বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২৬ - পাখির মতো
১ শব্দার্থ লিখন
  • ১. কর্ণফুলী: একটি নদীর নাম (চট্টগ্রামে অবস্থিত)।
  • ২. কাঁঠালচাঁপা: হলুদ রঙের একধরনের সুগন্ধি ফুল।
  • ৩. দুধভরা ওই চাঁদের বাটি: পূর্ণিমার চাঁদকে বা স্নিগ্ধ জোছনাকে বোঝানো হয়েছে।
  • ৪. বন্য: বুনো বা স্বাধীন প্রকৃতির।
  • ৫. গন্ধ: সুবাস বা ঘ্রাণ।
  • ৬. কূল: নদীর পাড় বা তীর।
  • ৭. গাঁ: গ্রাম।
  • ৮. ফেরেস্তা: ঈশ্বরের দূত বা ফেরেশতা।
  • ৯. পাঠ: পড়ালেখা বা অধ্যয়ন।
  • ১০. ইচ্ছা: বাসনা বা আকাঙ্ক্ষা।
২ বাক্য গঠন (১০টি)
সেট ১ (৫টি)
কর্ণফুলী | কাঁঠালচাঁপা | বন্য | কূল | গন্ধ
  • কর্ণফুলী: কর্ণফুলী নদীর ধারে পাহাড়ি দৃশ্য খুব সুন্দর।
  • কাঁঠালচাঁপা: কাঁঠালচাঁপার গন্ধে আমার পড়ালেখায় মন বসে না।
  • বন্য: বন্য প্রাণীরা বনেই সুন্দর।
  • কূল: নদীর কূলে বসে থাকতে আমার খুব ভালো লাগে।
  • গন্ধ: রাতের বেলা বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধ ভেসে আসে।
সেট ২ (৫টি)
গাঁ | ইচ্ছা | পাঠ | বকুল | ফেরেস্তা
  • গাঁ: আমাদের সবুজ গাঁয়ে একটি ছোট নদী আছে।
  • ইচ্ছা: আমার পাখির মতো আকাশে ওড়ার ইচ্ছা জাগে।
  • পাঠ: আম্মা আমাকে মন দিয়ে পাঠ শিখতে বললেন।
  • বকুল: বকুল গাছের ডালে বসে একটি পাখি ডাকছে।
  • ফেরেস্তা: ফেরেস্তারা যেন আকাশ থেকে চাঁদের আলো ঢেলে দিচ্ছে।
৩ শূন্যস্থান পূরণকরণ (১০টি)
নির্দেশনা: উপরের বক্স থেকে সঠিক শব্দটিতে ক্লিক করলে তা নিচের ফাঁকা স্থানে বসে যাবে। ভুল হলে ফাঁকা স্থানের শব্দে ক্লিক করে সেটি মুছে ফেলা যাবে। সবগুলো পূরণ হয়ে গেলে 'উত্তর মেলাও' বাটনে ক্লিক করো।
সেট ১ (৫টি)
ইচ্ছে কর্ণফুলীর মন পাখির কাঁঠালচাঁপার গাঁয়ে কূলটায় বকুল
১. আম্মা বলেন, পড়রে সোনা / আব্বা বলেন, _____ দে।
২. পাঠে আমার মন বসে না / _____ গন্ধে।
৩. আমার কেবল _____ জাগে / নদীর কাছে থাকতে।
৪. বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে / _____ মতো ডাকতে।
৫. সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে / _____ কূলটায়।
সঠিক উত্তর:
১. মন
২. কাঁঠালচাঁপার
৩. ইচ্ছে
৪. পাখির
৫. কর্ণফুলীর
সেট ২ (৫টি)
বন্য গাঁয়ে ফেরেস্তারা উড়ব মানুষ শহর পাখিই চাঁদের
৬. দুধভরা ওই চাঁদের বাটি / _____ উল্টায়।
৭. তখন কেবল ভাবতে থাকি / কেমন করে _____।
৮. কেমন করে শহর ছেড়ে / সবুজ _____ ঘুরব!
৯. তোমরা যখন শিখছ পড়া / _____ হওয়ার জন্য।
১০. আমি না হয় পাখিই হব, / পাখির মতো _____।
সঠিক উত্তর:
৬. ফেরেস্তারা
৭. উড়ব
৮. গাঁয়ে
৯. মানুষ
১০. বন্য
৪ বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর (৫০টি)
নির্দেশনা: সঠিক উত্তরে ক্লিক করো। উত্তর সঠিক হলে সবুজ এবং ভুল হলে লাল দেখাবে। উত্তর দেওয়ার পর নিচে ব্যাখ্যা দেখতে পাবে।
১. 'পাখির মতো' কবিতাটির কবির নাম কী?
(ক) জসীমউদ্দীন (খ) আল মাহমুদ (গ) শামসুর রাহমান (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: (খ) আল মাহমুদ।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ে কবিতাটির কবির নাম আল মাহমুদ।
২. আম্মা কবিকে কী বলেন?
(ক) মন দে (খ) পড়রে সোনা (গ) ঘুমাও (ঘ) খেলতে যাও
উত্তর: (খ) পড়রে সোনা।
ব্যাখ্যা: কবিতার প্রথম লাইন—"আম্মা বলেন, পড়রে সোনা"।
৩. আব্বা কবিকে কী করতে বলেন?
(ক) মন দিতে (খ) খেলতে (গ) ঘুমাতে (ঘ) গল্প করতে
উত্তর: (ক) মন দিতে।
ব্যাখ্যা: "আব্বা বলেন, মন দে"।
৪. কবির কোথায় মন বসে না?
(ক) খেলায় (খ) পাঠে বা পড়ালেখায় (গ) গানে (ঘ) ঘুমে
উত্তর: (খ) পাঠে বা পড়ালেখায়।
ব্যাখ্যা: "পাঠে আমার মন বসে না" বলা হয়েছে।
৫. কীসের গন্ধে কবির পাঠে মন বসে না?
(ক) গোলাপের (খ) বকুল ফুলের (গ) কাঁঠালচাঁপার (ঘ) হাসনাহেনার
উত্তর: (গ) কাঁঠালচাঁপার।
ব্যাখ্যা: কাঁঠালচাঁপার গন্ধে কবির মন উদাস হয়ে যায়।
৬. 'কাঁঠালচাঁপা' কী?
(ক) এক প্রকার ফল (খ) এক প্রকার হলুদ রঙের ফুল (গ) এক প্রকার পাখি (ঘ) এক প্রকার নদী
উত্তর: (খ) এক প্রকার হলুদ রঙের ফুল।
ব্যাখ্যা: শব্দার্থ অংশে বলা হয়েছে এটি হলুদ রঙের একধরনের ফুল।
৭. কবির কেবল কী ইচ্ছা জাগে?
(ক) শহরে যাওয়ার (খ) নদীর কাছে থাকার (গ) পাহাড় দেখার (ঘ) স্কুলে যাওয়ার
উত্তর: (খ) নদীর কাছে থাকার।
ব্যাখ্যা: "আমার কেবল ইচ্ছে জাগে / নদীর কাছে থাকতে"।
৮. কবি কোন গাছের ডালে লুকিয়ে থাকতে চান?
(ক) আম ডালে (খ) কদম ডালে (গ) বকুল ডালে (ঘ) জাম ডালে
উত্তর: (গ) বকুল ডালে।
ব্যাখ্যা: "বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে" বলা হয়েছে।
৯. বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে কবি কীসের মতো ডাকতে চান?
(ক) কোকিলের মতো (খ) পাখির মতো (গ) দোয়েলের মতো (ঘ) প্যাঁচার মতো
উত্তর: (খ) পাখির মতো।
ব্যাখ্যা: "পাখির মতো ডাকতে" বলা হয়েছে।
১০. সবাই কখন ঘুমিয়ে পড়ে?
(ক) দুপুরে (খ) বিকেলে (গ) রাতের বেলা (ঘ) সকালে
উত্তর: (গ) রাতের বেলা।
ব্যাখ্যা: চাঁদের আলো ও ফেরেস্তাদের বাটি উল্টানোর সময় সবাই রাতে ঘুমায়।
১১. সবাই কোন নদীর কূলটায় ঘুমিয়ে পড়ে?
(ক) পদ্মা (খ) মেঘনা (গ) যমুনা (ঘ) কর্ণফুলীর
উত্তর: (ঘ) কর্ণফুলীর।
ব্যাখ্যা: "সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে / কর্ণফুলীর কূলটায়"।
১২. 'কর্ণফুলী' কী?
(ক) একটি পাহাড়ের নাম (খ) একটি নদীর নাম (গ) একটি গ্রামের নাম (ঘ) একটি ফুলের নাম
উত্তর: (খ) একটি নদীর নাম।
ব্যাখ্যা: কর্ণফুলী বাংলাদেশের চট্টগ্রামের একটি বিখ্যাত নদী।
১৩. চাঁদের বাটি কেমন?
(ক) জলভরা (খ) দুধভরা (গ) মেঘভরা (ঘ) শূন্য
উত্তর: (খ) দুধভরা।
ব্যাখ্যা: "দুধভরা ওই চাঁদের বাটি" বলা হয়েছে।
১৪. 'দুধভরা ওই চাঁদের বাটি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) আকাশে মেঘের ভেলা (খ) পূর্ণিমার চাঁদ বা জোছনা (গ) রাতের আঁধার (ঘ) ভোরের সূর্য
উত্তর: (খ) পূর্ণিমার চাঁদ বা জোছনা।
ব্যাখ্যা: পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ আলো দুধের মতো সাদা হয় বলে এই উপমা দেওয়া হয়েছে।
১৫. চাঁদের বাটি কারা উল্টায়?
(ক) শিশুরা (খ) পাখিরা (গ) ফেরেস্তারা (ঘ) মানুষ
উত্তর: (গ) ফেরেস্তারা।
ব্যাখ্যা: "ফেরেস্তারা উল্টায়" বলা হয়েছে।
১৬. ফেরেস্তারা চাঁদের বাটি উল্টালে কী হয়?
(ক) জোছনা ছড়িয়ে পড়ে (খ) বৃষ্টি হয় (গ) আঁধার হয় (ঘ) ভোর হয়
উত্তর: (ক) জোছনা ছড়িয়ে পড়ে।
ব্যাখ্যা: চাঁদের আলো পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়াকে বাটি উল্টানোর সাথে তুলনা করা হয়েছে।
১৭. কবি তখন কেবল কী ভাবতে থাকেন?
(ক) কেমন করে পড়বেন (খ) কেমন করে উড়বেন (গ) কেমন করে ঘুমাবেন (ঘ) কেমন করে গান গাইবেন
উত্তর: (খ) কেমন করে উড়বেন।
ব্যাখ্যা: "তখন কেবল ভাবতে থাকি / কেমন করে উড়ব"।
১৮. কবি কী ছেড়ে চলে যেতে চান?
(ক) গ্রাম (খ) শহর (গ) দেশ (ঘ) পৃথিবী
উত্তর: (খ) শহর।
ব্যাখ্যা: "কেমন করে শহর ছেড়ে" বলা হয়েছে।
১৯. শহর ছেড়ে কবি কোথায় ঘুরতে চান?
(ক) পাহাড়ে (খ) সাগরে (গ) সবুজ গাঁয়ে (ঘ) বিদেশে
উত্তর: (গ) সবুজ গাঁয়ে।
ব্যাখ্যা: "সবুজ গাঁয়ে ঘুরব!" বলা হয়েছে।
২০. 'তোমরা যখন শিখছ পড়া'—কারা পড়া শিখছে?
(ক) পাখিরা (খ) সাধারণ মানুষেরা/শিশুরা (গ) ফেরেস্তারা (ঘ) পশুরা
উত্তর: (খ) সাধারণ মানুষেরা/শিশুরা।
ব্যাখ্যা: কবি সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন।
২১. মানুষ কী হওয়ার জন্য পড়া শিখছে?
(ক) ধনী হওয়ার জন্য (খ) মানুষ হওয়ার জন্য (গ) ডাক্তার হওয়ার জন্য (ঘ) নেতা হওয়ার জন্য
উত্তর: (খ) মানুষ হওয়ার জন্য।
ব্যাখ্যা: "মানুষ হওয়ার জন্য" বলা হয়েছে।
২২. পড়ালেখা করে মানুষ না হয়ে কবি কী হতে চান?
(ক) ফুল (খ) নদী (গ) পাখি (ঘ) মেঘ
উত্তর: (গ) পাখি।
ব্যাখ্যা: "আমি না হয় পাখিই হব"।
২৩. কবি কেমন পাখি হতে চান?
(ক) খাঁচার পাখি (খ) পাখির মতো বন্য (গ) শান্ত পাখি (ঘ) পোষা পাখি
উত্তর: (খ) পাখির মতো বন্য।
ব্যাখ্যা: "পাখির মতো বন্য" বলা হয়েছে।
২৪. 'বন্য' শব্দের অর্থ কী?
(ক) শান্ত (খ) পোষা (গ) বুনো বা স্বাধীন প্রকৃতির (ঘ) অলস
উত্তর: (গ) বুনো বা স্বাধীন প্রকৃতির।
ব্যাখ্যা: শব্দার্থ অংশে বন্য অর্থ বুনো বলা হয়েছে।
২৫. এই কবিতায় কবির মনে কিসের প্রতি তীব্র আকর্ষণ প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) শহরের প্রতি (খ) পড়ালেখার প্রতি (গ) প্রকৃতির প্রতি বা স্বাধীন জীবনের প্রতি (ঘ) অর্থের প্রতি
উত্তর: (গ) প্রকৃতির প্রতি বা স্বাধীন জীবনের প্রতি।
ব্যাখ্যা: কবি প্রকৃতির মাঝে পাখির মতো স্বাধীনভাবে বাঁচতে চান।
২৬. 'কূল' শব্দের অর্থ কী?
(ক) কিনারা বা নদীর পাড় (খ) পরিবার (গ) বংশ (ঘ) একটি ফল
উত্তর: (ক) কিনারা বা নদীর পাড়।
ব্যাখ্যা: কর্ণফুলীর কূল বলতে কর্ণফুলী নদীর পাড় বোঝানো হয়েছে।
২৭. 'গাঁ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) গান (খ) গ্রাম (গ) গাভী (ঘ) গগন
উত্তর: (খ) গ্রাম।
ব্যাখ্যা: গাঁ মানে হলো গ্রাম বা পল্লি।
২৮. 'ইচ্ছা' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
(ক) অনিচ্ছা (খ) আকাঙ্ক্ষা বা বাসনা (গ) বাধা (ঘ) ভয়
উত্তর: (খ) আকাঙ্ক্ষা বা বাসনা।
ব্যাখ্যা: ইচ্ছা মানে কোনো কিছু পাওয়ার আশা।
২৯. 'ফেরেস্তা' কারা?
(ক) মানুষ (খ) ঈশ্বরের দূত (গ) পাখি (ঘ) জিন
উত্তর: (খ) ঈশ্বরের দূত।
ব্যাখ্যা: ধর্মে বর্ণিত স্বর্গীয় বা ঈশ্বরের দূতদের ফেরেস্তা বা ফেরেশতা বলা হয়।
৩০. কবি কখন বকুল ডালে লুকিয়ে থাকতে চান?
(ক) যখন ইচ্ছে জাগে (খ) যখন বৃষ্টি হয় (গ) যখন রাত হয় (ঘ) যখন রোদ ওঠে
উত্তর: (ক) যখন ইচ্ছে জাগে।
ব্যাখ্যা: কবির ইচ্ছে জাগে বকুল ডালে লুকিয়ে পাখির মতো ডাকতে।
৩১. "এক্ষুনি পড়তে বসো"—বাক্যটি কোন ভাবের? (অনুশীলনী ৫ অনুযায়ী)
(ক) ইচ্ছা (খ) আদেশ (গ) বিস্ময় (ঘ) উপদেশ
উত্তর: (খ) আদেশ।
ব্যাখ্যা: এখানে জোর দিয়ে কিছু করতে বলা হচ্ছে, তাই এটি আদেশ।
৩২. "আমি যদি সাঁতার কাটতে পারতাম!"—এটি কোন ধরনের বাক্য?
(ক) আদেশ (খ) ইচ্ছা (গ) নিষেধ (ঘ) অনুরোধ
উত্তর: (খ) ইচ্ছা।
ব্যাখ্যা: মনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
৩৩. "তুমি একা পুকুরে যেয়ো না"—এটি কী ধরনের বাক্য?
(ক) নিষেধ (খ) বিস্ময় (গ) আদেশ (ঘ) ইচ্ছা
উত্তর: (ক) নিষেধ।
ব্যাখ্যা: কোনো কাজ করতে বারণ করা হয়েছে।
৩৪. "আর একটা গান গাও না!"—এই বাক্যে কোন ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) আদেশ (খ) অনুরোধ (গ) নিষেধ (ঘ) উপদেশ
উত্তর: (খ) অনুরোধ।
ব্যাখ্যা: কাউকে বিনীতভাবে কিছু করতে বলা হচ্ছে।
৩৫. "ফুলটার কী সুন্দর ঘ্রাণ!"—এটি কোন ভাবের বাক্য?
(ক) প্রশ্ন (খ) বিস্ময় (গ) ইচ্ছা (ঘ) আদেশ
উত্তর: (খ) বিস্ময়।
ব্যাখ্যা: সৌন্দর্য দেখে অবাক হওয়ার ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
৩৬. "স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিয়ো"—বাক্যটি কোন ভাবের?
(ক) উপদেশ (খ) নিষেধ (গ) আদেশ (ঘ) বিস্ময়
উত্তর: (ক) উপদেশ।
ব্যাখ্যা: কাউকে ভালো কিছুর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
৩৭. আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের কেমন কবি?
(ক) আধুনিক ও অন্যতম প্রধান কবি (খ) শিশুসাহিত্যিক (গ) নাট্যকার (ঘ) পল্লিকবি
উত্তর: (ক) আধুনিক ও অন্যতম প্রধান কবি।
ব্যাখ্যা: আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের একজন প্রখ্যাত আধুনিক কবি।
৩৮. কবিতায় কোন রঙের ফুলের কথা বলা হয়েছে?
(ক) লাল (খ) নীল (গ) হলুদ রঙের (ঘ) সাদা রঙের
উত্তর: (গ) হলুদ রঙের।
ব্যাখ্যা: কাঁঠালচাঁপা হলো হলুদ রঙের সুগন্ধি ফুল।
৩৯. 'পাঠ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) পাঠানো (খ) পড়ালেখা বা অধ্যয়ন (গ) নদী (ঘ) পাতা
উত্তর: (খ) পড়ালেখা বা অধ্যয়ন।
ব্যাখ্যা: পাঠে মন বসে না বলতে পড়ালেখায় মন না বসার কথা বলা হয়েছে।
৪০. 'আম্মা' ও 'আব্বা' বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?
(ক) বন্ধুদের (খ) শিক্ষককে (গ) মাতা-পিতাকে (ঘ) প্রতিবেশীকে
উত্তর: (গ) মাতা-পিতাকে।
ব্যাখ্যা: মা-বাবাকে আদর করে আম্মা-আব্বা বলা হয়।
৪১. কবি কেন শহর ছেড়ে যেতে চান?
(ক) শহরে তাঁর ভালো লাগে না বলে (খ) গ্রামে স্কুল নেই বলে (গ) শহরে অনেক গাছ বলে (ঘ) শহরে ফেরেস্তারা আসে না বলে
উত্তর: (ক) শহরে তাঁর ভালো লাগে না বলে।
ব্যাখ্যা: শহরের যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে তিনি সবুজ গ্রামে স্বাধীনভাবে বাঁচতে চান।
৪২. 'দুধভরা' শব্দের দ্বারা চাঁদের আলোর কী বৈশিষ্ট্য বোঝানো হয়েছে?
(ক) হলুদ রং (খ) স্নিগ্ধতা ও শুভ্রতা (গ) উত্তাপ (ঘ) বিশালতা
উত্তর: (খ) স্নিগ্ধতা ও শুভ্রতা।
ব্যাখ্যা: দুধের মতো সাদা ও স্নিগ্ধ আলো।
৪৩. 'পাখির মতো' কবিতায় শিশুটির মনের কোন ভাবটি প্রবল?
(ক) পড়ালেখায় মন দেওয়া (খ) নিয়ম-শৃঙ্খলায় থাকা (গ) বাঁধনহারা মুক্তির আনন্দ (ঘ) শহরে বসবাসের ইচ্ছা
উত্তর: (গ) বাঁধনহারা মুক্তির আনন্দ।
ব্যাখ্যা: সে নিয়ম ভেঙে পাখির মতো স্বাধীন হতে চায়।
৪৪. 'মানুষ হওয়ার জন্য' বলতে কী বোঝায়?
(ক) বড় হওয়া (খ) মানুষের মতো আকৃতি পাওয়া (গ) শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হওয়া (ঘ) ধনী হওয়া
উত্তর: (গ) শিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হওয়া।
ব্যাখ্যা: পড়ালেখা করে জ্ঞান অর্জন করা।
৪৫. বকুল একটি কীসের নাম?
(ক) পাখি (খ) ফুল ও গাছের নাম (গ) নদীর নাম (ঘ) রঙের নাম
উত্তর: (খ) ফুল ও গাছের নাম।
ব্যাখ্যা: বকুল গাছে সুগন্ধি বকুল ফুল ফোটে।
৪৬. 'ঘুমিয়ে পড়ে'—এখানে 'পড়ে' কোন পদ?
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ (গ) ক্রিয়া (ঘ) অব্যয়
উত্তর: (গ) ক্রিয়া।
ব্যাখ্যা: এটি একটি কাজ করা বোঝাচ্ছে।
৪৭. 'সবুজ গাঁয়ে ঘুরব'—এখানে 'সবুজ' কোন পদ?
(ক) বিশেষ্য (খ) বিশেষণ (গ) সর্বনাম (ঘ) ক্রিয়া
উত্তর: (খ) বিশেষণ।
ব্যাখ্যা: এটি গাঁ বা গ্রামের অবস্থা/রং প্রকাশ করছে।
৪৮. 'বন্য' শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
(ক) বুনো (খ) গৃহপালিত বা পোষা (গ) স্বাধীন (ঘ) রাগী
উত্তর: (খ) গৃহপালিত বা পোষা।
ব্যাখ্যা: বন্য প্রাণীর বিপরীত হলো পোষা প্রাণী।
৪৯. কর্ণফুলী নদী কোথায় অবস্থিত?
(ক) ঢাকায় (খ) সিলেটে (গ) চট্টগ্রামে (ঘ) রাজশাহীতে
উত্তর: (গ) চট্টগ্রামে।
ব্যাখ্যা: কর্ণফুলী বাংলাদেশের চট্টগ্রামের প্রধান নদী।
৫০. 'পাখির মতো' কবিতাটি পড়লে আমাদের মনে কেমন অনুভূতি জাগে?
(ক) প্রকৃতির কাছে যাওয়ার আকুল বাসনা (খ) শহরে থাকার ইচ্ছা (গ) পড়ালেখা করার ইচ্ছা (ঘ) ঘুমানোর ইচ্ছা
উত্তর: (ক) প্রকৃতির কাছে যাওয়ার আকুল বাসনা।
ব্যাখ্যা: কবিতার প্রতিটি লাইনে প্রকৃতির প্রতি অমোঘ টান প্রকাশ পেয়েছে।
৫ বিপরীত শব্দ ও সমার্থক শব্দ
বিপরীত শব্দ (২০টি)
প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ
বন্যগৃহপালিত / পোষাঘুমন্তজাগ্রত
শহরগ্রাম / গাঁউল্টায়সোজা করে
মানুষঅমানুষ / পশুআলোআঁধার
ইচ্ছাঅনিচ্ছাস্বাধীনপরাধীন
কাছেদূরেরাতদিন
ভরাখালি / শূন্যআনন্দদুঃখ
সোনালোহা / খাদশুরুশেষ
সবুজশুষ্ক / বিবর্ণশান্তঅশান্ত
আকাশপাতালকান্নাহাসি
আসাযাওয়াপ্রশ্নউত্তর
সমার্থক শব্দ (১০টি)
প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ
গাঁগ্রাম, পল্লি
কূলতীর, পাড়, তট
नদীস্রোতস্বিনী, তটিনী
চাঁদচন্দ্র, শশী, সুধাকর
পাখিপক্ষী, খেচর, বিহঙ্গ
গন্ধসুবাস, ঘ্রাণ, সৌরভ
ইচ্ছাবাসনা, আকাঙ্ক্ষা, সাধ
পাঠঅধ্যয়ন, পড়ালেখা
আকাশগগন, আসমান
বন্যবুনো, অরণ্যচারী
৬ সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: 'পাখির মতো' কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: 'পাখির মতো' কবিতাটি লিখেছেন বিখ্যাত কবি আল মাহমুদ।
প্রশ্ন ২: আম্মা ও আব্বা কবিকে কী বলেন?
উত্তর: আম্মা কবিকে আদর করে 'পড়রে সোনা' বলেন এবং আব্বা তাকে পাঠে 'মন দে' বা মন দিতে বলেন।
প্রশ্ন ৩: কবির কোথায় মন বসে না?
উত্তর: আব্বা-আম্মা পড়তে বসতে বললেও কবির পাঠে বা পড়ালেখায় মন বসে না।
প্রশ্ন ৪: কীসের গন্ধে কবির পাঠে মন বসে না?
উত্তর: বাইরে ফুটে থাকা সুগন্ধি কাঁঠালচাঁপা ফুলের গন্ধে কবির পাঠে মন বসে না।
প্রশ্ন ৫: কবির কেবল কী ইচ্ছা জাগে?
উত্তর: কবির কেবল নদীর কাছে যাওয়ার এবং বকুল ডালে লুকিয়ে পাখির মতো ডাকার ইচ্ছা জাগে।
প্রশ্ন ৬: কবি কোথায় লুকিয়ে থাকতে চান?
উত্তর: কবি বকুল গাছের ডালে লুকিয়ে থাকতে চান।
প্রশ্ন ৭: কবি কার মতো ডাকতে চান?
উত্তর: কবি বকুল ডালে লুকিয়ে পাখির মতো স্বাধীনভাবে ডাকতে চান।
প্রশ্ন ৮: সবাই কখন ঘুমিয়ে পড়ে?
উত্তর: রাতের বেলা চাঁদের আলো যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ৯: সবাই কোথায় ঘুমিয়ে পড়ে?
উত্তর: সবাই কর্ণফুলী নদীর কূলটায় বা তীরে ঘুমিয়ে পড়ে।
প্রশ্ন ১০: 'দুধভরা ওই চাঁদের বাটি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: 'দুধভরা ওই চাঁদের বাটি' বলতে রাতের আকাশে ওঠা পূর্ণিমার চাঁদের স্নিগ্ধ ও সাদা আলো বা জোছনাকে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ১১: চাঁদের বাটি কারা উল্টায়?
উত্তর: কবির কল্পনায়, রাতের আকাশে ফেরেস্তারা যেন দুধভরা চাঁদের বাটি উল্টে পৃথিবীতে আলো ছড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন ১২: ফেরেস্তারা চাঁদের বাটি উল্টালে কবি কী ভাবতে থাকেন?
উত্তর: জোছনা রাতে কবি কেবল ভাবতে থাকেন, কেমন করে তিনি পাখির মতো আকাশে উড়বেন।
প্রশ্ন ১৩: কবি শহর ছেড়ে কোথায় ঘুরতে চান?
উত্তর: যান্ত্রিক শহর ছেড়ে কবি প্রকৃতির কাছাকাছি সবুজ গাঁয়ে বা গ্রামে ঘুরতে চান।
প্রশ্ন ১৪: সাধারণ মানুষ কেন পড়া শিখছে?
উত্তর: সাধারণ মানুষ জীবনে বড় হওয়ার এবং প্রকৃত মানুষ হওয়ার জন্য পড়া শিখছে।
প্রশ্ন ১৫: কবি মানুষ না হয়ে কী হতে চান?
উত্তর: কবি পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার বদলে বন্য পাখির মতো স্বাধীন হতে চান।
প্রশ্ন ১৬: কবি কেন পাখির মতো বন্য হতে চান?
উত্তর: শহরের বদ্ধ ও নিয়মকানুনে ঘেরা জীবন কবির ভালো লাগে না। তাই তিনি পাখির মতো স্বাধীন ও বন্য জীবন যাপন করতে চান।
প্রশ্ন ১৭: 'কর্ণফুলী' কী?
উত্তর: কর্ণফুলী হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার একটি বিখ্যাত ও সুন্দর নদীর নাম।
প্রশ্ন ১৮: "আমি যদি সাঁতার কাটতে পারতাম!"—এটি কোন ভাবের বাক্য?
উত্তর: এই বাক্যটিতে মনের একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, তাই এটি 'ইচ্ছা' ভাবের বাক্য।
প্রশ্ন ১৯: "এক্ষুনি পড়তে বসো"—এটি কোন ভাবের বাক্য?
উত্তর: এই বাক্যে জোর দিয়ে কিছু করতে বলা হয়েছে, তাই এটি 'আদেশ' ভাবের বাক্য।
প্রশ্ন ২০: 'কাঁঠালচাঁপা' কী?
উত্তর: কাঁঠালচাঁপা হলো এক প্রকার হলুদ রঙের ফুল, যার খুব মিষ্টি ও তীব্র সুগন্ধ রয়েছে।
৭ বিস্তৃত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: কবির পাঠে মন বসে না কেন?
উত্তর: কবির আব্বা-আম্মা তাকে পড়ালেখা করতে বলেন। কিন্তু ঘরের বাইরের প্রকৃতির হাতছানি কবিকে ব্যাকুল করে তোলে। বাইরে ফুটে থাকা কাঁঠালচাঁপা ফুলের তীব্র ও মিষ্টি সুবাস বাতাসে ভেসে আসে। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য ও সুবাস কবির মনকে উদাস করে দেয়, ফলে তার আর কিছুতেই বদ্ধ ঘরে বসে পাঠে বা পড়ালেখায় মন বসে না।
প্রশ্ন ২: নদীর কাছে গিয়ে কবি কী করতে চান?
উত্তর: নদীর কাছে প্রকৃতির শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ বিরাজ করে। কবির প্রবল ইচ্ছা হয় ঘরের একঘেয়েমি ছেড়ে সেই নদীর কাছে ছুটে যেতে। সেখানে গিয়ে তিনি কোনো বকুল গাছের ঘন ডালে লুকিয়ে থাকতে চান এবং স্বাধীনভাবে মনের আনন্দে পাখির মতো ডাকতে চান।
প্রশ্ন ৩: 'দুধভরা ওই চাঁদের বাটি ফেরেস্তারা উল্টায়'—লাইন দুটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: রাতের আকাশে যখন পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে, তখন তার আলো দুধের মতোই শুভ্র ও স্নিগ্ধ হয়। কবির শিশুসুলভ কল্পনায় মনে হয়, আকাশে থাকা ফেরেস্তারা যেন দুধভরা বাটি উল্টে দিয়েছে এবং সেই বাটি উপচে পড়া স্নিগ্ধ আলোই চাঁদের জোছনা হয়ে পৃথিবীতে কর্ণফুলী নদীর কূলে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রকৃতির এই ঐশ্বরিক রূপ বোঝাতেই কবি এমন সুন্দর উপমা ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন ৪: রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে কবির মনে কী ভাবনার উদয় হয়?
উত্তর: রাতের বেলা কর্ণফুলীর কূলে সবাই যখন শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে এবং চারপাশে স্নিগ্ধ জোছনা ছড়িয়ে থাকে, তখন কবির চোখে ঘুম আসে না। তিনি বিছানায় শুয়ে শুয়ে কেবল ভাবতে থাকেন, কীভাবে তিনি ডানা মেলে পাখির মতো আকাশে উড়বেন এবং এই ইটের শহর ছেড়ে সবুজ গ্রামে গিয়ে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াবেন।
প্রশ্ন ৫: কবি মানুষ হওয়ার বদলে পাখির মতো বন্য হতে চান কেন?
উত্তর: মানুষ হওয়ার জন্য অনেক নিয়মকানুন মানতে হয় এবং সারাদিন বদ্ধ ঘরে বসে পড়ালেখা করতে হয়। শহরের এই যান্ত্রিক ও শৃঙ্খলিত জীবন কবির শিশুমনকে আনন্দ দেয় না। অন্যদিকে, বন্য পাখিদের কোনো নিয়ম মানতে হয় না, তারা প্রকৃতির কোলে বাধাহীনভাবে উড়ে বেড়ায়। এই স্বাধীনতার অমোঘ আকর্ষণে কবি মানুষ না হয়ে পাখির মতো বন্য হতে চান।
প্রশ্ন ৬: 'পাখির মতো' কবিতায় শিশু মনের কোন চিরায়ত রূপ ফুটে উঠেছে?
উত্তর: শিশুরা স্বভাবতই স্বাধীনচেতা হয়। তারা চারদেয়ালের মাঝে আটকে থাকতে বা একটানা পড়ালেখা করতে পছন্দ করে না। বাইরের খোলা আকাশ, নদী, গাছপালা এবং পাখিদের স্বাধীন উড্ডয়ন তাদের মনকে ভীষণভাবে টানে। 'পাখির মতো' কবিতায় পড়া ফেলে প্রকৃতির কাছে ছুটে যাওয়ার এই চিরায়ত শিশুসুলভ চঞ্চলতা ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাই ফুটে উঠেছে।
প্রশ্ন ৭: 'সবুজ গাঁয়ে ঘুরব'—কবি কেন শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে যেতে চান?
উত্তর: শহর মানেই কোলাহল, দূষণ এবং ইটের পর ইট দিয়ে তৈরি বহুতল ভবন, যেখানে প্রকৃতির ছোঁয়া খুবই কম। শহরের এই কৃত্রিম ও বদ্ধ পরিবেশ কবির ভালো লাগে না। অন্যদিকে, গ্রাম বা গাঁ হলো সবুজে ঘেরা, শান্ত ও স্নিগ্ধ। সেখানে নদী আছে, গাছপালা আছে, খোলা আকাশ আছে। তাই প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে কবি শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে যেতে চান।
প্রশ্ন ৮: নিচের বাক্যগুলোর ভাব নির্ণয় করো: ক. তুমি একা পুকুরে যেয়ো না। খ. আর একটা গান গাও না! গ. ফুলটার কী সুন্দর ঘ্রাণ! ঘ. স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিয়ো।
উত্তর:
ক. তুমি একা পুকুরে যেয়ো না। -> নিষেধ (বারণ করা হচ্ছে)
খ. আর একটা গান গাও না! -> অনুরোধ (বিনীতভাবে চাওয়া হচ্ছে)
গ. ফুলটার কী সুন্দর ঘ্রাণ! -> বিস্ময় (অবাক হওয়া বোঝাচ্ছে)
ঘ. স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিয়ো। -> উপদেশ (ভালো পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে)
প্রশ্ন ৯: 'পাখির মতো বন্য'—কথাটি দিয়ে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: পোষা পাখিরা খাঁচায় বন্দি থাকে, তাদের কোনো স্বাধীনতা থাকে না। কিন্তু বন্য পাখিরা স্বাধীন, তারা বনের গাছে গাছে ঘুরে বেড়ায়, যখন খুশি আকাশে ওড়ে এবং মনের আনন্দে গান গায়। কবি এই খাঁচায় বন্দি মানুষের জীবন না চেয়ে বন্য পাখিদের মতো মুক্ত ও শৃঙ্খলহীন স্বাধীন জীবন যাপন করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
প্রশ্ন ১০: 'কর্ণফুলী' নদীর উল্লেখ কবিতায় কী আবহ তৈরি করেছে?
উত্তর: কর্ণফুলী বাংলাদেশের চট্টগ্রামের একটি অপরূপ সুন্দর নদী, যার দুই পাড়ে রয়েছে সবুজ পাহাড় ও বনভূমি। কবিতায় এই নদীর কূলের কথা উল্লেখ করার ফলে প্রকৃতির এক মায়াময় ও স্নিগ্ধ আবহ তৈরি হয়েছে। এটি বুঝিয়ে দেয় যে কবি এমন এক প্রাকৃতিক পরিবেশে থাকতে চান যা কর্ণফুলীর মতোই সুন্দর ও প্রশান্তিদায়ক।
প্রশ্ন ১১: কবির কল্পনায় ফেরেস্তারা কী ভূমিকা পালন করছে?
উত্তর: কবির কল্পনায় ফেরেস্তারা হলো স্বর্গীয় দূত, যারা রাতের বেলা পৃথিবীর মানুষকে স্নিগ্ধ আলো উপহার দেয়। তারা যেন আকাশ থেকে দুধভরা চাঁদের বাটি উল্টে দিয়ে পুরো পৃথিবী ও কর্ণফুলীর কূলকে মোহনীয় জোছনায় ভরিয়ে দেয়। ফেরেস্তাদের এই ভূমিকা রাতের দৃশ্যটিকে ঐশ্বরিক সৌন্দর্য দান করেছে।
প্রশ্ন ১২: পড়ালেখার প্রতি কবির অনীহা কেন তৈরি হয়েছে?
উত্তর: পড়ালেখার প্রতি কবির অনীহা তৈরি হওয়ার মূল কারণ হলো বাইরের প্রকৃতির প্রবল আকর্ষণ। তার বাবা-মা তাকে মনোযোগ দিয়ে পড়তে বললেও, জানালার বাইরে ফুটে থাকা কাঁঠালচাঁপা ফুলের সুবাস তার মনকে বাইরের পৃথিবীর দিকে টেনে নেয়। প্রকৃতির এই রূপ-রস-গন্ধ উপভোগ করার তীব্র বাসনার কাছে পড়ালেখা তার কাছে তুচ্ছ মনে হয়।
প্রশ্ন ১৩: 'বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মতো ডাকতে'—কবির এই ইচ্ছার মধ্যে কী লুকিয়ে আছে?
উত্তর: কবির এই ইচ্ছার মধ্যে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়ার এক গভীর বাসনা। সে মানুষের পরিচয় ভুলে প্রকৃতির একটি অংশ (পাখি) হতে চায়। বকুল গাছের ঘন পাতায় লুকিয়ে পাখির মতো ডাকার মধ্য দিয়ে সে মানবজীবনের সব নিয়ম-শৃঙ্খল ভেঙে বাঁধনহারা মুক্তির স্বাদ পেতে চায়।
প্রশ্ন ১৪: "তোমরা যখন শিখছ পড়া মানুষ হওয়ার জন্য"—কবি কাদের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন?
উত্তর: কবি সমাজের সেই সব সাধারণ মানুষ ও শিশুদের উদ্দেশ্য করে এ কথা বলেছেন, যারা বড় হয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এবং 'ভালো মানুষ' হওয়ার জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে পড়ালেখা করছে। কবি তাদের এই গৎবাঁধা জীবনকে কটাক্ষ না করলেও, নিজে সেই পথ থেকে সরে প্রকৃতির কোলে স্বাধীন জীবন বেছে নিতে চেয়েছেন।
প্রশ্ন ১৫: 'পাখির মতো' কবিতাটি পড়ে তুমি কী শিখলে?
উত্তর: 'পাখির মতো' কবিতাটি পড়ে আমি শিখলাম যে, প্রকৃতির এক অদ্ভুত মায়াময় আকর্ষণ রয়েছে যা মানুষের মনকে সতেজ করে। পড়ালেখার পাশাপাশি প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, গাছপালা ও নদী-পাখিদের ভালোবাসা আমাদের মনের বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এটি আমাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেখায়।
প্রশ্ন ১৬: তোমার বাড়ির আশেপাশের কয়েকটি গাছের নাম লেখো। (অনুশীলনী ৭ অনুযায়ী)
উত্তর: আমার বাড়ির আশেপাশে বেশ কিছু পরিচিত গাছ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—আম গাছ, জাম গাছ, কাঁঠাল গাছ, পেয়ারা গাছ, বকুল গাছ, কদম গাছ, নারিকেল গাছ, মেহগনি গাছ, নিম গাছ এবং কৃষ্ণচূড়া গাছ।
প্রশ্ন ১৭: কাঁঠালচাঁপা ফুলের বৈশিষ্ট্য কী?
উত্তর: কাঁঠালচাঁপা হলো এক প্রকার ছোট হলুদ রঙের ফুল। এই ফুলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তীব্র ও মিষ্টি ঘ্রাণ, যা অনেকটা পাকা কাঁঠালের গন্ধের মতো। এই মিষ্টি সুবাস বহুদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মনকে উদাস করে দেয়।
প্রশ্ন ১৮: কবিতায় কোন কোন ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়?
উত্তর: কবিতায় প্রধানত তিনটি ইন্দ্রিয়ের ব্যবহার খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে:
১. ঘ্রাণ ইন্দ্রিয়: কাঁঠালচাঁপা ফুলের গন্ধ অনুভব করা。
২. শ্রবণ ইন্দ্রিয়: পাখির মতো ডাকতে চাওয়া এবং বাবা-মায়ের কথা শোনা。
৩. দর্শন ইন্দ্রিয়: দুধভরা চাঁদের আলো ও সবুজ গাঁ দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
প্রশ্ন ১৯: 'শহর' ও 'সবুজ গাঁ'—এর মধ্যে কবি কেন 'সবুজ গাঁ' বেছে নিয়েছেন?
উত্তর: শহর হলো ইট-পাথর ও যান্ত্রিকতায় ঘেরা, যেখানে খোলা আকাশ, নদী ও গাছপালার অভাব রয়েছে। অন্যদিকে 'সবুজ গাঁ' হলো প্রকৃতির এক শান্ত, স্নিগ্ধ ও সতেজ জায়গা, যেখানে স্বাধীনভাবে পাখির মতো উড়ে বেড়ানো যায়। প্রকৃতির এই অকৃত্রিম সৌন্দর্যের টানেই কবি শহর ছেড়ে সবুজ গাঁ বেছে নিয়েছেন।
প্রশ্ন ২০: আল মাহমুদ সম্পর্কে কয়েকটি বাক্য লেখো। (সাধারণ জ্ঞান)
উত্তর: আল মাহমুদ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও আধুনিক কবি। তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার লোকজ উপাদান, প্রকৃতি ও মানুষের জীবনের কথা অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। 'সোনালী কাবিন' তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। 'পাখির মতো' তাঁর লেখা একটি চমৎকার শিশুতোষ কবিতা, যেখানে শিশু মনের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
৮ কবিতার মূলভাব লিখন
মূলভাব:
'পাখির মতো' কবিতায় শিশু মনের বাঁধনহারা স্বাধীনতা ও প্রকৃতির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা প্রকাশ পেয়েছে। বাবা-মা শিশুটিকে পড়ালেখায় মন দিতে বললেও, বাইরের কাঁঠালচাঁপা ফুলের গন্ধে তার মন উদাস হয়ে যায়। তার ইচ্ছে করে পড়া ফেলে নদীর তীরে গিয়ে বকুল গাছের ডালে লুকিয়ে পাখির মতো স্বাধীনভাবে ডাকতে। রাতের বেলা চাঁদের স্নিগ্ধ আলো যখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তার মন চায় পাখির মতো ডানা মেলে উড়ে গিয়ে ইটের শহর ছেড়ে সবুজ গ্রামে হারিয়ে যেতে। সমাজের গৎবাঁধা নিয়মে পড়ালেখা করে মানুষ হওয়ার চেয়ে, প্রকৃতির কোলে পাখির মতো স্বাধীন ও বন্য জীবন যাপন করাই কবির কাছে বেশি আনন্দের।
৯ পদ নির্ণয় ও ক্রিয়ার কাল (১০টি)
সেট ১: পদ নির্ণয় (৫টি)
  • ১. আম্মা বলেন, পড়রে সোনা।
  • ২. পাঠে আমার মন বসে না।
  • ৩. দুধভরা ওই চাঁদের বাটি।
  • ৪. আমি না হয় পাখিই হব।
  • ৫. কেমন করে শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে ঘুরব!
উত্তর: ১. বিশেষ্য (নাম পদ); ২. বিশেষ্য; ৩. সর্বনাম (নির্দেশক সর্বনাম); ৪. ক্রিয়া (কাজ করা বোঝাচ্ছে); ৫. বিশেষণ (গাঁয়ের অবস্থা/রং বোঝাচ্ছে)।
সেট ২: ক্রিয়ার কাল নির্ণয় (৫টি)
  • ১. আব্বা বলেন, মন দে।
  • ২. সবাই কর্ণফুলীর কূলটায় ঘুমিয়ে পড়ে।
  • ৩. কেমন করে আমি আকাশে উড়ব।
  • ৪. তোমরা পড়া শিখছ।
  • ৫. আমি গতকাল একটি পাখি দেখেছিলাম।
উত্তর: ১. বর্তমান কাল (সাধারণ বর্তমান); ২. বর্তমান কাল (সাধারণ বর্তমান); ৩. ভবিষ্যৎ কাল; ৪. বর্তমান কাল (ঘটমান বর্তমান); ৫. অতীত কাল।
১০ প্রশ্ন তৈরি ও বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (১০টি)
সেট ১: প্রশ্ন তৈরি (৫টি)
অনুচ্ছেদ: কবির পাঠে মন বসে না। কাঁঠালচাঁপার গন্ধে তার মন নদীর কাছে ছুটে যেতে চায়। সে বকুল ডালে লুকিয়ে পাখির মতো ডাকতে চায়। রাতের বেলা ফেরেস্তারা চাঁদের বাটি উল্টায়। তখন কবি পাখির মতো বন্য হয়ে শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে ঘুরতে চান।
  • ১. (কীসে):
  • ২. (কীসের):
  • ৩. (কোথায়):
  • ৪. (কারা):
  • ৫. (কীভাবে):
উত্তর:
১. কবির কীসে মন বসে না?
২. কীসের গন্ধে কবির মন নদীর কাছে ছুটে যেতে চায়?
৩. সে কোথায় লুকিয়ে পাখির মতো ডাকতে চায়?
৪. রাতের বেলা কারা চাঁদের বাটি উল্টায়?
৫. কবি কীভাবে শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে ঘুরতে চান?
সেট ২: বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (৫টি বাক্য)
  • প্রদত্ত অনুচ্ছেদ: সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে কর্ণফুলীর কূলটায় দুধভরা ওই চাঁদের বাটি ফেরেস্তারা উল্টায় তখন কেবল ভাবতে থাকি কেমন করে উড়ব কেমন করে শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে ঘুরব
  • সঠিক রূপ:
    সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে
    কর্ণফুলীর কূলটায়,
    দুধভরা ওই চাঁদের বাটি
    ফেরেস্তারা উল্টায়।
    তখন কেবল ভাবতে থাকি
    কেমন করে উড়ব,
    কেমন করে শহর ছেড়ে
    সবুজ গাঁয়ে ঘুরব!
১১ যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দগঠন (১০টি)
  • ন্ধ = (ন + ধ) = গন্ধ, অন্ধ, বন্ধু
  • চ্ছ = (চ + ছ) = ইচ্ছে, তুচ্ছ, আচ্ছাদন
  • ন্ন = (ন + ন) = অন্ন, ভিন্ন
  • ম্ব = (ম + ব) = কম্বল, লম্বা
  • স্ত = (স + ত) = ফেরেস্তা, সস্তা, প্রস্তুত
  • ন্য = (ন + য-ফলা) = বন্য, ধন্য, গণ্য
  • ব্দ = (ব + দ) = শব্দ, স্তব্ধ
  • ক্ষ = (ক + ষ) = রক্ষা, শিক্ষা
  • ঙ্গ = (ঙ + গ) = অঙ্গ, জঙ্গল
  • ল্ট = (ল + ট) = উল্টায়, পল্টন
১২ এককথায় প্রকাশ (২০টি)
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১. হলুদ রঙের একধরনের সুগন্ধি ফুলকাঁঠালচাঁপা
২. চট্টগ্রামের একটি নদীর নামকর্ণফুলী
৩. ঈশ্বরের দূত বা স্বর্গের বাসিন্দাফেরেস্তা / ফেরেশতা
৪. যা বনের মধ্যে স্বাধীনভাবে থাকেবন্য
৫. দুধের মতো সাদা আলোয় পূর্ণ চাঁদের রূপদুধভরা চাঁদের বাটি / পূর্ণিমা
৬. নদীর ধারের অংশকূল / পাড়
৭. যেখানে অনেক গাছপালা ও খোলামেলা পরিবেশ থাকেগ্রাম / গাঁ
৮. যা পড়া হচ্ছে বা অধ্যয়ন করা হচ্ছেপাঠ
৯. কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাইচ্ছা
১০. যা কোনো নিয়মে বাঁধা নেইস্বাধীন / বন্য
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১১. আকাশে ওড়ে যে প্রাণীপাখি / খেচর
১২. সুবাস বা মিষ্টি গন্ধঘ্রাণ / সুগন্ধ
১৩. ইট-পাথর ও যানবাহনে ঘেরা আধুনিক এলাকাশহর
১৪. যে ফুল দেখতে তারার মতো ও খুব সুগন্ধি (সাধারণত গাছে হয়)বকুল
১৫. যা জোর দিয়ে করতে বলা হয়আদেশ
১৬. যা বিনীতভাবে চাওয়া হয়অনুরোধ
১৭. যা করতে বারণ করা হয়নিষেধ
১৮. যে অবাক হয়ে যায়বিস্মিত
১৯. যা মঙ্গলজনক বা ভালো তার পরামর্শ দেওয়াউপদেশ
২০. মন যা করতে চায়আকাঙ্ক্ষা / ইচ্ছা