১. 'সংকল্প' কবিতাটির কবির নাম কী?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) জসীমউদ্দীন
(গ) কাজী নজরুল ইসলাম
(ঘ) সুকুমার রায়
উত্তর: (গ) কাজী নজরুল ইসলাম।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ে কবিতাটির কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম দেওয়া আছে।
২. 'সংকল্প' শব্দের অর্থ কী?
(ক) কল্পনা
(খ) মনের ইচ্ছা বা মনোবাসনা
(গ) শপথ ভেঙে ফেলা
(ঘ) গল্প করা
উত্তর: (খ) মনের ইচ্ছা বা মনোবাসনা।
ব্যাখ্যা: কোনো কিছু করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই হলো সংকল্প।
৩. কবি কোথায় থাকতে চান না?
(ক) খোলা মাঠে
(খ) বদ্ধ ঘরে
(গ) পাহাড়ের চূড়ায়
(ঘ) সাগরের তীরে
উত্তর: (খ) বদ্ধ ঘরে।
ব্যাখ্যা: "থাকব না কো বদ্ধ ঘরে"—কবি চার দেয়ালে বন্দি থাকতে চান না।
৪. বদ্ধ ঘরে না থেকে কবি কী দেখতে চান?
(ক) টেলিভিশন
(খ) আকাশ
(গ) জগৎটাকে
(ঘ) সমুদ্র
উত্তর: (গ) জগৎটাকে।
ব্যাখ্যা: "দেখব এবার জগৎটাকে" বলা হয়েছে।
৫. মানুষ কিসের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে?
(ক) যুগান্তরের
(খ) বাতাসের
(গ) নদীর
(ঘ) সাগরের
উত্তর: (ক) যুগান্তরের।
ব্যাখ্যা: "কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে"।
৬. 'যুগান্তর' শব্দের অর্থ কী?
(ক) একই যুগ
(খ) অন্য যুগ
(গ) যুগের শেষ
(ঘ) যুগের শুরু
উত্তর: (খ) অন্য যুগ।
ব্যাখ্যা: এক যুগ পেরিয়ে আরেক যুগে পদার্পণ।
৭. মানুষ কেমন করে ছুটছে?
(ক) শহর থেকে গ্রামে
(খ) দেশ হতে দেশান্তরে
(গ) নদী থেকে সাগরে
(ঘ) আকাশ থেকে পাতালে
উত্তর: (খ) দেশ হতে দেশান্তরে।
ব্যাখ্যা: "দেশ হতে দেশ দেশান্তরে / ছুটছে তারা কেমন করে"।
৮. 'দেশান্তর' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নিজের দেশ
(খ) অন্য দেশ
(গ) দেশের ভেতর
(ঘ) দেশের বাইরে যাওয়া নিষেধ
উত্তর: (খ) অন্য দেশ।
ব্যাখ্যা: এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়া।
৯. বীরেরা লাখে লাখে কীভাবে মরছে?
(ক) রোগের কারণে
(খ) কীসের নেশায় (অজানাকে জানার)
(গ) ভয়ে
(ঘ) খাদ্যের অভাবে
উত্তর: (খ) কীসের নেশায় (অজানাকে জানার)।
ব্যাখ্যা: "কীসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে"।
১০. বীরেরা কীসের আশায় মরণ-যন্ত্রণাকে বরণ করছে?
(ক) টাকার আশায়
(খ) অমরত্ব বা অজানাকে জানার আশায়
(গ) ঘুমানোর আশায়
(ঘ) রাজত্ব পাওয়ার আশায়
উত্তর: (খ) অমরত্ব বা অজানাকে জানার আশায়।
ব্যাখ্যা: রহস্য ভেদ করার আশায় তারা মৃত্যুকেও হাসিমুখে বরণ করে।
১১. 'বরণ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) ত্যাগ
(খ) গ্রহণ
(গ) বারণ করা
(ঘ) দূরে ঠেলা
উত্তর: (খ) গ্রহণ।
ব্যাখ্যা: সাদরে গ্রহণ করাকে বরণ বলে।
১২. সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে কে?
(ক) জেলে
(খ) মাঝি
(গ) বীর ডুবুরি
(ঘ) সাঁতারু
উত্তর: (গ) বীর ডুবুরি।
ব্যাখ্যা: "কেমন করে বীর ডুবুরি সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে"।
১৩. 'সিন্ধু' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নদী
(খ) পুকুর
(গ) সাগর
(ঘ) খাল
উত্তর: (গ) সাগর।
ব্যাখ্যা: সিন্ধু মানে সমুদ্র বা সাগর।
১৪. 'ডুবুরি' কাদের বলা হয়?
(ক) যারা আকাশে ওড়ে
(খ) যারা ডুব দিয়ে পানির তলদেশ থেকে জিনিস তুলে আনে
(গ) যারা পাহাড়ে চড়ে
(ঘ) যারা গাড়ি চালায়
উত্তর: (খ) যারা ডুব দিয়ে পানির তলদেশ থেকে জিনিস তুলে আনে।
ব্যাখ্যা: এটি তাদের পেশা।
১৫. দুঃসাহসীরা উড়ে কোথায় চলছে?
(ক) পাতালে
(খ) ভিনগ্রহে
(গ) স্বর্গপানে
(ঘ) সাগরে
উত্তর: (গ) স্বর্গপানে।
ব্যাখ্যা: "কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গপানে"।
১৬. 'দুঃসাহসী' শব্দের অর্থ কী?
(ক) যার সাহস নেই
(খ) ভীতু
(গ) নির্ভীক বা অত্যধিক সাহসী
(ঘ) রাগী
উত্তর: (গ) নির্ভীক বা অত্যধিক সাহসী।
ব্যাখ্যা: যে কোনো বিপদে ভয় পায় না।
১৭. যুদ্ধ-জাহাজ কী জাপটে ধরে ছুটছে?
(ক) মাছের লেজ
(খ) ঢেউয়ের ঝুঁটি
(গ) মেঘের ভেলা
(ঘ) পাখির ডানা
উত্তর: (খ) ঢেউয়ের ঝুঁটি।
ব্যাখ্যা: "জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি / যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি"।
১৮. 'জাপটে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) এক হাতে ধরা
(খ) দুহাতে জড়িয়ে ধরা
(গ) ছেড়ে দেওয়া
(ঘ) পা দিয়ে ধরা
উত্তর: (খ) দুহাতে জড়িয়ে ধরা।
ব্যাখ্যা: শক্ত করে জড়িয়ে ধরাকে জাপটে ধরা বলে।
১৯. মানিক বোঝাই করে কে আনছে?
(ক) ডুবুরি
(খ) সিন্ধু-যান
(গ) উড়োজাহাজ
(ঘ) রেলগাড়ি
উত্তর: (খ) সিন্ধু-যান।
ব্যাখ্যা: "কেমন করে আনছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে"।
২০. 'সিন্ধু-যান' বলতে কী বোঝায়?
(ক) উড়োজাহাজ
(খ) রকেট
(গ) জাহাজ বা সমুদ্রের বাহন
(ঘ) বাস
উত্তর: (গ) জাহাজ বা সমুদ্রের বাহন।
ব্যাখ্যা: সিন্ধু মানে সাগর, আর যান মানে বাহন।
২১. সাগর কখন উথলে ওঠে?
(ক) বাতাস বইলে
(খ) জোয়ার-বানে টানলে
(গ) বৃষ্টি হলে
(ঘ) রোদ উঠলে
উত্তর: (খ) জোয়ার-বানে টানলে।
ব্যাখ্যা: "কেমন জোরে টানলে সাগর উথলে ওঠে জোয়ার-বানে"।
২২. কবি কোথায় রইবেন না?
(ক) বদ্ধ খাঁচায়
(খ) খোলা মাঠে
(গ) নদীর পাড়ে
(ঘ) পাহাড়ে
উত্তর: (ক) বদ্ধ খাঁচায়।
ব্যাখ্যা: "রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়" বলা হয়েছে।
২৩. বদ্ধ খাঁচায় না থেকে কবি কী করবেন?
(ক) ঘুমাবেন
(খ) এ-সব ভুবন ঘুরে দেখবেন
(গ) কাঁদবেন
(ঘ) গান গাইবেন
উত্তর: (খ) এ-সব ভুবন ঘুরে দেখবেন।
ব্যাখ্যা: "দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে"।
২৪. কবি কোথায় কোথায় ঘুরতে চান?
(ক) শুধু শহরে
(খ) শুধু গ্রামে
(গ) আকাশ-বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চূড়ে
(ঘ) ঘরের ভেতর
উত্তর: (গ) আকাশ-বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চূড়ে।
ব্যাখ্যা: কবি পুরো সৃষ্টিজগত ঘুরে দেখতে চান।
২৫. 'পাহাড়-চূড়ে' কথাটির অর্থ কী?
(ক) পাহাড়ের নিচে
(খ) পাহাড়ের চূড়ায়
(গ) পাহাড়ের গুহায়
(ঘ) পাহাড়ের পাশে
উত্তর: (খ) পাহাড়ের চূড়ায়।
ব্যাখ্যা: চূড় মানে শীর্ষ বা চূড়া।
২৬. কবির কীসের বাঁধন টুটে যাবে?
(ক) হাতের
(খ) সীমার
(গ) পায়ের
(ঘ) গলার
উত্তর: (খ) সীমার।
ব্যাখ্যা: "আমার সীমার বাঁধন টুটে"।
২৭. 'টুটে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) জুড়ে
(খ) বেঁধে
(গ) ভেঙে বা ছিঁড়ে
(ঘ) লাগিয়ে
উত্তর: (গ) ভেঙে বা ছিঁড়ে।
ব্যাখ্যা: সব বাধা ছিঁড়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে।
২৮. সীমার বাঁধন টুটে কবি কোথায় লুটে পড়বেন?
(ক) এক দিকে
(খ) দশ দিকেতে
(গ) দুই দিকে
(ঘ) পাঁচ দিকে
উত্তর: (খ) দশ দিকেতে।
ব্যাখ্যা: "দশ দিকেতে পড়ব লুটে"।
২৯. 'লুটে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) চুরি করে
(খ) ছড়িয়ে বা লুটিয়ে পড়ে
(গ) কিনে
(ঘ) ঘুমিয়ে
উত্তর: (খ) ছড়িয়ে বা লুটিয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা: চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার বাসনা।
৩০. কবি কী ফেড়ে নিচে নামতে চান?
(ক) আকাশ
(খ) পাহাড়
(গ) পাতাল
(ঘ) সাগর
উত্তর: (গ) পাতাল।
ব্যাখ্যা: "পাতাল ফেড়ে নামব নিচে"।
৩১. কবি নিচে নেমে আবার কোথায় উঠতে চান?
(ক) পাহাড়ের চূড়ায়
(খ) আকাশ ফুঁড়ে
(গ) চাঁদে
(ঘ) গাছে
উত্তর: (খ) আকাশ ফুঁড়ে।
ব্যাখ্যা: "উঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে"।
৩২. 'আকাশ ফুঁড়ে' কথাটির অর্থ কী?
(ক) আকাশ নীল করে
(খ) আকাশ ভেদ করে
(গ) আকাশ থেকে পড়ে
(ঘ) আকাশ মেঘলা করে
উত্তর: (খ) আকাশ ভেদ করে।
ব্যাখ্যা: ফুঁড়ে মানে ভেদ করে বা ছিদ্র করে।
৩৩. কবি বিশ্ব-জগৎটাকে কীভাবে দেখতে চান?
(ক) দূর থেকে
(খ) আপন হাতের মুঠোয় পুরে
(গ) বই পড়ে
(ঘ) টিভিতে
উত্তর: (খ) আপন হাতের মুঠোয় পুরে।
ব্যাখ্যা: "বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে"।
৩৪. এই কবিতায় কিশোরের কোন ইচ্ছা প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) ধনী হওয়ার ইচ্ছা
(খ) অজানাকে জানার ও বিশ্বজয়ের অদম্য কৌতূহল
(গ) রাজা হওয়ার ইচ্ছা
(ঘ) ঘুমিয়ে থাকার ইচ্ছা
উত্তর: (খ) অজানাকে জানার ও বিশ্বজয়ের অদম্য কৌতূহল।
ব্যাখ্যা: কিশোর মন পৃথিবীর সব রহস্য জানতে চায়।
৩৫. কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের কী বলা হয়?
(ক) পল্লিকবি
(খ) বিশ্বকবি
(গ) জাতীয় কবি / বিদ্রোহী কবি
(ঘ) রূপসী বাংলার কবি
উত্তর: (গ) জাতীয় কবি / বিদ্রোহী কবি।
ব্যাখ্যা: তিনি আমাদের জাতীয় কবি এবং বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত।
৩৬. 'মরণ-যন্ত্রণা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বেঁচে থাকার কষ্ট
(খ) মৃত্যুর কষ্ট
(গ) ঘুমের কষ্ট
(ঘ) দৌড়ানোর কষ্ট
উত্তর: (খ) মৃত্যুর কষ্ট।
ব্যাখ্যা: মরণ মানে মৃত্যু আর যন্ত্রণা মানে কষ্ট।
৩৭. 'ঘূর্ণিপাক' বলতে কী বোঝায়?
(ক) সোজা চলা
(খ) পানি বা বাতাসের প্রচণ্ড ঘূর্ণন
(গ) থেমে থাকা
(ঘ) লাফ দেওয়া
উত্তর: (খ) পানি বা বাতাসের প্রচণ্ড ঘূর্ণন।
ব্যাখ্যা: পাক খেয়ে ঘোরার অবস্থাকে ঘূর্ণিপাক বলে।
৩৮. 'মানিক' কী?
(ক) সাধারণ পাথর
(খ) দামি রত্ন
(গ) কাঠ
(ঘ) লোহা
উত্তর: (খ) দামি রত্ন।
ব্যাখ্যা: মানিক বা মুক্তা হলো সমুদ্র থেকে পাওয়া মূল্যবান রত্ন।
৩৯. 'সিন্ধু সেঁচে' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) সাগরের পানি গরম করা
(খ) সাগরের তলদেশ পর্যন্ত তন্নতন্ন করে খোঁজা
(গ) সাগর সেচ দেওয়া
(ঘ) সাগর শুকিয়ে ফেলা
উত্তর: (খ) সাগরের তলদেশ পর্যন্ত তন্নতন্ন করে খোঁজা।
ব্যাখ্যা: ডুবুরিরা এভাবেই মুক্তা খোঁজে।
৪০. 'স্বর্গপানে' শব্দের অর্থ কী?
(ক) স্বর্গের দিকে
(খ) নরকের দিকে
(গ) পাহাড়ের দিকে
(ঘ) সাগরের দিকে
উত্তর: (ক) স্বর্গের দিকে।
ব্যাখ্যা: পান মানে দিকে, তাই স্বর্গপানে মানে স্বর্গের দিকে।
৪১. কবিতায় 'বদ্ধ খাঁচা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) পাখির খাঁচা
(খ) নিজের ঘরের চার দেয়াল বা সীমাবদ্ধ জীবন
(গ) জেলখানা
(ঘ) চিড়িয়াখানা
উত্তর: (খ) নিজের ঘরের চার দেয়াল বা সীমাবদ্ধ জীবন।
ব্যাখ্যা: কবি এই গণ্ডিবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি চান।
৪২. যুদ্ধ-জাহাজগুলো কীভাবে ছুটছে?
(ক) ভয় পেয়ে
(খ) ঢেউয়ের ঝুঁটি জাপটে ধরে অত্যন্ত বীরদর্পে
(গ) খুব ধীরে
(ঘ) লুকিয়ে
উত্তর: (খ) ঢেউয়ের ঝুঁটি জাপটে ধরে অত্যন্ত বীরদর্পে।
ব্যাখ্যা: সাগরের উত্তাল ঢেউকে হার মানিয়ে তারা এগিয়ে যায়।
৪৩. 'উথলে ওঠে' বলতে কী বোঝায়?
(ক) শুকিয়ে যাওয়া
(খ) ফুলে-ফেঁপে ওঠা
(গ) শান্ত হওয়া
(ঘ) জমে যাওয়া
উত্তর: (খ) ফুলে-ফেঁপে ওঠা।
ব্যাখ্যা: জোয়ারের টানে সাগরের পানি ফুলে ওঠে।
৪৪. 'সংকল্প' কবিতাটি কিশোরদের কীসের প্রেরণা দেয়?
(ক) অলস হওয়ার
(খ) জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ার ও সাহসী হওয়ার
(গ) ঘরে বসে থাকার
(ঘ) ভয় পাওয়ার
উত্তর: (খ) জ্ঞান-বিজ্ঞানে এগিয়ে যাওয়ার ও সাহসী হওয়ার।
ব্যাখ্যা: কবিতাটি অজানাকে জানার সাহস জোগায়।
৪৫. নিচের কোন শব্দটি 'পৃথিবী' শব্দের সমার্থক? (অনুশীলনী ৪ অনুযায়ী)
(ক) আকাশ
(খ) জগৎ
(গ) সিন্ধু
(ঘ) পাহাড়
উত্তর: (খ) জগৎ।
ব্যাখ্যা: জগৎ মানেই বিশ্ব বা পৃথিবী।
৪৬. 'মৃত্যু' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (অনুশীলনী ৪ অনুযায়ী)
(ক) জীবন
(খ) মরণ
(গ) জন্ম
(ঘ) কান্না
উত্তর: (খ) মরণ।
ব্যাখ্যা: মরণ মানেই মৃত্যু।
৪৭. 'কষ্ট' শব্দের সমার্থক শব্দ কবিতায় কোনটি ব্যবহার করা হয়েছে? (অনুশীলনী ৪ অনুযায়ী)
(ক) আনন্দ
(খ) যন্ত্রণা
(গ) সুখ
(ঘ) উল্লাস
উত্তর: (খ) যন্ত্রণা।
ব্যাখ্যা: যন্ত্রণা মানে ব্যথা বা কষ্ট।
৪৮. 'সমুদ্র' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (অনুশীলনী ৪ অনুযায়ী)
(ক) নদী
(খ) সিন্ধু
(গ) পুকুর
(ঘ) খাল
উত্তর: (খ) সিন্ধু।
ব্যাখ্যা: সিন্ধু মানে সমুদ্র বা সাগর।
৪৯. 'চাঁদ' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (অনুশীলনী ৪ অনুযায়ী)
(ক) সূর্য
(খ) চন্দ্র
(গ) তারা
(ঘ) উল্কা
উত্তর: (খ) চন্দ্র।
ব্যাখ্যা: চন্দ্র মানেই চাঁদ।
৫০. 'পর্বত' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি? (অনুশীলনী ৪ অনুযায়ী)
(ক) নদী
(খ) সাগর
(গ) পাহাড়
(ঘ) উপত্যকা
উত্তর: (গ) পাহাড়।
ব্যাখ্যা: পর্বত আর পাহাড় একই অর্থ বহন করে।
প্রশ্ন ১: 'সংকল্প' কবিতাটির কবির নাম কী?
উত্তর: 'সংকল্প' কবিতাটি লিখেছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
প্রশ্ন ২: কবি কোথায় থাকতে চান না?
উত্তর: কবি বদ্ধ ঘরে বা চার দেয়ালের মাঝে বন্দি থাকতে চান না।
প্রশ্ন ৩: বদ্ধ ঘরে না থেকে কবি কী করতে চান?
উত্তর: বদ্ধ ঘরে না থেকে কবি এই বিশাল জগৎটাকে ঘুরে দেখতে চান।
প্রশ্ন ৪: মানুষ কীসের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে?
উত্তর: মানুষ যুগান্তরের বা সময়ের আবর্তের ঘূর্ণিপাকে ঘুরছে।
প্রশ্ন ৫: মানুষ কীভাবে ছুটছে?
উত্তর: অজানাকে জানার কৌতূহলে মানুষ এক দেশ হতে অন্য দেশান্তরে ছুটছে।
প্রশ্ন ৬: বীরেরা কীভাবে মরণ-যন্ত্রণাকে বরণ করছে?
উত্তর: বীরেরা নতুন কিছু আবিষ্কার করার নেশায় এবং অজানাকে জানার আশায় হাসিমুখে মরণ-যন্ত্রণাকে বরণ করছে।
প্রশ্ন ৭: বীর ডুবুরি কী আনে?
উত্তর: বীর ডুবুরি গভীর সিন্ধু বা সাগর সেঁচে মূল্যবান মুক্তা তুলে আনে।
প্রশ্ন ৮: দুঃসাহসীরা কোথায় উড়ে চলছে?
উত্তর: দুঃসাহসীরা অসীম আকাশে ডানা মেলে স্বর্গপানে বা অজানার উদ্দেশ্যে উড়ে চলছে।
প্রশ্ন ৯: যুদ্ধ-জাহাজ কীভাবে ছুটছে?
উত্তর: যুদ্ধ-জাহাজগুলো সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের ঝুঁটি জাপটে ধরে দুরন্ত বেগে ছুটছে।
প্রশ্ন ১০: সিন্ধু-যানে করে কী আনা হচ্ছে?
উত্তর: সিন্ধু-যান বা জাহাজে করে সাগর থেকে মানিক বা মূল্যবান রত্ন বোঝাই করে আনা হচ্ছে।
প্রশ্ন ১১: সাগর কখন উথলে ওঠে?
উত্তর: জোয়ারের প্রবল টানে বা জোয়ার-বানে সাগরের পানি ফুলে-ফেঁপে উথলে ওঠে।
প্রশ্ন ১২: কবি কেন 'বদ্ধ খাঁচায়' রইতে চান না?
উত্তর: কবির মন কৌতূহলী ও স্বাধীন, তাই তিনি নিজের জীবনকে বদ্ধ খাঁচায় আটকে না রেখে পুরো ভুবন ঘুরে দেখতে চান।
প্রশ্ন ১৩: কবি কোথায় কোথায় ঘুরে বেড়াতে চান?
উত্তর: কবি আকাশ-বাতাস, চন্দ্র-তারা, সাগর-জল এবং পাহাড়ের চূড়াসহ পুরো সৃষ্টিজগতে ঘুরে বেড়াতে চান।
প্রশ্ন ১৪: কবির সীমার বাঁধন টুটলে তিনি কী করবেন?
উত্তর: সীমার সব বাঁধন ছিঁড়ে কবি দশ দিকেতে ছড়িয়ে বা লুটে পড়বেন।
প্রশ্ন ১৫: কবি পাতাল ফেড়ে কোথায় নামতে চান?
উত্তর: কবি মাটির বুক বা পাতাল ফেড়ে একদম নিচে নামতে চান।
প্রশ্ন ১৬: পাতাল থেকে উঠে কবি কোথায় যেতে চান?
উত্তর: পাতাল থেকে উঠে কবি আবার আকাশ ফুঁড়ে মহাশূন্যে উড়ে যেতে চান।
প্রশ্ন ১৭: কবি বিশ্ব-জগৎটাকে কীভাবে দেখতে চান?
উত্তর: কবি পুরো বিশ্ব-জগৎটাকে আপন হাতের মুঠোয় পুরে নিজের আয়ত্তে এনে দেখতে চান।
প্রশ্ন ১৮: 'সংকল্প' শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: 'সংকল্প' শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছু করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বা মনের ইচ্ছা।
প্রশ্ন ১৯: 'যুগান্তর' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'যুগান্তর' বলতে এক যুগ থেকে অন্য যুগে পদার্পণ বা নতুন যুগকে বোঝায়।
প্রশ্ন ২০: এই কবিতায় কিশোরের কোন রূপটি ফুটে উঠেছে?
উত্তর: এই কবিতায় অজানাকে জানার, অদেখাকে দেখার এবং বিশ্বজয়ের অদম্য কৌতূহলী কিশোর মনের রূপটি ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ১: কবি বদ্ধ ঘরে থাকতে চান না কেন?
উত্তর: কবির মন হলো স্বাধীন ও কৌতূহলী। চার দেয়ালে বন্দি থেকে বা বদ্ধ ঘরে সময় কাটালে পৃথিবীর বিশালতা এবং সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। ঘরে বসে থাকলে মানুষের জ্ঞান বাড়ে না। অজানাকে জানার, অদেখাকে দেখার এবং বিশাল জগতকে চেনার প্রবল আকাঙ্ক্ষা থেকেই কবি বদ্ধ ঘরে বন্দি থাকতে চান না।
প্রশ্ন ২: 'যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে মানুষ ঘুরছে' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'যুগান্তরের ঘূর্ণিপাকে' বলতে সময়ের পরিবর্তন ও বিবর্তনের ধারাকে বোঝানো হয়েছে। আদিম যুগ থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক যুগ পর্যন্ত মানুষ থেমে নেই। তারা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন আবিষ্কার করে চলেছে। সময়ের এই নিরন্তর পরিবর্তন ও অগ্রযাত্রার সাথেই মানুষ ঘুরছে বা এগিয়ে চলছে।
প্রশ্ন ৩: কীসের আশায় মানুষ মরণ-যন্ত্রণাকে বরণ করছে?
উত্তর: মানুষ স্বভাবতই কৌতূহলী। পৃথিবীর যেখানে যত রহস্য লুকিয়ে আছে, মানুষ তা ভেদ করতে চায়। নতুন কিছু আবিষ্কার করার নেশায় এবং অজানাকে জয় করার আশায় মানুষ নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে। পর্বতশৃঙ্গ জয়, গভীর সমুদ্রে তল্লাশি বা মহাকাশ অভিযানের মতো বিপৎসংকুল পথে গিয়ে বীরেরা হাসিমুখে মরণ-যন্ত্রণাকে বরণ করে নেয়।
প্রশ্ন ۴: সাগরে মানুষ কী কী ধরনের সাহস দেখাচ্ছে?
উত্তর: সাগরের বুকে মানুষ অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। বীর ডুবুরিরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগর সেঁচে তলায় লুকিয়ে থাকা অমূল্য মুক্তা তুলে আনছে। অন্যদিকে, ভয়ংকর উত্তাল সাগরের বুকে ঢেউয়ের ঝুঁটি জাপটে ধরে বিশাল যুদ্ধ-জাহাজ ও সিন্ধু-যান দাপটের সাথে ছুটে চলছে এবং সাগর থেকে মানিক বোঝাই করে আনছে।
প্রশ্ন ৫: কবি কোথায় কোথায় যেতে চান?
উত্তর: কবির কৌতূহলী মন সীমার সব বাঁধন ছিঁড়ে অসীমের পানে ছুটতে চায়। তিনি আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, তারা, সাগরের অতল জলরাশি এবং পাহাড়ের চূড়া—সবখানেই যেতে চান। শুধু তাই নয়, তিনি পাতাল ফেড়ে পৃথিবীর গভীরে নামতে চান এবং সেখান থেকে আবার আকাশ ফুঁড়ে মহাশূন্যে উড়ে যেতে চান। অর্থাৎ, পুরো সৃষ্টিজগতই তাঁর বিচরণক্ষেত্র।
প্রশ্ন ৬: 'বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে'—কথাটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কিশোরের কৌতূহলী মন পৃথিবীর সব রহস্য উন্মোচন করতে চায়। সে চায় জ্ঞান, বিজ্ঞান ও আবিষ্কারের মাধ্যমে পুরো পৃথিবীকে নিজের আয়ত্তে আনতে। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এমন কোনো জায়গা থাকবে না যা তার অজানা থাকবে। নিজ মেধা, সাহসিকতা ও জ্ঞানের আলোয় পুরো বিশ্বকে হাতের মুঠোয় বা নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার প্রবল আত্মবিশ্বাসই এই লাইনে প্রকাশ পেয়েছে।
প্রশ্ন ৭: 'দেশ হতে দেশ দেশান্তরে / ছুটছে তারা কেমন করে'—কাদের কথা বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তর: এখানে বিশ্বের সাহসী, কৌতূহলী ও জ্ঞানপিপাসু মানুষের কথা বলা হয়েছে। পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কী আছে, তা জানার জন্য মানুষ ঘরে বসে নেই। কলম্বাস, ইবনে বতুতা বা ভাস্কো দা গামার মতো পর্যটকরা থেকে শুরু করে আজকের আধুনিক বিজ্ঞানীরা নতুন কিছুর সন্ধানে এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবিরাম ছুটে চলছেন।
প্রশ্ন ৮: 'কীসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে'—বীরেরা কেন মরছে?
উত্তর: বীরেরা কখনোই মৃত্যুকে ভয় পায় না। তাদের চোখে থাকে নতুন দেশ আবিষ্কার, নতুন জ্ঞান অর্জন এবং মানুষের কল্যাণের নেশা। এই নেশায় পাগল হয়ে তারা দুর্গম পাহাড়, গহিন অরণ্য বা উত্তাল সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রকৃতির বৈরিতার সাথে লড়াই করতে গিয়ে অনেক বীর প্রাণ হারায়। অজানাকে জয় করার এই তীব্র নেশাতেই তারা লাখে লাখে মরছে।
প্রশ্ন ৯: ডুবুরিরা কীভাবে মুক্তা আনে?
উত্তর: ডুবুরিদের কাজ হলো পানির তলদেশ থেকে জিনিস তুলে আনা। তারা বিশেষ পোশাক পরে বা শ্বাস আটকে গভীর সমুদ্রের তলদেশে চলে যায়। সেখানে অন্ধকার ও ভয়ংকর জলজ প্রাণীর ভয় থাকা সত্ত্বেও তারা সাহসের সাথে সমুদ্রের তলদেশ তন্নতন্ন করে বা সেঁচে ঝিনুকের বুক থেকে মহামূল্যবান মুক্তা তুলে আনে।
প্রশ্ন ১০: 'কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বর্গপানে'—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: মানুষের কৌতূহল শুধু পৃথিবীর মাটিতেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা আকাশের সীমানাও ছাড়িয়ে যেতে চায়। দুঃসাহসী মহাকাশচারীরা রকেট ও মহাকাশযানে চড়ে আকাশ ভেদ করে চাঁদ, মঙ্গলগ্রহ ও মহাশূন্যের অসীম রহস্য ভেদ করতে উড়ে চলেছে। আকাশ বা মহাশূন্যের এই অজানার পানে যাত্রাকেই কবি 'স্বর্গপানে' উড়ে চলা বলেছেন।
প্রশ্ন ১১: 'জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি' বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: সাগরে যখন প্রবল ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস হয়, তখন বড় বড় ঢেউ ওঠে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বিশাল যুদ্ধ-জাহাজগুলো সেই ঢেউকে ভয় পায় না। তারা প্রবল শক্তিতে সেই উত্তাল ঢেউয়ের মাথা বা ঝুঁটি চেপে ধরে তাকে পরাস্ত করে বীরদর্পে সামনে এগিয়ে যায়। মানুষের এই সমুদ্র জয়ের শক্তিকেই কবি এভাবে বর্ণনা করেছেন।
প্রশ্ন ১২: 'রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়'—কবি কেন পৃথিবীকে খাঁচা বলেননি, নিজের ঘরকে বলেছেন?
উত্তর: পৃথিবী হলো অসীম সম্ভাবনার এক বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর, যেখানে জানার ও দেখার অনেক কিছু আছে। কিন্তু নিজের ঘর হলো চার দেয়ালের মাঝে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি। এই গণ্ডির ভেতর থাকলে বাইরের পৃথিবীর কিছুই জানা যায় না। তাই ঘরে বসে থাকাকে কবি খাঁচায় বন্দি পাখির পরাধীন জীবনের সাথে তুলনা করে তাকে 'বদ্ধ খাঁচা' বলেছেন।
প্রশ্ন ১৩: কবির 'সীমার বাঁধন' কীভাবে টুটে যাবে?
উত্তর: প্রতিটি মানুষেরই কিছু নিজস্ব গণ্ডি বা সীমা থাকে। কিন্তু কবির মন যখন অজানাকে জানার জন্য প্রবলভাবে ব্যাকুল হয়ে ওঠে, তখন কোনো পার্থিব বাধাই তাকে আটকে রাখতে পারে না। তার জ্ঞানপিপাসা ও দুঃসাহসিক সংকল্পের জোরেই তার চারপাশের সব সীমার বাঁধন বা পরাধীনতার শৃঙ্খল ছিঁড়ে বা টুটে যাবে।
প্রশ্ন ১৪: 'পাতাল ফেড়ে নামব নিচে, উঠব আবার আকাশ ফুঁড়ে'—এখানে কবির কোন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তর: এখানে কবির অসীম জ্ঞানপিপাসা ও বিশ্বজয়ের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। পাতাল হলো পৃথিবীর গভীরতম তলদেশ আর আকাশ হলো মহাশূন্য। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, প্রকৃতির এমন কোনো গভীর বা উচ্চ স্থান থাকবে না যা তার অজানা থাকবে। তিনি পৃথিবীর একেবারে নিচ থেকে শুরু করে অসীম আকাশ পর্যন্ত সবকিছুর রহস্য ভেদ করবেন।
প্রশ্ন ১৫: এই কবিতায় 'সংকল্প' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: 'সংকল্প' মানে হলো দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। এই কবিতায় কবি সংকল্প করেছেন যে তিনি কখনোই অলসভাবে বদ্ধ ঘরে বসে থাকবেন না। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও পৃথিবীর সমস্ত অজানা রহস্য ভেদ করবেন, সাগর-পাহাড়-আকাশ জয় করবেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় পুরো বিশ্বজগতকে নিজের হাতের মুঠোয় এনে বিশ্বজয়ী হবেন।
প্রশ্ন ১৬: কাজী নজরুল ইসলামকে কেন বিদ্রোহী কবি বলা হয়, এবং এই কবিতায় তার কোনো ছাপ আছে কি?
উত্তর: কাজী নজরুল ইসলাম সবসময় অন্যায়, অবিচার ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রবলভাবে বিদ্রোহ করেছেন বলে তাঁকে 'বিদ্রোহী কবি' বলা হয়। 'সংকল্প' কবিতায় সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বিদ্রোহ না থাকলেও, গণ্ডিবদ্ধ ও অলস জীবনের বিরুদ্ধে তার যে অদম্য বিদ্রোহ এবং অজানাকে জয় করার যে বাঁধনহারা সাহস প্রকাশ পেয়েছে, তা তাঁর বিদ্রোহী সত্তারই একটি রূপ।
প্রশ্ন ১৭: 'সংকল্প' কবিতাটি কিশোরদের মনে কেমন প্রভাব ফেলে?
উত্তর: 'সংকল্প' কবিতাটি কিশোরদের মনে অসীম সাহস, কৌতূহল এবং জ্ঞান অর্জনের প্রবল স্পৃহা জাগিয়ে তোলে। এটি তাদের অলসতা ঝেড়ে ফেলে নতুন কিছু করার, নতুন কিছু আবিষ্কার করার এবং দেশ ও দশের কল্যাণে বিশ্বকে হাতের মুঠোয় আনার প্রেরণা জোগায়। এটি কিশোর মনের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন ১৮: কবিতার কাজ-শব্দগুলো (Verb) খুঁজে বের করো এবং সেগুলো দিয়ে কবির মানসিকতা বিচার করো।
উত্তর: কবিতার কাজ-শব্দগুলো হলো—দেখব, ঘুরছে, ছুটছে, মরছে, করছে, আনে, চলছে, টানলে, রইব, টুটে, পড়ব, নামব, উঠব, পুরে ইত্যাদি। এই শব্দগুলো অত্যন্ত গতিশীল ও কর্মমুখর। এগুলো প্রমাণ করে যে কবির মানসিকতা একেবারেই স্থির বা অলস নয়, বরং তিনি সবসময় ছুটে চলতে এবং নতুন কিছু জয় করতে বদ্ধপরিকর।
প্রশ্ন ১৯: 'জোয়ার-বান' কীভাবে সাগরকে উথলে তোলে?
উত্তর: চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষীয় আকর্ষণের ফলে পৃথিবীর সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠে, একে জোয়ার বলে। এই জোয়ারের টান যখন খুব প্রবল হয়, তখন তাকে জোয়ার-বান বলা হয়। এই প্রবল আকর্ষণের ফলেই সাগরের শান্ত জলরাশি ফুলে-ফেঁপে উথলে ওঠে এবং ঢেউয়ের পর ঢেউ তৈরি করে।
প্রশ্ন ২০: "সংকল্প" কবিতাটি পড়ে তুমি নিজে কী সংকল্প গ্রহণ করলে?
উত্তর: "সংকল্প" কবিতাটি পড়ে আমি সংকল্প গ্রহণ করলাম যে, আমিও অলসভাবে ঘরে বসে সময় নষ্ট করব সমাধ্যায় আমি মনোযোগ দিয়ে পড়ালেখা করব এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে নিজেকে সমৃদ্ধ করব। ভয় বা বাধাকে জয় করে নতুন কিছু আবিষ্কার করার মাধ্যমে আমিও একদিন বিশ্বজগতকে নিজের হাতের মুঠোয় এনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করব।