১. বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী?
(ক) সিংহ
(খ) হাতি
(গ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার
(ঘ) চিত্রা হরিণ
উত্তর: (গ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যের প্রথমেই বলা হয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় পশু।
২. এ দেশের মানুষের কাছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার কী নামে পরিচিত?
(ক) বিড়াল
(খ) বাঘ
(গ) মামা
(ঘ) বনরাজা
উত্তর: (খ) বাঘ।
ব্যাখ্যা: সাধারণ মানুষের কাছে এটি বাঘ নামে পরিচিত।
৩. বাংলাদেশের কোন বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যায়?
(ক) ভাওয়ালের গড়ে
(খ) মধুপুরের বনে
(গ) সুন্দরবনে
(ঘ) লাউয়াছড়ায়
উত্তর: (গ) সুন্দরবনে।
ব্যাখ্যা: সুন্দরবনই রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রধান আবাসস্থল।
৪. বাঘ দেখতে কেমন?
(ক) সুন্দর কিন্তু ভয়ংকর
(খ) কুৎসিত
(গ) শান্ত
(ঘ) নিরীহ
উত্তর: (ক) সুন্দর কিন্তু ভয়ংকর।
ব্যাখ্যা: বাঘ দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি ভয়ংকর এর আচরণ।
৫. পৃথিবীতে কত প্রজাতির বাঘ আছে?
(ক) এক
(খ) দুই
(গ) তিন
(ঘ) অনেক
উত্তর: (ঘ) অনেক।
ব্যাখ্যা: পৃথিবীতে অনেক প্রজাতির বাঘ থাকলেও রয়েল বেঙ্গল টাইগার সবচেয়ে রাজসিক।
৬. কোন বাঘ সবচেয়ে রাজসিক?
(ক) সাইবেরিয়ান বাঘ
(খ) সুমাত্রান বাঘ
(গ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার
(ঘ) সাদা বাঘ
উত্তর: (গ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
ব্যাখ্যা: সব প্রজাতির মধ্যে এটি সবচেয়ে রাজসিক বা রাজার মতো।
৭. বাঘের গায়ের রং কেমন হয়ে থাকে?
(ক) সাদা ও কালো
(খ) হলুদ থেকে গাঢ় কমলা
(গ) লাল
(ঘ) ধূসর
উত্তর: (খ) হলুদ থেকে গাঢ় কমলা।
ব্যাখ্যা: বাঘের গায়ে হলুদ বা গাঢ় কমলার ওপর কালো দাগ থাকে।
৮. বাঘের গায়ে কী রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে?
(ক) সাদা
(খ) লাল
(গ) কালো
(ঘ) খয়েরি
উত্তর: (গ) কালো।
ব্যাখ্যা: বাঘের গায়ে কালো রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে।
৯. বাঘের পেটের দিকের রং কেমন?
(ক) কালো
(খ) হলুদ
(গ) সাদা
(ঘ) কমলা
উত্তর: (গ) সাদা।
ব্যাখ্যা: বাঘের পিঠের দিক রঙিন হলেও পেটের দিকটা সাদা হয়।
১০. একটি বাঘের দৈর্ঘ্য কত সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে?
(ক) ১০০ সে.মি.
(খ) ১৫০ সে.মি.
(গ) ২২০ সে.মি.
(ঘ) ৩০০ সে.মি.
উত্তর: (গ) ২২০ সে.মি.।
ব্যাখ্যা: বাঘের দৈর্ঘ্য ২২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।
১১. বাঘের লেজের দৈর্ঘ্য কত?
(ক) ৩০-৪০ সে.মি.
(খ) ৬০-১১০ সে.মি.
(গ) ১২০-১৫0 সে.মি.
(ঘ) ২০০ সে.মি.
উত্তর: (খ) ৬০-১১০ সে.মি.।
ব্যাখ্যা: লেজ ৬০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।
১২. কাঁধের দিকে বাঘের উচ্চতা কত?
(ক) ৫০ সে.মি.
(খ) ১০০ সে.মি.
(গ) ১৫০ সে.মি.
(ঘ) ২২০ সে.মি.
উত্তর: (খ) ১০০ সে.মি.।
ব্যাখ্যা: কাঁধের কাছে উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটারের মতো।
১৩. পুরুষ বাঘের গড় ওজন কত কেজি?
(ক) ১০০ কেজি
(খ) ১৪০ কেজি
(গ) ২০০ কেজি
(ঘ) ২২০ কেজি
উত্তর: (ঘ) ২২০ কেজি।
ব্যাখ্যা: একটি বয়স্ক পুরুষ বাঘের গড় ওজন ২২০ কেজি।
১৪. বাঘিনীর গড় ওজন কত কেজি?
(ক) ১০০ কেজি
(খ) ১৪০ কেজি
(গ) ১৮০ কেজি
(ঘ) ২২০ কেজি
উত্তর: (খ) ১৪০ কেজি।
ব্যাখ্যা: স্ত্রী বাঘ বা বাঘিনীর গড় ওজন ১৪০ কেজি।
১৫. বাঘ কোন প্রজাতির প্রাণী?
(ক) কুকুর প্রজাতির
(খ) শিয়াল প্রজাতির
(গ) বিড়াল প্রজাতির
(ঘ) ভাল্লুক প্রজাতির
উত্তর: (গ) বিড়াল প্রজাতির।
ব্যাখ্যা: বাঘ বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড় প্রাণী।
১৬. বিড়ালকে বাঘের কী বলা হয়?
(ক) পিসি
(খ) মাসি
(গ) বোন
(ঘ) খালা
উত্তর: (খ) মাসি।
ব্যাখ্যা: বিড়াল ও বাঘ একই প্রজাতির হওয়ায় বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়।
১৭. বাঘ শিকার ধরতে কেমন?
(ক) অদক্ষ
(খ) খুব দক্ষ
(গ) ধীর
(ঘ) দুর্বল
উত্তর: (খ) খুব দক্ষ।
ব্যাখ্যা: বাঘ খুব দক্ষতার সঙ্গে শিকার ধরতে পারে।
১৮. বাঘের কোন কোন শক্তি খুবই প্রখর?
(ক) শুধু দৃষ্টিশক্তি
(খ) দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি
(গ) শুধু শ্রবণশক্তি
(ঘ) শুধু স্বাদ
উত্তর: (খ) দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি।
ব্যাখ্যা: এই তিনটি শক্তি প্রখর হওয়ায় বাঘ দক্ষ শিকারি।
১৯. বাঘের থাবার নিচের অংশ কেমন?
(ক) শক্ত ও খসখসে
(খ) নরম ও পুরু
(গ) ধারালো
(ঘ) কাঁটাযুক্ত
উত্তর: (খ) নরম ও পুরু।
ব্যাখ্যা: নরম ও পুরু হওয়ার কারণে বাঘের চলার সময় শব্দ হয় না।
২০. শিকার ধরার সময় বাঘের থাবা থেকে কী বেরিয়ে আসে?
(ক) নখর
(খ) দাঁত
(গ) বিষ
(ঘ) রক্ত
উত্তর: (ক) নখর।
ব্যাখ্যা: শিকারকে কাবু করতে থাবা থেকে তীক্ষ্ণ নখ বা নখর বেরিয়ে আসে।
২১. বাঘের চলার সময় শব্দ হয় না কেন?
(ক) বাঘ খুব আস্তে হাঁটে
(খ) থাবার নিচের অংশ নরম ও পুরু বলে
(গ) বাঘ উড়তে পারে
(ঘ) ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটে বলে
উত্তর: (খ) থাবার নিচের অংশ নরম ও পুরু বলে।
ব্যাখ্যা: থাবার গঠনের কারণে নিঃশব্দে শিকারের কাছে যেতে পারে।
২২. খাবার চিবানোর জন্য বাঘের কী রয়েছে?
(ক) ভোঁতা দাঁত
(খ) তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁত আর মজবুত চোয়াল
(গ) লম্বা জিভ
(ঘ) নরম চোয়াল
উত্তর: (খ) তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁত আর মজবুত চোয়াল।
ব্যাখ্যা: মাংস ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য এগুলো অপরিহার্য।
২৩. একটি বাঘ প্রতিদিন সাধারণত কত কেজি খাবার খায়?
(ক) ২-৩ কেজি
(খ) ৪-৫ কেজি
(গ) ৭-৮ কেজি
(ঘ) ১০-১২ কেজি
উত্তর: (গ) ৭-৮ কেজি।
ব্যাখ্যা: দৈনিক ৭-৮ কেজি মাংস তার প্রয়োজন হয়।
২৪. বাঘের প্রধান খাদ্য কোনটি?
(ক) ঘাস ও লতাপাতা
(খ) মাছ ও কাঁকড়া
(গ) হরিণ, শূকর, বানরের মাংস
(ঘ) ফলমূল
উত্তর: (গ) হরিণ, শূকর, বানরের মাংস।
ব্যাখ্যা: এগুলো বাঘের প্রধান শিকার।
২৫. বাঘ পানিতে কেমন?
(ক) সাঁতার জানে না
(খ) খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে
(গ) পানি ভয় পায়
(ঘ) ডুবে যায়
উত্তর: (খ) খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে।
ব্যাখ্যা: সুন্দরবনের নদী-খাল পার হতে বাঘ দক্ষ সাঁতারু।
২৬. নদী পার হওয়ার সময় বাঘ কীভাবে এগোয়?
(ক) আঁকাবাঁকা পথে
(খ) ঠিক সোজাসুজি
(গ) স্রোতের অনুকূলে
(ঘ) স্রোতের প্রতিকূলে
উত্তর: (খ) ঠিক সোজাসুজি।
ব্যাখ্যা: বাঘ স্রোত উপেক্ষা করে সোজাসুজি সাঁতার কাটে।
২৭. স্রোতের কারণে বাঘ সরে গেলে কী করে?
(ক) অন্য পাড়ে উঠে যায়
(খ) আবার ঠিক আগের জায়গায় ফিরে আসে
(গ) ডুবে যায়
(ঘ) কান্না করে
উত্তর: (খ) আবার ঠিক আগের জায়গায় ফিরে আসে।
ব্যাখ্যা: বাঘ তার গন্তব্যে স্থির থাকে।
২৮. বাঘ সাধারণত কত বছর বাঁচে?
(ক) ১০-১৫ বছর
(খ) ২০-২৫ বছর
(গ) ৩০-৩৫ বছর
(ঘ) ৪০-৪৫ বছর
উত্তর: (গ) ৩০-৩৫ বছর।
ব্যাখ্যা: একটি বাঘের গড় আয়ু ৩০ থেকে ৩৫ বছর।
২৯. বাঘিনী কত বছর অন্তর বাচ্চা দেয়?
(ক) প্রতি বছর
(খ) দুই বছর অন্তর
(গ) তিন বছর অন্তর
(ঘ) পাঁচ বছর অন্তর
উত্তর: (গ) তিন বছর অন্তর।
ব্যাখ্যা: বাঘিনী সাধারণত তিন বছর পরপর বাচ্চা দেয়।
৩০. বাঘিনী একবারে কয়টি বাচ্চা দেয়?
(ক) ১-২টি
(খ) ৩-৪টি
(গ) ৫-৬টি
(ঘ) ৭-৮টি
উত্তর: (খ) ৩-৪টি।
ব্যাখ্যা: প্রতিবার ৩ থেকে ৪টি শাবকের জন্ম হয়।
৩১. বাঘের বাচ্চারা কতদিন মায়ের সাথে থাকে?
(ক) ছয় মাস
(খ) প্রায় এক বছর
(গ) দুই বছর
(ঘ) পাঁচ বছর
উত্তর: (খ) প্রায় এক বছর।
ব্যাখ্যা: বাচ্চারা প্রথম এক বছর মায়ের কাছে শিকার শেখে ও বড় হয়।
৩২. পুরুষ বাঘ বনের মধ্যে কী করে?
(ক) দলবেঁধে ঘোরে
(খ) একটি নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে রাজত্ব করে
(গ) শুধু ঘুমায়
(ঘ) গাছ কাটে
উত্তর: (খ) একটি নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে রাজত্ব করে।
ব্যাখ্যা: বাঘ নিজের এলাকা বা টেরিটরি তৈরি করে।
৩৩. পুরুষ বাঘ নিজের এলাকায় কাকে ঢুকতে দেয় না?
(ক) হরিণকে
(খ) মানুষকে
(গ) অন্য পুরুষ বাঘকে
(ঘ) বানরকে
উত্তর: (গ) অন্য পুরুষ বাঘকে।
ব্যাখ্যা: বাঘ তার এলাকায় অন্য বাঘের উপস্থিতি সহ্য করে না।
৩৪. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার ভূমিকা আছে?
(ক) মানুষের
(খ) বাঘের
(গ) নদীর
(ঘ) সাগরের
উত্তর: (খ) বাঘের।
ব্যাখ্যা: বাঘ খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থেকে বনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
৩৫. বাঘের কারণে মানুষ সুন্দরবনে কী করতে ভয় পায়?
(ক) মাছ ধরতে
(খ) গাছ কাটতে ও বনে ঢুকতে
(গ) নৌকা চালাতে
(ঘ) মধু সংগ্রহ করতে
উত্তর: (খ) গাছ কাটতে ও বনে ঢুকতে।
ব্যাখ্যা: বাঘের ভয়ে কাঠুরেরা অবৈধভাবে বন ধ্বংস করতে ভয় পায়।
৩৬. বাঘের জীবন কী কারণে বিপন্ন হয়?
(ক) খাবার বেশি হলে
(খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে
(গ) রোদ উঠলে
(ঘ) বৃষ্টি হলে
উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে।
ব্যাখ্যা: ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগে বাঘ মারা যায়।
৩৭. কিছু লোভী মানুষ কেন বাঘ মারে?
(ক) মাংসের লোভে
(খ) চামড়া ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গের লোভে
(গ) শখ করে
(ঘ) বাঘের ভয়ে
উত্তর: (খ) চামড়া ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গের লোভে।
ব্যাখ্যা: আন্তর্জাতিক বাজারে বাঘের চামড়া ও হাড়ের অনেক দাম।
৩৮. দিন দিন সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা কেমন হচ্ছে?
(ক) বাড়ছে
(খ) কমছে
(গ) একই আছে
(ঘ) দ্বিগুণ হচ্ছে
উত্তর: (খ) কমছে।
ব্যাখ্যা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চোরাশিকারির কারণে বাঘ কমে যাচ্ছে।
৩৯. রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের কেমন সম্পদ?
(ক) সাধারণ সম্পদ
(খ) অমূল্য সম্পদ
(গ) ফেলনা জিনিস
(ঘ) সস্তা সম্পদ
উত্তর: (খ) অমূল্য সম্পদ।
ব্যাখ্যা: এটি আমাদের জাতীয় গর্ব ও অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ।
৪০. পৃথিবীতে বাংলাদেশের পরিচিতি ও গৌরব বাড়িয়েছে কে?
(ক) হাতি
(খ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার
(গ) শালিক
(ঘ) হরিণ
উত্তর: (খ) রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
ব্যাখ্যা: সারা বিশ্ব বাংলাদেশকে এই বাঘের দেশ হিসেবে চেনে।
৪১. আমাদের দায়িত্ব কী?
(ক) বাঘ মারা
(খ) সুন্দরবনকে রক্ষা করা
(গ) বন কেটে ফেলা
(ঘ) বন্যপ্রাণী খাঁচায় রাখা
উত্তর: (খ) সুন্দরবনকে রক্ষা করা।
ব্যাখ্যা: সুন্দরবন রক্ষা পেলেই বাঘ রক্ষা পাবে।
৪২. সুন্দরবন রক্ষা না করলে কী হবে?
(ক) বাঘ চিরতরে হারিয়ে যাবে
(খ) বাঘ বেড়ে যাবে
(গ) বাঘ শহরে চলে আসবে
(ঘ) কিছু হবে না
উত্তর: (ক) বাঘ চিরতরে হারিয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা: আবাসস্থল ধ্বংস হলে বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
৪৩. 'প্রখর' শব্দের অর্থ কী?
(ক) দুর্বল
(খ) তীব্র বা ধারালো
(গ) নরম
(ঘ) শান্ত
উত্তর: (খ) তীব্র বা ধারালো।
ব্যাখ্যা: বাঘের ঘ্রাণ ও দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত প্রখর বা তীব্র।
৪৪. বাঘের চোয়াল কেমন হয়?
(ক) দুর্বল
(খ) মজবুত
(গ) নরম
(ঘ) ছোট
উত্তর: (খ) মজবুত।
ব্যাখ্যা: শিকারের হাড় চিবানোর জন্য চোয়াল খুব মজবুত হয়।
৪৫. 'বিপন্ন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নিরাপদ
(খ) সংকটে পড়েছে এমন
(গ) সুখী
(ঘ) ধনী
উত্তর: (খ) সংকটে পড়েছে এমন।
ব্যাখ্যা: বাঘের অস্তিত্ব আজ বিপন্ন বা ঝুঁকির মুখে।
৪৬. 'চিরতরে' বলতে কী বোঝায়?
(ক) কিছুক্ষণের জন্য
(খ) চিরকালের জন্য
(গ) এক বছরের জন্য
(ঘ) এক মাসের জন্য
উত্তর: (খ) চিরকালের জন্য।
ব্যাখ্যা: চিরতরে হারিয়ে যাওয়া মানে আর কখনো ফিরে না আসা।
৪৭. 'প্রত্যঙ্গ' বলতে কী বোঝায়?
(ক) নদীর অঙ্গ
(খ) শরীরের অংশ
(গ) গাছের ডাল
(ঘ) পোশাক
উত্তর: (খ) শরীরের অংশ।
ব্যাখ্যা: বাঘের চামড়া, হাড়, দাঁত ইত্যাদি প্রত্যঙ্গ।
৪৮. পুরুষ বাঘ ও বাঘিনীর ওজনের পার্থক্য কত?
(ক) প্রায় ৪০ কেজি
(খ) প্রায় ৮০ কেজি
(গ) প্রায় ১০০ কেজি
(ঘ) কোনো পার্থক্য নেই
উত্তর: (খ) প্রায় ৮০ কেজি।
ব্যাখ্যা: পুরুষ বাঘ ২২০ কেজি এবং বাঘিনী ১৪০ কেজি, পার্থক্য ৮০ কেজি।
৪৯. 'ক্ষিপ্র' শব্দের অর্থ কী?
(ক) আস্তে
(খ) চটপটে বা দ্রুত
(গ) দুর্বল
(ঘ) শান্ত
উত্তর: (খ) চটপটে বা দ্রুত।
ব্যাখ্যা: বাঘ অত্যন্ত ক্ষিপ্র গতিতে শিকার করে।
৫০. বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগের কাজ কী হতে পারে? (সাধারণ জ্ঞান)
(ক) সুন্দর দেখানো
(খ) বনের লতাপাতার সাথে মিশে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করা
(গ) ভয় দেখানো
(ঘ) বয়স বোঝানো
উত্তর: (খ) বনের লতাপাতার সাথে মিশে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করা।
ব্যাখ্যা: একে ক্যামোফ্লেজ বা ছদ্মবেশ বলে।
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম কী?
উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় পশুর নাম রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
প্রশ্ন ২: রয়েল বেঙ্গল টাইগার কোথায় দেখা যায়?
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশের সুন্দরবনে দেখা যায়।
প্রশ্ন ৩: বাঘের গায়ের রং কেমন?
উত্তর: বাঘের গায়ের রং হলুদ থেকে গাঢ় কমলা হয়ে থাকে এবং গায়ে কালো রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে।
প্রশ্ন ৪: বাঘের দৈর্ঘ্য ও লেজ কত সেন্টিমিটার হয়?
উত্তর: বাঘের দৈর্ঘ্য ২২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং লেজ ৬০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার হয়।
প্রশ্ন ৫: বাঘের গড় ওজন কত?
উত্তর: পুরুষ বাঘের গড় ওজন ২২০ কেজি এবং বাঘিনীর গড় ওজন ১৪০ কেজি।
প্রশ্ন ৬: বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয় কেন?
উত্তর: বাঘ বিড়াল প্রজাতির প্রাণী এবং দেখতে বিড়ালের মতো হওয়ায় বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়।
প্রশ্ন ৭: বাঘের কোন কোন শক্তি প্রখর?
উত্তর: বাঘের দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর।
প্রশ্ন ৮: বাঘের থাবার বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: বাঘের থাবার নিচের অংশ নরম ও পুরু, ফলে চলার সময় কোনো শব্দ হয় না।
প্রশ্ন ৯: শিকার ধরার সময় বাঘের কী বেরিয়ে আসে?
উত্তর: শিকার ধরার সময় বাঘের থাবা থেকে তীক্ষ্ণ নখর বা নখ বেরিয়ে আসে।
প্রশ্ন ১০: বাঘের প্রধান খাবার কী?
উত্তর: হরিণ, শূকর এবং বানরের মাংস বাঘের প্রধান খাবার।
প্রশ্ন ১১: বাঘ প্রতিদিন কত কেজি খাবার খায়?
উত্তর: একটি বাঘ সাধারণত প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ কেজি খাবার খায়।
প্রশ্ন ১২: বাঘ সাঁতার কাটায় কেমন?
উত্তর: বাঘ খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে এবং নদী বা খাল পার হওয়ার সময় ঠিক সোজাসুজি এগিয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৩: বাঘ কত বছর বাঁচে?
উত্তর: বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
প্রশ্ন ১৪: বাঘিনী কতদিন পর পর বাচ্চা দেয়?
উত্তর: বাঘিনী তিন বছর অন্তর ৩-৪টি করে বাচ্চা দেয়।
প্রশ্ন ১৫: বাঘের বাচ্চারা কতদিন মায়ের সাথে থাকে?
উত্তর: বাঘের বাচ্চারা প্রায় এক বছর তাদের মায়ের সাথে থাকে।
প্রশ্ন ১৬: পুরুষ বাঘের রাজত্ব কেমন?
উত্তর: একেকটি পুরুষ বাঘ বনের একটি নির্দিষ্ট অংশ জুড়ে রাজত্ব করে এবং সেখানে অন্য পুরুষ বাঘকে ঢুকতে দেয় না।
প্রশ্ন ১৭: মানুষ সুন্দরবনে গাছ কাটতে ভয় পায় কেন?
উত্তর: বাঘের আক্রমণের ভয়ে মানুষ সুন্দরবনে ঢুকতে ও গাছ কাটতে ভয় পায়।
প্রশ্ন ১৮: বাঘের জীবন বিপন্ন হচ্ছে কেন?
উত্তর: প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং লোভী চোরাশিকারিদের বাঘ নিধনের কারণে বাঘের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।
প্রশ্ন ১৯: চোরাশিকারিরা কেন বাঘ মারে?
উত্তর: চামড়া ও শরীরের অন্যান্য মূল্যবান প্রত্যঙ্গের লোভে চোরাশিকারিরা বাঘ মারে।
প্রশ্ন ২০: রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে কী বলা হয়?
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ ও গৌরবের প্রতীক বলা হয়।
প্রশ্ন ১: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের শারীরিক গঠনের বর্ণনা দাও।
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখতে অত্যন্ত রাজসিক। এদের গায়ের রং হলুদ থেকে গাঢ় কমলা এবং গায়ে কালো রঙের ডোরাকাটা দাগ থাকে। পেটের দিকটা হয় সাদা। একটি বাঘ লম্বায় প্রায় ২২০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ৬০ থেকে ১১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। কাঁধের কাছে এর উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটারের মতো। পুরুষ বাঘের ওজন প্রায় ২২০ কেজি এবং বাঘিনীর ওজন ১৪০ কেজি হয়ে থাকে।
প্রশ্ন ২: বাঘকে কেন দক্ষ শিকারি বলা হয়?
উত্তর: বাঘ বিড়াল প্রজাতির সবচেয়ে বড়ো ও শক্তিশালী প্রাণী। বাঘের দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি এবং ঘ্রাণশক্তি অত্যন্ত প্রখর, যা তাকে বহু দূর থেকে শিকার চিনতে সাহায্য করে। বাঘের থাবার নিচটা নরম ও পুরু হওয়ায় সে নিঃশব্দে শিকারের কাছে পৌঁছাতে পারে। শিকার ধরার মুহূর্তে তার থাবা থেকে তীক্ষ্ণ নখর বেরিয়ে আসে এবং শক্তিশালী চোয়াল ও ধারালো দাঁত দিয়ে সে মুহূর্তেই শিকারকে কাবু করে ফেলে। এ কারণেই বাঘ অত্যন্ত দক্ষ শিকারি।
প্রশ্ন ৩: বাঘের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত লেখো।
উত্তর: বাঘ একটি মাংসাশী প্রাণী। সুন্দরবনের হরিণ, বন্য শূকর এবং বানর হলো বাঘের প্রধান খাদ্য। একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ তার ক্ষুধা মেটানোর জন্য প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ কেজি মাংস খেয়ে থাকে। খাবার চিবানোর জন্য বাঘের রয়েছে অত্যন্ত মজবুত চোয়াল এবং তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁত, যা দিয়ে সে সহজেই শিকারের মাংস ও হাড় চিবিয়ে খেতে পারে।
প্রশ্ন ৪: বাঘের সাঁতার কাটার দক্ষতা কেমন তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: বাঘ অত্যন্ত চমৎকার সাঁতারু। সুন্দরবনের নদী, খাল ও জলাভূমিতে বাঘ অনায়াসে সাঁতার কাটতে পারে। নদী বা খাল পার হওয়ার সময় বাঘ কোনো আঁকাবাঁকা পথে না গিয়ে ঠিক সোজাসুজি সাঁতার কাটে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে যদি সে লক্ষ্য থেকে কিছুটা সরেও যায়, তবে ডাঙায় ওঠার পর সে আবার হেঁটে ঠিক আগের জায়গায় বা গন্তব্যে ফিরে আসে।
প্রশ্ন ৫: বাঘের জীবনচক্র ও প্রজনন সম্পর্কে কী জানো?
উত্তর: একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। স্ত্রী বাঘ বা বাঘিনী তিন বছর অন্তর প্রজনন করে এবং একবারে ৩ থেকে ৪টি করে বাচ্চা দেয়। বাঘের বাচ্চারা জন্মের পর পুরোপুরি মায়ের ওপর নির্ভরশীল থাকে এবং শিকার করা শেখার জন্য প্রায় এক বছর পর্যন্ত তারা তাদের মায়ের সাথে সাথেই থাকে।
প্রশ্ন ৬: পুরুষ বাঘের রাজত্ব বা সীমানা সম্পর্কে ধারণা দাও।
উত্তর: পুরুষ বাঘ স্বভাবতই একাকী থাকতে পছন্দ করে। সুন্দরবনে একেকটি পুরুষ বাঘ নিজের জন্য একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা সীমানা তৈরি করে নেয়, যা তার রাজত্ব হিসেবে পরিচিত। সে তার এই নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে অন্য কোনো পুরুষ বাঘকে কখনোই প্রবেশ করতে দেয় না। নিজের এলাকায় সে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে শিকার করে ও ঘুরে বেড়ায়।
প্রশ্ন ৭: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা কী?
উত্তর: পরিবেশ ও বনের ভারসাম্য রক্ষায় বাঘের ভূমিকা অপরিসীম। বাঘ হলো খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ স্তরের প্রাণী। বাঘ বনের তৃণভোজী প্রাণী (যেমন হরিণ, শূকর) খেয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। আবার, বাঘের আক্রমণের ভয়ে কাঠুরেরা অবৈধভাবে সুন্দরবনে ঢুকে গাছ কাটতে সাহস পায় না। ফলে বাঘ পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের গাছপালা ও বনভূমিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন ৮: রয়েল বেঙ্গল টাইগার আজ বিপন্ন কেন?
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অস্তিত্ব আজ নানা কারণে বিপন্ন। প্রথমত, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাঘের আবাসস্থল ধ্বংস করছে এবং অনেক বাঘ মারা যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, একশ্রেণির অসাধু ও লোভী মানুষ বাঘের মূল্যবান চামড়া, হাড়, দাঁত ও অন্যান্য প্রত্যঙ্গ আন্তর্জাতিক বাজারে চড়া দামে বিক্রির লোভে প্রতিনিয়ত বাঘ হত্যা করছে।
প্রশ্ন ৯: সুন্দরবন রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব কেন?
উত্তর: সুন্দরবন হলো রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র নিরাপদ আবাসস্থল এবং বাংলাদেশের ফুসফুস। সুন্দরবন আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে। এই বন ধ্বংস হলে আমাদের অমূল্য সম্পদ রয়েল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। বাঘ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বাঁচাতে তাই যেকোনো মূল্যে সুন্দরবনকে রক্ষা করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।
প্রশ্ন ১০: বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়—এর পেছনের কারণ কী?
উত্তর: প্রাণীজগতের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী বাঘ এবং বিড়াল একই গোত্রের বা 'বিড়াল প্রজাতির' প্রাণী। বাঘ হলো এই প্রজাতির সবচেয়ে বড় প্রাণী। শারীরিক গঠন, শিকার করার ভঙ্গি, অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা এবং নিঃশব্দে হাঁটার কৌশলে বিড়ালের সাথে বাঘের দারুণ মিল রয়েছে। চেহারায় ও স্বভাবে এই মিল থাকার কারণেই রসিকতা করে বিড়ালকে বাঘের মাসি বলা হয়।
প্রশ্ন ১১: বাঘের থাবা ও নখরের গঠন কীভাবে শিকারের কাজে সাহায্য করে?
উত্তর: বাঘের থাবার গঠন শিকারের জন্য একদম উপযুক্ত। থাবার নিচের অংশ মাংসল, নরম এবং পুরু হয়, যার ফলে বাঘ শুকনো পাতা বা ডালপালার ওপর দিয়ে হাঁটলেও কোনো শব্দ হয় না। সে নিঃশব্দে শিকারের একদম কাছে চলে যেতে পারে। আর থাবার ভেতরে লুকানো তীক্ষ্ণ নখর শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার মুহূর্তে স্প্রিংয়ের মতো বেরিয়ে আসে এবং শিকারকে শক্ত করে গেঁথে ফেলে।
প্রশ্ন ১২: বাংলাদেশের পরিচিতি ও গৌরব বাড়াতে বাঘের অবদান কী?
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগার তার রাজসিক রূপ, ক্ষিপ্রতা ও শক্তির জন্য বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এই বিখ্যাত বাঘের প্রধান আবাসস্থল হলো বাংলাদেশের সুন্দরবন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে 'রয়েল বেঙ্গল টাইগারের দেশ' হিসেবে সম্মানের সাথে চেনা হয়। জাতীয় পশু হিসেবে এটি বাংলাদেশের শক্তি, সাহস ও ঐতিহ্যের প্রতীক, যা আমাদের গৌরব বাড়িয়েছে।
প্রশ্ন ১৩: "বাঘের দৃষ্টি, শ্রবণ ও ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রখর"—এগুলো বাঘকে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: এই তিনটি প্রখর ইন্দ্রিয় বাঘকে অরণ্যের রাজা ও শ্রেষ্ঠ শিকারি বানিয়েছে। প্রখর দৃষ্টিশক্তির কারণে বাঘ রাতের অন্ধকারেও শিকারকে স্পষ্টভাবে দেখতে পায়। প্রখর শ্রবণশক্তির সাহায্যে সে বহু দূর থেকে শিকারের সামান্য নড়াচড়াও শুনতে পায়। আর ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে বাতাসের গন্ধ শুঁকে সে শিকারের অবস্থান বা অন্য বাঘের উপস্থিতি সহজেই টের পেয়ে যায়।
প্রশ্ন ১৪: বাঘ কমে যাওয়ার প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণগুলো আলাদা করো।
উত্তর:
প্রাকৃতিক কারণ: সিডর, আইলা, রিমালের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়, তখন মিষ্টি পানির অভাবে বা বানের তোড়ে বাঘ মারা যায়。
মানবসৃষ্ট কারণ: লোভী চোরাশিকারিরা বাঘের চামড়া ও প্রত্যঙ্গের লোভে বাঘ হত্যা করে এবং অবৈধভাবে বনের গাছ কেটে বাঘের আবাসস্থল ধ্বংস করছে।
প্রশ্ন ১৫: বাঘিনী ও তার বাচ্চাদের মধ্যকার সম্পর্ক কেমন হয়?
উত্তর: বাঘিনী অত্যন্ত যত্নশীল মা। তিন বছর অন্তর সে ৩-৪টি বাচ্চা দেয়। জন্মের পর বাঘের বাচ্চারা সম্পূর্ণ অন্ধ ও অসহায় থাকে। বাঘিনী তাদের পরম মমতায় লুকিয়ে রাখে ও বুকের দুধ খাওয়ায়। বাচ্চারা বড় না হওয়া পর্যন্ত বাঘিনী একা তাদের জন্য শিকার ধরে আনে। প্রায় এক বছর তারা মায়ের সাথে থেকে শিকারের কলাকৌশল শেখে।
প্রশ্ন ১৬: সুন্দরবন ছাড়া বাঘ অন্য বনে টিকতে পারে না কেন?
উত্তর: রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বেঁচে থাকার জন্য বিশাল ঘন জঙ্গল, প্রচুর শিকার (হরিণ, শূকর) এবং সাঁতার কাটার জন্য নদী-খালের প্রয়োজন হয়। সুন্দরবনে এই সবগুলো সুবিধাই প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান। এছাড়া সুন্দরবনের গোলপাতা ও কেওড়া বনের পরিবেশ বাঘের আত্মগোপন বা ছদ্মবেশ ধারণের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যা অন্য বনে নেই।
প্রশ্ন ১৭: একটি বাঘ শিকার করার জন্য কী কী কৌশল অবলম্বন করে?
উত্তর: বাঘ সাধারণত রাতের বেলায় বা ভোরের আলো ফোটার আগে শিকারে বের হয়। সে তার প্রখর ইন্দ্রিয় ব্যবহার করে শিকারের খোঁজ পায়। এরপর নরম থাবার সাহায্যে একদম নিঃশব্দে গুঁড়ি গুঁড়ি মেরে শিকারের খুব কাছে চলে যায়। সুযোগ বুঝে ক্ষিপ্র গতিতে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নখর ও দাঁত দিয়ে ঘাড় কামড়ে শিকারকে নিস্তেজ করে দেয়।
প্রশ্ন ১৮: "বাঘের জীবন আজ বিপন্ন"—এই বিপন্নতা থেকে বাঘকে বাঁচাতে আমরা কী করতে পারি?
উত্তর: বাঘকে বাঁচাতে আমাদের প্রধান কাজ হলো চোরাশিকারিদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা। সুন্দরবনের গাছপালা কাটা বন্ধ করে বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে। এছাড়া, বাঘ সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবাই উদ্যোগী হয়।
প্রশ্ন ১৯: বাঘের রাজসিক স্বভাব বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বাঘের শারীরিক সৌন্দর্য, চলাফেরার ভঙ্গি এবং গাম্ভীর্য দেখলে মনে হয় যেন সে অরণ্যের রাজা। সে অকারণে চেঁচামেচি করে না, একা থাকতে পছন্দ করে এবং নিজের একটি নির্দিষ্ট রাজত্বে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করে। তার এই স্বাধীন, গম্ভীর ও সাহসী স্বভাবকেই 'রাজসিক স্বভাব' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ২০: "রয়েল বেঙ্গল টাইগার" প্রবন্ধটি পড়ে তুমি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কী শিখলে?
উত্তর: এই প্রবন্ধটি পড়ে আমি শিখলাম যে, বন্যপ্রাণী প্রকৃতির একটি অমূল্য সম্পদ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের লোভ ও অসচেতনতার কারণে অনেক প্রাণী আজ বিপন্ন। আমাদের উচিত প্রাণীদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া, বনভূমি ধ্বংস না করা এবং জাতীয় সম্পদ রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে রক্ষার জন্য সচেতন হওয়া।