১. টুকটুক কোথা থেকে ফিরছিল?
(ক) বাজার থেকে
(খ) স্কুল থেকে
(গ) মামাবাড়ি থেকে
(ঘ) খেলার মাঠ থেকে
উত্তর: (খ) স্কুল থেকে।
ব্যাখ্যা: গল্পের শুরুতে বলা হয়েছে, টুকটুক স্কুল থেকে বাড়িতে ফিরছিল।
২. টুকটুকের মনে আনন্দের জোয়ার বইছে কেন?
(ক) সে পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে
(খ) আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু
(গ) তার জন্মদিন
(ঘ) সে নতুন জামা পেয়েছে
উত্তর: (খ) আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু।
ব্যাখ্যা: স্কুল ছুটির আনন্দে সে খুব খুশি ছিল।
৩. দুই দিন পর টুকটুকদের বাড়িতে কারা আসবে?
(ক) চাচাতো ভাইবোনেরা
(খ) খালাতো ভাইবোনেরা
(গ) মামাতো ভাইবোনেরা
(ঘ) ফুফাতো ভাইবোনেরা
উত্তর: (গ) মামাতো ভাইবোনেরা।
ব্যাখ্যা: গ্রীষ্মের ছুটিতে তার মামাতো ভাইবোনেরা বেড়াতে আসবে।
৪. টুকটুক কী বলে গান গেয়ে উঠল?
(ক) মেঘের কোলে রোদ হেসেছে
(খ) আজ আমাদের ছুটি ও ভাই
(গ) আমরা সবাই রাজা
(ঘ) ছুটি ছুটি ছুটি
উত্তর: (খ) আজ আমাদের ছুটি ও ভাই।
ব্যাখ্যা: ছুটির আনন্দে সে গুনগুনিয়ে এই গানটি গায়।
৫. বাড়ির কাছাকাছি এসে টুকটুক কী শব্দ শুনতে পেল?
(ক) কুকুরের ডাক
(খ) পাখির ডাক
(গ) মিউ মিউ শব্দ
(ঘ) কান্নার শব্দ
উত্তর: (গ) মিউ মিউ শব্দ।
ব্যাখ্যা: সে একটি বিড়ালছানার মিউ মিউ ডাক শুনতে পায়।
৬. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে কোথায় দেখতে পেল?
(ক) ছাদের ওপর
(খ) বাগানের কোণে
(গ) রাস্তার মাঝে
(ঘ) ড্রেনের ভেতর
উত্তর: (খ) বাগানের কোণে।
ব্যাখ্যা: শব্দ শুনে এগিয়ে বাগানের কোণে সে ছানাটিকে দেখতে পায়।
৭. বিড়ালছানাটি কীভাবে কাঁপছিল?
(ক) ঠান্ডায়
(খ) জ্বরে
(গ) ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে
(ঘ) ক্ষুধায়
উত্তর: (গ) ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে।
ব্যাখ্যা: অসহায় ছানাটি ভয়ে গুটিসুটি মেরে কাঁপছিল।
৮. বিড়ালছানাটির শরীর কেমন ছিল?
(ক) হৃষ্টপুষ্ট
(খ) কঙ্কালসার
(গ) ফোলা
(ঘ) লোমশ
উত্তর: (খ) কঙ্কালসার।
ব্যাখ্যা: ছানাটি না খেতে পেয়ে হাড়গিসগিসে বা কঙ্কালসার হয়ে গিয়েছিল।
৯. বিড়ালছানাটির শরীরের কোথায় কেটে গিয়েছিল বলে মনে হচ্ছিল?
(ক) কানে
(খ) লেজে
(গ) একটি পায়ে
(ঘ) পিঠে
উত্তর: (গ) একটি পায়ে।
ব্যাখ্যা: টুকটুক খেয়াল করে যে তার একটা পা কেটে গেছে।
১০. টুকটুক উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে চারদিকে তাকাল কেন?
(ক) কাউকে দেখতে
(খ) কুকুর আছে কি না দেখতে
(গ) বিড়ালটির মাকে খুঁজতে বা সাহায্যকারী খুঁজতে
(ঘ) ভূত দেখতে
উত্তর: (গ) বিড়ালটির মাকে খুঁজতে বা সাহায্যকারী খুঁজতে।
ব্যাখ্যা: ছানাটিকে একা দেখে সে কাউকে খুঁজছিল।
১১. টুকটুক ছানাটিকে কোলে তোলার সময় কেমনভাবে তুলল?
(ক) জোরে
(খ) আলতো করে
(গ) রাগ করে
(ঘ) ভয় পেয়ে
উত্তর: (খ) আলতো করে।
ব্যাখ্যা: সে খুব সাবধানে বা আলগোছে ছানাটিকে কোলে তুলে নেয়।
১২. দরজায় পা দিয়ে টুকটুক কাকে ডাকতে থাকল?
(ক) বাবাকে
(খ) ভাইকে
(গ) মাকে
(ঘ) দাদিকে
উত্তর: (গ) মাকে।
ব্যাখ্যা: বাড়িতে ঢুকেই সে 'মা মা' বলে ডাকতে শুরু করে।
১৩. মা কেন বিচলিত হয়ে ঘর থেকে বের হলেন?
(ক) চোর এসেছে ভেবে
(খ) টুকটুকের চিৎকার বা ডাক শুনে
(গ) বিড়ালের ডাক শুনে
(ঘ) আগুন লেগেছে ভেবে
উত্তর: (খ) টুকটুকের চিৎকার বা ডাক শুনে।
ব্যাখ্যা: মেয়ের এমন ডাক শুনে মা ঘাবড়ে যান বা বিচলিত হন।
১৪. বিড়ালছানাটি তখন কেমন শব্দ করে কাঁদছিল?
(ক) হু হু করে
(খ) আর্তস্বরে
(গ) খিলখিল করে
(ঘ) ফুপিয়ে
উত্তর: (খ) আর্তস্বরে।
ব্যাখ্যা: ব্যথায় সে কাতরধ্বনি বা আর্তস্বরে কাঁদছিল।
১৫. টুকটুক মায়ের কাছে কী অনুমতি চাইল?
(ক) বিড়ালটিকে তাড়িয়ে দেওয়ার
(খ) বিড়ালছানাটির একটু যত্ন নেওয়ার
(গ) বিড়ালটিকে কিনে নেওয়ার
(ঘ) ডাক্তার ডাকার
উত্তর: (খ) বিড়ালছানাটির একটু যত্ন নেওয়ার।
ব্যাখ্যা: সে নিজে ছানাটির সেবা করতে চায়।
১৬. মা প্রথমে কী ভেবে চিন্তিত হলেন?
(ক) বিড়াল অসুখ ছড়াবে
(খ) বিড়ালের যত্ন নেওয়া কঠিন কাজ
(গ) বিড়ালটি কামড়াবে
(ঘ) বাবা রাগ করবেন
উত্তর: (খ) বিড়ালের যত্ন নেওয়া কঠিন কাজ।
ব্যাখ্যা: মা বললেন, "বিড়ালের যত্ন নেওয়া কিন্তু কঠিন কাজ।"
১৭. টুকটুক ছানাটির গা কী দিয়ে মুছিয়ে দিল?
(ক) গামছা দিয়ে
(খ) টিস্যু দিয়ে
(গ) নরম তোয়ালে দিয়ে
(ঘ) ওড়না দিয়ে
উত্তর: (গ) নরম তোয়ালে দিয়ে।
ব্যাখ্যা: সে একটি নরম তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে দেয়।
১৮. টুকটুক বিড়ালছানার পায়ের কাটা জায়গায় কী করল?
(ক) ব্যান্ডেজ বাঁধল
(খ) পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিল
(গ) বরফ দিল
(ঘ) জল ঢালল
উত্তর: (খ) পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিল।
ব্যাখ্যা: সে ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার করে ওষুধ দেয়।
১৯. মা বিড়ালছানাটিকে ছোট পাত্রে কী খেতে দিলেন?
(ক) মাছ
(খ) মাংস
(গ) দুধ
(ঘ) বিস্কুট
উত্তর: (গ) দুধ।
ব্যাখ্যা: মা তাকে দুধ খেতে দেন, যা সে ধীরে ধীরে খেয়ে নেয়।
২০. টুকটুক বিড়ালছানাটির কী নাম রাখল?
(ক) মিনি
(খ) মিকু
(গ) চিকু
(ঘ) টম
উত্তর: (গ) চিকু।
ব্যাখ্যা: ভালোবেসে টুকটুক তার নাম রাখে 'চিকু'।
২১. দিনে দিনে চিকু কেমন হয়ে উঠল?
(ক) দুর্বল
(খ) রাগী
(গ) সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট
(ঘ) বোকা
উত্তর: (গ) সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট।
ব্যাখ্যা: সঠিক যত্ন পেয়ে সে মোটাতাজা ও সুস্থ হয়।
২২. চিকু সারাদিন কী করত?
(ক) ঘুমাত
(খ) লম্ফঝম্প করত
(গ) কাঁদত
(ঘ) বাইরে থাকত
উত্তর: (খ) লম্ফঝম্প করত।
ব্যাখ্যা: সুস্থ হওয়ার পর সারাদিন সে খেলাধুলা বা লাফঝাঁপ করত।
২৩. টুকটুকের মামাতো ভাইবোনের নাম কী ছিল?
(ক) রাতুল ও নীলা
(খ) সজল ও মিনা
(গ) রাফি ও রিমা
(ঘ) রনি ও সোমা
উত্তর: (ক) রাতুল ও নীলা।
ব্যাখ্যা: গল্পে তাদের নাম রাতুল ও নীলা দেওয়া আছে।
২৪. রাতুল ও নীলা মিলে কিসের আয়োজন করল?
(ক) জন্মদিনের
(খ) চড়ুইভাতির
(গ) খেলার
(ঘ) প্রতিযোগিতার
উত্তর: (খ) চড়ুইভাতির।
ব্যাখ্যা: তারা সবাই মিলে পিকনিক বা চড়ুইভাতির আয়োজন করে।
২৫. চড়ুইভাতির আনন্দে কে যোগ দিল?
(ক) পাড়ার লোকেরা
(খ) কুকুরটি
(গ) চিকু
(ঘ) মা
উত্তর: (গ) চিকু।
ব্যাখ্যা: ভাইবোনদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে চিকুও অংশ নেয়।
২৬. একদিন খেলতে গিয়ে টুকটুক কী দেখল?
(ক) একটি পাখি মরে গেছে
(খ) কয়েকটা ছেলে একটা বিড়ালছানাকে তাড়া করছে
(গ) চিকু হারিয়ে গেছে
(ঘ) বৃষ্টি হচ্ছে
উত্তর: (খ) কয়েকটা ছেলে একটা বিড়ালছানাকে তাড়া করছে।
ব্যাখ্যা: সে দেখে ছেলেরা একটি অসহায় ছানাকে তাড়া করছে।
২৭. টুকটুক ছেলেদের তাড়া করতে দেখে কী করল?
(ক) পালিয়ে গেল
(খ) হাসল
(গ) দৌড়ে গিয়ে তাদের থামালো
(ঘ) ঢিল ছুড়ল
উত্তর: (গ) দৌড়ে গিয়ে তাদের থামালো।
ব্যাখ্যা: সে প্রাণীদের কষ্ট দেওয়া পছন্দ করে না।
২৮. ছেলেরা বিড়ালছানাকে তাড়া করার কী কারণ দেখাল?
(ক) তারা মজা করছে
(খ) বিড়ালটি চুরি করেছে
(গ) বিড়ালটি কামড়েছে
(ঘ) তারা বিরক্ত
উত্তর: (ক) তারা মজা করছে।
ব্যাখ্যা: একটি ছেলে বলল, "আমরা তো মজা করছি।"
২৯. টুকটুক ছেলেদের কী বলে বোঝাল?
(ক) পুলিশ ডাকব
(খ) কেউ তোমাদের এভাবে তাড়া করলে কেমন লাগত?
(গ) বিড়ালটি আমার
(ঘ) তোমরা খুব খারাপ
উত্তর: (খ) কেউ তোমাদের এভাবে তাড়া করলে কেমন লাগত?
ব্যাখ্যা: সে তাদের নিজেদের জায়গায় রেখে চিন্তা করতে বলে।
৩০. টুকটুকের কথা শুনে ছেলেরা কী করল?
(ক) মারামারি করল
(খ) হাসল
(গ) চুপচাপ চলে গেল
(ঘ) বিড়ালটিকে ঢিল মারল
উত্তর: (গ) চুপচাপ চলে গেল।
ব্যাখ্যা: তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে চুপচাপ চলে যায়।
৩১. টুকটুক বিড়ালছানাটিকে কোলে তুলে কোথায় নিয়ে এলো?
(ক) নিজের ঘরে
(খ) মাঠের পাশে নিরাপদ জায়গায়
(গ) ছাদে
(ঘ) স্কুলে
উত্তর: (খ) মাঠের পাশে নিরাপদ জায়গায়।
ব্যাখ্যা: সে ছানাটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখে।
৩২. নিরাপদ জায়গায় আসার পর বিড়ালছানাটি কীভাবে ডাকল?
(ক) হুংকার দিয়ে
(খ) মিউ মিউ করে
(গ) জোরে
(ঘ) রাগে
উত্তর: (খ) মিউ মিউ করে।
ব্যাখ্যা: সে যেন ধন্যবাদ জানানোর জন্য মিউ মিউ করে ডাকে।
৩৩. এরপর থেকে টুকটুক কাদের প্রতি যত্নবান হয়ে উঠল?
(ক) শুধু বিড়ালের প্রতি
(খ) কুকুরদের প্রতি
(গ) আশপাশের অন্য পশুপাখির প্রতিও
(ঘ) গাছের প্রতি
উত্তর: (গ) আশপাশের অন্য পশুপাখির প্রতিও।
ব্যাখ্যা: তার মধ্যে সকল প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা জন্মায়।
৩৪. পাখিদের জন্য টুকটুক প্রতিদিন জানালার ধারে কী রেখে দেয়?
(ক) বিস্কুট
(খ) এক মুঠো ভাত
(গ) ফল
(ঘ) গম
উত্তর: (খ) এক মুঠো ভাত।
ব্যাখ্যা: সে পাখিদের খাবার হিসেবে ভাত দেয়।
৩৫. গ্রীষ্মের দাবদাহে টুকটুক পাখিদের জন্য কী রাখে?
(ক) বরফ
(খ) শরবত
(গ) বাটি ভরে পানি
(ঘ) ফলের রস
উত্তর: (গ) বাটি ভরে পানি।
ব্যাখ্যা: প্রচণ্ড গরমে পাখিদের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সে পানি রাখে।
৩৬. 'গ্রীষ্মের দাবদাহ' বলতে কী বোঝায়?
(ক) শীতের হাওয়া
(খ) গরমকালের প্রচণ্ড তাপ
(গ) বর্ষার বৃষ্টি
(ঘ) বসন্তের বাতাস
উত্তর: (খ) গরমকালের প্রচণ্ড তাপ।
ব্যাখ্যা: দাবদাহ মানে হলো আগুনের মতো তীব্র গরম।
৩৭. টুকটুক সহপাঠীদের নিয়ে কী বানাল?
(ক) খেলার দল
(খ) গানের স্কুল
(গ) 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে ছোটখাটো একটা ক্লাব
(ঘ) পাঠাগার
উত্তর: (গ) 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে ছোটখাটো একটা ক্লাব।
ব্যাখ্যা: পশুপাখিদের রক্ষায় সে এই ক্লাব বানায়।
৩৮. ক্লাব বানাতে টুকটুকদের কে সহযোগিতা করলেন?
(ক) বাবা
(খ) মা
(গ) প্রধান শিক্ষক
(ঘ) শ্রেণিশিক্ষক
উত্তর: (ঘ) শ্রেণিশিক্ষক।
ব্যাখ্যা: তাদের ক্লাস টিচার এই মহৎ কাজে সাহায্য করেন।
৩৯. মা টুকটুককে কী বললেন?
(ক) তুমি খুব খারাপ হয়েছ
(খ) তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখে গেলে!
(গ) বিড়ালকে তাড়িয়ে দাও
(ঘ) ক্লাবে যোগ দিও না
উত্তর: (খ) তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখে গেলে!
ব্যাখ্যা: মা তার মেয়ের এই পরিবর্তনে খুশি হন।
৪০. টুকটুকের মতে, বিড়ালটি তার কী?
(ক) খেলনা
(খ) শুধু একটা প্রাণী
(গ) বন্ধু
(ঘ) বোঝা
উত্তর: (গ) বন্ধু।
ব্যাখ্যা: সে বলে, "ও তো শুধু একটা প্রাণী নয় মা, আমার বন্ধুও।"
৪১. টুকটুকের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা কী?
(ক) খাবার দেওয়া
(খ) বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানো
(গ) আদর করা
(ঘ) খাঁচায় রাখা
উত্তর: (খ) বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানো।
ব্যাখ্যা: সে মনে করে বিপদে সাহায্য করাই আসল ভালোবাসা।
৪২. চিকু রাতে কোথায় ঘুমাত?
(ক) মেঝেতে
(খ) সোফায়
(গ) টুকটুকের বিছানায় তার পাশে
(ঘ) বারান্দায়
উত্তর: (গ) টুকটুকের বিছানায় তার পাশে।
ব্যাখ্যা: সে টুকটুকের এতই আদরের ছিল যে পাশে ঘুমাত।
৪৩. 'আর্তস্বর' শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাগের স্বর
(খ) খুশির স্বর
(গ) ব্যথাসূচক শব্দ বা কাতরধ্বনি
(ঘ) হাসির শব্দ
উত্তর: (গ) ব্যথাসূচক শব্দ বা কাতরধ্বনি।
ব্যাখ্যা: কষ্টে বা ব্যথায় মানুষ বা প্রাণী যে শব্দ করে।
৪৪. 'কঙ্কালসার' বলতে কেমন শরীরকে বোঝায়?
(ক) মোটা শরীর
(খ) পেশিবহুল শরীর
(গ) হাড়গিসগিসে বা অত্যন্ত রোগা শরীর
(ঘ) সুস্থ শরীর
উত্তর: (গ) হাড়গিসগিসে বা অত্যন্ত রোগা শরীর।
ব্যাখ্যা: না খেয়ে শরীরের মাংস শুকিয়ে শুধু হাড় থাকলে তাকে কঙ্কালসার বলে।
৪৫. 'হৃষ্টপুষ্ট' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
(ক) রোগা / কঙ্কালসার
(খ) স্বাস্থ্যবান
(গ) লম্বা
(ঘ) খাটো
উত্তর: (ক) রোগা / কঙ্কালসার।
ব্যাখ্যা: হৃষ্টপুষ্ট মানে মোটাতাজা, যার বিপরীত রোগা।
৪৬. 'বিচলিত' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
(ক) শান্ত
(খ) স্থির
(গ) চিন্তিত বা অস্থির
(ঘ) আনন্দিত
উত্তর: (গ) চিন্তিত বা অস্থির।
ব্যাখ্যা: বিচলিত হওয়া মানে ঘাবড়ে যাওয়া বা অস্থির হওয়া।
৪৭. 'চড়ুইভাতি' শব্দের অর্থ কী?
(ক) পাখির বাসা
(খ) চড়ুই পাখি
(গ) বনভোজন বা পিকনিক
(ঘ) পাখির খাবার
উত্তর: (গ) বনভোজন বা পিকনিক।
ব্যাখ্যা: সবাই মিলে বাইরে রান্না করে খাওয়ার আয়োজন।
৪৮. টুকটুক কেমন স্বভাবের মেয়ে?
(ক) নিষ্ঠুর
(খ) দয়ালু ও প্রাণিপ্রেমী
(গ) রাগী
(ঘ) স্বার্থপর
উত্তর: (খ) দয়ালু ও প্রাণিপ্রেমী।
ব্যাখ্যা: অসহায় প্রাণীদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল।
৪৯. 'আলতো করে' কথাটির অর্থ কী?
(ক) জোরে
(খ) সাবধানে বা আলগোছে
(গ) রাগ করে
(ঘ) শক্ত করে
উত্তর: (খ) সাবধানে বা আলগোছে।
ব্যাখ্যা: খুব নরমভাবে ধরাকে আলতো করে বলা হয়।
৫০. 'টুকটুক ও চিকু' গল্পটি আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
(ক) প্রাণীদের ভয় পেতে
(খ) প্রাণীদের অবহেলা করতে
(গ) সকল প্রাণীর প্রতি সদয় হতে ও ভালোবাসতে
(ঘ) শুধু মানুষের উপকার করতে
উত্তর: (গ) সকল প্রাণীর প্রতি সদয় হতে ও ভালোবাসতে।
ব্যাখ্যা: গল্পটি আমাদের প্রাণিপ্রেম ও সহমর্মিতা শেখায়।
প্রশ্ন ১: টুকটুকের মনে কেন আনন্দের জোয়ার বইছিল?
উত্তর: আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু এবং মামাতো ভাইবোনেরা বেড়াতে আসবে বলে টুকটুকের মনে আনন্দের জোয়ার বইছিল।
প্রশ্ন ২: টুকটুক স্কুল থেকে ফেরার সময় কী গান গাইছিল?
উত্তর: টুকটুক স্কুল থেকে ফেরার সময় 'আজ আমাদের ছুটি ও ভাই, আজ আমাদের ছুটি' গানটি গাইছিল।
প্রশ্ন ৩: বাগানের কোণে টুকটুক কী দেখতে পেল?
উত্তর: বাগানের কোণে টুকটুক একটি কঙ্কালসার ও আহত বিড়ালছানাকে মিউ মিউ করে ডাকতে দেখল।
প্রশ্ন ৪: বিড়ালছানাটির অবস্থা কেমন ছিল?
উত্তর: বিড়ালছানাটি ছিল কঙ্কালসার, তার একটা পা কেটে গিয়েছিল এবং সে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছিল।
প্রশ্ন ৫: টুকটুক বিড়ালছানাটিকে কীভাবে কোলে নিল?
উত্তর: ব্যথায় কাতর বিড়ালছানাটিকে টুকটুক খুব সাবধানে ও আলতো করে কোলে তুলে নিল।
প্রশ্ন ৬: টুকটুকের ডাক শুনে মা কেন বিচলিত হলেন?
উত্তর: দরজায় পা দিয়েই টুকটুক জোরে 'মা মা' বলে ডাকতে থাকায় মা ঘাবড়ে বা বিচলিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
প্রশ্ন ৭: মা প্রথমে কেন একটু চিন্তিত হলেন?
উত্তর: একটি আহত বিড়ালছানার যত্ন নেওয়া খুব কঠিন কাজ, এই ভেবে মা প্রথমে একটু চিন্তিত হলেন।
প্রশ্ন ৮: টুকটুক বিড়ালছানাটির চিকিৎসার জন্য কী কী করল?
উত্তর: টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে গা মুছিয়ে দিল এবং পায়ের কাটা জায়গাটা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিল।
প্রশ্ন ৯: মা বিড়ালছানাটিকে কী খেতে দিলেন?
উত্তর: মা একটি ছোট পাত্রে বিড়ালছানাটিকে দুধ খেতে দিলেন।
প্রশ্ন ১০: টুকটুক বিড়ালছানাটির কী নাম রাখল?
উত্তর: টুকটুক আদর করে বিড়ালছানাটির নাম রাখল 'চিকু'।
প্রশ্ন ১১: সুস্থ হওয়ার পর চিকু সারাদিন কী করত?
উত্তর: সুস্থ হওয়ার পর চিকু সারাদিন টুকটুকের পেছন পেছন ঘুরত এবং লম্ফঝম্প করত।
প্রশ্ন ১২: টুকটুকের মামাতো ভাইবোনদের নাম কী?
উত্তর: টুকটুকের মামাতো ভাইবোনের নাম রাতুল ও নীলা।
প্রশ্ন ১৩: রাতুল ও নীলা মিলে কিসের আয়োজন করল?
উত্তর: রাতুল ও নীলা মিলে চড়ুইভাতি বা বনভোজনের আয়োজন করল।
প্রশ্ন ১৪: ছেলেরা রাস্তায় কী করছিল?
উত্তর: কয়েকটা ছেলে রাস্তায় একটি অসহায় বিড়ালছানাকে অকারণে তাড়া করে মজা করছিল।
প্রশ্ন ১৫: টুকটুক ছেলেদের কীভাবে থামাল?
উত্তর: টুকটুক দৌড়ে গিয়ে তাদের থামাল এবং বলল, "কেউ তোমাদের এভাবে তাড়া করলে কেমন লাগত?"
প্রশ্ন ১৬: পাখিদের জন্য টুকটুক কী খাবার দিত?
উত্তর: পাখিদের জন্য টুকটুক প্রতিদিন জানালার ধারে এক মুঠো ভাত রেখে দিত।
প্রশ্ন ১৭: গ্রীষ্মের গরমে পাখিদের জন্য সে কী করত?
উত্তর: গ্রীষ্মের দাবদাহে পাখিরা যেন তৃষ্ণা মেটাতে পারে, সে জন্য টুকটুক বাটি ভরে পানি রেখে দিত।
প্রশ্ন ১৮: টুকটুক ও তার সহপাঠীরা মিলে কী বানাল?
উত্তর: টুকটুক ও তার সহপাঠীরা মিলে পশুপাখিদের রক্ষায় 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে একটি ছোটখাটো ক্লাব বানাল।
প্রশ্ন ১৯: ক্লাব বানাতে কে তাদের সহযোগিতা করলেন?
উত্তর: এই সুন্দর ক্লাবটি বানাতে তাদের শ্রেণিশিক্ষক তাদের সহযোগিতা করলেন।
প্রশ্ন ২০: টুকটুকের মতে সত্যিকারের ভালোবাসা কী?
উত্তর: টুকটুকের মতে, কোনো প্রাণীকে শুধু প্রাণী না ভেবে বন্ধু ভাবা এবং বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়ানোই হলো সত্যিকারের ভালোবাসা।
প্রশ্ন ১: টুকটুকের গ্রীষ্মের ছুটি শুরুর দিনের আনন্দের বর্ণনা দাও।
উত্তর: আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হবে, এই ভেবে স্কুল থেকে ফেরার পথে টুকটুকের মনে আনন্দের জোয়ার বইছিল। তার খুশির আরেকটি বড় কারণ ছিল যে দুই দিন পর তার মামাতো ভাইবোন রাতুল ও নীলা তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসবে। আনন্দে আত্মহারা হয়ে টুকটুক 'আজ আমাদের ছুটি ও ভাই' বলে গুনগুনিয়ে গান গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরছিল।
প্রশ্ন ২: বাগানের কোণে বিড়ালছানাটিকে কী অবস্থায় পাওয়া যায়?
উত্তর: বাড়ির কাছাকাছি এসে বাগানের কোণে টুকটুক একটি বিড়ালছানাকে দেখতে পায়। ছানাটি ছিল অত্যন্ত কঙ্কালসার বা হাড়গিসগিসে, তার গায়ে কাদামাটি মাখা ছিল এবং একটি পা কেটে রক্ত পড়ছিল। অসহায় ও ব্যথাতুর ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছিল এবং মিউ মিউ করে আর্তস্বরে কাঁদছিল।
প্রশ্ন ৩: বিড়ালছানাটিকে দেখে টুকটুকের কী অনুভূতি হয়েছিল এবং সে কী করেছিল?
উত্তর: বিড়ালছানাটির এমন করুণ ও অসহায় অবস্থা দেখে টুকটুকের মায়াময় মন কেঁদে ওঠে। সে চারপাশে তাকিয়ে বিড়ালটির মাকে খুঁজতে থাকে। কাউকে না পেয়ে সে ছানাটির কাছে গিয়ে নরম স্বরে কথা বলে এবং অত্যন্ত আলতো করে তাকে কোলে তুলে নিয়ে সোজা নিজের বাড়িতে চলে আসে।
প্রশ্ন ৪: বাড়িতে বিড়ালছানা আনার পর মায়ের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
উত্তর: টুকটুক যখন দরজায় দাঁড়িয়ে জোরে 'মা মা' বলে ডাকছিল, তখন মা বিচলিত হয়ে ছুটে আসেন। কোলে একটি কাদামাখা ও আহত বিড়ালছানা দেখে মা প্রথমে একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। কারণ, তিনি জানতেন একটি অসুস্থ প্রাণীর যত্ন নেওয়া অনেক কঠিন কাজ। তবে টুকটুকের আগ্রহ ও প্রতিশ্রুতি দেখে মা শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেন।
প্রশ্ন ৫: চিকুর প্রাথমিক চিকিৎসায় টুকটুক ও তার মা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছিল?
উত্তর: বাড়িতে আনার পর টুকটুক প্রথমে একটি নরম তোয়ালে দিয়ে চিকুর গায়ের কাদামাটি মুছিয়ে পরিষ্কার করে দেয়। এরপর তার পায়ের কাটা জায়গায় সাবধানে ওষুধ লাগিয়ে দেয়। অন্যদিকে, মা একটি ছোট পাত্রে চিকুর জন্য দুধ নিয়ে আসেন। পরম যত্নে সেবা ও খাবার পেয়ে চিকু শান্ত হয়ে টুকটুকের কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ৬: সুস্থ হওয়ার পর চিকু ও টুকটুকের সম্পর্ক কেমন হয়েছিল?
উত্তর: সুস্থ হয়ে ওঠার পর চিকু বেশ হৃষ্টপুষ্ট ও চটপটে হয়ে ওঠে। তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়। চিকু সারাদিন লম্ফঝম্প করত এবং ছায়ার মতো টুকটুকের পেছন পেছন ঘুরত। রাতে অন্য কোথাও না গিয়ে চিকু টুকটুকের বিছানায় তার পাশেই ঘুমাত, যা তাদের সুন্দর বন্ধুত্বের প্রমাণ দেয়।
প্রশ্ন ৭: রাতুল ও নীলা আসার পর টুকটুকদের দিনগুলো কীভাবে কাটল?
উত্তর: মামাতো ভাইবোন রাতুল ও নীলা আসার পর তাদের বাড়িতে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তারা সবাই মিলে চড়ুইভাতি বা পিকনিকের আয়োজন করে। ভাইবোনদের এই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে তাদের প্রিয় বন্ধু চিকুও যোগ দেয়। এভাবেই গ্রীষ্মের ছুটির কয়েকটা দিন তাদের খুব মজা ও আনন্দের মধ্য দিয়ে কাটে।
প্রশ্ন ৮: রাস্তায় ছেলেদের বিড়ালছানা তাড়া করার ঘটনাটি বর্ণনা করো।
উত্তর: একদিন খেলতে গিয়ে টুকটুক দেখতে পায় যে কয়েকটা দুষ্টু ছেলে মিলে রাস্তার একটি অসহায় বিড়ালছানাকে অকারণে তাড়া করছে। বিড়ালছানাটি ভয়ে এদিক-ওদিক পালাচ্ছে। ছেলেরা এটাকে স্রেফ মজা ভাবলেও টুকটুক বুঝতে পারে এতে অবলা প্রাণীটি কতটা ভয় পাচ্ছে ও কষ্ট পাচ্ছে।
প্রশ্ন ৯: টুকটুক কীভাবে ছেলেদের ভুল বুঝিয়েছিল?
উত্তর: টুকটুক দৌড়ে গিয়ে ছেলেদের থামিয়ে জিজ্ঞেস করে কেন তারা ছোট্ট প্রাণীটিকে মারছে। ছেলেরা যখন বলে তারা মজা করছে, তখন টুকটুক রাগ করে বলে, "কেউ তোমাদের এভাবে তাড়া করলে কেমন লাগত?" টুকটুকের এই একটি কথায় ছেলেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারে এবং লজ্জিত হয়ে চুপচাপ সেখান থেকে চলে যায়।
প্রশ্ন ১০: বিড়ালছানাটি কীভাবে টুকটুককে ধন্যবাদ জানিয়েছিল বলে টুকটুকের মনে হলো?
উত্তর: দুষ্টু ছেলেদের হাত থেকে বাঁচিয়ে টুকটুক যখন বিড়ালছানাটিকে কোলে তুলে মাঠের পাশে একটি নিরাপদ জায়গায় নামিয়ে দেয়, তখন ছানাটি টুকটুকের দিকে তাকিয়ে নরম স্বরে 'মিউ মিউ' করে ডেকে ওঠে। এই ডাক শুনে টুকটুকের মনে হয় ছানাটি যেন তার প্রাণ বাঁচানোর জন্য তাকে 'ধন্যবাদ বন্ধু!' বলছে।
প্রশ্ন ১১: চিকুকে পাওয়ার পর টুকটুকের স্বভাবে কী পরিবর্তন এসেছিল?
উত্তর: চিকুকে পাওয়ার আগে টুকটুক হয়তো শুধু সাধারণ একটি মেয়ে ছিল, কিন্তু চিকুর সাহচর্য তাকে গভীর প্রাণিপ্রেমী করে তোলে। সে বুঝতে পারে পশুপাখিরাও ভালোবাসা ও যত্ন বোঝে। এরপর থেকে সে শুধু চিকু নয়, আশপাশের সকল পশুপাখির প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ১২: পাখিদের প্রতি টুকটুকের ভালোবাসার কী কী প্রমাণ গল্পে পাওয়া যায়?
উত্তর: পাখিদের প্রতি টুকটুক অত্যন্ত যত্নশীল ছিল। সে প্রতিদিন নিয়ম করে জানালার ধারে পাখিদের খাওয়ার জন্য এক মুঠো ভাত রেখে দিত। এছাড়া, গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে বা গরমে পাখিরা যাতে তৃষ্ণায় কষ্ট না পায়, সে জন্য সে বাটি ভরে পানিও রেখে দিত। এগুলো তার নিখাদ প্রাণিপ্রেমের প্রমাণ।
প্রশ্ন ১৩: 'প্রাণীদের বন্ধু' ক্লাবটি কী এবং এটি কীভাবে গঠিত হয়েছিল?
উত্তর: 'প্রাণীদের বন্ধু' হলো পশুপাখিদের রক্ষা ও তাদের সেবা করার উদ্দেশ্যে গঠিত একটি ছোটখাটো ক্লাব। টুকটুক তার নিজস্ব প্রাণিপ্রেম থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার কিছু সমমনা সহপাঠীদের নিয়ে এই ক্লাবটি গড়ে তোলে। এই ভালো কাজে তাদের স্কুলের শ্রেণিশিক্ষকও তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।
প্রশ্ন ১৪: মা কেন বলেছিলেন, "তুমি একটা বিড়ালকে ভালোবেসে অনেক কিছু শিখে গেলে!"?
উত্তর: মা লক্ষ্য করেন যে, চিকুকে বাড়িতে আনার পর থেকে টুকটুক অনেক বেশি দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল হয়ে উঠেছে। সে শুধু বিড়াল নয়, পাখিদেরও খাবার ও পানি দিচ্ছে, এমনকি প্রাণীদের রক্ষায় একটি ক্লাবও তৈরি করেছে। একটি মাত্র বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা যে তার মনের এত বিশাল মানবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে, তা দেখেই মা এই কথাটি বলেছিলেন।
প্রশ্ন ১৫: সত্যিকারের ভালোবাসা সম্পর্কে টুকটুকের দর্শন বা চিন্তাভাবনা কী?
উত্তর: টুকটুকের মতে, কোনো প্রাণী শুধু একটি অবলা জীব নয়, সে মানুষের খুব কাছের বন্ধু হতে পারে। সে মনে করে, বিপদের সময় শুধু মানুষের নয়, যেকোনো অবলা প্রাণীর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের নিঃস্বার্থভাবে সাহায্য ও যত্ন করাই হলো সত্যিকারের ভালোবাসা।
প্রশ্ন ১৬: "কেউ তোমাদের এভাবে তাড়া করলে কেমন লাগত?"—টুকটুকের এই কথার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: এই কথার মাধ্যমে টুকটুক ছেলেদের সহানুভূতি বা এম্প্যাথি (Empathy) শেখাতে চেয়েছে। মানুষ যখন অন্যের কষ্ট নিজের জায়গায় রেখে বিবেচনা করতে পারে, তখনই সে প্রকৃত কষ্টটা অনুভব করে। বড় কেউ তাড়া করলে ছেলেদের যেমন ভয় ও কষ্ট লাগত, বিড়ালছানাটিরও ঠিক তেমনই লাগছে—এই চরম সত্যটি সে এই এক কথায় বুঝিয়ে দিয়েছে।
প্রশ্ন ১৭: চড়ুইভাতি কী? এটি শিশুদের জীবনে কী প্রভাব ফেলে?
উত্তর: চড়ুইভাতি হলো খোলা জায়গায় বা প্রাকৃতিক পরিবেশে সবাই মিলে রান্না করে খাওয়ার আনন্দময় আয়োজন বা বনভোজন। এটি শিশুদের একঘেয়েমি দূর করে, তাদের মধ্যে দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা বাড়ায় এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস বৃদ্ধির মাধ্যমে মনকে প্রফুল্ল রাখে।
প্রশ্ন ১৮: এই গল্প থেকে তুমি কী নৈতিক শিক্ষা লাভ করলে?
উত্তর: 'টুকটুক ও চিকু' গল্প থেকে আমরা শিক্ষা লাভ করি যে, এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা প্রতিটি প্রাণীই মানুষের ভালোবাসা ও যত্নের দাবিদার। অবলা প্রাণীদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়, বরং তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই মনুষ্যত্বের পরিচয়। সকল প্রাণীর প্রতি দয়া ও সহমর্মিতাই হলো প্রকৃত ভালোবাসা।
প্রশ্ন ১৯: গ্রীষ্মের দাবদাহে পশুপাখিদের কী কষ্ট হয় এবং আমাদের কী করা উচিত?
উত্তর: গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপে নদীনালা শুকিয়ে যায় বলে পশুপাখিরা খাবার ও পানির তীব্র সংকটে ভোগে। তীব্র রোদে তাদের হাঁসফাঁস অবস্থা হয়। এই সময়ে আমাদের উচিত টুকটুকের মতো বাড়ির ছাদে, বারান্দায় বা জানালার পাশে মাটির পাত্রে পরিষ্কার পানি এবং কিছু খাবার রেখে দেওয়া।
প্রশ্ন ২০: টুকটুক চরিত্রটি তোমার কেমন লেগেছে এবং কেন?
উত্তর: টুকটুক চরিত্রটি আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। কারণ সে বয়সে ছোট হলেও তার মনটা অনেক বড় ও মানবিক। সে আহত প্রাণীকে উপেক্ষা না করে সেবা করে সুস্থ করেছে এবং অন্যের অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আরেক প্রাণীর জীবন বাঁচিয়েছে। তার এই নিঃস্বার্থ প্রাণিপ্রেম ও দায়িত্ববোধ সত্যিই অনুকরণীয়।