বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২৬ - সাইক্লোন
১ শব্দার্থ লিখন
  • ১. কুঁকড়ো: মোরগ।
  • ২. কেশ: চুল।
  • ৩. খড়ের ঘর: যে ঘরের চাল খড়ের তৈরি।
  • ৪. ঘূর্ণি হাওয়া: প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকা বাতাস।
  • ৫. চর: নদীর ভিতর থেকে জেগে ওঠা ভূমি।
  • ৬. চরকি: বাতাসে ঘোরে এমন খেলনা।
  • ৭. পক্ষীছানা: পাখির বাচ্চা।
  • ৮. পাঁজি: পঞ্জিকা; দিন, তারিখ ইত্যাদি হিসাবের বই।
  • ৯. পানির তোড়: পানির প্রবল বেগ।
  • ১০. ফরসা: সাদা বা পরিষ্কার।
  • ১১. বিশ্বকোষ: জ্ঞানের তথ্য যে বইয়ে অভিধানের মতো সাজানো থাকে।
  • ১২. যব: গমজাতীয় শস্য।
  • ১৩. শাঁখ: শঙ্খ।
  • ১৪. শর্ষে: সরিষা।
২ বাক্য গঠন (১০টি)
সেট ১ (৫টি)
বিশ্বকোষ | ঘূর্ণি হাওয়া | আকাশ ভেঙে | ধোয়া জামা | খড়ের ঘর
  • বিশ্বকোষ: আমার বড়ো ভাইয়ের কাছে একটি পুরোনো বিশ্বকোষ আছে।
  • ঘূর্ণি হাওয়া: সাইক্লোনের সময় প্রচণ্ড ঘূর্ণি হাওয়া বয়।
  • আকাশ ভেঙে: সাইক্লোনের রাতে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল।
  • ধোয়া জামা: রোদে দেওয়া ধোয়া জামাগুলো বাতাসে উড়ছে।
  • খড়ের ঘর: ঝড়ের সময় গরিব কৃষকের খড়ের ঘরটি ভেঙে গেল।
সেট ২ (৫টি)
পানির তোড় | পক্ষীছানা | চরকি | পাঁজি | ফরসা
  • পানির তোড়: বন্যার পানির তোড়ে নদীর পাড় ভেঙে গেল।
  • পক্ষীছানা: ঝড়ের তাণ্ডবে বাসা থেকে একটি পক্ষীছানা নিচে পড়ে গেল।
  • চরকি: ঘূর্ণি হাওয়ায় সবকিছু যেন চরকির মতো ঘুরছে।
  • পাঁজি: দাদু পাঁজি দেখে পূজার দিন ঠিক করলেন।
  • ফরসা: ছেলেটি একটি ফরসা জামা পরে মেলায় যাচ্ছে।
৩ শূন্যস্থান পূরণকরণ (১০টি)
নির্দেশনা: উপরের বক্স থেকে সঠিক শব্দটিতে ক্লিক করলে তা নিচের ফাঁকা স্থানে বসে যাবে। ভুল হলে ফাঁকা স্থানের শব্দে ক্লিক করে সেটি মুছে ফেলা যাবে। সবগুলো পূরণ হয়ে গেলে 'উত্তর মেলাও' বাটনে ক্লিক করো।
সেট ১ (৫টি)
মোষ বিশ্বকোষ ফরসা পক্ষীছানা গাছ পাতা ময়লা চরকি
১. চাল উড়ছে, ডাল উড়ছে / উড়ছে গরু, উড়ছে _____।
২. খই উড়ছে, বই উড়ছে / উড়ছে পাঁজি, _____।
৩. ময়লা চাদর, _____ জামা, / উড়ছে খেতের সরষে, যব।
৪. লক্ষ্মীপ্যাঁচা, _____ / ঘুরছে, যেন চরকি সব।
৫. মাছ উড়ছে, _____ উড়ছে / ঘূর্ণি হাওয়া ঘুরছে জোর।
সঠিক উত্তর:
১. মোষ
২. বিশ্বকোষ
৩. ফরসা
৪. পক্ষীছানা
৫. গাছ
সেট ২ (৫টি)
তোড় পরান শাঁখ কেশ কুঁকড়ো ঢোল মাঝি চর
৬. খাল ফুলছে, পাল ছিঁড়ছে / রুখবে কারা পানির _____?
৭. হারান মাঝি, _____ শেখ / বাতাস ফুঁড়ে দিচ্ছে ডাক।
৮. আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো / উঠল আজান, বাজল _____।
৯. চম্পাবতীর _____ ভাসছে / ভাসছে স্রোতে খড়ের ঘর।
১০. শেয়াল কুকুর _____ শালিক / ডুবল সবই, ডুবল চর।
সঠিক উত্তর:
৬. তোড়
৭. পরান
৮. শাঁখ
৯. কেশ
১০. কুঁকড়ো
৪ বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর (৫০টি)
নির্দেশনা: সঠিক উত্তরে ক্লিক করো। উত্তর সঠিক হলে সবুজ এবং ভুল হলে লাল দেখাবে। উত্তর দেওয়ার পর নিচে ব্যাখ্যা দেখতে পাবে।
১. 'সাইক্লোন' কবিতাটির কবির নাম কী?
(ক) জসীমউদ্দীন (খ) সুকুমার বড়ুয়া (গ) শামসুর রাহমান (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: (গ) শামসুর রাহমান।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ে কবিতাটির কবির নাম শামসুর রাহমান দেওয়া আছে।
২. সাইক্লোনে কী কী উড়ছে বলে কবিতায় উল্লেখ আছে?
(ক) শুধু পাতা (খ) চাল, ডাল, গরু, মোষ (গ) কেবল বই (ঘ) শুধু ধুলো
উত্তর: (খ) চাল, ডাল, গরু, মোষ।
ব্যাখ্যা: কবিতার প্রথম লাইনেই বলা হয়েছে চাল, ডাল, গরু, মোষ উড়ছে।
৩. বই ও খইয়ের সাথে আর কী উড়ছে?
(ক) খাতা (খ) কলম (গ) পাঁজি, বিশ্বকোষ (ঘ) পত্রিকা
উত্তর: (গ) পাঁজি, বিশ্বকোষ।
ব্যাখ্যা: "খই উড়ছে, বই উড়ছে / উড়ছে পাঁজি, বিশ্বকোষ।"
৪. 'পাঁজি' শব্দের অর্থ কী?
(ক) গল্পবই (খ) পঞ্জিকা বা তারিখ হিসাবের বই (গ) খাতা (ঘ) অভিধান
উত্তর: (খ) পঞ্জিকা বা তারিখ হিসাবের বই।
ব্যাখ্যা: শব্দার্থ অংশে এটি দেওয়া আছে।
৫. 'বিশ্বকোষ' কী ধরনের বই?
(ক) গল্পের (খ) উপন্যাসের (গ) জ্ঞানের তথ্য অভিধানের মতো সাজানো বই (ঘ) কবিতার বই
উত্তর: (গ) জ্ঞানের তথ্য অভিধানের মতো সাজানো বই।
ব্যাখ্যা: এটি একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ যাকে এনসাইক্লোপিডিয়া বলা হয়।
৬. কেমন চাদর উড়ছে?
(ক) পরিষ্কার (খ) ময়লা (গ) রঙিন (ঘ) সাদা
উত্তর: (খ) ময়লা।
ব্যাখ্যা: "ময়লা চাদর, ফরসা জামা" উড়ছে।
৭. খেত থেকে কোন কোন শস্য উড়ছে?
(ক) ধান, পাট (খ) সরষে, যব (গ) গম, ডাল (ঘ) আলু, পটল
উত্তর: (খ) সরষে, যব।
ব্যাখ্যা: কবিতায় খেতের সরষে ও যব উড়ার কথা বলা হয়েছে।
৮. বাতাসে লক্ষ্মীপ্যাঁচা ও পক্ষীছানা কীভাবে ঘুরছে?
(ক) ঘুড়ির মতো (খ) চরকির মতো (গ) লাটিমের মতো (ঘ) চাকার মতো
উত্তর: (খ) চরকির মতো।
ব্যাখ্যা: "ঘুরছে, যেন চরকি সব" বলা হয়েছে।
৯. 'পক্ষীছানা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বড় পাখি (খ) পাখির বাচ্চা (গ) পাখির ডিম (ঘ) পাখির বাসা
উত্তর: (খ) পাখির বাচ্চা।
ব্যাখ্যা: পক্ষী অর্থ পাখি আর ছানা অর্থ বাচ্চা।
১০. 'চরকি' কী?
(ক) বাতাসে ঘোরে এমন খেলনা (খ) চাকা (গ) নাগরদোলা (ঘ) ঘুড়ি
উত্তর: (ক) বাতাসে ঘোরে এমন খেলনা।
ব্যাখ্যা: চরকি হাওয়ায় বনবন করে ঘোরে।
১১. মাছ ও গাছের সাথে কোন হাওয়া ঘুরছে?
(ক) দমকা হাওয়া (খ) ঘূর্ণি হাওয়া (গ) দক্ষিণা হাওয়া (ঘ) কালবৈশাখী
উত্তর: (খ) ঘূর্ণি হাওয়া।
ব্যাখ্যা: "ঘূর্ণি হাওয়া ঘুরছে জোর" বলা হয়েছে।
১২. 'ঘূর্ণি হাওয়া' বলতে কী বোঝায়?
(ক) শান্ত বাতাস (খ) প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকা বাতাস (গ) গরম হাওয়া (ঘ) ঠান্ডা হাওয়া
উত্তর: (খ) প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকা বাতাস।
ব্যাখ্যা: এটি সাইক্লোনের মূল বৈশিষ্ট্য।
১৩. পানির তোড়ে কী ছিঁড়ছে?
(ক) জাল (খ) পাল (গ) কাপড় (ঘ) দড়ি
উত্তর: (খ) পাল।
ব্যাখ্যা: "খাল ফুলছে, পাল ছিঁড়ছে"।
১৪. 'পানির তোড়' অর্থ কী?
(ক) পানির শব্দ (খ) পানির প্রবল বেগ (গ) শান্ত পানি (ঘ) ঘোলা পানি
উত্তর: (খ) পানির প্রবল বেগ।
ব্যাখ্যা: স্রোতের বা জলোচ্ছ্বাসের প্রবল শক্তিকে তোড় বলা হয়।
১৫. কবিতায় কোন দুজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
(ক) রহিম ও করিম (খ) হারান মাঝি ও পরান শেখ (গ) গফুর ও মতিন (ঘ) সালাম ও বরকত
উত্তর: (খ) হারান মাঝি ও পরান শেখ।
ব্যাখ্যা: বিপদের সময় এরা বাতাস ফুঁড়ে ডাক দিচ্ছে।
১৬. হারান মাঝি ও পরান শেখ কীভাবে ডাক দিচ্ছে?
(ক) জোরে চিৎকার করে (খ) বাতাস ফুঁড়ে (গ) মাইকে (ঘ) ফুঁপিয়ে
উত্তর: (খ) বাতাস ফুঁড়ে।
ব্যাখ্যা: প্রবল বাতাসের শব্দ ভেদ করে তাদের ডাক শোনা যাচ্ছে।
১৭. আকাশ ভেঙে কী পড়ার কথা বলা হয়েছে?
(ক) বৃষ্টি (খ) কাচের গুঁড়ো (গ) পাথর (ঘ) পাতা
উত্তর: (খ) কাচের গুঁড়ো।
ব্যাখ্যা: "আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো"—বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টিকে কাচের গুঁড়ো বলা হয়েছে।
১৮. ঝড়ের সময় মানুষ কী করছিল?
(ক) ঘুমাচ্ছিল (খ) আজান দিচ্ছিল ও শাঁখ বাজাচ্ছিল (গ) গান গাইছিল (ঘ) হাসছিল
উত্তর: (খ) আজান দিচ্ছিল ও শাঁখ বাজাচ্ছিল।
ব্যাখ্যা: বিপদের সময় স্রষ্টাকে ডাকার জন্য এগুলো করা হয়।
১৯. 'শাঁখ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) শাখা (খ) শঙ্খ (গ) বাঁশি (ঘ) ঢোল
উত্তর: (খ) শঙ্খ।
ব্যাখ্যা: হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূজায় বা বিপদে শাঁখ বাজায়।
২০. স্রোতের জলে কার কেশ ভাসছে?
(ক) হারানের (খ) পরানের (গ) চম্পাবতীর (ঘ) মাঝির
উত্তর: (গ) চম্পাবতীর।
ব্যাখ্যা: "চম্পাবতীর কেশ ভাসছে" বলা হয়েছে।
২১. 'কেশ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) শাড়ি (খ) চুল (গ) হাত (ঘ) চোখ
উত্তর: (খ) চুল।
ব্যাখ্যা: কেশ মানে মাথার চুল।
২২. স্রোতে কী ভাসছে?
(ক) ইটের ঘর (খ) খড়ের ঘর (গ) নৌকা (ঘ) গাছ
উত্তর: (খ) খড়ের ঘর।
ব্যাখ্যা: গরিব মানুষের খড়ের ঘর বানের জলে ভাসছে।
২৩. 'খড়ের ঘর' বলতে কী বোঝায়?
(ক) যে ঘরের দেয়াল খড়ের (খ) যে ঘরের চাল খড়ের তৈরি (গ) মাটির ঘর (ঘ) টিনের ঘর
উত্তর: (খ) যে ঘরের চাল খড়ের তৈরি।
ব্যাখ্যা: খড় দিয়ে ছাওয়া ঘর।
২৪. স্রোতে কোন কোন প্রাণী ডুবছে?
(ক) বাঘ, সিংহ (খ) শেয়াল, কুকুর, কুঁকড়ো, শালিক (গ) হাঁস, মুরগি (ঘ) হাতি, ঘোড়া
উত্তর: (খ) শেয়াল, কুকুর, কুঁকড়ো, শালিক।
ব্যাখ্যা: কবিতার শেষ লাইনে এদের কথা বলা আছে।
২৫. 'কুঁকড়ো' শব্দের অর্থ কী?
(ক) হাঁস (খ) মোরগ (গ) ছাগল (ঘ) বিড়াল
উত্তর: (খ) মোরগ।
ব্যাখ্যা: মোরগকে দেশি ভাষায় কুঁকড়ো বলা হয়।
২৬. সাইক্লোনে সবকিছুর সাথে আর কী ডুবল?
(ক) পাহাড় (খ) চর (গ) আকাশ (ঘ) মেঘ
উত্তর: (খ) চর।
ব্যাখ্যা: "ডুবল সবই, ডুবল চর"।
২৭. 'চর' বলতে কী বোঝায়?
(ক) পাহাড় (খ) জঙ্গল (গ) নদীর ভিতর থেকে জেগে ওঠা ভূমি (ঘ) সাগর
উত্তর: (গ) নদীর ভিতর থেকে জেগে ওঠা ভূমি।
ব্যাখ্যা: নদীর বুকে পলি জমে চর জাগে।
২৮. সাইক্লোন কী ধরনের দুর্যোগ?
(ক) মানবসৃষ্ট (খ) প্রাকৃতিক (গ) রাসায়নিক (ঘ) কাল্পনিক
উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক।
ব্যাখ্যা: এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
২৯. 'যব' কী?
(ক) ফল (খ) গমজাতীয় শস্য (গ) সবজি (ঘ) কাঠ
উত্তর: (খ) গমজাতীয় শস্য।
ব্যাখ্যা: এটি একপ্রকার দানাদার শস্য।
৩০. কবিতায় 'ফরসা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) পরিষ্কার বা সাদা (খ) ময়লা (গ) ছেঁড়া (ঘ) নতুন
উত্তর: (ক) পরিষ্কার বা সাদা।
ব্যাখ্যা: ফরসা জামা মানে ধোয়া ও পরিষ্কার জামা।
৩১. "রুখবে কারা পানির তোড়?"—এখানে 'রুখবে' মানে কী?
(ক) দেখবে (খ) আটকাবে বা বাধা দেবে (গ) দৌড়াবে (ঘ) হাসবে
উত্তর: (খ) আটকাবে বা বাধা দেবে।
ব্যাখ্যা: প্রবল পানির বেগ কেউ আটকাতে পারে মোহ।
৩২. কবিতায় 'আকাশ ভেঙে' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) আকাশ নিচে পড়ে যাওয়া (খ) প্রবল বেগে মুষলধারে বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি নামা (গ) মেঘ উড়ে যাওয়া (ঘ) আকাশ নীল হওয়া
উত্তর: (খ) প্রবল বেগে মুষলধারে বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি নামা।
ব্যাখ্যা: আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ভয়াবহ অবস্থা।
৩৩. চরকির মতো কারা ঘুরছে?
(ক) মানুষ (খ) লক্ষ্মীপ্যাঁচা ও পক্ষীছানা (গ) শেয়াল ও কুকুর (ঘ) গাছ ও মাছ
উত্তর: (খ) লক্ষ্মীপ্যাঁচা ও পক্ষীছানা।
ব্যাখ্যা: প্রচণ্ড বাতাসে পাখিরা ভারসাম্য হারিয়ে ঘুরছে।
৩৪. খাল কী হচ্ছে?
(ক) শুকিয়ে যাচ্ছে (খ) ফুলছে বা পানিতে ভরে উঠছে (গ) ভেঙে যাচ্ছে (ঘ) হারিয়ে যাচ্ছে
উত্তর: (খ) ফুলছে বা পানিতে ভরে উঠছে।
ব্যাখ্যা: জলোচ্ছ্বাসের কারণে খালের পানি ফুলে উঠছে।
৩৫. মানুষ কখন আজান দেয় ও শাঁখ বাজায়?
(ক) আনন্দে (খ) ঘুমানোর সময় (গ) বিপদে বা দুর্যোগ থেকে বাঁচতে ঈশ্বরের সাহায্য চেয়ে (ঘ) খেলার সময়
উত্তর: (গ) বিপদে বা দুর্যোগ থেকে বাঁচতে ঈশ্বরের সাহায্য চেয়ে।
ব্যাখ্যা: এটি আমাদের সমাজের চিরায়ত বিশ্বাস।
৩৬. 'শালিক' কী?
(ক) পশু (খ) পাখি (গ) গাছ (ঘ) নদী
উত্তর: (খ) পাখি।
ব্যাখ্যা: এটি একটি পরিচিত দেশীয় পাখি।
৩৭. এই কবিতায় কোন রস বা ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) আনন্দ (খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলা (গ) বিরহ (ঘ) দেশপ্রেম
উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা ও ধ্বংসলীলা।
ব্যাখ্যা: সাইক্লোনের তাণ্ডব চিত্রিত হয়েছে।
৩৮. 'ময়লা চাদর, ফরসা জামা'—উড়ছে। এখানে ময়লা শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
(ক) কালো (খ) ফরসা / পরিষ্কার (গ) নোংরা (ঘ) পুরোনো
উত্তর: (খ) ফরসা / পরিষ্কার।
ব্যাখ্যা: ময়লা-এর বিপরীত ফরসা।
৩৯. 'লক্ষ্মীপ্যাঁচা' কী?
(ক) এক প্রজাতির প্যাঁচা (খ) মুরগি (গ) হাঁস (ঘ) খেলনা
উত্তর: (ক) এক প্রজাতির প্যাঁচা।
ব্যাখ্যা: এটি একটি অতি পরিচিত প্যাঁচা।
৪০. সাইক্লোনের সময় বাতাসের গতি কেমন থাকে?
(ক) মন্থর (খ) স্থির (গ) প্রচণ্ড বা ঘূর্ণায়মান (ঘ) মিষ্টি
উত্তর: (গ) প্রচণ্ড বা ঘূর্ণায়মান।
ব্যাখ্যা: তাই একে ঘূর্ণি হাওয়া বলা হয়।
৪১. কবিতায় 'ডাল' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
(ক) গাছের ডাল (খ) ডালপালা (গ) ডাল (খাদ্যশস্য) (ঘ) লাঠি
উত্তর: (গ) ডাল (খাদ্যশস্য)।
ব্যাখ্যা: চালের সাথে ডাল বলা হয়েছে, তাই এটি শস্য।
৪২. কবিতায় 'কাচের গুঁড়ো' বলতে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
(ক) ভাঙা গ্লাস (খ) শিলাবৃষ্টি বা বৃষ্টির তীক্ষ্ণ কণা (গ) আয়না (ঘ) হীরা
উত্তর: (খ) শিলাবৃষ্টি বা বৃষ্টির তীক্ষ্ণ কণা।
ব্যাখ্যা: ঝড়ের সময় বৃষ্টির ফোঁটা কাচের গুঁড়োর মতো গায়ে বিঁধে।
৪৩. 'সরষে' থেকে কী তৈরি হয়?
(ক) আটা (খ) তেল (গ) চিনি (ঘ) ডাল
উত্তর: (খ) তেল।
ব্যাখ্যা: সরিষা বীজ থেকে তেল হয়।
৪৪. চম্পাবতী কে হতে পারে?
(ক) একজন রানী (খ) একজন সাধারণ গ্রাম্য নারী (গ) একজন মাঝি (ঘ) একজন কবি
উত্তর: (খ) একজন সাধারণ গ্রাম্য নারী।
ব্যাখ্যা: ঝড়ের কবলে পড়া এক অসহায় নারী।
৪৫. পাল কী দিয়ে তৈরি হয়?
(ক) লোহা (খ) মোটা কাপড় বা ক্যানভাস (গ) কাগজ (ঘ) পাতা
উত্তর: (খ) মোটা কাপড় বা ক্যানভাস।
ব্যাখ্যা: নৌকার পাল কাপড় দিয়ে তৈরি হয় যা বাতাসে ছিঁড়ে যাচ্ছে।
৪৬. 'ডুবল সবই, ডুবল চর'—এর মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) বন্যা কমে যাওয়া (খ) সর্বনাশা জলোচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়া (গ) সূর্য ডুবে যাওয়া (ঘ) নৌকায় ডুবে যাওয়া
উত্তর: (খ) সর্বনাশা জলোচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়া।
ব্যাখ্যা: প্রলয়ংকরী বন্যায় সবকিছু তলিয়ে গেছে।
৪৭. 'ফুঁড়ে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ভেদ করে (খ) দৌড়ে (গ) উড়ে (ঘ) ঘুরে
উত্তর: (ক) ভেদ করে।
ব্যাখ্যা: বাতাস ফুঁড়ে মানে বাতাসের বাধা ভেদ করে।
৪৮. 'জোর' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
(ক) খুব (খ) বেশি (গ) আস্তে বা ধীর (ঘ) বেগ
উত্তর: (গ) আস্তে বা ধীর।
ব্যাখ্যা: জোর মানে প্রবল, তার বিপরীত আস্তে।
৪৯. শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের একজন বিখ্যাত কী?
(ক) প্রাবন্ধিক (খ) কবি (গ) নাট্যকার (ঘ) ঔপন্যাসিক
উত্তর: (খ) কবি।
ব্যাখ্যা: তিনি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি।
৫০. 'সাইক্লোন' কবিতাটি পড়লে আমাদের মনে কেমন অনুভূতি হয়?
(ক) আনন্দ (খ) রোমাঞ্চ (গ) ভয় ও আতঙ্ক (ঘ) হাসি
উত্তর: (গ) ভয় ও আতঙ্ক।
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধ্বংসাত্মক রূপ মনে ভয়ের সঞ্চার করে।
৫ বিপরীত শব্দ ও সমার্থক শব্দ
বিপরীত শব্দ (২০টি)
প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ
ময়লাফরসা / পরিষ্কারভাঙাগড়া
ডুবলভাসলজোরআস্তে / দুর্বল
আকাশপাতালদিনরাত
শুরুশেষকান্নাহাসি
আজকালসাদাকালো
ফুলছেকমছে / শুকোচ্ছেছিঁড়ছেজুড়ছে
জীবনমরণওঠানামা
গ্রামশহরআলোআঁধার
ভয়সাহসবিপন্ননিরাপদ
প্রশ্নউত্তরস্থিরচঞ্চল / ঘূর্ণায়মান
সমার্থক শব্দ (১০টি)
প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ
হাওয়াবাতাস, পবন, সমীরণ
কেশচুল, কুন্তল
গাছবৃক্ষ, তরু, পাদপ
আকাশগগন, আসমান
জল / পানিসলিল, বারি
নদীস্রোতস্বিনী, তটিনী
ঘরগৃহ, বাড়ি, আলয়
চরবালুচর, বেলাভূমি
রাতরজনী, নিশি
মাছমৎস্য, মীন
৬ সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: 'সাইক্লোন' কবিতার কবির নাম কী?
উত্তর: 'সাইক্লোন' কবিতার কবির নাম শামসুর রাহমান।
প্রশ্ন ২: সাইক্লোনের সময় মানুষের খাবার কী কী উড়ছে?
উত্তর: সাইক্লোনের সময় মানুষের খাবার চাল, ডাল এবং খই উড়ছে।
প্রশ্ন ৩: কোন কোন বড় প্রাণী বাতাসে উড়ছে বলে কবি কল্পনা করেছেন?
উত্তর: প্রচণ্ড ঝড়ে গরু ও মোষের মতো বড় প্রাণীও বাতাসে উড়ছে বলে কবি কল্পনা করেছেন।
প্রশ্ন ৪: মানুষের জ্ঞানের কী কী জিনিস বাতাসে উড়ছে?
উত্তর: মানুষের পড়ার জিনিস বই, পাঁজি এবং বিশ্বকোষ বাতাসে উড়ছে।
প্রশ্ন ৫: খেত থেকে কোন কোন শস্য উড়ছে?
উত্তর: খেত থেকে সরষে এবং যব উড়ছে।
প্রশ্ন ৬: বাতাসে কারা চরকির মতো ঘুরছে?
উত্তর: লক্ষ্মীপ্যাঁচা এবং পক্ষীছানা বা পাখির বাচ্চারা বাতাসে চরকির মতো ঘুরছে।
প্রশ্ন ৭: 'ঘূর্ণি হাওয়া' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'ঘূর্ণি হাওয়া' বলতে প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকা বাতাসকে বোঝায়।
প্রশ্ন ৮: পানির তোড়ে কী ছিঁড়ে যাচ্ছে?
উত্তর: পানির প্রবল তোড়ে বা বেগে নৌকার পাল ছিঁড়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ৯: কারা বাতাস ফুঁড়ে ডাক দিচ্ছে?
উত্তর: বিপদের সময় হারান মাঝি এবং পরান শেখ বাতাস ফুঁড়ে একে অপরকে ডাক দিচ্ছে।
প্রশ্ন ১০: 'আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো বলতে প্রবল বেগে নেমে আসা শিলাবৃষ্টি বা বৃষ্টির তীক্ষ্ণ ফোঁটাকে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ১১: ঝড়ের সময় মানুষ কেন আজান দিচ্ছে ও শাঁখ বাজাচ্ছে?
উত্তর: ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষ ঈশ্বরের সাহায্য চেয়ে আজান দিচ্ছে ও শাঁখ বাজাচ্ছে।
প্রশ্ন ১২: স্রোতে কার কেশ ভাসছে?
উত্তর: বানের স্রোতে অসহায় নারী চম্পাবতীর কেশ বা চুল ভাসছে।
প্রশ্ন ১৩: স্রোতে আর কী ভাসছে?
উত্তর: স্রোতে গরিব মানুষের খড়ের ঘর ভাসছে।
প্রশ্ন ১৪: বানের পানিতে কোন কোন প্রাণী ডুবছে?
উত্তর: বানের পানিতে শেয়াল, কুকুর, কুঁকড়ো (মোরগ) এবং শালিক পাখি ডুবছে।
প্রশ্ন ১৫: 'কুঁকড়ো' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'কুঁকড়ো' শব্দের অর্থ হলো মোরগ।
প্রশ্ন ১৬: চর কী?
উত্তর: চর হলো নদীর ভিতর থেকে পলি জমে জেগে ওঠা বালুময় ভূমি।
প্রশ্ন ১৭: 'বিশ্বকোষ' কাকে বলে?
উত্তর: বিশ্বকোষ হলো এমন একটি বই যেখানে জ্ঞানের বিভিন্ন তথ্য অভিধানের মতো সাজানো থাকে (এনসাইক্লোপিডিয়া)।
প্রশ্ন ১৮: 'পাঁজি' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: পাঁজি শব্দের অর্থ হলো পঞ্জিকা, যেখানে দিন, তারিখ ইত্যাদি হিসাব লেখা থাকে।
প্রশ্ন ১৯: সাইক্লোন কী ধরনের দুর্যোগ?
উত্তর: সাইক্লোন একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
প্রশ্ন ২০: কবিতার শেষ লাইনে কী ডোবার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কবিতার শেষ লাইনে শেয়াল, কুকুর, কুঁকড়ো, শালিকের সাথে নদীর চর ডোবার কথা বলা হয়েছে।
৭ বিস্তৃত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: 'সাইক্লোন' কবিতায় ঝড়ের ধ্বংসলীলার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা বর্ণনা করো।
উত্তর: 'সাইক্লোন' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের চিত্র এঁকেছেন। প্রচণ্ড বাতাসে মানুষের ঘরের চাল, ডাল, খই থেকে শুরু করে খেতের সরষে ও যব বাতাসে উড়ছে। এমনকি গরু-মোষের মতো ভারী প্রাণী, বই, পাঁজি, বিশ্বকোষ এবং মানুষের ময়লা ও ফরসা জামা পর্যন্ত ঘূর্ণি হাওয়ায় উড়ছে। খাল পানিতে ফুলে উঠেছে, নৌকার পাল ছিঁড়ে যাচ্ছে এবং পাখির ছানারা বাতাসে চরকির মতো ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রশ্ন ২: সাইক্লোনের সময় প্রাণী ও পাখিদের কী অবস্থা হয়েছিল?
উত্তর: সাইক্লোনের তাণ্ডবে প্রাণী ও পাখিরা চরম অসহায় হয়ে পড়ে। প্রচণ্ড বাতাসে লক্ষ্মীপ্যাঁচা ও ছোট ছোট পাখির ছানারা ভারসাম্য হারিয়ে চরকির মতো ঘুরতে থাকে। জলোচ্ছ্বাসের পানিতে শেয়াল, কুকুর, কুঁকড়ো (মোরগ) এবং শালিক পাখিরা হাবুডুবু খেতে থাকে এবং একসময় পানিতে তলিয়ে যায়।
প্রশ্ন ৩: 'আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো'—লাইনটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ঘূর্ণিঝড়ের সময় আকাশ কালো করে মুষলধারে বৃষ্টি নামে, সাথে প্রচণ্ড শিলাবৃষ্টিও হয়। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো যখন তীব্র বেগে মানুষের গায়ে এসে পড়ে, তখন মনে হয় যেন কাচের গুঁড়ো বিঁধছে। বৃষ্টির এই তীক্ষ্ণতা এবং আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ভয়াবহ অবস্থা বোঝাতেই কবি এই উপমাটি ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন ৪: মানুষ কেন সাইক্লোনের সময় আজান দেয় ও শাঁখ বাজায়?
উত্তর: বাংলাদেশ একটি ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। যেকোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় মানুষ নিজেদের চরম অসহায় মনে করে। নিজেদের বাঁচার কোনো পথ কেজি না দেখে তারা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করে। তাই মুসলমানরা আজান দেয় এবং হিন্দুরা শাঁখ বাজিয়ে ঈশ্বরের করুণা ও সাহায্য প্রার্থনা করে।
প্রশ্ন ৫: হারান মাঝি ও পরান শেখের ডাকের মধ্য দিয়ে কী প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: সাইক্লোনের সময় হারান মাঝি ও পরান শেখ বাতাস ফুঁড়ে একে অপরকে ডাক দিচ্ছে। এই ডাকের মধ্য দিয়ে দুর্যোগের সময় গ্রামীণ মানুষের একে অপরের প্রতি সহানুভূতি, বেঁচে থাকার আকুতি এবং বিপদের মুহূর্তে সঙ্গীকে খোঁজার আর্তনাদ প্রকাশ পেয়েছে। তারা বিপদে এক হয়ে লড়তে চাইছে।
প্রশ্ন ৬: 'চম্পাবতীর কেশ ভাসছে'—কথাটির মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: চম্পাবতী হলো গ্রামবাংলার এক সাধারণ নারীর প্রতীক। সাইক্লোনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে তার বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। প্রাণ বাঁচাতে সে পানির সাথে লড়াই করছে এবং তার খোলা চুল বা কেশ বানের স্রোতে ভাসছে। এই লাইনের মাধ্যমে কবি দুর্যোগে মানুষের অসহায়ত্ব ও করুণ মৃত্যুর রূপটি ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রশ্ন ৭: 'রুখবে কারা পানির তোড়?'—এই প্রশ্নের মাধ্যমে কবি কী বলতে চেয়েছেন?
উত্তর: 'তোড়' মানে প্রবল বেগ। ঘূর্ণিঝড়ের সাথে যখন প্রবল জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসে, তখন পানির সেই তীব্র বেগ বা শক্তিকে কোনো মানুষের পক্ষেই বাধা দেওয়া বা রোখা সম্ভব নয়। প্রকৃতির এই অসীম ও ধ্বংসাত্মক শক্তির সামনে মানুষের অসহায়ত্ব বোঝাতেই কবি এই প্রশ্নটি করেছেন।
প্রশ্ন ৮: সাইক্লোনের কারণে মানুষের অর্থনৈতিক বা সম্পদের কী কী ক্ষতি হয়, তা কবিতা অবলম্বনে লেখো।
উত্তর: কবিতা অনুযায়ী সাইক্লোনের ফলে মানুষের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। কৃষকের খেতের ফসল (সরষে, যব), সঞ্চিত খাবার (চাল, ডাল, খই), গৃহপালিত প্রাণী (গরু, মোষ, মোরগ), থাকার জায়গা (খড়ের ঘর) এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র (বই, জামা-কাপড়) সবকিছুই বাতাসে উড়ে যায় বা পানিতে ভেসে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।
প্রশ্ন ৯: 'ডুবল সবই, ডুবল চর'—কবিতার এই শেষ পঙ্‌ক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ঘূর্ণিঝড়ের সাথে আসা জলোচ্ছ্বাস যখন লোকালয়ে প্রবেশ করে, তখন তা আর কিছুই অবশিষ্ট রাখে না। মানুষ, পশুপাখি, ঘরবাড়ি সবকিছুই সে পানিতে ভাসিয়ে নেয়। এমনকি নদীর বুকে জেগে ওঠা উঁচু চরও সেই প্রলয়ংকরী বানের পানিতে তলিয়ে যায়। অর্থাৎ, সাইক্লোন একটি সম্পূর্ণ জনপদকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
প্রশ্ন ১০: সাইক্লোন থেকে বাঁচতে আমাদের কী কী প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে করো? (কবিতার বাইরে থেকে)
উত্তর: সাইক্লোন থেকে বাঁচতে আমাদের আগে থেকেই আবহাওয়া বার্তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। বিপদ সংকেত শোনার সাথে সাথে নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টার বা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ ও ফার্স্ট এইড বক্স সাথে রাখতে হবে।
প্রশ্ন ১১: 'চরকি' ও 'পাঁজি' শব্দের অর্থ লিখে বাক্য তৈরি করো।
উত্তর:
চরকি: বাতাসে ঘোরে এমন খেলনা। বাক্য: মেলা থেকে আমি একটি রঙিন চরকি কিনেছি。
পাঁজি: পঞ্জিকা বা তারিখ হিসাবের বই। বাক্য: ঠাকুমা পাঁজি দেখে পূজার তিথি বের করলেন।
প্রশ্ন ১২: কবিতায় ব্যবহৃত কাজ-শব্দ (Verb) বা ক্রিয়াপদগুলো কী কী?
উত্তর: কবিতায় ব্যবহৃত কাজ-শব্দগুলো হলো—উড়ছে, ঘুরছে, ফুলছে, ছিঁড়ছে, রুখবে, দিচ্ছে, ভেঙে, উঠল, বাজল, ভাসছে এবং ডুবল।
প্রশ্ন ১৩: 'বিশ্বকোষ' বাতাসে উড়ছে—কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বিশ্বকোষ হলো এমন বই যেখানে পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞান জমা থাকে। সাইক্লোন এতই শক্তিশালী যে, তা মানুষের অর্জিত জ্ঞান বা সভ্যতার প্রতীক বইপত্রকেও রেহাই দেয় না। প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে মানুষের সব জ্ঞান ও সম্পদই যে তুচ্ছ, তা বোঝাতেই বিশ্বকোষ উড়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৪: 'লক্ষ্মীপ্যাঁচা' এবং 'পক্ষীছানা' বাতাসে কীভাবে উড়ছিল?
উত্তর: সাইক্লোনের সময় বাতাসের গতি এতই তীব্র থাকে যে পাখিরা ডানা মেলে উড়তে পারে না। বাতাসের ধাক্কায় লক্ষ্মীপ্যাঁচা এবং ছোট ছোট পাখির বাচ্চারা নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরকির মতো বনবন করে ঘুরতে থাকে।
প্রশ্ন ১৫: এই কবিতায় কোন কোন পশু-পাখির নাম উল্লেখ করা হয়েছে?
উত্তর: এই কবিতায় গরু, মোষ, শেয়াল, কুকুর (পশু) এবং লক্ষ্মীপ্যাঁচা, পক্ষীছানা, মাছ, কুঁকড়ো (মোরগ), শালিক (পাখি/জলজ প্রাণী)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৬: 'খড়ের ঘর' স্রোতে ভাসার দৃশ্যটি কেমন?
উত্তর: গ্রামবাংলার গরিব মানুষের থাকার প্রধান জায়গা হলো বাঁশ ও খড় দিয়ে বানানো ঘর। সাইক্লোনের প্রবল জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কায় এই দুর্বল ঘরগুলো সহজেই ভেঙে যায় এবং চালের খড়গুলো স্রোতের পানিতে অসহায়ভাবে ভাসতে থাকে, যা অত্যন্ত করুণ এক দৃশ্য।
প্রশ্ন ১৭: 'খাল ফুলছে' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: সাইক্লোনের সময় সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। সেই জলোচ্ছ্বাসের পানি যখন প্রবল বেগে লোকালয়ের খাল-বিলে প্রবেশ করে, তখন খালের পানি ফুলে-ফেঁপে ওঠে এবং দুকূল ছাপিয়ে লোকালয় ভাসিয়ে দেয়। এটিকেই 'খাল ফুলছে' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৮: সাইক্লোনের সময় মাঝি ও কৃষকদের অবস্থা কেমন হয়?
উত্তর: সাইক্লোনের সময় নদীতে থাকা মাঝিদের নৌকার পাল ছিঁড়ে যায় এবং তারা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে (যেমন- হারান মাঝি)। অন্যদিকে কৃষকদের খেতের ফসল, গবাদিপশু এবং খড়ের ঘর বাতাসে উড়ে যায় বা পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ১৯: 'বাতাস ফুঁড়ে দিচ্ছে ডাক'—কথাটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ঘূর্ণিঝড়ের সময় বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ এতই তীব্র হয় যে অন্য কোনো আওয়াজ শোনা যায় না। এর মধ্যেই বাঁচার আকুতি নিয়ে মানুষ একে অপরকে জোরে চিৎকার করে ডাকে। এই ডাক যেন বাতাসের তীব্র শব্দকে ভেদ করে বা ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে।
প্রশ্ন ২০: 'সাইক্লোন' কবিতা থেকে আমরা প্রকৃতির কোন রূপ সম্পর্কে জানতে পারি?
উত্তর: 'সাইক্লোন' কবিতা থেকে আমরা প্রকৃতির ভয়ংকর, রুদ্র ও ধ্বংসাত্মক রূপ সম্পর্কে জানতে পারি। প্রকৃতি যেমন আমাদের আলো, বাতাস ও খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে, তেমনি ক্ষুব্ধ হলে সাইক্লোনের মতো দুর্যোগ দিয়ে নিমেষের মধ্যে পুরো জনপদ ধ্বংস করে দিতে পারে।
৮ কবিতার মূলভাব লিখন
মূলভাব:
'সাইক্লোন' কবিতায় কবি শামসুর রাহমান একটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসলীলার নিখুঁত ও ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচণ্ড বেগে বাতাস বয়, যাকে ঘূর্ণি হাওয়া বলে। এই প্রবল বাতাসে মানুষের ঘরের চাল, খাবার, বইপত্র, খেতের ফসল, এমনকি ভারী গরু-মোষও উড়ে যায়। পাখিরা বাতাসের তোড়ে চরকির মতো ঘুরপাক খায়। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে খাল-বিল ফুলে ওঠে এবং মানুষের খড়ের ঘর, গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়। মানুষের মনে চরম আতঙ্ক নেমে আসে এবং বাঁচার আশায় তারা ঈশ্বরকে ডেকে আজান দেয় ও শাঁখ বাজায়। প্রকৃতির এই ধ্বংসাত্মক রূপের কাছে মানুষ ও প্রাণী যে কতটা অসহায়, তা-ই এই কবিতায় অত্যন্ত করুণভাবে ফুটে উঠেছে।
৯ পদ নির্ণয় ও ক্রিয়ার কাল (১০টি)
সেট ১: পদ নির্ণয় (৫টি)
  • ১. ময়লা চাদর, ফরসা জামা।
  • ২. হারান মাঝি ডাক দিচ্ছে।
  • ৩. শেয়াল ও কুকুর ডুবল।
  • ৪. আকাশ ভেঙে কাচের গুঁড়ো পড়ছে।
  • ৫. তারা আজান দিচ্ছে।
উত্তর: ১. বিশেষণ (অবস্থা বা গুণ বোঝাচ্ছে); ২. ক্রিয়া (কাজ বোঝাচ্ছে); ৩. অব্যয় (দুটি পদ যুক্ত করেছে); ৪. ক্রিয়া (অসমাপিকা ক্রিয়া); ৫. সর্বনাম (নামের পরিবর্তে)।
সেট ২: ক্রিয়ার কাল নির্ণয় (৫টি)
  • ১. গরু-মোষ বাতাসে উড়ছে।
  • ২. গতকাল সাইক্লোনে অনেক ক্ষতি হয়েছিল।
  • ৩. আগামী মাসে আমরা নতুন ঘর বানাব।
  • ৪. চারদিকে আজান উঠল ও শাঁখ বাজল।
  • ৫. চম্পাবতীর কেশ পানিতে ভাসছে।
উত্তর: ১. বর্তমান কাল (ঘটমান বর্তমান); ২. অতীত কাল; ৩. ভবিষ্যৎ কাল; ৪. অতীত কাল; ৫. বর্তমান কাল (ঘটমান বর্তমান)।
১০ প্রশ্ন তৈরি ও বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (১০টি)
সেট ১: প্রশ্ন তৈরি (৫টি)
অনুচ্ছেদ: সাইক্লোনের সময় প্রচণ্ড ঘূর্ণি হাওয়া বয়। বাতাসে খেতের সরষে ও যব উড়ে যায়। হারান মাঝি ও পরান শেখ বাতাস ফুঁড়ে ডাক দেয়। বিপদের সময় মানুষ আজান দেয় ও শাঁখ বাজায়।
  • ১. (কী ধরনের):
  • ২. (কী কী):
  • ৩. (কীভাবে):
  • ৪. (কখন):
  • ৫. (কেন):
উত্তর:
১. সাইক্লোনের সময় কী ধরনের হাওয়া বয়?
২. বাতাসে খেতের কী কী উড়ে যায়?
৩. হারান মাঝি ও পরান শেখ কীভাবে ডাক দেয়?
৪. মানুষ কখন আজান দেয় ও শাঁখ বাজায়?
৫. মানুষ কেন শাঁখ বাজায়?
সেট ২: বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (৫টি বাক্য)
  • প্রদত্ত অনুচ্ছেদ: সাইক্লোন এক ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়ের সময় প্রচণ্ড ঘূর্ণি হাওয়া বয় খেতের সরষে যব আর মানুষের খড়ের ঘর বাতাসে উড়ে যায় বিপদে পড়ে মানুষ ঈশ্বরকে ডাকে তখন চারদিকে আজান ও শাঁখের শব্দ শোনা যায়
  • সঠিক রূপ: সাইক্লোন এক ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ঝড়ের সময় প্রচণ্ড ঘূর্ণি হাওয়া বয়। খেতের সরষে, যব আর মানুষের খড়ের ঘর বাতাসে উড়ে যায়। বিপদে পড়ে মানুষ ঈশ্বরকে ডাকে। তখন চারদিকে আজান ও শাঁখের শব্দ শোনা যায়।
১১ যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দগঠন (১০টি)
  • ক্ষ = (ক + ষ) = পক্ষীছানা, শিক্ষা, রক্ষা
  • ণ্ড = (ণ + ড) = প্রচণ্ড, ভণ্ড
  • ঙ্খ = (ঙ + খ) = শঙ্খ, শৃঙ্খলা
  • র্ণ = (র-রেফ + ণ) = ঘূর্ণি, বর্ণ, কর্ণ
  • স্ম = (স + ম) = বিস্ময়, স্মরণ
  • শ্ব = (শ + ব-ফলা) = বিশ্বকোষ, বিশ্বাস
  • ম্প = (ম + প) = চম্পাবতী, সম্পদ, কম্পন
  • ল্ম = (ল + ম) = গুল্ম, বাল্মীকি
  • ঙ্গ = (ঙ + গ) = ভেঙে/ভঙ্গ, অঙ্গ
  • ব্দ = (ব + দ) = শব্দ, জব্দ
১২ এককথায় প্রকাশ (২০টি)
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১. প্রচণ্ড বেগে ঘুরতে থাকা বাতাসঘূর্ণি হাওয়া
২. পাখির বাচ্চা বা ছানাপক্ষীছানা
৩. যে ঘরের চাল খড়ের তৈরিখড়ের ঘর
৪. পানির প্রবল বেগ বা স্রোতপানির তোড়
৫. বাতাসে ঘোরে এমন খেলনাচরকি
৬. দিন, তারিখ ইত্যাদি হিসাবের বইপঞ্জিকা / পাঁজি
৭. জ্ঞানের তথ্য অভিধানের মতো সাজানো থাকে যে বইয়েবিশ্বকোষ
৮. নদীর ভিতর থেকে জেগে ওঠা বালুময় ভূমিচর
৯. যা ভয় বা আতঙ্কের সৃষ্টি করেভয়ংকর
১০. যা সাদা বা পরিষ্কারফরসা
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১১. গমজাতীয় একপ্রকার শস্যযব
১২. মাথার চুলকেশ
১৩. মোরগকে দেশি ভাষায় যা বলা হয়কুঁকড়ো
১৪. সমুদ্রের শাঁখ বা খোলস দিয়ে তৈরি বাদ্যযন্ত্রশঙ্খ / শাঁখ
১৫. প্রবল বেগে নামা বৃষ্টিমুষলধারে বৃষ্টি
১৬. যা সহজে ভেঙে বা ছিঁড়ে যায়ভঙ্গুর / পলকা
১৭. নৌকার দিক ঠিক রাখে যা বা হাওয়া ধরে রাখে যাপাল
১৮. যে নৌকা চালায়মাঝি
১৯. বিপদ থেকে বাঁচার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাআজান / প্রার্থনা
২০. সর্বনাশা প্রাকৃতিক ঝড় বা জলোচ্ছ্বাসসাইক্লোন / ঘূর্ণিঝড়