অধ্যায় ৪: সাধারণ ভগ্নাংশ

৪. সাধারণ ভগ্নাংশ

প্রাথমিক গণিত - পঞ্চম শ্রেণি

📖 ১. মজার তথ্য (গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও ধারণা)

  • ভগ্নাংশ কী: কোনো জিনিস বা পরিমাণের নির্দিষ্ট অংশ বোঝাতে যে সংখ্যা ব্যবহার করা হয়, তাকে ভগ্নাংশ বলে। ভগ্নাংশের ওপরের সংখ্যাটিকে বলে 'লব' আর নিচের সংখ্যাটিকে বলে 'হর'। (যেমন: ২/৩, এখানে ২ হলো লব এবং ৩ হলো হর)।
  • প্রকৃত ভগ্নাংশ: যে ভগ্নাংশের লব ছোট এবং হর বড়, তাকে প্রকৃত ভগ্নাংশ বলে। প্রকৃত ভগ্নাংশের মান সবসময় ১-এর চেয়ে ছোট হয়। (যেমন: ২/৫, ৬/৭)।
  • অপ্রকৃত ভগ্নাংশ: যে ভগ্নাংশের লব বড় এবং হর ছোট, তাকে অপ্রকৃত ভগ্নাংশ বলে। এর মান সবসময় ১-এর সমান বা ১-এর চেয়ে বড় হয়। (যেমন: ৯/৮, ৭/৫)।
  • মিশ্র ভগ্নাংশ: পূর্ণ সংখ্যার সাথে প্রকৃত ভগ্নাংশ যুক্ত থাকলে তাকে মিশ্র ভগ্নাংশ বলে। (যেমন: ৩ ২/৫, একে পড়তে হয় 'তিন সমস্ত পাঁচ ভাগের দুই')। মনে রাখবে, মিশ্র ভগ্নাংশ আসলে এক ধরনের অপ্রকৃত ভগ্নাংশ!
  • মিশ্র থেকে অপ্রকৃত করার নিয়ম: নতুন লব = (পূর্ণ অংশ × হর) + লব। আর নিচে হর একই থাকবে।
  • অপ্রকৃত থেকে মিশ্র করার নিয়ম: লবকে হর দিয়ে ভাগ করতে হয়। ভাগফলটি হবে পূর্ণ সংখ্যা বা 'সমস্ত', আর ভাগশেষটি হবে নতুন লব। নিচে হর আগেরটাই থাকবে।
  • সমতুল ভগ্নাংশ: দুই বা তার বেশি ভগ্নাংশের মান সমান হলে তাদের সমতুল ভগ্নাংশ বলে। কোনো ভগ্নাংশের হর ও লবকে একই সংখ্যা দিয়ে গুণ বা ভাগ করলে সমতুল ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। (যেমন: ১/২ আর ২/৪ একই মান প্রকাশ করে)।
  • লঘিষ্ঠকরণ (সবচেয়ে ছোট করা): ভগ্নাংশের হর ও লবকে তাদের গ.সা.গু দিয়ে ভাগ করে সবচেয়ে ছোট আকারে প্রকাশ করাকেই লঘিষ্ঠকরণ বলে। সবচেয়ে ছোট আকারে প্রকাশ করার পর হর ও লবের মধ্যে '১' ছাড়া আর কোনো সাধারণ মিল বা উৎপাদক থাকে না।
  • সমহরবিশিষ্ট ভগ্নাংশ: দুই বা তার বেশি ভগ্নাংশের হর সমান হলে তাদের সমহরবিশিষ্ট ভগ্নাংশ বলে। হরগুলোকে সমান করতে হলে প্রথমে হরগুলোর ল.সা.গু বের করে নিতে হয়।
  • তুলনা করার নিয়ম (হর একই হলে): যে ভগ্নাংশের লব বড়, সেটি বড়। (যেমন: ২/৫ এর চেয়ে ৪/৫ বড়)।
  • তুলনা করার নিয়ম (লব একই হলে): যে ভগ্নাংশের হর ছোট, সেটি বড়! (যেমন: ২/৫ এর চেয়ে ২/৩ বড়)।
  • সাজানোর নিয়ম: ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজানোকে বলে 'ঊর্ধ্বক্রম' আর বড় থেকে ছোট ক্রমে সাজানোকে বলে 'অধঃক্রম'।
  • ভগ্নাংশের যোগ ও বিয়োগ: আলাদা হরের ভগ্নাংশ যোগ বা বিয়োগ করতে হলে আগে ল.সা.গু বের করে হরগুলোকে সমান (সমহর) করে নিতে হয়। এরপর শুধু লবগুলোর যোগ বা বিয়োগ করতে হয়। শেষে যদি সম্ভব হয়, তবে কাটাকাটি করে লঘিষ্ঠ বা ছোট আকারে প্রকাশ করতে হয়।

✍️ ২. শূন্যস্থান পূরণ

  • ১. যে ভগ্নাংশের লব হরের চেয়ে ছোট, তাকে প্রকৃত ভগ্নাংশ বলে।
    (ব্যাখ্যা: লব ছোট এবং হর বড় হলে সেটি প্রকৃত ভগ্নাংশ, যেমন: ২/৫।)
  • ২. অপ্রকৃত ভগ্নাংশের মান সবসময় ১-এর সমান বা ১ অপেক্ষা বড় হয়।
    (ব্যাখ্যা: অপ্রকৃত ভগ্নাংশে লব বড় থাকে, তাই একে ভাগ করলে মান সবসময় ১ বা তার চেয়ে বেশি হয়।)
  • ৩. মিশ্র ভগ্নাংশকে ভাঙলে সবসময় অপ্রকৃত ভগ্নাংশ পাওয়া যায়।
    (ব্যাখ্যা: মিশ্র ভগ্নাংশের পূর্ণ অংশের সাথে ভগ্নাংশ যোগ করলে লব বড় হয়ে যায়, যা অপ্রকৃত ভগ্নাংশ।)
  • ৪. সাত সমস্ত তিন ভাগের দুই-কে সংখ্যায় লিখলে হবে ৭ ২/৩।
    (ব্যাখ্যা: এখানে ৭ হলো পূর্ণ অংশ বা সমস্ত, আর ২/৩ হলো প্রকৃত ভগ্নাংশের অংশ।)
  • ৫. ২৩/৫ এর মিশ্র ভগ্নাংশ রূপ হলো ৪ ৩/৫।
    (ব্যাখ্যা: ২৩ কে ৫ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ৪ এবং ভাগশেষ ৩ থাকে।)
  • ৬. ৩ ১/৪ ভগ্নাংশটির অপ্রকৃত রূপের লব হবে ১৩।
    (ব্যাখ্যা: নিয়ম হলো (পূর্ণ সংখ্যা × হর) + লব = (৩ × ৪) + ১ = ১৩।)
  • ৭. ৩/৭ = খালিঘর/৩৫ হলে, খালি ঘরে বসবে ১৫।
    (ব্যাখ্যা: ৭ কে ৫ দিয়ে গুণ করলে ৩৫ হয়, তাই লব ৩ কেও ৫ দিয়ে গুণ করতে হবে, ৩ × ৫ = ১৫।)
  • ৮. ১৬/২৪ এর লঘিষ্ঠ আকার হলো ২/৩।
    (ব্যাখ্যা: ১৬ ও ২৪ উভয়ের গ.সা.গু ৮। লব ও হরকে ৮ দিয়ে ভাগ করলে ২/৩ পাওয়া যায়।)
  • ৯. ৫/১১ ও ৮/১১ এর মধ্যে ৮/১১ ভগ্নাংশটি বড়।
    (ব্যাখ্যা: হর একই হলে যে ভগ্নাংশের লব বড়, সেই ভগ্নাংশটিই বড় হয়।)
  • ১০. ৭/১৩ ও ৭/১৫ এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট ভগ্নাংশটি হলো ৭/১৫।
    (ব্যাখ্যা: লব একই হলে যে ভগ্নাংশের হর বড়, সেই ভগ্নাংশটি ছোট হয়।)
  • ১১. ২/৯ + ৫/৯ = ৭/৯।
    (ব্যাখ্যা: হর একই (৯) থাকায় শুধু লবগুলো যোগ করতে হবে, ২ + ৫ = ৭।)
  • ১২. ১ - ৩/৮ = ৫/৮।
    (ব্যাখ্যা: ১ মানে হলো ৮/৮। তাই ৮/৮ থেকে ৩/৮ বিয়োগ করলে ৫/৮ থাকে।)
  • ১৩. ১/৫ + খালিঘর/৫ = ১ হলে, খালি ঘরে হবে ৪।
    (ব্যাখ্যা: ১ মানে ৫/৫। ১/৫ এর সাথে ৪/৫ যোগ করলেই কেবল ৫/৫ বা ১ পাওয়া যাবে।)
  • ১৪. ৭/১০ - ২/৫ = ৩/১০।
    (ব্যাখ্যা: ২/৫ এর সমহর করলে হয় ৪/১০। এবার ৭/১০ থেকে ৪/১০ বিয়োগ করলে ৩/১০ থাকে।)
  • ১৫. ১৮/২৭ = ২/খালিঘর হলে, খালি ঘরে বসবে ৩।
    (ব্যাখ্যা: ১৮ কে ৯ দিয়ে ভাগ করলে ২ হয়, তাই ২৭ কেও ৯ দিয়ে ভাগ করতে হবে, ২৭ ÷ ৯ = ৩।)
  • ১৬. একটি কেকের ৩/৭ অংশ খাওয়ার পর আর ৪/৭ অংশ অবশিষ্ট থাকে।
    (ব্যাখ্যা: সম্পূর্ণ কেকটি ১ বা ৭/৭। ৭ ভাগ থেকে ৩ ভাগ খেলে আর ৪ ভাগ বাকি থাকে।)
  • ১৭. শফিক একটি গল্পের বইয়ের ১/৪ অংশ সকালে এবং ১/৪ অংশ বিকেলে পড়লে মোট ১/২ অংশ পড়া হলো।
    (ব্যাখ্যা: ১/৪ + ১/৪ = ২/৪। একে লঘিষ্ঠ করলে ১/২ হয়।)
  • ১৮. ভগ্নাংশের ওপরের সংখ্যাটিকে লব এবং নিচের সংখ্যাটিকে হর বলে।
  • ১৯. যে ভগ্নাংশের মান ১-এর চেয়ে ছোট, তা হলো প্রকৃত ভগ্নাংশ।
  • ২০. ৫/৬, ১/৬ ও ৩/৬ কে ছোট থেকে বড় ক্রমে সাজালে প্রথমে বসবে ১/৬।
    (ব্যাখ্যা: হর সমান হলে যেটির লব সবচেয়ে ছোট, সেটিই সবচেয়ে ছোট ভগ্নাংশ।)
  • ২১. সমলববিশিষ্ট ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে যে ভগ্নাংশের হর ছোট, সেই ভগ্নাংশটি বড় হয়।
  • ২২. ৫/৮ - ১/৪ = ৩/৮।
    (ব্যাখ্যা: ১/৪ কে সমহর করলে হয় ২/৮। ৫/৮ থেকে ২/৮ বিয়োগ করলে ৩/৮ থাকে।)
  • ২৩. দুটি ভগ্নাংশের বিয়োগফল ১/৬। ছোট ভগ্নাংশটি ১/৩ হলে, বড় সংখ্যাটি ১/২।
    (ব্যাখ্যা: বড় সংখ্যা = ১/৬ + ১/৩ = ৩/৬ বা ১/২।)
  • ২৪. একটি বাঁশের ১/৫ অংশ কাদায় ও ৩/১০ অংশ পানিতে থাকলে মোট ১/২ অংশ কাদা ও পানিতে আছে।
    (ব্যাখ্যা: ১/৫ + ৩/১০ = ৫/১০ বা ১/২।)
  • ২৫. সীমার কাছে ৩/৭ লিটার এবং রিমার কাছে ৫/৭ লিটার দুধ আছে। এখানে রিমার এর কাছে বেশি দুধ আছে।
    (ব্যাখ্যা: হর সমান, কিন্তু রিমার লব বড়, তাই রিমার দুধ বেশি।)

📝 ৩. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

সংক্ষিপ্ত
১. প্রকৃত ভগ্নাংশ কাকে বলে?
উত্তর: যে ভগ্নাংশের লব হরের চেয়ে ছোট, তাকে প্রকৃত ভগ্নাংশ বলে (যেমন: ৩/৫)। (ব্যাখ্যা: ওপরের সংখ্যাটি নিচের সংখ্যার চেয়ে ছোট হলেই তা প্রকৃত ভগ্নাংশ।)
সংক্ষিপ্ত
২. অপ্রকৃত ভগ্নাংশ কাকে বলে?
উত্তর: যে ভগ্নাংশের লব হরের চেয়ে বড়, তাকে অপ্রকৃত ভগ্নাংশ বলে (যেমন: ৭/৪)।
সংক্ষিপ্ত
৩. মিশ্র ভগ্নাংশ কাকে বলে?
উত্তর: পূর্ণ সংখ্যার সাথে প্রকৃত ভগ্নাংশ যুক্ত থাকলে তাকে মিশ্র ভগ্নাংশ বলে (যেমন: ২ ১/৩)।
সংক্ষিপ্ত
৪. সমতুল ভগ্নাংশ কীভাবে পাওয়া যায়?
উত্তর: কোনো ভগ্নাংশের হর ও লবকে একই সংখ্যা দিয়ে গুণ বা ভাগ করলে সমতুল ভগ্নাংশ পাওয়া যায়। (যেমন: ১/২ এর লব ও হরকে ২ দিয়ে গুণ করলে ২/৪ হয়)।
সংক্ষিপ্ত
৫. ভগ্নাংশের লঘিষ্ঠকরণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ভগ্নাংশের হর ও লবকে তাদের সাধারণ উৎপাদক বা গ.সা.গু দিয়ে ভাগ করে সবচেয়ে ছোট আকারে প্রকাশ করাকেই লঘিষ্ঠকরণ বলে। (যেমন: ৪/৮ কে লঘিষ্ঠ করলে ১/২ হয়)।
সংক্ষিপ্ত
৬. সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশ কাকে বলে?
উত্তর: দুই বা ততোধিক ভগ্নাংশের হর (নিচের সংখ্যা) একই হলে, তাদের সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশ বলে (যেমন: ২/৫, ৩/৫)।
সংক্ষিপ্ত
৭. ৪/৯ এবং ৭/৯ এর মধ্যে কোনটি বড়?
উত্তর: ৭/৯ বড়। (ব্যাখ্যা: হর একই থাকলে যে ভগ্নাংশের লব বড়, সেই ভগ্নাংশটিই বড় হয়।)
সংক্ষিপ্ত
৮. ৩/৫ এবং ৩/৮ এর মধ্যে কোনটি ছোট?
উত্তর: ৩/৮ ছোট। (ব্যাখ্যা: লব একই থাকলে যে ভগ্নাংশের হর বড়, সেই ভগ্নাংশটি ছোট হয়।)
সংক্ষিপ্ত
৯. ২ সমস্ত ৩/৪ (২ ৩/৪) কে অপ্রকৃত ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে কত হবে?
উত্তর: ১১/৪ হবে। (ব্যাখ্যা: (২ × ৪) + ৩ = ১১। আর হর ৪ থাকবে।)
সংক্ষিপ্ত
১০. ১৪/৩ কে মিশ্র ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে কত হবে?
উত্তর: ৪ সমস্ত ২/৩ (৪ ২/৩) হবে। (ব্যাখ্যা: ১৪ কে ৩ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ৪ হয় এবং ভাগশেষ ২ থাকে।)
সংক্ষিপ্ত
১১. ১/৫ + ২/৫ = কত?
উত্তর: ৩/৫। (ব্যাখ্যা: হর একই থাকায় কেবল লবগুলো যোগ করতে হবে, ১ + ২ = ৩।)
সংক্ষিপ্ত
১২. ১ থেকে ৫/৮ বিয়োগ করলে কত থাকে?
উত্তর: ৩/৮ থাকে। (ব্যাখ্যা: ১ মানে ৮/৮। ৮/৮ থেকে ৫/৮ বাদ দিলে ৩/৮ থাকে।)
সংক্ষিপ্ত
১৩. আলাদা হরের ভগ্নাংশ যোগ বা বিয়োগ করার সময় প্রথমে কী করতে হয়?
উত্তর: প্রথমে হরগুলোর ল.সা.গু বের করে সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশে রূপান্তর করতে হয়।
সংক্ষিপ্ত
১৪. ১৫/২০ এর লঘিষ্ঠ আকার কত?
উত্তর: ৩/৪। (ব্যাখ্যা: ১৫ এবং ২০ কে ৫ দিয়ে ভাগ করলে যথাক্রমে ৩ এবং ৪ পাওয়া যায়।)
সংক্ষিপ্ত
১৫. ৩/৪ এর দুইটি সমতুল ভগ্নাংশ লেখো।
উত্তর: ৬/৮ এবং ৯/১২।
সংক্ষিপ্ত
১৬. একটি কেকের অর্ধেক (১/২) তুমি খেলে, আর কত অংশ বাকি রইল?
উত্তর: ১/২ অংশ বা অর্ধেক বাকি রইল। (ব্যাখ্যা: ২/২ থেকে ১/২ বাদ দিলে ১/২ থাকে।)
সংক্ষিপ্ত
১৭. ৫/৬ এবং ৩/৮ কে সমহর বিশিষ্ট করতে হলে হরগুলোর ল.সা.গু কত ধরতে হবে?
উত্তর: ২৪ ধরতে হবে। (ব্যাখ্যা: ৬ এবং ৮ এর ল.সা.গু হলো ২৪।)
সংক্ষিপ্ত
১৮. '১' কে ৭ হর বিশিষ্ট ভগ্নাংশে কীভাবে লেখা যায়?
উত্তর: ৭/৭ লেখা যায়।
সংক্ষিপ্ত
১৯. ২/৯ এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল ৭/৯ হবে?
উত্তর: ৫/৯ যোগ করতে হবে। (ব্যাখ্যা: ৭/৯ থেকে ২/৯ বিয়োগ করলেই পাওয়া যায় ৫/৯।)
সংক্ষিপ্ত
২০. ভগ্নাংশের ক্ষেত্রে 'ঊর্ধ্বক্রমে সাজানো' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ভগ্নাংশগুলোকে ছোট থেকে বড় ক্রমে পর পর সাজানোকে ঊর্ধ্বক্রমে সাজানো বলে।

📚 ৪. কাঠামোবদ্ধ / সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান

কাঠামোবদ্ধ - ১
একটি বাঁশের ১/৬ অংশ লাল, ১/৪ অংশ সবুজ এবং ১/৩ অংশ কালো রং করা হলো।
ক. বাঁশটির লাল ও সবুজ রং করা অংশের যোগফল কত?
খ. বাঁশটির মোট কত অংশ রং করা হলো?
গ. বাঁশটির কত অংশ রং করা বাকি রইল?
সমাধান:
ক. লাল রং করা হলো = ১/৬ অংশ
সবুজ রং করা হলো = ১/৪ অংশ
মোট রং করা হলো = (১/৬ + ১/৪) অংশ
৬ ও ৪ এর ল.সা.গু হলো ১২।
= (২ + ৩) / ১২ = ৫/১২ অংশ। (উত্তর)

খ. 'ক' হতে পাই, লাল ও সবুজ রং করা হয়েছে ৫/১২ অংশ。
কালো রং করা হলো = ১/৩ অংশ
বাঁশটির মোট রং করা হলো = (৫/১২ + ১/৩) অংশ
১২ ও ৩ এর ল.সা.গু হলো ১২।
= (৫ + ৪) / ১২ = ৯/১২ অংশ।
(লঘিষ্ঠ করলে) = ৩/৪ অংশ। (উত্তর)

গ. সম্পূর্ণ বাঁশটি = ১ অংশ。
মোট রং করা হয়েছে = ৩/৪ অংশ。
রং করা বাকি রইল = (১ - ৩/৪) অংশ = (৪ - ৩) / ৪ = ১/৪ অংশ। (উত্তর)
কাঠামোবদ্ধ - ২
একজন কৃষক তার মোট জমির ৩/৮ অংশে ধান, ৭/২৪ অংশে পাট এবং ১/৬ অংশে শাকসবজি চাষ করলেন।
ক. তিনি ধান ও পাট চাষে মোট কত অংশ জমি ব্যবহার করলেন?
খ. তিনি মোট কত অংশে চাষাবাদ করলেন?
গ. তার জমির কত অংশ খালি পড়ে রইল?
সমাধান:
ক. ধান চাষ করলেন = ৩/৮ অংশে
পাট চাষ করলেন = ৭/২৪ অংশে
ধান ও পাটে মোট ব্যবহার করলেন = (৩/৮ + ৭/২৪) অংশ
৮ ও ২৪ এর ল.সা.গু হলো ২৪।
= (৯ + ৭) / ২৪ = ১৬/২৪ অংশ。
(লঘিষ্ঠ করলে) = ২/৩ অংশ। (উত্তর)

খ. ধান ও পাটে ব্যবহার করেছেন ২/৩ অংশ。
শাকসবজি চাষ করলেন = ১/৬ অংশে
মোট চাষাবাদ করলেন = (২/৩ + ১/৬) অংশ
৩ ও ৬ এর ল.সা.গু হলো ৬।
= (৪ + ১) / ৬ = ৫/৬ অংশ। (উত্তর)

গ. সম্পূর্ণ জমি = ১ অংশ。
মোট চাষাবাদ করলেন = ৫/৬ অংশে。
খালি পড়ে রইল = (১ - ৫/৬) অংশ = (৬ - ৫) / ৬ = ১/৬ অংশ। (উত্তর)
কাঠামোবদ্ধ - ৩
রনির কাছে ২ সমস্ত ৩/৪ লিটার (২ ৩/৪ লিটার) এবং জনির কাছে ১ সমস্ত ১/২ লিটার (১ ১/২ লিটার) ফলের জুস আছে।
ক. রনির জুসের পরিমাণকে অপ্রকৃত ভগ্নাংশে প্রকাশ করো।
খ. তাদের দুজনের কাছে মোট কত লিটার জুস আছে?
গ. রনির কাছে জনির চেয়ে কত লিটার জুস বেশি আছে?
সমাধান:
ক. রনির জুসের পরিমাণ = ২ ৩/৪ লিটার。
অপ্রকৃত ভগ্নাংশে প্রকাশ: (২ × ৪ + ৩) / ৪ = ১১/৪ লিটার। (উত্তর)

খ. রনির আছে = ১১/৪ লিটার。
জনির আছে = ১ ১/২ লিটার বা ৩/২ লিটার。
দুজনের মোট জুস আছে = (১১/৪ + ৩/২) লিটার
৪ ও ২ এর ল.সা.গু হলো ৪।
= (১১ + ৬) / ৪ = ১৭/৪ লিটার。
(মিশ্র ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে) = ৪ ১/৪ লিটার। (উত্তর)

গ. রনির কাছে বেশি জুস আছে = (১১/৪ - ৩/২) লিটার
= (১১ - ৬) / ৪ = ৫/৪ লিটার。
(মিশ্র ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে) = ১ ১/৪ লিটার বেশি আছে। (উত্তর)
কাঠামোবদ্ধ - ৪
মিলার বাড়ি থেকে স্কুলের মোট দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। সে ১ সমস্ত ২/৩ কিমি হেঁটে, ৩ সমস্ত ১/৪ কিমি রিকশায় এবং বাকি পথ বাসে করে স্কুলে গেল।
ক. সে হেঁটে ও রিকশায় মোট কত কিমি পথ গেল?
খ. সে বাসে কত কিমি পথ অতিক্রম করল?
গ. সে বাসে ও রিকশার মধ্যে কোনটিতে বেশি পথ গেল এবং কতটুকু বেশি গেল?
সমাধান:
ক. হেঁটে গেল = ১ ২/৩ কিমি বা ৫/৩ কিমি。
রিকশায় গেল = ৩ ১/৪ কিমি বা ১৩/৪ কিমি。
মোট গেল = (৫/৩ + ১৩/৪) কিমি
৩ ও ৪ এর ল.সা.গু হলো ১২।
= (২০ + ৩৯) / ১২ = ৫৯/১২ কিমি বা ৪ ১১/১২ কিমি। (উত্তর)

খ. মোট দূরত্ব = ৮ কিমি。
হেঁটে ও রিকশায় গেল ৫৯/১২ কিমি。
বাসে গেল = (৮ - ৫৯/১২) কিমি = (৯৬ - ৫৯) / ১২ = ৩৭/১২ কিমি。
(মিশ্র ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে) = ৩ ১/১২ কিমি। (উত্তর)

গ. রিকশায় গেল = ১৩/৪ বা ৩৯/১২ কিমি。
বাসে গেল = ৩৭/১২ কিমি。
যেহেতু ৩৯/১২ > ৩৭/১২, তাই রিকশায় বেশি পথ গেল。
বেশি গেল = (৩৯/১২ - ৩৭/১২) = ২/১২ কিমি বা ১/৬ কিমি। (উত্তর)
কাঠামোবদ্ধ - ৫
একটি ফিতার ৩/৫ মিটার লাল এবং ৭/১০ মিটার নীল রঙের।
ক. ভগ্নাংশ দুটিকে সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশে প্রকাশ করো।
খ. কোন রঙের ফিতাটি লম্বা এবং কতটুকু লম্বা?
গ. ফিতা দুটির একত্রে মোট দৈর্ঘ্য কত?
সমাধান:
ক. ভগ্নাংশ দুটি হলো ৩/৫ এবং ৭/১০। হর ৫ এবং ১০ এর ল.সা.গু = ১০。
প্রথম ভগ্নাংশ: (৩ × ২) / (৫ × ২) = ৬/১০
দ্বিতীয় ভগ্নাংশ: (৭ × ১) / (১০ × ১) = ৭/১০
সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশগুলো হলো ৬/১০ এবং ৭/১০। (উত্তর)

খ. লাল ফিতা = ৬/১০ মিটার এবং নীল ফিতা = ৭/১০ মিটার。
যেহেতু ৭ > ৬, তাই নীল ফিতাটি লম্বা。
বেশি লম্বা = (৭/১০ - ৬/১০) = ১/১০ মিটার। (উত্তর)

গ. ফিতা দুটির একত্রে মোট দৈর্ঘ্য = (৩/৫ + ৭/১০) মিটার
= (৬/১০ + ৭/১০) = ১৩/১০ মিটার。
(মিশ্র ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে) = ১ ৩/১০ মিটার। (উত্তর)
কাঠামোবদ্ধ - ৬
হাবিব সাহেব তার মাসিক বেতনের ১/১০ অংশ বাড়িভাড়া, ২/৫ অংশ সংসারের বাজার খরচ এবং ১/৪ অংশ ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ায় ব্যয় করেন।
ক. তিনি বাড়িভাড়া ও সংসারের বাজারে মোট কত অংশ ব্যয় করেন?
খ. তিনি প্রতি মাসে বেতনের মোট কত অংশ ব্যয় করেন?
গ. মাস শেষে তার বেতনের কত অংশ অবশিষ্ট থাকে?
সমাধান:
ক. বাড়িভাড়ায় = ১/১০ অংশ, বাজারে = ২/৫ অংশ
মোট = (১/১০ + ২/৫) অংশ = (১ + ৪) / ১০ = ৫/১০ অংশ বা ১/২ অংশ। (উত্তর)

খ. বাড়ি ও বাজারে ব্যয় = ১/২ অংশ, লেখাপড়ায় = ১/৪ অংশ
মোট ব্যয় = (১/২ + ১/৪) অংশ = (২ + ১) / ৪ = ৩/৪ অংশ। (উত্তর)

গ. ধরি, সম্পূর্ণ মাসিক বেতন = ১ অংশ。
মোট ব্যয় করেন = ৩/৪ অংশ。
অবশিষ্ট থাকে = (১ - ৩/৪) অংশ = (৪ - ৩) / ৪ = ১/৪ অংশ। (উত্তর)

🎯 ৫. বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

১. যে ভগ্নাংশের লব হরের চেয়ে ছোট, তাকে কী ভগ্নাংশ বলে?
(ক) মিশ্র ভগ্নাংশ
(খ) অপ্রকৃত ভগ্নাংশ
(গ) প্রকৃত ভগ্নাংশ ✅
(ঘ) সমতুল ভগ্নাংশ
💡 ব্যাখ্যা: প্রকৃত ভগ্নাংশের উপরের সংখ্যা (লব) সবসময় নিচের সংখ্যার (হর) চেয়ে ছোট হয়।
২. নিচের কোনটি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ?
(ক) ৩/৪
(খ) ৫/৭
(গ) ৯/৫ ✅
(ঘ) ১/২
💡 ব্যাখ্যা: যে ভগ্নাংশের লব হরের চেয়ে বড়, সেটিই অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। এখানে ৯ বড়, ৫ ছোট।
৩. মিশ্র ভগ্নাংশ মূলত কোন ভগ্নাংশের একটি ভিন্ন রূপ?
(ক) প্রকৃত ভগ্নাংশ
(খ) অপ্রকৃত ভগ্নাংশ ✅
(গ) দশমিক ভগ্নাংশ
(ঘ) সমতুল ভগ্নাংশ
💡 ব্যাখ্যা: মিশ্র ভগ্নাংশকে ভাঙলে সবসময় লব বড় হয়ে যায়, যা একটি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ।
৪. ৩ সমস্ত ২/৫ (৩ ২/৫) কে অপ্রকৃত ভগ্নাংশে রূপান্তর করলে কোনটি হবে?
(ক) ১৭/৫ ✅
(খ) ১৫/৫
(গ) ১৭/২
(ঘ) ১৩/৫
💡 ব্যাখ্যা: নিয়ম হলো (পূর্ণ সংখ্যা × হর) + লব। অর্থাৎ (৩ × ৫) + ২ = ১৭। তাই লব ১৭ এবং হর ৫ থাকবে।
৫. ১৯/৪ ভগ্নাংশটিকে মিশ্র ভগ্নাংশে প্রকাশ করলে কোনটি হবে?
(ক) ৩ ৩/৪
(খ) ৪ ৩/৪ ✅
(গ) ৫ ১/৪
(ঘ) ৪ ১/৪
💡 ব্যাখ্যা: ১৯ কে ৪ দিয়ে ভাগ করলে ভাগফল ৪ (যা সমস্ত হবে) এবং ভাগশেষ ৩ থাকে (যা নতুন লব হবে)।
৬. নিচের কোন ভগ্নাংশটির মান ১ এর চেয়ে বড়?
(ক) ৭/৮
(খ) ৯/১০
(গ) ৪/৫
(ঘ) ৭/৬ ✅
💡 ব্যাখ্যা: ৭/৬ একটি অপ্রকৃত ভগ্নাংশ। অপ্রকৃত ভগ্নাংশের মান সবসময় ১ এর সমান বা বড় হয়।
৭. ২/৩ এর একটি সমতুল ভগ্নাংশ কোনটি?
(ক) ৪/৫
(খ) ৬/৯ ✅
(গ) ৮/১০
(ঘ) ৪/৯
💡 ব্যাখ্যা: ২/৩ এর লব ও হর উভয়কে ৩ দিয়ে গুণ করলে (২×৩=৬ এবং ৩×৩=৯) ৬/৯ পাওয়া যায়।
৮. ৩/৭ = খালিঘর/২৮ হলে, খালি ঘরে কত বসবে?
(ক) ১২ ✅
(খ) ১৫
(গ) ২১
(ঘ) ১৪
💡 ব্যাখ্যা: ৭ কে ৪ দিয়ে গুণ করলে ২৮ হয়। তাই সমতুল করতে লব ৩ কেও ৪ দিয়ে গুণ করতে হবে (৩×৪=১২)।
৯. ৩০/৪৫ এর লঘিষ্ঠ রূপ (সবচেয়ে ছোট আকার) কোনটি?
(ক) ৩/৪
(খ) ২/৩ ✅
(গ) ৪/৫
(ঘ) ৫/৯
💡 ব্যাখ্যা: ৩০ ও ৪৫ উভয়ের গ.সা.গু ১৫। লব ও হরকে ১৫ দিয়ে ভাগ করলে ২/৩ পাওয়া যায়।
১০. ২/৫, ৪/৫ এবং ১/৫ এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভগ্নাংশ কোনটি?
(ক) ২/৫
(খ) ১/৫
(গ) ৪/৫ ✅
(ঘ) সবগুলো সমান
💡 ব্যাখ্যা: হর একই হলে যে ভগ্নাংশের লব বড়, সেটিই সবচেয়ে বড় ভগ্নাংশ।
১১. ৪/৭, ৪/৯ এবং ৪/৫ এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট ভগ্নাংশ কোনটি?
(ক) ৪/৭
(খ) ৪/৯ ✅
(গ) ৪/৫
(ঘ) নির্ণয় করা সম্ভব নয়
💡 ব্যাখ্যা: লব একই হলে যে ভগ্নাংশের হর সবচেয়ে বড়, সেটিই সবচেয়ে ছোট ভগ্নাংশ।
১২. ১/৪ + ২/৪ = কত?
(ক) ৩/৮
(খ) ৩/৪ ✅
(গ) ২/৮
(ঘ) ৪/৪
💡 ব্যাখ্যা: হর একই থাকায় লবগুলো সরাসরি যোগ করতে হবে (১+২=৩), আর হর ৪ থাকবে।
১৩. ১ - ৫/৯ = কত?
(ক) ৪/৯ ✅
(খ) ৫/৯
(গ) ৬/৯
(ঘ) ১/৯
💡 ব্যাখ্যা: ১ মানে হলো ৯/৯। ৯/৯ থেকে ৫/৯ বিয়োগ করলে ৪/৯ থাকে।
১৪. একটি লাঠির ১/৩ অংশ লাল এবং ১/৬ অংশ হলুদ রং করা হলো। মোট কত অংশ রং করা হলো?
(ক) ১/২ অংশ ✅
(খ) ২/৯ অংশ
(গ) ৫/৬ অংশ
(ঘ) ১/৩ অংশ
💡 ব্যাখ্যা: ১/৩ + ১/৬ = (২+১)/৬ = ৩/৬। একে লঘিষ্ঠ করলে ১/২ হয়।
১৫. ২/৫ + খালিঘর = ১ হলে, খালি ঘরে কী বসবে?
(ক) ১/৫
(খ) ২/৫
(গ) ৩/৫ ✅
(ঘ) ৪/৫
💡 ব্যাখ্যা: ১ বা সম্পূর্ণ অংশ মানে ৫/৫। ৫ ভাগ থেকে ২ ভাগ গেলে ৩ ভাগ (৩/৫) বাকি থাকে।
১৬. ৫/৮ এবং ৩/৪ এর মধ্যে কোনটি বড়?
(ক) ৫/৮
(খ) ৩/৪ ✅
(গ) দুটি সমান
(ঘ) বলা যাবে না
💡 ব্যাখ্যা: ৩/৪ কে সমহর করলে হয় ৬/৮। যেহেতু ৬/৮ > ৫/৮, তাই ৩/৪ বড়।
১৭. রিনা একটি বইয়ের ২/৭ অংশ সকালে এবং ৩/৭ অংশ রাতে পড়ল। তার আর কত অংশ পড়া বাকি আছে?
(ক) ১/৭ অংশ
(খ) ২/৭ অংশ ✅
(গ) ৪/৭ অংশ
(ঘ) ৫/৭ অংশ
💡 ব্যাখ্যা: মোট পড়ল (২/৭ + ৩/৭) = ৫/৭ অংশ। সম্পূর্ণ বই ১ (বা ৭/৭)। বাকি রইল (৭/৭ - ৫/৭) = ২/৭ অংশ।
১৮. ৭/১০ - ২/৫ = কত?
(ক) ৫/৫
(খ) ৫/১০
(গ) ৩/১০ ✅
(ঘ) ১/১০
💡 ব্যাখ্যা: ২/৫ কে সমহর করলে ৪/১০ হয়। ৭/১০ থেকে ৪/১০ বিয়োগ করলে ৩/১০ থাকে।
১৯. কোন ভগ্নাংশের লব ও হর একই হলে তার মান কত হয়?
(ক) ০
(খ) ১ ✅
(গ) ২
(ঘ) ভগ্নাংশটিই থাকে
💡 ব্যাখ্যা: ৫/৫ বা ৭/৭ এর মতো লব ও হর সমান হলে কাটাকাটি করে মান ১ হয় (সম্পূর্ণ অংশ)।
২০. ৩/৫ কে লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করা যায় কি?
(ক) হ্যাঁ, ১/৫ হবে
(খ) হ্যাঁ, ২/৩ হবে
(গ) না, এটিই লঘিষ্ঠ আকার ✅
(ঘ) হ্যাঁ, ৩/১০ হবে
💡 ব্যাখ্যা: ৩ এবং ৫ এর মধ্যে ১ ছাড়া আর কোনো সাধারণ গুণনীয়ক নেই, তাই এটি আর ছোট করা যাবে না।
২১. একটি পিজার ৩/৮ অংশ তুমি এবং ২/৮ অংশ তোমার ভাই খেল। পিজার আর কত অংশ অবশিষ্ট রইল?
(ক) ১/৮ অংশ
(খ) ৩/৮ অংশ ✅
(গ) ৫/৮ অংশ
(ঘ) ৭/৮ অংশ
💡 ব্যাখ্যা: মোট খাওয়া হলো ৫/৮ অংশ। সম্পূর্ণ পিজা ৮/৮। বাকি রইল (৮/৮ - ৫/৮) = ৩/৮ অংশ।
২২. ২ সমস্ত ৩/৪ (২ ৩/৪) ভগ্নাংশটির লব কত হবে যদি একে অপ্রকৃত করা হয়?
(ক) ৯
(খ) ১০
(গ) ১১ ✅
(ঘ) ১২
💡 ব্যাখ্যা: (২ × ৪) + ৩ = ৮ + ৩ = ১১।
২৩. নিচের কোনটি সমহর বিশিষ্ট ভগ্নাংশের উদাহরণ?
(ক) ১/২, ১/৩, ১/৪
(খ) ৩/৫, ৪/৫, ১/৫ ✅
(গ) ২/৩, ৩/৪, ৪/৫
(ঘ) ৫/৬, ৪/৩, ২/৯
💡 ব্যাখ্যা: সমহর মানে সবগুলোর হর বা নিচের সংখ্যা একই হবে। এখানে সবগুলোর হর ৫।
২৪. ২৪/৩৬ কে লঘিষ্ঠ করলে এর হর কত হবে?
(ক) ২
(খ) ৩ ✅
(গ) ৪
(ঘ) ৬
💡 ব্যাখ্যা: ২৪ ও ৩৬ কে ১২ দিয়ে ভাগ করলে হয় ২/৩। তাই হর হবে ৩।
২৫. ১/২, ১/৩ ও ১/৪ কে সমহর বিশিষ্ট করলে ১/২ এর নতুন রূপ কী হবে?
(ক) ২/৪
(খ) ৩/৬
(গ) ৬/১২ ✅
(ঘ) ৪/৮
💡 ব্যাখ্যা: ২, ৩ ও ৪ এর ল.সা.গু ১২। তাই ১/২ এর হর ১২ করতে হলে লব ও হরকে ৬ দিয়ে গুণ করতে হবে।
২৬. একটি খুঁটির ২/৭ অংশ কাদায় এবং বাকি অংশ পানিতে আছে। পানিতে খুঁটির কত অংশ আছে?
(ক) ৩/৭ অংশ
(খ) ৪/৭ অংশ
(গ) ৫/৭ অংশ ✅
(ঘ) ৬/৭ অংশ
💡 ব্যাখ্যা: সম্পূর্ণ খুঁটি ১ বা ৭/৭। কাদায় ২/৭ থাকলে, পানিতে আছে (৭/৭ - ২/৭) = ৫/৭ অংশ।
২৭. ৩/৪ মিটারের একটি ফিতা থেকে ১/২ মিটার কেটে নিলে কত মিটার ফিতা অবশিষ্ট থাকবে?
(ক) ১/৪ মিটার ✅
(খ) ১/৮ মিটার
(গ) ২/৪ মিটার
(ঘ) ১/২ মিটার
💡 ব্যাখ্যা: ১/২ মানে ২/৪। ৩/৪ থেকে ২/৪ বিয়োগ করলে ১/৪ থাকে।
২৮. নিচের ভগ্নাংশগুলোর মধ্যে কোনটি ১/৩ এর সমতুল নয়?
(ক) ২/৬
(খ) ৩/৯
(গ) ৪/১২
(ঘ) ৫/১০ ✅
💡 ব্যাখ্যা: ৫/১০ কাটাকাটি করলে ১/২ হয়, তাই এটি ১/৩ এর সমতুল নয়।
২৯. খালিঘর - ২/৯ = ৫/৯ হলে, খালি ঘরে কত বসবে?
(ক) ৩/৯
(খ) ৭/৯ ✅
(গ) ১/৯
(ঘ) ৮/৯
💡 ব্যাখ্যা: বিয়োজন বের করতে হলে বিয়োজ্য ও বিয়োগফল যোগ করতে হয় (২/৯ + ৫/৯ = ৭/৯)।
৩০. ৫/৬, ২/৬ এবং ৪/৬ কে ছোট থেকে বড় (ঊর্ধ্বক্রমে) সাজালে প্রথমে কোনটি বসবে?
(ক) ৫/৬
(খ) ৪/৬
(গ) ২/৬ ✅
(ঘ) যেকোনোটি বসানো যায়
💡 ব্যাখ্যা: হর সমান হলে লব ছোটটিই সবচেয়ে ছোট। এখানে ২ সবচেয়ে ছোট।
৩১. ৩/৮ ভগ্নাংশটিতে হর কোনটি?
(ক) ৩
(খ) ৮ ✅
(গ) ১১
(ঘ) ৫
💡 ব্যাখ্যা: ভগ্নাংশের নিচের সংখ্যাটিকে হর বলা হয়।
৩২. মিনার কাছে ৩/৫ কেজি এবং টিনার কাছে ১/২ কেজি আপেল আছে। কার কাছে বেশি আপেল আছে?
(ক) মিনার কাছে ✅
(খ) টিনার কাছে
(গ) দুজনের কাছে সমান
(ঘ) বলা সম্ভব নয়
💡 ব্যাখ্যা: ৩/৫ = ৬/১০ এবং ১/২ = ৫/১০। ৬/১০ বড়, তাই মিনার আপেল বেশি।
৩৩. ৬/৭ ভগ্নাংশটি ১ থেকে কত ছোট?
(ক) ১/৭ ✅
(খ) ২/৭
(গ) ৩/৭
(ঘ) ৭/৭
💡 ব্যাখ্যা: ১ (বা ৭/৭) থেকে ৬/৭ বিয়োগ করলে ১/৭ পাওয়া যায়।
৩৪. কোনো ভগ্নাংশের হর ও লবকে একই সংখ্যা দ্বারা গুণ বা ভাগ করলে ওই ভগ্নাংশের কী পাওয়া যায়?
(ক) বিপরীত ভগ্নাংশ
(খ) সমতুল ভগ্নাংশ ✅
(গ) দশমিক ভগ্নাংশ
(ঘ) মিশ্র ভগ্নাংশ
💡 ব্যাখ্যা: একই সংখ্যা দিয়ে গুণ বা ভাগ করলে মান একই থাকে, যাকে সমতুল ভগ্নাংশ বলে।
৩৫. ৭/১২ এর সাথে কত যোগ করলে যোগফল ১ হবে?
(ক) ৩/১২
(খ) ৫/১২ ✅
(গ) ৭/১২
(ঘ) ৯/১২
💡 ব্যাখ্যা: ১ মানে ১২/১২। ১২/১২ হতে ৭/১২ এর সাথে আর ৫/১২ যোগ করতে হবে।
৩৬. ৫/৯ এবং ৭/১২ এর মধ্যে যোগ করতে হলে হরগুলোর ল.সা.গু কত ধরতে হবে?
(ক) ১২
(খ) ১৮
(গ) ২৪
(ঘ) ৩৬ ✅
💡 ব্যাখ্যা: যোগ করার আগে সমহর করতে হবে, আর ৯ ও ১২ এর ল.সা.গু হলো ৩৬।
৩৭. একটি বাগানের ৩/১০ অংশে ফুল এবং ২/৫ অংশে সবজি চাষ করা হলো। মোট কত অংশে চাষ হলো?
(ক) ৫/১৫ অংশ
(খ) ৭/১০ অংশ ✅
(গ) ৫/১০ অংশ
(ঘ) ৯/১০ অংশ
💡 ব্যাখ্যা: ২/৫ মানে ৪/১০। তাহলে ৩/১০ + ৪/১০ = ৭/১০ অংশে চাষ হলো।
৩৮. ৮/১৫ কে লঘিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করা যায় না কেন?
(ক) হরটি বিজোড় বলে
(খ) লবটি জোড় বলে
(গ) ৮ ও ১৫ এর মধ্যে ১ ছাড়া সাধারণ গুণনীয়ক নেই বলে ✅
(ঘ) ভগ্নাংশটি প্রকৃত বলে
💡 ব্যাখ্যা: লব ও হরকে একই সংখ্যা দিয়ে ভাগ করা না গেলে সেটিই লঘিষ্ঠ রূপ।
৩৯. ৫ সমস্ত ২/৩ (৫ ২/৩) কে অপ্রকৃত করলে লব কত হবে?
(ক) ১৫
(খ) ১৭ ✅
(গ) ১৩
(ঘ) ১৯
💡 ব্যাখ্যা: নিয়ম অনুযায়ী (৫ × ৩) + ২ = ১৫ + ২ = ১৭।
৪০. সায়মা তার আয়ের ১/৪ অংশ সঞ্চয় করে। সে তার আয়ের কত অংশ খরচ করে?
(ক) ১/৪ অংশ
(খ) ২/৪ অংশ
(গ) ৩/৪ অংশ ✅
(ঘ) ৪/৪ অংশ
💡 ব্যাখ্যা: মোট আয় ১ অংশ। সঞ্চয় বাদে বাকিটা খরচ। তাই (১ - ১/৪) = ৩/৪ অংশ সে খরচ করে।