১. 'কুপোকাত' নাটকটির রচয়িতা কে?
(ক) জসীমউদ্দীন
(খ) মুনীর চৌধুরী
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: (খ) মুনীর চৌধুরী।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ে এই নাটিকাটির লেখকের নাম মুনীর চৌধুরী দেওয়া আছে।
২. নাটকটির দৃশ্যপট বা ঘটনাস্থল কোথায়?
(ক) শহরে
(খ) রাজপ্রাসাদে
(গ) অরণ্য বা বনে
(ঘ) নদীর ধারে
উত্তর: (গ) অরণ্য বা বনে।
ব্যাখ্যা: নাটকের শুরুতে দৃশ্য হিসেবে 'অরণ্য' উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. অরণ্যের একপাশে মাটির ঢিবির গায়ে কী চিত্রিত ছিল?
(ক) গাছ
(খ) ইষ্টক বা ইট
(গ) বাঘ
(ঘ) নদী
উত্তর: (খ) ইষ্টক বা ইট।
ব্যাখ্যা: ঢিবির গায়ে ইষ্টক চিত্রিত ছিল যা দেখতে কুয়ার মতো।
৪. পশুদের জনসভায় সভাপতি কে ছিলেন?
(ক) বাঘ
(খ) শেয়াল
(গ) মোষ
(ঘ) হরিণ
উত্তর: (গ) মোষ।
ব্যাখ্যা: মোষ পশুদের এই সভার সভাপতিত্ব করছিলেন।
৫. কোন পশু সভার সিদ্ধান্ত মানতে রাজি হচ্ছিল না?
(ক) শজারু
(খ) খরগোশ
(গ) ময়ূর
(ঘ) শেয়াল
উত্তর: (খ) খরগোশ।
ব্যাখ্যা: খরগোশ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিতে রাজি ছিল না।
৬. কার অত্যাচারে বনের সকল পশুর জীবন বিপন্ন?
(ক) সিংহের
(খ) মানুষের
(গ) এক ভীষণ বাঘের
(ঘ) হাতির
উত্তর: (গ) এক ভীষণ বাঘের।
ব্যাখ্যা: বাঘ প্রত্যহ নির্বিচারে বহু পশু হত্যা করছিল।
৭. পশুদের অনুরোধে কে বাঘের সাথে আলাপ-আলোচনা করে আপস-রফা করেছিল?
(ক) মোষ
(খ) শেয়াল
(গ) খরগোশ
(ঘ) হরিণ
উত্তর: (খ) শেয়াল।
ব্যাখ্যা: চালাক শেয়াল বাঘের সাথে চুক্তি করেছিল।
৮. শেয়ালের আপস-রফা অনুযায়ী বাঘকে রোজ কী উপহার দেওয়ার কথা ছিল?
(ক) একটি করে পশু
(খ) ফলমূল
(গ) সোনাদানা
(ঘ) মাছ
উত্তর: (ক) একটি করে পশু।
ব্যাখ্যা: রোজ একটি পশু দিলে বাঘ অকারণে অন্য প্রাণী মারবে না।
৯. অদ্য বা আজ কার বাঘের খাদ্য হিসেবে নিজেকে উৎসর্গ করার কথা ছিল?
(ক) শজারুর
(খ) ময়ূরের
(গ) খরগোশের
(ঘ) শেয়ালের
উত্তর: (গ) খরগোশের।
ব্যাখ্যা: শেয়ালের চুক্তি অনুযায়ী আজ খরগোশের পালা ছিল।
১০. খরগোশ বাঘের কাছে যেতে কেন অনিচ্ছুক ছিল?
(ক) সে পথ চিনত না
(খ) সে অন্যের খাদ্য হতে চায় না, বাঁচতে চায়
(গ) তার শরীর খারাপ ছিল
(ঘ) সে বাঘকে ভয় পেত না
উত্তর: (খ) সে অন্যের খাদ্য হতে চায় না, বাঁচতে চায়।
ব্যাখ্যা: খরগোশ বলে, "আমি নিজে খেতে চাই, বাঁচতে চাই।"
১১. শজারুর মতে তাকে নির্বাচন করা কেন ঠিক হবে ভাবনা?
(ক) সে খুব দ্রুত দৌড়ায়
(খ) তার সর্বাঙ্গে কাঁটা ও চেহারা বিদঘুটে
(গ) সে খুব সুন্দর
(ঘ) সে বাঘের বন্ধু
উত্তর: (খ) তার সর্বাঙ্গে কাঁটা ও চেহারা বিদঘুটে।
ব্যাখ্যা: কাঁটার কারণে বাঘ খেতে পারবে না এবং ক্ষিপ্ত হবে।
১২. ময়ূর কেন বাঘের কাছে যেতে চায় না?
(ক) সে কদাকার
(খ) সে উড়তে পারে
(গ) সে বেশি সুন্দর বলে বাঘ তার শোভায় মুগ্ধ হয়ে খাওয়ার কথা ভুলে যাবে
(ঘ) সে খুব ছোট
উত্তর: (গ) সে বেশি সুন্দর বলে বাঘ তার শোভায় মুগ্ধ হয়ে খাওয়ার কথা ভুলে যাবে।
ব্যাখ্যা: ময়ূর তার সৌন্দর্যের অহংকার করে এই যুক্তি দেয়।
১৩. শেয়াল খরগোশকে কীভাবে বাঘের কাছে যেতে বলেছিল?
(ক) কাঁদতে কাঁদতে
(খ) বীরের মতো সহাস্যে
(গ) রেগে গিয়ে
(ঘ) লুকিয়ে
উত্তর: (খ) বীরের মতো সহাস্যে।
ব্যাখ্যা: শেয়াল তাকে আত্মত্যাগের মহান বাণী শোনায়।
১৪. সভার শেষে কার গর্জন শোনা যাচ্ছিল?
(ক) মেঘের
(খ) হাতির
(গ) বাঘের
(ঘ) সিংহের
উত্তর: (গ) বাঘের।
ব্যাখ্যা: বাঘের গর্জন শুনে সবাই ভয় পেয়ে সভা ভেঙে দেয়।
১৫. বাঘের গর্জন শুনে খরগোশ বাদে অন্য পশুরা কী করল?
(ক) বাঘের কাছে গেল
(খ) দ্রুত প্রস্থান করল বা পালাল
(গ) যুদ্ধ করল
(ঘ) ঘুমাতে গেল
উত্তর: (খ) দ্রুত প্রস্থান করল বা পালাল।
ব্যাখ্যা: সবাই ভয়ে পালিয়ে যায়।
১৬. একা হয়ে খরগোশ কীসের কথা ভাবছিল?
(ক) বাঘকে মারার
(খ) সুন্দর পৃথিবীর গাজর, মুলো, কচি বাঁধাকপির কথা
(গ) পালানোর কথা
(ঘ) অন্য বনে যাওয়ার কথা
উত্তর: (খ) সুন্দর পৃথিবীর গাজর, মুলো, কচি বাঁধাকপির কথা।
ব্যাখ্যা: সে শাকসবজির মায়ায় পৃথিবী ছাড়তে চায় না।
১৭. খরগোশ অনুযায়ী কী খেলে শক্তি বাড়ে ও বুদ্ধি গজায়?
(ক) মাংস খেলে
(খ) ভেজিটেবিল বা শাকসবজি খেলে
(গ) ফল খেলে
(ঘ) দুধ খেলে
উত্তর: (খ) ভেজিটেবিল বা শাকসবজি খেলে।
ব্যাখ্যা: "সকলে বলে ভেজিটেবিলে শক্তি বাড়ে বুদ্ধি গজায়!"
১৮. খরগোশ কী চিবিয়ে খেতে খেতে চিন্তা করছিল?
(ক) ঘাস
(খ) কাঁচা তরকারি
(গ) গাছের পাতা
(ঘ) বিস্কুট
উত্তর: (খ) কাঁচা তরকারি।
ব্যাখ্যা: সে প্রাণপণে কাঁচা তরকারি চিবিয়ে বুদ্ধি বের করার চেষ্টা করছিল।
১৯. বুদ্ধি পাওয়ার পর খরগোশ বাঘের সামনে কী সাজার ভান করল?
(ক) চালাক
(খ) রাগী
(গ) হাবা বা বোকা
(ঘ) সাহসী
উত্তর: (গ) হাবা বা বোকা।
ব্যাখ্যা: "সাজিতে হবে গো হাবা" বলে সে বোকা সাজার সিদ্ধান্ত নেয়।
২০. বাঘের সামনে খরগোশ মাথা নিচু করে কী করছিল?
(ক) হাসছিল
(খ) কাঁদছিল
(গ) ঘুমাচ্ছিল
(ঘ) খাচ্ছিল
উত্তর: (খ) কাঁদছিল।
ব্যাখ্যা: সে বাঘের সিমপ্যাথি বা মনোযোগ কাড়তে মিথ্যে কান্না কাঁদছিল।
২১. বাঘ খরগোশের কাছে এসে প্রথমে কী বলল?
(ক) আমি ক্ষুধার্ত
(খ) আমি ঘুমাচ্ছি
(গ) তুমি কে
(ঘ) তুমি এত সুন্দর কেন
উত্তর: (ক) আমি ক্ষুধার্ত।
ব্যাখ্যা: সূর্য খাড়া হওয়ার সাথে সাথে খাবার না পেয়ে বাঘ রেগে ছিল।
২২. খরগোশ বাঘকে কী বলে সম্বোধন করল?
(ক) হুজুর
(খ) রাজা
(গ) মামা
(ঘ) ভাই
উত্তর: (ক) হুজুর।
ব্যাখ্যা: খরগোশ অত্যন্ত বিনয়ের ভান করে তাকে হুজুর বলে।
২৩. বাঘ খরগোশের কান্না দেখে কী বলল?
(ক) তুমি কেন হাসছ?
(খ) তোর সুখই কী আর দুঃখই কী?
(গ) আমি তোকে মারব না
(ঘ) আমার খুব কষ্ট হচ্ছে
উত্তর: (খ) তোর সুখই কী আর দুঃখই কী?
ব্যাখ্যা: এত ছোট পশুর আবার দুঃখ কীসের, বাঘ তাই ভাবল।
২৪. খরগোশ কাঁদার কারণ হিসেবে প্রথমে বাঘকে কী বলল?
(ক) সে মরতে চায় না
(খ) সে এত ছোট ও পরিমাণে অল্প যে তাকে খেয়ে বাঘের পরিতৃপ্তি হবে না
(গ) সে রাস্তা হারিয়েছে
(ঘ) সে বাঘকে ভয় পায়
উত্তর: (খ) সে এত ছোট ও পরিমাণে অল্প যে তাকে খেয়ে বাঘের পরিতৃপ্তি হবে না।
ব্যাখ্যা: খরগোশ চালাকি করে এই কথা বলে।
২৫. বাঘ দিনের বেলায় কেমন দেখে?
(ক) খুব ভালো
(খ) সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পায় না
(গ) কিছুই দেখে না
(ঘ) রঙিন দেখে
উত্তর: (খ) সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পায় না।
ব্যাখ্যা: বাঘ নিজেই স্বীকার করে যে দিনের বেলায় সে স্পষ্ট দেখে না।
২৬. বাঘ শেয়াল পণ্ডিতকে কী বলে গালি দিল?
(ক) বোকা
(খ) ভারি পাজি
(গ) চালাক
(ঘ) নিষ্ঠুর
উত্তর: (খ) ভারি পাজি।
ব্যাখ্যা: এত শুঁটকো খরগোশ পাঠানোয় বাঘ শেয়ালকে পাজি বলে।
২৭. খরগোশ শেয়ালের দোষ ঢাকতে কার কথা বানাল?
(ক) তার মায়ের
(খ) তার ভাইয়ের
(গ) তার সেজ আপার
(ঘ) তার বাবার
উত্তর: (গ) তার সেজ আপার।
ব্যাখ্যা: সে মিথ্যা করে বলে তার হৃষ্টপুষ্ট সেজ আপাকে পাঠানো হয়েছিল।
২৮. খরগোশের মতে তার সেজ আপাকে কে খেয়েছে?
(ক) মানুষ
(খ) সিংহ
(গ) আরেকটা বাঘ
(ঘ) কুমির
উত্তর: (গ) আরেকটা বাঘ।
ব্যাখ্যা: খরগোশ জানায় পথের মাঝে আরেকটা বাঘ তাকে খেয়ে ফেলেছে।
২৯. খরগোশ অপর বাঘটির বর্ণনা কেমন দিয়েছিল?
(ক) দুর্বল
(খ) দেখতে ঠিক আপনার মতো, তবে আরো রাগী আরো তেজি
(গ) ছোট
(ঘ) শান্ত
উত্তর: (খ) দেখতে ঠিক আপনার মতো, তবে আরো রাগী আরো তেজি।
ব্যাখ্যা: এই কথা শুনে বাঘের অহংকারে আঘাত লাগে।
৩০. নিজের মুখের গ্রাস অন্যে কেড়ে নিয়েছে শুনে বাঘ কী করল?
(ক) খুশি হলো
(খ) ভয় পেল
(গ) ভীষণ রেগে গেল
(ঘ) ঘুমাতে গেল
উত্তর: (গ) ভীষণ রেগে গেল।
ব্যাখ্যা: বাঘ রাগে ওই বাঘের ঘাড় মটকাতে চাইল।
৩১. বাঘ রাগের বশে অন্য বাঘটিকে কী করতে চাইল?
(ক) বন্ধু বানাতে
(খ) ঘাড় মটকাতে এবং লোকমা লোকমা খেতে
(গ) তাড়িয়ে দিতে
(ঘ) ক্ষমা করতে
উত্তর: (খ) ঘাড় মটকাতে এবং লোকমা লোকমা খেতে।
ব্যাখ্যা: সে রাগে রক্ত, মাংস, হাড় একসাথে খেতে চাইল।
৩২. খরগোশ বাঘকে পথ দেখিয়ে কোথায় নিয়ে গেল?
(ক) নদীর ধারে
(খ) পাহাড়ের চূড়ায়
(গ) একটি কুয়ার কাছে
(ঘ) শেয়ালের গর্তে
উত্তর: (গ) একটি কুয়ার কাছে।
ব্যাখ্যা: সে ঢালু ও পাহাড়িয়া পথের ভান করে কুয়ার কাছে নিয়ে যায়।
৩৩. খরগোশ বাঘকে কুয়ার ভেতরে তাকাতে বললে বাঘ প্রথমে কী বলল?
(ক) অনেক বাঘ আছে
(খ) কই, কিছু তো দেখা যাচ্ছে না
(গ) পানি অনেক
(ঘ) খুব অন্ধকার
উত্তর: (খ) কই, কিছু তো দেখা যাচ্ছে না।
ব্যাখ্যা: প্রথমে বাঘ ভালো করে কিছু দেখতে পায়নি।
৩৪. খরগোশ বাঘকে কী অজুহাত দেখাল?
(ক) তুমি অন্ধ
(খ) হুজুরের আলোর ঘোর এখনো ভালো করে কাটেনি
(গ) বাঘ পালিয়েছে
(ঘ) পানি ঘোলা
উত্তর: (খ) হুজুরের আলোর ঘোর এখনো ভালো করে কাটেনি।
ব্যাখ্যা: খরগোশ তাকে আরও ভালো করে তাকাতে বলে।
৩৫. কুয়ার পানিতে বাঘ কী দেখতে পেল?
(ক) অন্য একটি বাঘ
(খ) নিজের ছায়া
(গ) খরগোশ
(ঘ) কুমির
উত্তর: (খ) নিজের ছায়া।
ব্যাখ্যা: বাঘ কুয়ার পানিতে নিজের প্রতিবিম্বকে অন্য বাঘ ভেবে ভুল করে।
৩৬. পানিতে নিজের ছায়াকে চোখ পাকাতে দেখে বাঘ কী করল?
(ক) হাসল
(খ) দৌড়ে পালাল
(গ) হুমকি দিল ও গালি ভেবে হালুম করে ঝাঁপ দিল
(ঘ) খরগোশকে মারল
উত্তর: (গ) হুমকি দিল ও গালি ভেবে হালুম করে ঝাঁপ দিল।
ব্যাখ্যা: বাঘ রাগে অন্ধ হয়ে কুয়ায় ঝাঁপ দেয়।
৩৭. বাঘ কুয়ায় পড়ার পর কী শব্দ শোনা গেল?
(ক) হাসির শব্দ
(খ) ঝপাৎ করে পড়ার এবং হাবুডুবু খাওয়ার শব্দ
(গ) গানের শব্দ
(ঘ) কান্নার শব্দ
উত্তর: (খ) ঝপাৎ করে পড়ার এবং হাবুডুবু খাওয়ার শব্দ।
ব্যাখ্যা: বাঘ পানিতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল।
৩৮. বাঘ কুপোকাত হওয়ার পর খরগোশ কী করল?
(ক) কাঁদতে লাগল
(খ) নাচতে নাচতে আনন্দ প্রকাশ করল
(গ) ঘুমিয়ে পড়ল
(ঘ) অন্য পশুদের ডাকতে গেল
উত্তর: (খ) নাচতে নাচতে আনন্দ প্রকাশ করল।
ব্যাখ্যা: সে হুররে হুয়া বলে নেচে উঠল।
৩৯. 'বাজিমাত' শব্দের অর্থ কী?
(ক) হেরে যাওয়া
(খ) দারুণ সফলতা বা জয়লাভ করা
(গ) মারা যাওয়া
(ঘ) তর্ক করা
উত্তর: (খ) দারুণ সফলতা বা জয়লাভ করা।
ব্যাখ্যা: বুদ্ধির জোরে খরগোশের বিশাল জয়।
৪০. খরগোশের মতে কী খেলে মেধা বাড়ে ও গায়ের বল হয়?
(ক) মাংস
(খ) গাজর, মুলো, শাকসবজি
(গ) ফল
(ঘ) মিষ্টি
উত্তর: (খ) গাজর, মুলো, শাকসবজি।
ব্যাখ্যা: সে সবজি খাওয়ার গুণগান গায়।
৪১. নাটিকায় কোন কোন শাকসবজির নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
(ক) আলু, পটল
(খ) গাজর, মুলো, পালং, মটরশুঁটি, শালগম
(গ) লাউ, কুমড়ো
(ঘ) বেগুন, ঢ্যাঁড়স
উত্তর: (খ) গাজর, মুলো, পালং, মটরশুঁটি, শালগম।
ব্যাখ্যা: খরগোশ এই সবজিগুলোর নাম উল্লেখ করেছে।
৪২. 'পারঙ্গম' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বোকা
(খ) অলস
(গ) দক্ষ বা পটু
(ঘ) ভীতু
উত্তর: (গ) দক্ষ বা পটু।
ব্যাখ্যা: শাকসবজি খেলে মানুষ সব কাজে দক্ষ বা পারঙ্গম হয়।
৪৩. 'বজ্রনির্ঘোষ' বলতে কী বোঝায়?
(ক) পাখির ডাক
(খ) বজ্রের মতো জোরালো বাঘের আওয়াজ
(গ) নদীর শব্দ
(ঘ) পাতার শব্দ
উত্তর: (খ) বজ্রের মতো জোরালো বাঘের আওয়াজ।
ব্যাখ্যা: বাঘের গর্জন বজ্রের মতো শোনাচ্ছিল।
৪৪. 'কুপোকাত' শব্দের অর্থ কী?
(ক) জিতে যাওয়া
(খ) পরাজিত বা ধরাশায়ী হওয়া
(গ) ঘুমিয়ে পড়া
(ঘ) ভয় পাওয়া
উত্তর: (খ) পরাজিত বা ধরাশায়ী হওয়া।
ব্যাখ্যা: বাঘ কুয়ায় পড়ে কুপোকাত বা ধরাশায়ী হয়েছিল।
৪৫. 'বিদঘুটে' বলতে শজারু কী বুঝিয়েছে?
(ক) সুন্দর
(খ) নরম
(গ) অদ্ভুত বা দেখতে খারাপ
(ঘ) চকচকে
উত্তর: (গ) অদ্ভুত বা দেখতে খারাপ।
ব্যাখ্যা: কাঁটাযুক্ত শরীর বলে সে নিজেকে বিদঘুটে বলেছে।
৪৬. খরগোশ বাঘের সামনে কী ভান করেছিল?
(ক) রাগের ভান
(খ) কাঁদার ও হাবা সাজার ভান
(গ) ঘুমানোর ভান
(ঘ) মৃত্যুর ভান
উত্তর: (খ) কাঁদার ও হাবা সাজার ভান।
ব্যাখ্যা: বাঘকে ধোঁকা দিতে সে বোকা সাজার ভান করে।
৪৭. খরগোশ বাঘকে কুয়ার কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় কেমন পথের কথা বলেছিল?
(ক) সোজা পথ
(খ) ঢালু, জঙ্গলময় ও পাহাড়িয়া পথ
(গ) পিচঢালা পথ
(ঘ) কাদার পথ
উত্তর: (খ) ঢালু, জঙ্গলময় ও পাহাড়িয়া পথ।
ব্যাখ্যা: সে বাঘকে বিভ্রান্ত করতে এসব বলে।
৪৮. বাঘের কোন দুর্বলতা খরগোশ কাজে লাগিয়েছিল?
(ক) সে কানে কম শোনে
(খ) সে দিনের বেলায় স্পষ্ট দেখতে পায় না এবং প্রচণ্ড রাগী
(গ) সে সাঁতার জানে না
(ঘ) সে দৌড়াতে পারে না
উত্তর: (খ) সে দিনের বেলায় স্পষ্ট দেখতে পায় না এবং প্রচণ্ড রাগী।
ব্যাখ্যা: বাঘের দৃষ্টিহীনতা ও রাগের সুযোগ নেয় খরগোশ।
৪৯. এই নাটিকাটির মূল শিক্ষণীয় বিষয় কী?
(ক) শক্তির জয় হয়
(খ) বুদ্ধির জোরে শক্তিশালী শত্রুকেও হারানো যায়
(গ) বাঘ খুব বোকা হয়
(ঘ) শাকসবজি খাওয়া খারাপ
উত্তর: (খ) বুদ্ধির জোরে শক্তিশালী শত্রুকেও হারানো যায়।
ব্যাখ্যা: ছোট খরগোশ তার বুদ্ধির জোরে বিশাল বাঘকে কুপোকাত করেছে।
৫০. 'প্রাণপাত' শব্দের অর্থ কী?
(ক) জীবন দেওয়া বা মৃত্যু
(খ) জন্ম
(গ) খেলা করা
(ঘ) আনন্দ করা
উত্তর: (ক) জীবন দেওয়া বা মৃত্যু।
ব্যাখ্যা: বাঘ কুয়ায় ঝাঁপ দিয়ে নিজের প্রাণপাত করল বা মারা গেল।
প্রশ্ন ১: 'কুপোকাত' নাটকটির রচয়িতা কে?
উত্তর: 'কুপোকাত' নাটকটির রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
প্রশ্ন ২: নাটকের দৃশ্যপট কোথায়?
উত্তর: নাটকের দৃশ্যপট হলো একটি অরণ্য বা বন।
প্রশ্ন ৩: পশুদের জনসভার সভাপতি কে ছিলেন?
উত্তর: পশুদের জনসভার সভাপতি ছিলেন মোষ।
প্রশ্ন ৪: কার অত্যাচারে পশুদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল?
উত্তর: এক ভীষণ বাঘের অত্যাচারে পশুদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল।
প্রশ্ন ৫: পশুদের পক্ষ থেকে কে বাঘের সাথে আপস-রফা করেছিল?
উত্তর: চালাক শেয়াল পশুদের পক্ষ থেকে বাঘের সাথে আপস-রফা করেছিল।
প্রশ্ন ৬: আপস-রফা অনুযায়ী বাঘকে রোজ কী দেওয়ার কথা ছিল?
উত্তর: আপস-রফা অনুযায়ী বাঘকে রোজ একটি করে পশু উপহার দেওয়ার কথা ছিল।
প্রশ্ন ৭: সেদিন কার বাঘের খাদ্য হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল?
উত্তর: সেদিন খরগোশের বাঘের খাদ্য হিসেবে যাওয়ার কথা ছিল।
প্রশ্ন ৮: খরগোশ কেন বাঘের কাছে যেতে চাচ্ছিল না?
উত্তর: খরগোশ বাঁচতে চায় এবং অন্যের খাদ্য হতে চায় না বলে বাঘের কাছে যেতে চাচ্ছিল না।
প্রশ্ন ৯: শজারু কেন নিজেকে বাঘের খাদ্য হওয়ার অনুপযুক্ত মনে করল?
উত্তর: শজারু বলল যে তার সর্বাঙ্গে কাঁটা ও চেহারা বিদঘুটে, যা দেখে বাঘ খেতে পারবে না এবং ক্ষিপ্ত হবে।
প্রশ্ন ১০: ময়ূর কেন নিজেকে অনুপযুক্ত মনে করল?
উত্তর: ময়ূর বলল যে সে বেশি সুন্দর বলে বাঘ তার শোভায় মুগ্ধ হয়ে তাকে খাওয়ার কথা ভুলে যেতে পারে।
প্রশ্ন ১১: বাঘের গর্জন শুনে সবাই কী করল?
উত্তর: বাঘের গর্জন শুনে ভয়ে খরগোশ বাদে আর সবাই দ্রুত সভা ভেঙে পালিয়ে গেল।
প্রশ্ন ১২: খরগোশ কীভাবে তার বুদ্ধি ধারালো করার কথা বলল?
উত্তর: খরগোশ বলল যে গাজর, মুলো ও কাঁচা শাকসবজি খেলে শক্তি বাড়ে এবং বুদ্ধি গজায়।
প্রশ্ন ১৩: বাঘের সামনে খরগোশ কী সাজার সিদ্ধান্ত নিল?
উত্তর: বাঘের সামনে খরগোশ হাবা বা বোকা সাজার সিদ্ধান্ত নিল এবং মিথ্যে কান্না শুরু করল।
প্রশ্ন ১৪: বাঘ দিনের বেলায় কেমন দেখে?
উত্তর: বাঘ দিনের বেলায় সবকিছু স্পষ্ট দেখতে পায় না।
প্রশ্ন ১৫: খরগোশ বাঘকে কী মিথ্যা গল্প শুনিয়েছিল?
উত্তর: খরগোশ বাঘকে শুনিয়েছিল যে, তাকে নয়, বরং তার হৃষ্টপুষ্ট সেজ আপাকে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু পথিমধ্যে অন্য একটি রাগী বাঘ তাকে খেয়ে ফেলেছে।
প্রশ্ন ১৬: অন্য বাঘের কথা শুনে বাঘের কী প্রতিক্রিয়া হলো?
উত্তর: নিজের মুখের খাবার অন্য বাঘ খেয়েছে শুনে বাঘ ভীষণ রেগে গেল এবং সেই বাঘের ঘাড় মটকে খেতে চাইল।
প্রশ্ন ১৭: খরগোশ বাঘকে কোথায় নিয়ে গেল?
উত্তর: খরগোশ বাঘকে পথ দেখিয়ে অরণ্যের একপাশে থাকা একটি কুয়ার কাছে নিয়ে গেল।
প্রশ্ন ১৮: কুয়ার পানিতে বাঘ কী দেখতে পেল?
উত্তর: কুয়ার পানিতে বাঘ নিজের ছায়াকেই অন্য একটি বাঘ বলে মনে করে দেখতে পেল।
প্রশ্ন ১৯: নিজের ছায়া দেখে বাঘ কী করল?
উত্তর: নিজের ছায়াকে অন্য বাঘের হুমকি মনে করে বাঘ গর্জন করে কুয়ার পানিতে ঝাঁপ দিল এবং হাবুডুবু খেতে লাগল।
প্রশ্ন ২০: খরগোশ বাঘকে কুপোকাত করে কী গান গেয়েছিল?
উত্তর: খরগোশ নেচে নেচে গেয়েছিল, "হুররে হুয়া, কেয়া মজা, বনের রাজা কুপোকাত/ কুয়ার মধ্যে দেখে ছায়া, ঝম্প দিয়ে প্রাণপাত!"
প্রশ্ন ১: পশুদের জনসভা ডাকার কারণ কী ছিল?
উত্তর: বনের মধ্যে এক ভীষণ বাঘের অত্যাচারে সকল পশুর জীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছিল। বাঘটি নির্বিচারে পশু হত্যা করত। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচার জন্য শেয়াল বাঘের সাথে একটি চুক্তি করে যে রোজ একটি করে পশু বাঘের কাছে স্বেচ্ছায় যাবে। এই চুক্তি অনুযায়ী সেদিন খরগোশের যাওয়ার কথা থাকলেও সে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তাকে বোঝানোর জন্যই মূলত পশুদের জনসভা ডাকা হয়েছিল।
প্রশ্ন ২: শেয়াল খরগোশকে কীভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল?
উত্তর: শেয়াল খরগোশকে বুঝিয়েছিল যে সে অনেক কষ্টে বাঘকে শান্ত করে এই আপস-রফা করেছে। সে খরগোশকে বীরের মতো সহাস্যে আত্মত্যাগ করতে বলে। সে জানায়, আজ খরগোশ নিজের প্রাণ বিসর্জন দিলে বনের অন্য প্রাণীরা শান্তিতে থাকবে এবং এটি সবার মঙ্গলের জন্যই করা হচ্ছে।
প্রশ্ন ৩: শজারু এবং ময়ূর বাঘের খাদ্য হিসেবে নিজেদের কেন অনুপযুক্ত বলে দাবি করেছিল?
উত্তর: শজারু বলেছিল যে তার চেহারা বিদঘুটে এবং সর্বাঙ্গে কাঁটা, তাই বাঘ তাকে দেখে খাওয়ার বদলে ক্ষিপ্ত হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ময়ূর তার সৌন্দর্যের অহংকার করে বলেছিল যে সে এতই সুন্দর যে বাঘ তাকে সামনে পেলে তার শোভায় মুগ্ধ হয়ে খাওয়ার কথাই ভুলে যাবে। উভয়েই নিজেদের শারীরিক গঠনকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল।
প্রশ্ন ৪: খরগোশ একা হয়ে যাওয়ার পর তার মনে কী কী ভাবনা এসেছিল?
উত্তর: বাঘের গর্জনে সবাই পালিয়ে যাওয়ার পর খরগোশ একা হয়ে পড়ে। তখন তার মনে সুন্দর পৃথিবীর মায়া জেগে ওঠে। সে গাজর, মুলো, কচি বাঁধাকপির কথা ভেবে আফসোস করে যে সে এত অল্প বয়সে মরতে চায় না। সে মাটির সুবাস নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়। বাঁচার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে সে বুদ্ধি বের করার জন্য কাঁচা তরকারি চিবোতে থাকে।
প্রশ্ন ৫: খরগোশ কীভাবে বাঘের সামনে হাবা সাজার ভান করল?
উত্তর: খরগোশ জানত বাঘের শক্তির সাথে সে গায়ের জোরে পারবে না, তাই তাকে বুদ্ধিতে হারাতে হবে। বাঘ যখন রাগে গর্জন করতে করতে উপস্থিত হলো, তখন খরগোশ মাথা নিচু করে মিথ্যে কান্নার ভান শুরু করল। বাঘ তাকে ছোটো বলে অবজ্ঞা করলেও খরগোশ অত্যন্ত বিনয়ের সাথে 'হুজুর' বলে কাঁদতে কাঁদতে বোকা সাজার অভিনয় নিখুঁতভাবে চালিয়ে গেল।
প্রশ্ন ৬: খরগোশ তার কান্নার কারণ হিসেবে বাঘকে কী বুঝিয়েছিল?
উত্তর: খরগোশ বাঘকে বোকা বানানোর জন্য বলেছিল যে, সে এত ছোট ও পরিমাণে এত অল্প যে তাকে খেলে বাঘের কোনো পরিতৃপ্তি হবে না। এই দুঃখেই সে কাঁদছে। এরপর সে মূল মিথ্যাটি বলে যে, তার বদলে তার হৃষ্টপুষ্ট সেজ আপাকে বাঘের খাদ্য হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু অন্য একটি রাগী বাঘ তার সেজ আপাকে খেয়ে ফেলেছে।
প্রশ্ন ৭: 'সেজ আপা'র গল্প শুনে বাঘের অহংকারে কীভাবে আঘাত লাগল?
উত্তর: খরগোশ যখন বলল যে অন্য একটি বাঘ তার সেজ আপাকে খেয়ে ফেলেছে এবং সেই বাঘটি দেখতে এই বাঘটির মতোই, তবে আরও রাগী ও তেজি; তখন বাঘের অহংকারে চরম আঘাত লাগে। নিজের রাজত্বে অন্য বাঘ তার মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে এবং সে বেশি শক্তিশালী—এই কথাটি বনের রাজা হিসেবে বাঘ কিছুতেই মেনে নিতে পারল না।
প্রশ্ন ৮: বাঘ অন্য বাঘটিকে কী শাস্তি দিতে চেয়েছিল?
উত্তর: রাগে অন্ধ হয়ে বাঘ অন্য বাঘটিকে চরম শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে খরগোশকে বলে যে আজ সে তাকে খাবে না, বরং ওই বাঘটির ঘাড় মটকাবে। সে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে যে, সে ওই বাঘের রক্ত, হাড়, মাংস সব একসঙ্গে মিশিয়ে লোকমা লোকমা করে খাবে।
প্রশ্ন ৯: খরগোশ বাঘকে কুয়ার কাছে নিয়ে যাওয়ার পথে কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করেছিল?
উত্তর: খরগোশ অত্যন্ত চালাকির সাথে বাঘকে পাহাড়ি ও ঢালু পথের ভান করে কুয়ার কাছে নিয়ে যায়। সে বাঘের দৃষ্টিহীনতার সুযোগ নিয়ে তাকে সতর্ক করে বলে যে পথ খুব খারাপ এবং জঙ্গল ঘন। সে বাঘকে সামনে থাকতে বলে নিজে পেছনে থাকে, যাতে বাঘ কুয়ার কাছে গিয়ে অন্য বাঘ (ছায়া) দেখে সরাসরি আক্রমণ করতে পারে।
প্রশ্ন ১০: কুয়ার কাছে গিয়ে বাঘ প্রথমে কী বলল এবং খরগোশ কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিল?
উত্তর: কুয়ার কাছে গিয়ে বাঘ যখন নিচে তাকাল, তখন সে প্রথমে কিছুই দেখতে পেল না। খরগোশ বুঝতে পারল বাঘের দৃষ্টি অস্পষ্ট, তাই সে বুদ্ধি করে বলল, "হুজুরের বোধহয় আলোর ঘোর এখনো ভালো করে কাটেনি। আর একটু চেষ্টা করে দেখেন।" খরগোশের এই কথায় বাঘ পুনরায় ভালো করে তাকিয়ে পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায়।
প্রশ্ন ১১: নিজের ছায়া দেখে বাঘের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: বাঘ যখন কুয়ার পানিতে নিজের ছায়া দেখল, তখন সে ভাবল সত্যিই নিচে অন্য একটি বাঘ তার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়ে আছে। রাগে ও অহংকারে অন্ধ হয়ে সে নিজের ছায়াকেই তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে গালি দেয় এবং 'হালুম' বলে হুংকার দিয়ে সোজা কুয়ার ভেতরে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ১২: বাঘ কুপোকাত হওয়ার পর খরগোশের উচ্ছ্বাস কীভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: বাঘ কুয়ার পানিতে পড়ে হাবুডুবু খেয়ে মারা যাওয়ার পর খরগোশ আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। সে নাচতে নাচতে গান ধরে, "হুররে হুয়া, কেয়া মজা, বনের রাজা কুপোকাত।" সে তার নিজের বুদ্ধির জয়ে উল্লাস প্রকাশ করে এবং শাকসবজি খাওয়ার ফলে তার যে মেধা ও বল বেড়েছে, তার গুণগান গাইতে থাকে।
প্রশ্ন ১৩: "সকলে বলে ভেজিটেবিলে শক্তি বাড়ে বুদ্ধি গজায়"—খরগোশের এই কথার যৌক্তিকতা কী?
উত্তর: খরগোশ শাকসবজি (গাজর, মুলো, কপি ইত্যাদি) খেতে ভালোবাসে। তার মতে, এসব পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার ফলেই তার মগজে তাৎক্ষণিক বুদ্ধি খেলেছে এবং সে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। এটি মূলত শিশুদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বার্তা যে, তাজা শাকসবজি খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং মেধা বাড়ে।
প্রশ্ন ১৪: নাটিকাটিতে বাঘের চরিত্রের কোন দুর্বলতাগুলো প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: নাটিকাটিতে বাঘের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে তার বোকামি, অতিরিক্ত অহংকার এবং দিনের বেলায় স্পষ্ট দেখতে না পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। সে নিজের শক্তি নিয়ে এতই গর্বিত ছিল যে, সামান্য খরগোশের চালাকি সে ধরতে পারেনি এবং রাগের বশবর্তী হয়ে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে নিজের ছায়াকে শত্রু ভেবে কুয়ায় ঝাঁপ দিয়েছে।
প্রশ্ন ১৫: শেয়ালের চরিত্রটি এই নাটকে কীরূপ?
উত্তর: শেয়াল এই নাটকে অত্যন্ত ধূর্ত ও সুবিধাবাদী একটি চরিত্র। সে নিজের প্রাণ বাঁচাতে বাঘের সাথে আপস করেছে এবং প্রতিদিন একজন করে পশু বাঘের মুখে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সে খরগোশকে বোকা বানিয়ে আত্মত্যাগের মহান বাণী শুনিয়ে বাঘের কাছে পাঠাতে চেয়েছে, যা তার চতুরতারই প্রমাণ।
প্রশ্ন ১৬: খরগোশ কীভাবে বুঝল যে বাঘ দিনের বেলায় কম দেখে?
উত্তর: বাঘ নিজেই খরগোশকে কাছে ডাকতে গিয়ে স্বীকার করেছিল যে, সে বিড়াল ভাইয়ের দাদা হয়, তাই দিনের বেলায় সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পায় না। খরগোশ অত্যন্ত বুদ্ধিমান হওয়ায় বাঘের এই কথাটি লুফে নেয় এবং পরে কুয়ার কাছে গিয়ে এই দুর্বলতাটিকেই বাঘের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
প্রশ্ন ১৭: "বাজিমাত" ও "কুপোকাত" শব্দ দুটির অর্থ নাটকের আলোকে বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: "বাজিমাত" অর্থ হলো দারুণ সফলতা বা জয়লাভ করা, যা খরগোশ তার বুদ্ধির জোরে অর্জন করেছে। আর "কুপোকাত" অর্থ হলো পরাজিত বা ধরাশায়ী হওয়া, যা বিশাল শক্তিশালী বাঘ নিজের বোকামির কারণে কুয়ায় পড়ে বরণ করেছে। বুদ্ধির কাছে শক্তির এই পরাজয়কেই শব্দ দুটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ১৮: এই নাটিকা থেকে তুমি কী নৈতিক শিক্ষা লাভ করলে?
উত্তর: এই নাটিকা থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করি যে, শারীরিক শক্তিই সবকিছু নয়; উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসের জোরে যেকোনো শক্তিশালী শত্রুকে পরাজিত করা যায়। অহংকার ও রাগ মানুষের পতনের মূল কারণ। এছাড়া, পুষ্টিকর খাবার (শাকসবজি) খেলে শরীর ও মন সুস্থ থাকে, যা বিপদের সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ১৯: খরগোশকে যদি সত্যি বাঘের কাছে নিজেকে সঁপে দিতে হতো, তবে কী হতো?
উত্তর: খরগোশ যদি শেয়ালের কথামতো সত্যিই নিজেকে বাঘের কাছে সঁপে দিত, তবে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলত। এর ফলে বনের অন্য পশুরা কিছুদিন নিরাপদে থাকলেও, পর্যায়ক্রমে তাদের সবাইকেই বাঘের পেটে যেতে হতো। খরগোশের বুদ্ধির কারণেই পুরো বন এই অত্যাচারী বাঘের হাত থেকে চিরতরে রক্ষা পেয়েছে।
প্রশ্ন ২০: "কুপোকাত" নাটকটি একটি রূপক গল্প। এর মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের কোন দিকটি তুলে ধরতে চেয়েছেন?
উত্তর: "কুপোকাত" নাটকে বাঘ হলো সমাজের অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসকের প্রতীক, যে নিরীহ মানুষের ওপর জুলুম করে। শেয়াল, মোষ, ময়ূর হলো সুবিধাবাদী শ্রেণি, যারা অন্যায়ের সাথে আপস করে চলে। আর খরগোশ হলো সাধারণ কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষের প্রতীক, যে নিজের মেধা ও সাহস দিয়ে অত্যাচারীর পতন ঘটিয়ে সমাজকে মুক্ত করে।