্যের) তির চালনার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল, তাই সে কুকুরের মুখে তির মেরেছিল।
প্রশ্ন ১৩: একলব্য কুকুরটার ক্ষতি না করে কী করেছিল?
উত্তর: একলব্য কোনো কষ্ট না দিয়ে বা রক্তপাত না ঘটিয়ে কেবল কুকুরটির চিৎকার বন্ধ করে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ১৪: তৃতীয় রাজপুত্রের অহংকার ধুলায় মিশে গেল কেন?
উত্তর: তৃতীয় রাজপুত্র নিজেকে সেরা তিরন্দাজ মনে করত, কিন্তু একলব্যের অপূর্ব কৌশল দেখে তার অহংকার চূর্ণ হয়ে গেল।
প্রশ্ন ১৫: রাজপুত্র যখন গুরুর নাম জানতে চাইল, একলব্য কী উত্তর দিল?
উত্তর: একলব্য উত্তর দিল যে সে গুরু দ্রোণের কাছে এ বিদ্যা শিখেছে।
প্রশ্ন ১৬: রাজপুত্র কেন রেগে গিয়ে দ্রোণের কাছে ফিরে গেল?
উত্তর: রাজপুত্র ভাবল দ্রোণ তাকে এই বিদ্যা না শিখিয়ে গোপনে অন্য কাউকে শিখিয়েছেন, তাই সে রেগে দ্রোণের কাছে ফিরে গেল।
প্রশ্ন ১৭: দ্রোণ কুকুরটার মুখ দেখে কী বললেন?
উত্তর: দ্রোণ কুকুরটার মুখ দেখে অবাক হয়ে বললেন, "এমন আশ্চর্য বিদ্যা আমি নিজেই জানি না, অন্যকে শেখাব কী করে!"
প্রশ্ন ১৮: একলব্য দ্রোণকে দেখে কী করল?
উত্তর: দ্রোণকে দেখে একলব্য তির-ধনুক ফেলে ছুটে এসে তাঁর পায়ের ধুলা নিল।
প্রশ্ন ১৯: একলব্য কীভাবে এত বড় তিরন্দাজ হলো?
উত্তর: দ্রোণ ফিরিয়ে দেওয়ার পরও একলব্য মনে মনে তাঁকে গুরু মেনে নিবিড় অনুশীলন করেছিল, যা তাকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছে।
প্রশ্ন ২০: 'শিষ্যের সাধনা' গল্পের মূল সুর কী?
উত্তর: একাগ্রতা, গুরুর প্রতি ভক্তি এবং নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন করাই এই গল্পের মূল সুর।
প্রশ্ন ১: একলব্য কে ছিল এবং সে গুরু দ্রোণের কাছে কেন গিয়েছিল?
উত্তর: একলব্য ছিল একজন সাধারণ শিকারির ছেলে। সারাদিন সে তির-ধনুক নিয়ে মেতে থাকত এবং তার নিশানা ছিল অব্যর্থ। তার মনে প্রবল ইচ্ছা ছিল মস্ত বড় বীর হওয়ার। সে শুনেছিল গুরু দ্রোণ রাজপুত্রদের তির চালনা শেখান। তাই নিজের বীর হওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে এবং শ্রেষ্ঠ বিদ্যা অর্জন করতে সে গুরু দ্রোণের কাছে গিয়েছিল।
প্রশ্ন ২: রাজবাড়ির মাঠে গিয়ে একলব্যের কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
উত্তর: সাহসে বুক বেঁধে একলব্য রাজবাড়ির মাঠে ঢুকে পড়েছিল। সেখানে সে দেখতে পায় রাজপুত্ররা গুরু দ্রোণের সামনে তির ছোড়ার অনুশীলন করছে। প্রথমে গুরুর কাছে যেতে তার সাহস হয়নি, সে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল। পরে এক রাজপুত্র তাকে দেখে ফেলে এবং দ্রোণ তাকে কাছে ডাকেন।
প্রশ্ন ৩: দ্রোণ একলব্যকে কীভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং এর ফলে একলব্যের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: দ্রোণ যখন জানতে পারেন যে একলব্য একজন সাধারণ শিকারির ছেলে, তখন তিনি বিরক্ত মুখে ভুরু কুঁচকে বলেন, "আমি শুধু রাজকুমারদের শেখাই। তুমি ফিরে যাও।" এ কথা শুনে একলব্য খুব কষ্ট পায়, তার মুখ কালো হয়ে যায় এবং সে মলিন মুখে সেখান থেকে ফিরে আসে। তবে সে হতাশ না হয়ে নিজেই অনুশীলন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রশ্ন ৪: বনে পরীক্ষা নেওয়ার সময় তৃতীয় রাজপুত্রের সাথে কী ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তর: অনেক বছর পর দ্রোণ রাজপুত্রদের পরীক্ষা নিতে বনে আসেন। তৃতীয় রাজপুত্র সবচেয়ে ভালো তিরন্দাজ ছিল। সে বনে একটি হরিণের পিছু নেয়। তার শিকারি কুকুরটিও হরিণের পিছু ছোটে। কিন্তু হরিণটি হারিয়ে যাওয়ার পর কুকুরটি যখন ফিরে আসে, তখন রাজপুত্র এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে।
প্রশ্ন ৫: শিকারি কুকুরটির মুখের অবস্থা কেমন ছিল এবং তা দেখে রাজপুত্র কী ভাবল?
উত্তর: শিকারি কুকুরটি ফিরে এলে রাজপুত্র দেখল তার মুখের চারপাশে পাঁচটি তির এমন নিখুঁতভাবে বিঁধে আছে যে কুকুরটি ডাকতে পারছে না, অথচ তার মুখে এক ফোঁটা রক্ত বা যন্ত্রণার কোনো লক্ষণ নেই। এই অভাবনীয় দৃশ্য দেখে রাজপুত্র থ বা হতভম্ব হয়ে গেল এবং ভাবল কে এমন আশ্চর্যভাবে তির মারতে পারে।
প্রশ্ন ৬: বনের মধ্যে একলব্যকে কীভাবে খুঁজে পেল তৃতীয় রাজপুত্র এবং তার কী মনে হলো?
উত্তর: শিকারিকে খুঁজতে খুঁজতে রাজপুত্র বনের মধ্যে লতাপাতা দিয়ে ঘেরা একটি একফালি জায়গা দেখতে পায়। সেখানে এক যুবক (একলব্য) আপন মনে তির চালনার অনুশীলন করছিল। যুবকের দারুণ কৌশল ও অব্যর্থ নিশানা দেখে রাজপুত্র অবাক হয়ে যায় এবং নিজেকে সেরা তিরন্দাজ মনে করার যে অহংকার তার ছিল, তা ধুলায় মিশে যায়।
প্রশ্ন ৭: একলব্য কেন কুকুরের মুখে তির মেরেছিল এবং সে কীভাবে তা করেছিল?
উত্তর: একলব্য রাজপুত্রকে শান্তভাবে জানায় যে, কুকুরটি অকারণে চিৎকার করে তার তির চালনার সাধনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। তাই সে কুকুরটিকে কোনো শারীরিক আঘাত বা কষ্ট না দিয়ে, এবং এক ফোঁটা রক্ত না ঝরিয়ে কেবল তিরের সাহায্যে তার মুখটি বন্ধ করে দিয়েছিল। এটি ছিল তার অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ।
প্রশ্ন ৮: রাজপুত্র যখন গুরুর নাম জানতে পারল, তখন সে কী ভাবল এবং কী করল?
উত্তর: একলব্য যখন জানাল যে সে গুরু দ্রোণের কাছে এ বিদ্যা শিখেছে, তখন রাজপুত্র চমকে ওঠে। সে ভাবে, গুরু দ্রোণ তাকে পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ বললেও, গোপনে এই বিদ্যা হয়তো অন্য কাউকে শিখিয়েছেন। এই ভেবে সে রাগে ও অভিমানে দ্রুত কুকুরটিকে নিয়ে গুরুর কাছে ছুটে যায়।
প্রশ্ন ৯: দ্রোণের কাছে গিয়ে তৃতীয় রাজপুত্র কী অভিযোগ করেছিল?
উত্তর: তৃতীয় রাজপুত্র গুরুর কাছে গিয়ে রাগে ফেটে পড়ে কুকুরটিকে দেখায়। সে অভিযোগ করে বলে, "এমন করে তির মারা শিখিয়েছেন কাকে? এতদিন তো আপনিই বলতেন আমি পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ।" সে গুরুর ওপর অবিচার ও পক্ষপাতিত্বের সন্দেহ প্রকাশ করে।
প্রশ্ন ১০: কুকুরটির মুখ দেখে দ্রোণের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল এবং তিনি কী বলেছিলেন?
উত্তর: কুকুরটির মুখে এমন নিখুঁতভাবে গাঁথা তির দেখে গুরু দ্রোণ নিজেই হতভম্ব হয়ে যান। তিনি বুঝতে পারেন এটি কোনো সাধারণ তিরন্দাজের কাজ নয়। তিনি রাজপুত্রকে বলেন, "রাজপুত্র, এমন আশ্চর্য বিদ্যা আমি নিজেই জানি না। অন্যকে শেখাব কী করে?"
প্রশ্ন ১১: দ্রোণের সাথে একলব্যের পুনর্মিলনের দৃশ্যটি বর্ণনা করো।
উত্তর: তৃতীয় রাজপুত্র দ্রোণকে নিয়ে সেই যুবকের (একলব্যের) কাছে যায়। গুরু দ্রোণকে দেখামাত্রই একলব্য তার তির-ধনুক ফেলে ছুটে আসে এবং পরম ভক্তিভরে গুরুর পায়ের ধুলা নিয়ে প্রণাম করে বলে, "আমি আপনার শিষ্য একলব্য।" গুরুর প্রতি তার এই অগাধ শ্রদ্ধা দেখে সবাই বিস্মিত হয়।
প্রশ্ন ১২: দ্রোণ যখন একলব্যকে শিষ্য হিসেবে অস্বীকার করেন, তখন একলব্য কী উত্তর দেয়?
উত্তর: দ্রোণ বলেন যে তিনি তো তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করেননি, বরং ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এর উত্তরে একলব্য অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানায়, "সেদিন আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু মনে মনে আপনাকে গুরু মেনে আমি এতদিন অনুশীলন করেছি।" অর্থাৎ বাহ্যিক স্বীকৃতি না পেলেও সে মন থেকে তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়েছিল।
প্রশ্ন ১৩: একলব্য কীভাবে এত বড় তিরন্দাজ হয়ে উঠল?
উত্তর: একলব্য কোনো গুরুর সরাসরি সাহায্য ছাড়াই শুধু গুরুর প্রতি ভক্তি ও একাগ্রতার জোরে বড় তিরন্দাজ হয়। সে মনে মনে দ্রোণকে গুরু মেনে নিয়ে বনের গভীরে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর নিবিড় অনুশীলন ও কঠোর সাধনা করে। এই সাধনা ও অনুশীলনই তাকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছে।
প্রশ্ন ১৪: "নিজের অহংকার ধুলায় মিশে গেল"—কথাটি কার সম্পর্কে এবং কেন বলা হয়েছে?
উত্তর: কথাটি তৃতীয় রাজপুত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে। তৃতীয় রাজপুত্র নিজেকে পৃথিবীর সেরা তিরন্দাজ মনে করত এবং তার মনে এই নিয়ে খুব অহংকার ছিল। কিন্তু বনের মধ্যে একলব্যের অভাবনীয় ও নিখুঁত তির চালনার কৌশল দেখার পর সে বুঝতে পারে যে তার চেয়েও বড় বীর পৃথিবীতে আছে, ফলে তার অহংকার চূর্ণ হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৫: এই গল্পে গুরুভক্তির যে দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তা আলোচনা করো।
উত্তর: এই গল্পে গুরুভক্তির এক চরম ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে একলব্য। গুরু দ্রোণ তাকে অবজ্ঞা করে ফিরিয়ে দিলেও, তার মনে গুরুর প্রতি কোনো রাগ বা ক্ষোভ জন্মায়নি। বরং সে তাঁকে মনে মনে গুরু মেনে বছরের পর বছর সাধনা করেছে। আর যখন গুরুর সাথে আবার দেখা হলো, তখন সে সব অহংকার ভুলে তাঁর পায়ের ধুলা নিয়ে প্রণাম করেছে।
প্রশ্ন ১৬: দ্রোণ চরিত্রটি পাঠ্য গল্পের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর: গল্পে দ্রোণকে একজন রাজগুরু হিসেবে দেখানো হয়েছে, যিনি শুধু রাজপুত্রদেরই শিক্ষা দেন। সামাজিক নিয়মের কারণে তিনি সাধারণ শিকারির ছেলে একলব্যকে ফিরিয়ে দেন। তবে তিনি সত্যবাদী ছিলেন। কুকুরের মুখে তির দেখে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে এমন আশ্চর্য বিদ্যা তিনি নিজেই জানেন না।
প্রশ্ন ১৭: "নিবিড় অনুশীলন একলব্যকে সেরা তিরন্দাজ বানিয়েছে"—উক্তিটির তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: কোনো কাজে সফল হতে হলে শুধু গুরুর নির্দেশনাই যথেষ্ট নয়, নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলন সবচেয়ে বেশি জরুরি। একলব্য গুরুর সরাসরি শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হলেও তার প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং অবিরাম ও নিবিড় অনুশীলনের ফলেই সে এমন এক বিদ্যা আয়ত্ত করেছিল, যা স্বয়ং তার গুরুরও জানা ছিল না।
প্রশ্ন ১৮: একলব্যের সাধনা থেকে ছাত্র হিসেবে তুমি কী শিক্ষা গ্রহণ করতে পারো?
উত্তর: একলব্যের সাধনা থেকে আমি শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি যে, কোনো কিছু শেখার জন্য একাগ্রতা, প্রবল ইচ্ছাশক্তি এবং শিক্ষকদের প্রতি ভক্তি থাকা প্রয়োজন। সুযোগ বা সুবিধার অভাব থাকলেও নিজের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও নিবিড় অনুশীলনের মাধ্যমে যেকোনো অসাধ্য সাধন করে সফলতার শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব।
প্রশ্ন ১৯: কুকুরটির ঘটনাটি গল্পের মোড় কীভাবে ঘুরিয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: কুকুরটির ঘটনাটিই মূলত গল্পে একলব্যের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। কুকুরটির মুখে রক্তপাত ছাড়া তির বিঁধে থাকার ওই অভাবনীয় দৃশ্যটি না ঘটলে তৃতীয় রাজপুত্র বা গুরু দ্রোণ কেউই একলব্যের এই আশ্চর্য দক্ষতার কথা জানতে পারত না এবং একলব্যের সাধনা সবার অগোচরেই থেকে যেত।
প্রশ্ন ২০: "শিষ্যের সাধনা" গল্পটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তর: গল্পের মূল বিষয় হলো একলব্যের একাগ্রতা ও অবিরাম চেষ্টা। গুরু দ্রোণ তাকে প্রত্যাখ্যান করলেও সে মনে মনে তাঁকে গুরু মেনে কঠোর 'সাধনা' বা অনুশীলন করে গেছে। তার এই সাধনার ফলেই সে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তিরন্দাজে পরিণত হয়। যেহেতু পুরো গল্পটি শিষ্য একলব্যের এই অধ্যবসায় ও সাধনাকে ঘিরেই আবর্তিত, তাই 'শিষ্যের সাধনা' নামকরণটি সম্পূর্ণ সার্থক।