১. একসময় কুটির শিল্পের জিনিসপত্র কোথায় বানানো হতো?
(ক) শহরে
(খ) কারখানায়
(গ) বাংলাদেশের গ্রামের কুটিরে
(ঘ) বিদেশে
উত্তর: (গ) বাংলাদেশের গ্রামের কুটিরে।
ব্যাখ্যা: আগে গ্রামের কুটিরে হাতে এসব পণ্য বানানো হতো বলে একে কুটির পণ্য বলে।
২. কুটির শিল্পের পণ্যগুলো কোথায় বিক্রি করা হতো?
(ক) কেবল বিদেশে
(খ) বাজারে বা মেলায়
(গ) বড় শপিং মলে
(ঘ) অনলাইনে
উত্তর: (খ) বাজারে বা মেলায়।
ব্যাখ্যা: গ্রামের মানুষেরা এসব পণ্য বাজারে বা মেলায় নিয়ে বিক্রি করত।
৩. নিচের কোনটি কুটির শিল্পের পণ্য?
(ক) টেলিভিশন
(খ) কম্পিউটার
(গ) শীতলপাটি
(ঘ) উড়োজাহাজ
উত্তর: (গ) শীতলপাটি।
ব্যাখ্যা: শীতলপাটি কুটির শিল্পের একটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য।
৪. চৌদ্দ শতকে কোন বিখ্যাত ভ্রমণকারী বাংলাদেশে এসেছিলেন?
(ক) ফা-হিয়েন
(খ) ইবনে বতুতা
(গ) হিউয়েন সাং
(ঘ) ভাস্কো দা গামা
উত্তর: (খ) ইবনে বতুতা।
ব্যাখ্যা: ইবনে বতুতা চৌদ্দ শতকে বাংলায় আসেন এবং এখানকার কুটির শিল্পের প্রশংসা করেন।
৫. ইবনে বতুতা কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
(ক) মিশর
(খ) মরক্কো
(গ) পর্তুগাল
(ঘ) চীন
উত্তর: (খ) মরক্কো।
ব্যাখ্যা: শব্দার্থ অংশে বলা হয়েছে, ইবনে বতুতা মরক্কোর একজন ভ্রমণকারী।
৬. ইবনে বতুতার বিবরণে বাংলার কোন শিল্পের কথা আছে?
(ক) পোশাক শিল্পের
(খ) কৃষির
(গ) সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের
(ঘ) জাহাজ শিল্পের
উত্তর: (গ) সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের।
ব্যাখ্যা: তিনি বাংলার উন্নত ও সমৃদ্ধ কুটির শিল্পের কথা লিখেছিলেন।
৭. এখন কুটির পণ্য শুধু কুটিরে তৈরি হয় না, আর কোথায় তৈরি হয়?
(ক) বিদেশে
(খ) কারখানাতেও
(গ) সাগরে
(ঘ) আকাশে
উত্তর: (খ) কারখানাতেও।
ব্যাখ্যা: চাহিদা বাড়ার কারণে এখন এসব পণ্য কারখানাতেও তৈরি হয়।
৮. এ দেশের কুটির শিল্পের কোন পণ্যটি পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়েছিল?
(ক) মসলিন কাপড়
(খ) সুতি কাপড়
(গ) রেশমি কাপড়
(ঘ) পাট
উত্তর: (ক) মসলিন কাপড়।
ব্যাখ্যা: মসলিন কাপড় পুরো পৃথিবীতে তার সূক্ষ্মতার জন্য বিখ্যাত ছিল।
৯. মসলিন কাপড় কী দিয়ে বানানো হতো?
(ক) মোটা সুতা দিয়ে
(খ) সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে
(গ) প্লাস্টিক দিয়ে
(ঘ) উলের সুতা দিয়ে
উত্তর: (খ) সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে।
ব্যাখ্যা: মসলিন কাপড় অত্যন্ত সূক্ষ্ম বা মিহি সুতা দিয়ে বোনা হতো।
১০. মসলিন কাপড় কারা ব্যবহার করতেন?
(ক) সাধারণ মানুষ
(খ) মোগল বাদশাহ-বেগমরা
(গ) কৃষকরা
(ঘ) জেলেরা
উত্তর: (খ) মোগল বাদশাহ-বেগমরা।
ব্যাখ্যা: অত্যন্ত দামি হওয়ায় রাজপরিবারের সদস্যরাই এটি ব্যবহার করতেন।
১১. মসলিন কাপড় কিনে নিয়ে যেতেন কোন দেশের বণিকেরা?
(ক) চীন ও জাপানের
(খ) আরব ও ইউরোপের
(গ) আফ্রিকা ও আমেরিকার
(ঘ) শুধু ভারতের
উত্তর: (খ) আরব ও ইউরোপের।
ব্যাখ্যা: আরব ও ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা মসলিনের বড় ক্রেতা ছিলেন।
১২. মাটি দিয়ে কী বানানো হয়?
(ক) চেয়ার-টেবিল
(খ) থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল
(গ) গলার মালা
(ঘ) বস্তা
উত্তর: (খ) থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল।
ব্যাখ্যা: কুমাররা মাটি দিয়ে এসব তৈজসপত্র ও খেলনা (হাতি-ঘোড়া) বানান।
১৩. বাঁশ কী কী তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়?
(ক) কানের দুল
(খ) শতরঞ্জি
(গ) বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি
(ঘ) কাঁথা
উত্তর: (গ) বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি।
ব্যাখ্যা: এগুলো বাঁশ দিয়ে তৈরি কুটির পণ্য।
১৪. 'কুলা' কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
(ক) বসার কাজে
(খ) ধান, চাল ইত্যাদি ঝাড়ার কাজে
(গ) ছাঁকার কাজে
(ঘ) ঘুমানোর কাজে
উত্তর: (খ) ধান, চাল ইত্যাদি ঝাড়ার কাজে।
ব্যাখ্যা: শব্দার্থ অনুযায়ী কুলা চাল-ধান ঝাড়ার ডালা।
১৫. ছাঁকার কাজে লাগে এমন ছিদ্রযুক্ত পাত্রকে কী বলে?
(ক) ধামা
(খ) মোড়া
(গ) চালুনি
(ঘ) শিকা
উত্তর: (গ) চালুনি।
ব্যাখ্যা: চালুনি দিয়ে কোনো কিছু চালা বা ছাঁকা হয়।
১৬. বেত দিয়ে কী বানানো হয়?
(ক) গলার মালা
(খ) চেয়ার, টেবিল, দোলনা, ধামা
(গ) হাঁড়ি-পাতিল
(ঘ) মসলিন
উত্তর: (খ) চেয়ার, টেবিল, দোলনা, ধামা।
ব্যাখ্যা: আসবাবপত্র তৈরিতে বেতের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
১৭. 'ধামা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বাঁশের বেড়া
(খ) মাটির হাঁড়ি
(গ) বেতের ঝুড়ি
(ঘ) পাটের বস্তা
উত্তর: (গ) বেতের ঝুড়ি।
ব্যাখ্যা: ধামা হলো বেত দিয়ে বোনা এক ধরনের বড় ঝুড়ি।
১৮. পাট দিয়ে কী প্রস্তুত করা হয়?
(ক) বস্তা, দড়ি, পাপোশ, শিকা
(খ) কানের দুল
(গ) হাতি-ঘোড়া
(ঘ) চালুনি
উত্তর: (ক) বস্তা, দড়ি, পাপোশ, শিকা।
ব্যাখ্যা: পাট দিয়ে গৃহস্থালির এই জিনিসগুলো বানানো হয়।
১৯. সোনা-রুপা দিয়ে কী বানানো হয়?
(ক) চেয়ার-টেবিল
(খ) কানের দুল, গলার মালা, হাতের চুড়ি
(গ) থালা-বাটি
(ঘ) শতরঞ্জি
উত্তর: (খ) কানের দুল, গলার মালা, হাতের চুড়ি।
ব্যাখ্যা: স্বর্ণকাররা সোনা-রুপা দিয়ে গয়না বানান।
২০. কাঁসা-পিতল দিয়ে কী বানানো হয়?
(ক) গয়না
(খ) তৈজসপত্র
(গ) পুতুল
(ঘ) পাটি
উত্তর: (খ) তৈজসপত্র।
ব্যাখ্যা: কাঁসা-পিতল দিয়ে থালা-গ্লাস-ঘটি ইত্যাদি তৈজসপত্র বানানো হয়।
২১. 'তৈজসপত্র' শব্দের অর্থ কী?
(ক) মাটির বাসন
(খ) ধাতুর তৈরি থালা-বাসন
(গ) বাঁশের জিনিস
(ঘ) পাটের দড়ি
উত্তর: (খ) ধাতুর তৈরি থালা-বাসন।
ব্যাখ্যা: সোনা, রুপা, কাঁসা, পিতল বা ধাতুর তৈরি পাত্রকে তৈজসপত্র বলে।
২২. কলকারখানা আবিষ্কারের আগে এ দেশের মানুষ কীসের তৈরি কাপড় পরত?
(ক) مشینوں বোনা
(খ) বিদেশ থেকে আনা
(গ) তাঁতে বোনা
(ঘ) চামড়ার
উত্তর: (গ) তাঁতে বোনা।
ব্যাখ্যা: আগে সবকিছু হাতে বা তাঁতে বোনা হতো।
২৩. তাঁতিরা কী কী তৈরি করেন?
(ক) শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা
(খ) জুতো, মোজা
(গ) থালা, বাটি
(ঘ) গয়না
উত্তর: (ক) শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা।
ব্যাখ্যা: এগুলো তাঁতের প্রধান পণ্য।
২৪. তাঁতে তৈরি কোন শাড়ি বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে বিশ্বে সুপরিচিত?
(ক) সিল্ক শাড়ি
(খ) টাঙ্গাইল শাড়ি
(গ) জামদানি শাড়ি
(ঘ) বেনারসি শাড়ি
উত্তর: (গ) জামদানি শাড়ি।
ব্যাখ্যা: জামদানি শাড়ির বুনন ও নকশা পুরো বিশ্বে বিখ্যাত।
২৫. পাটি কী দিয়ে বানানো হয়?
(ক) পাট দিয়ে
(খ) খেজুরপাতা ও বেতের চটা দিয়ে
(গ) প্লাস্টিক দিয়ে
(ঘ) কাগজ দিয়ে
উত্তর: (খ) খেজুরপাতা ও বেতের চটা দিয়ে।
ব্যাখ্যা: পাটি বানানোর প্রধান উপাদান এগুলো।
২৬. পাটি কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
(ক) পোশাক হিসেবে
(খ) বসার আসন বা মাদুর হিসেবে
(গ) ছাতা হিসেবে
(ঘ) গয়না হিসেবে
উত্তর: (খ) বসার আসন বা মাদুর হিসেবে।
ব্যাখ্যা: পাটি সাধারণত মেঝেতে বিছিয়ে বসার জন্য ব্যবহৃত হয়।
২৭. বাংলাদেশের বিশেষ একধরনের পাটির নাম কী?
(ক) তালপাটি
(খ) শীতলপাটি
(গ) নকশি পাটি
(ঘ) গরম পাটি
উত্তর: (খ) শীতলপাটি।
ব্যাখ্যা: এটি দেখতে খুব সুন্দর এবং গরমের দিনে বেশ আরামদায়ক।
২৮. শীতলপাটি কী দিয়ে বানানো হয়?
(ক) তাল পাতা দিয়ে
(খ) চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে
(গ) বেত দিয়ে
(ঘ) পাট দিয়ে
উত্তর: (খ) চিকন বাঁশের মতো দেখতে মুর্তা গাছ দিয়ে।
ব্যাখ্যা: মুর্তা গাছ বা বেত শীতলপাটি তৈরির প্রধান উপাদান।
২৯. 'মুর্তা' দেখতে কেমন?
(ক) মোটা গাছের মতো
(খ) চিকন বাঁশের মতো
(গ) ঘাসের মতো
(ঘ) লতার মতো
উত্তর: (খ) চিকন বাঁশের মতো।
ব্যাখ্যা: মুর্তা গাছ চিকন বাঁশ বা বেতের মতো দেখতে হয়।
৩০. বাংলাদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্পের নাম কী?
(ক) গাড়ি শিল্প
(খ) নকশিকাঁথা
(গ) কম্পিউটার শিল্প
(ঘ) মোবাইল শিল্প
উত্তর: (খ) নকশিকাঁথা।
ব্যাখ্যা: নকশিকাঁথা বাংলাদেশের নারীদের একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্প।
৩১. নকশিকাঁথা কারা বানাত?
(ক) গ্রামের পুরুষেরা
(খ) শহরের মানুষ
(গ) গ্রামের নারীরা
(ঘ) কারখানার শ্রমিকেরা
উত্তর: (গ) গ্রামের নারীরা।
ব্যাখ্যা: গ্রামের নারীরা মেঝেতে কাপড় পেড়ে এই কাঁথা বানাতেন।
৩২. নকশিকাঁথায় কী কী আঁকা হয়?
(ক) ফুল, লতা, পাতা
(খ) বাড়িঘর
(গ) গাড়ি
(ঘ) মানুষের ছবি
উত্তর: (ক) ফুল, লতা, পাতা।
ব্যাখ্যা: নারীরা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল, লতা, পাতা ইত্যাদি সেলাই করতেন।
৩৩. হাতপাখা কী দিয়ে বানানো হয়?
(ক) লোহা দিয়ে
(খ) তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে
(গ) প্লাস্টিক দিয়ে
(ঘ) কাগজ দিয়ে
উত্তর: (খ) তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা, কাপড় ইত্যাদি দিয়ে।
ব্যাখ্যা: হাতপাখা তৈরির এগুলোই প্রধান কাঁচামাল।
৩৪. 'চটা' শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাগী
(খ) বাঁশের পাতলা ফালি
(গ) মোটা লাঠি
(ঘ) দড়ি
উত্তর: (খ) বাঁশের পাতলা ফালি।
ব্যাখ্যা: বাঁশ চিরে যে পাতলা ফালি তৈরি হয়, তাকে চটা বলে।
৩৫. হাতপাখা কী কাজে লাগে?
(ক) আগুন নেভাতে
(খ) গরমে শরীরকে শীতল করতে
(গ) মশা তাড়াতে
(ঘ) রান্না করতে
উত্তর: (খ) গরমে শরীরকে শীতল করতে।
ব্যাখ্যা: গরমের দিনে হাতপাখার বাতাস শরীর জুড়িয়ে দেয়।
৩৬. কুটির পণ্যগুলো দেখতে কেমন হয়?
(ক) কুৎসিত
(খ) সাধারণ
(গ) আকর্ষণীয়
(ঘ) ভয়ানক
উত্তর: (গ) আকর্ষণীয়।
ব্যাখ্যা: হাতে তৈরি এসব পণ্যের নকশা ও কারুকাজ খুব আকর্ষণীয় হয়।
৩৭. দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে কী ব্যবহার করা হয়?
(ক) কুটির পণ্য
(খ) ইলেকট্রনিক্স
(গ) খেলনা
(ঘ) পাথর
উত্তর: (ক) কুটির পণ্য।
ব্যাখ্যা: থালা-বাটি, ঝুড়ি, মোড়া ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজেই লাগে।
৩৮. কুটির পণ্যের সমাদর কোথায় লক্ষ করা যায়?
(ক) শুধু গ্রামে
(খ) গৃহসজ্জায়
(গ) রাস্তায়
(ঘ) কারখানায়
উত্তর: (খ) গৃহসজ্জায়।
ব্যাখ্যা: ঘর সাজানোর কাজে মানুষ এখন প্রচুর কুটির পণ্য ব্যবহার করে।
৩৯. কার প্রবল চাহিদার কারণে কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে?
(ক) গ্রামের মানুষের
(খ) নাগরিক মানুষের
(গ) বিদেশি মানুষের
(ঘ) কৃষকদের
উত্তর: (খ) নাগরিক মানুষের।
ব্যাখ্যা: শহরের বা নাগরিক মানুষের মধ্যে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
৪০. 'শতরঞ্জি' শব্দের অর্থ কী?
(ক) এক প্রকার খেলা
(খ) হাতে বোনা কার্পেট
(গ) মাথার টুপি
(ঘ) শীতের পোশাক
উত্তর: (খ) হাতে বোনা কার্পেট।
ব্যাখ্যা: এটি একটি আকর্ষণীয় মেঝেতে বিছানোর কার্পেট।
৪১. 'বণিক' শব্দের অর্থ কী?
(ক) কৃষক
(খ) জেলে
(গ) ব্যবসায়ী
(ঘ) কারিগর
উত্তর: (গ) ব্যবসায়ী।
ব্যাখ্যা: যারা ব্যাবসা-বাণিজ্য করেন, তাদের বণিক বলা হয়।
৪২. যারা চাষ করে তাদের কী বলে?
(ক) জেলে
(খ) মাঝি
(গ) কৃষক
(ঘ) তাঁতি
উত্তর: (গ) কৃষক।
ব্যাখ্যা: কৃষকরা মাঠে ফসল ফলান।
৪৩. যারা মাটি দিয়ে জিনিস বানায় তাদের কী বলে?
(ক) কামার
(খ) কুমার
(গ) জেলে
(ঘ) তাঁতি
উত্তর: (খ) কুমার।
ব্যাখ্যা: কুমাররা কাদামাটি দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করেন।
৪৪. যারা সোনার গয়না বানায় তাদের কী বলে?
(ক) কামার
(খ) কুমার
(গ) স্বর্ণকার
(ঘ) তাঁতি
উত্তর: (গ) স্বর্ণকার।
ব্যাখ্যা: স্বর্ণকার বা স্যাকরা সোনার গয়না তৈরি করেন।
৪৫. যারা লোহা দিয়ে জিনিস বানায় তাদের কী বলে?
(ক) স্বর্ণকার
(খ) কামার
(গ) কুমার
(ঘ) ছুতোর
উত্তর: (খ) কামার।
ব্যাখ্যা: কামাররা লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন হাতিয়ার তৈরি করেন।
৪৬. নবীন মেলায় কার হাত ধরে রেখেছিল? (অনুশীলনী ৬ থেকে)
(ক) বাবার
(খ) মায়ের
(গ) মামার
(ঘ) ভাইয়ের
উত্তর: (গ) মামার।
ব্যাখ্যা: অনুচ্ছেদে আছে নবীন তার মামার হাত ধরে মেলায় ঘুরছিল।
৪৭. নবীন কোথায় চড়ল?
(ক) নাগরদোলায়
(খ) ট্রেনে
(গ) ঘোড়ায়
(ঘ) নৌকায়
উত্তর: (ক) নাগরদোলায়।
ব্যাখ্যা: মেলায় সে নাগরদোলায় চড়েছিল।
৪৮. নাগরদোলায় চড়ার টিকিটের দাম কত ছিল?
(ক) ৫ টাকা
(খ) ১০ টাকা
(গ) ২০ টাকা
(ঘ) ৫০ টাকা
উত্তর: (খ) ১০ টাকা।
ব্যাখ্যা: মামা দশ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেন।
৪৯. 'নিদর্শন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) নমুনা বা প্রমাণ
(খ) নির্দেশ দেওয়া
(গ) ছবি
(ঘ) আইন
উত্তর: (ক) নমুনা বা প্রমাণ।
ব্যাখ্যা: যা দিয়ে কোনো কিছুর অস্তিত্ব বা ঐতিহ্য প্রমাণ করা যায়।
৫০. 'দৈনন্দিন' বলতে কী বোঝায়?
(ক) সপ্তাহের
(খ) মাসের
(গ) প্রতিদিনের
(ঘ) বছরের
উত্তর: (গ) প্রতিদিনের।
ব্যাখ্যা: যে কাজ বা প্রয়োজন রোজই দেখা দেয়।
প্রশ্ন ১: কুটির শিল্প কাকে বলে?
উত্তর: গ্রামের কুটিরে হাতে তৈরি নানা রকম ব্যবহার্য ও শৈল্পিক জিনিসপত্র, যেগুলোকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়, সেগুলোকে একত্রে কুটির শিল্প বলে।
প্রশ্ন ২: কয়েকটি সাধারণ কুটির পণ্যের নাম লেখো।
উত্তর: কয়েকটি সাধারণ কুটির পণ্য হলো—বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি, পাটের শিকা, শীতলপাটি, নকশিকাঁথা, হাতপাখা ইত্যাদি।
প্রশ্ন ৩: ইবনে বতুতা কে ছিলেন এবং তিনি কখন বাংলাদেশে এসেছিলেন?
উত্তর: ইবনে বতুতা ছিলেন মরক্কোর একজন বিখ্যাত ভ্রমণকারী। তিনি চৌদ্দ শতকে বাংলাদেশে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন।
প্রশ্ন ৪: ইবনে বতুতা তাঁর বিবরণে বাংলার কী সম্পর্কে লিখেছিলেন?
উত্তর: ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণ বিবরণে বাংলার সমৃদ্ধ ও উন্নত কুটির শিল্পের কথা লিখেছিলেন।
প্রশ্ন ৫: মসলিন কাপড় কী দিয়ে এবং কীভাবে বানানো হতো?
উত্তর: মসলিন কাপড় অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা দিয়ে হাতে বানানো হতো।
প্রশ্ন ৬: মসলিন কাপড় কারা ব্যবহার করতেন এবং কারা কিনে নিয়ে যেতেন?
উত্তর: মোগল বাদশাহ ও বেগমরা মসলিন কাপড় ব্যবহার করতেন এবং আরব ও ইউরোপের বণিকেরা এটি কিনে নিয়ে যেতেন।
প্রশ্ন ৭: মাটি দিয়ে কুমাররা কী কী তৈরি করেন?
উত্তর: কুমাররা মাটি দিয়ে থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল এবং হাতি-ঘোড়ার মতো পুতুল তৈরি করেন।
প্রশ্ন ৮: বাঁশ দিয়ে তৈরি কয়েকটি জিনিসের নাম লেখো।
উত্তর: বাঁশ দিয়ে তৈরি জিনিসগুলো হলো—বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি ও মোড়া।
প্রশ্ন ৯: পাট দিয়ে কী কী কুটির পণ্য প্রস্তুত করা হয়?
উত্তর: পাট দিয়ে বস্তা, দড়ি, পাপোশ এবং শিকা প্রস্তুত করা হয়।
প্রশ্ন ১০: কাঁসা-পিতল দিয়ে কী বানানো হয়?
উত্তর: কাঁসা-পিতল দিয়ে নানা ধরনের তৈজসপত্র বা থালা-বাসন বানানো হয়।
প্রশ্ন ১১: তাঁতিরা তাঁতে কী কী কাপড় বোনেন?
উত্তর: তাঁতিরা তাঁতে শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা এবং বিখ্যাত জামদানি শাড়ি বোনেন।
প্রশ্ন ১২: জামদানি শাড়ি কেন সুপরিচিত?
উত্তর: তাঁতে তৈরি জামদানি শাড়ি তার সূক্ষ্ম বুনন ও নজরকাড়া নকশার জন্য বাংলাদেশের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে সারা বিশ্বে সুপরিচিত।
প্রশ্ন ১৩: পাটি কী দিয়ে বানানো হয়?
উত্তর: পাটি সাধারণত খেজুরপাতা এবং বেতের চটা দিয়ে বানানো হয়।
প্রশ্ন ১৪: শীতলপাটি কী দিয়ে তৈরি হয়?
উত্তর: চিকন বাঁশের মতো দেখতে 'মুর্তা' নামক গাছ দিয়ে শীতলপাটি তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন ১৫: নকশিকাঁথা কারা বানাতেন এবং কীভাবে?
উত্তর: গ্রামের নারীরা মেঝেতে কাপড় পেড়ে এবং তাতে সুই-সুতা দিয়ে ফুল, লতা ও পাতা এঁকে নকশিকাঁথা বানাতেন।
প্রশ্ন ১৬: হাতপাখা তৈরিতে কী কী উপাদান ব্যবহার করা হয়?
উত্তর: হাতপাখা তৈরিতে তালপাতা, বাঁশ ও বেতের চটা এবং কাপড় ব্যবহার করা হয়।
প্রশ্ন ১৭: হাতপাখার প্রধান কাজ কী?
উত্তর: গরমের দিনে বাতাস দিয়ে শরীরকে শীতল বা ঠান্ডা করাই হাতপাখার প্রধান কাজ।
প্রশ্ন ১৮: কুটির পণ্যগুলো দেখতে কেমন হয় এবং এগুলো কী কাজে লাগে?
উত্তর: কুটির পণ্যগুলো দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয় এবং এগুলো মানুষের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজন মেটাতে ও গৃহসজ্জার কাজে লাগে।
প্রশ্ন ১৯: বর্তমানে কুটির পণ্য কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: চাহিদার কারণে বর্তমানে কুটির পণ্য শুধু গ্রামের কুটিরেই নয়, বরং কারখানাতেও তৈরি করা হয়।
প্রশ্ন ২০: কার চাহিদার কারণে কুটির পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে?
উত্তর: শহরের বা নাগরিক মানুষের প্রবল চাহিদার কারণে বর্তমানে কুটির পণ্য উৎপাদনকারী বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশের কুটির শিল্পের অতীত ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে লেখো।
উত্তর: একসময় বাংলাদেশের কুটির শিল্প অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। গ্রামের কুটিরে হাতে তৈরি হতো বেতের ঝুড়ি, মাটির হাঁড়ি, পাটের শিকা, মসলিন ও জামদানির মতো পৃথিবী বিখ্যাত পণ্য। চৌদ্দ শতকে ইবনে বতুতাও এর প্রশংসা করেছেন। বর্তমানে নাগরিক জীবনে এর চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে। তাই এখন এগুলো কেবল কুটিরে নয়, বড় কারখানাতেও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে এবং গৃহসজ্জায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রশ্ন ২: মসলিন কাপড় সম্পর্কে তুমি যা জানো লেখো।
উত্তর: মসলিন কাপড় বাংলাদেশের কুটির শিল্পের এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এটি এতই সূক্ষ্ম ও মিহি সুতা দিয়ে বোনা হতো যে, পুরো একটি মসলিন শাড়ি একটি ছোট আংটির ভেতর দিয়ে পার করা যেত। এর কদর এত বেশি ছিল যে মোগল বাদশাহ ও বেগমরা এটি ব্যবহার করতেন। এছাড়া আরব ও ইউরোপের বণিকেরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই মসলিন কাপড় কিনে নিজ দেশে নিয়ে যেতেন।
প্রশ্ন ৩: বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি কুটির পণ্যের বর্ণনা দাও।
উত্তর: বাঁশ ও বেত বাংলাদেশের কুটির শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। বাঁশ দিয়ে সাধারণত ঘরের বেড়া, ঝুড়ি, কুলা, চালুনি ও মোড়া তৈরি করা হয়। অন্যদিকে, বেত দিয়ে অত্যন্ত টেকসই ও আকর্ষণীয় আসবাবপত্র যেমন—চেয়ার, টেবিল, দোলনা, বই রাখার তাক এবং বড় ঝুড়ি বা ধামা বানানো হয়। এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খুব প্রয়োজনীয়।
প্রশ্ন ৪: মাটি ও ধাতু (কাঁসা-পিতল, সোনা-রুপা) দিয়ে কী ধরনের জিনিস তৈরি হয়?
উত্তর: এ দেশে কুমাররা মাটি পুড়িয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল এবং শিশুদের খেলার জন্য হাতি-ঘোড়া ও পুতুল বানান। অন্যদিকে, কাঁসা-পিতলের কারিগররা আকর্ষণীয় নকশার তৈজসপত্র (থালা, গ্লাস, ঘটি) তৈরি করেন। আর স্বর্ণকাররা সোনা ও রুপা দিয়ে নারীদের ব্যবহারের জন্য কানের দুল, গলার মালা, হাতের চুড়ির মতো নজরকাড়া গয়না তৈরি করেন।
প্রশ্ন ৫: তাঁতশিল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তর: আধুনিক যন্ত্রচালিত কলকারখানা আবিষ্কারের আগে এ দেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে তাঁতে বোনা কাপড়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁতিরা নিজেদের নিপুণ হাতে শাড়ি, লুঙ্গি, চাদর, গামছা ইত্যাদি তৈরি করেন। তাঁতশিল্পের সবচেয়ে গর্বের বিষয় হলো 'জামদানি শাড়ি'। এর অসাধারণ বুনন ও কারুকাজের জন্য জামদানি শাড়ি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত।
প্রশ্ন ৬: শীতলপাটি কী? এটি কীভাবে তৈরি হয়?
উত্তর: শীতলপাটি হলো বাংলাদেশের এক বিশেষ ধরনের ঐতিহ্যবাহী ও আরামদায়ক পাটি বা মাদুর। এটি অন্যান্য সাধারণ পাটির মতো খেজুরপাতা বা বেত দিয়ে তৈরি হয় না। চিকন বাঁশের মতো দেখতে একধরনের বিশেষ গাছ, যার নাম 'মুর্তা' গাছ—সেই মুর্তা গাছের ছাল তুলে অত্যন্ত নিখুঁত ও সুন্দর বুননে শীতলপাটি তৈরি করা হয়। গরমের দিনে এটি চমৎকার শীতল অনুভূতি দেয়।
প্রশ্ন ৭: নকশিকাঁথাকে কেন একটি গুরুত্বপূর্ণ কুটির শিল্প বলা হয়?
উত্তর: নকশিকাঁথা বাংলার গ্রামীণ নারীদের নিজস্ব শিল্পবোধ ও আবেগের এক অনন্য প্রকাশ। গ্রামের নারীরা অবসর সময়ে মেঝেতে পুরোনো কাপড় পেড়ে, রঙিন সুই-সুতায় মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুল, লতা, পাতা এবং নানা গ্রামীণ দৃশ্য এঁকে এই কাঁথা তৈরি করেন। এর শৈল্পিক মান এতই উঁচু যে, এটি নিছক একটি কাঁথা নয়, বরং বাংলার লোকশিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
প্রশ্ন ৮: কুটির পণ্য আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: কুটির পণ্যগুলো আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মাটি, বাঁশ, বেত বা পাটের তৈরি পণ্য যেমন—হাঁড়ি, চালুনি, কুলা, ঝুড়ি, শিকা, দড়ি ইত্যাদি আমরা প্রতিদিনের গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করি। গরমের দিনে বাঁশ ও তালপাতার হাতপাখা আমাদের শীতল করে। আবার বসার জন্য মোড়া বা শীতলপাটি আমাদের দৈনন্দিন আরাম ও প্রয়োজন মেটায়।
প্রশ্ন ৯: নাগরিক জীবনে কুটির পণ্যের সমাদর বেড়েছে কেন?
উত্তর: আগে কুটির পণ্য মূলত গ্রামের মানুষের নিত্যপ্রয়োজন মেটাত। কিন্তু বর্তমানে নাগরিক বা শহুরে মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। তারা গৃহসজ্জা বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে ঐতিহ্যবাহী ও শৈল্পিক জিনিস পছন্দ করছে। মাটির শোপিস, বেতের আসবাব, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা—এসব পণ্য ঘরকে আকর্ষণীয় রূপ দেয়। তাই নাগরিক জীবনে এর চাহিদা ও সমাদর ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
প্রশ্ন ১০: পেশাগুলোর নাম উল্লেখ করে সমাজে তাদের অবদান লেখো। (কৃষক, জেলে, কামার, কুমার, তাঁতি)
উত্তর:
কৃষক: মাঠে ফসল ফলিয়ে আমাদের খাদ্যের জোগান দেন。
জেলে: নদী-সাগরে মাছ ধরে আমাদের আমিষের চাহিদা মেটান。
কামার: লোহা পিটিয়ে দা, বঁটি, কাঁচি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় হাতিয়ার বানান。
কুমার: মাটি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় হাঁড়ি-পাতিল ও খেলনা তৈরি করেন。
তাঁতি: তাঁতে শাড়ি, লুঙ্গি, গামছা বুনে আমাদের বস্ত্রের অভাব দূর করেন。
সমাজের অস্তিত্ব ও উন্নতির জন্য এদের সবার অবদানই অপরিহার্য।
প্রশ্ন ১১: ইবনে বতুতার বিবরণ আমাদের কুটির শিল্প সম্পর্কে কী ধারণা দেয়?
উত্তর: চৌদ্দ শতকে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা যখন বাংলা ভ্রমণ করেন, তখন তিনি এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা ও শিল্পকর্ম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তে তিনি বাংলার কুটির শিল্পের উচ্চ প্রশংসা করেছেন। তাঁর লেখা থেকে আমরা ধারণা পাই যে, আজ থেকে প্রায় সাতশো বছর আগেও বাংলার কুটির শিল্প, বিশেষ করে বস্ত্রশিল্প (মসলিন) অত্যন্ত উন্নত, সমৃদ্ধ ও বিশ্ববিখ্যাত ছিল।
প্রশ্ন ১২: পাট দিয়ে তৈরি পণ্যগুলোকে পরিবেশবান্ধব বলা যায় কেন?
উত্তর: পাট হলো একটি প্রাকৃতিক তন্তু। পাট দিয়ে তৈরি বস্তা, দড়ি, পাপোশ বা শিকা ব্যবহারের পর যখন ফেলে দেওয়া হয়, তখন তা সহজেই মাটির সাথে মিশে যায় এবং পরিবেশের কোনো দূষণ ঘটায় না। প্লাস্টিক বা পলিথিনের মতো এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। তাই পাটের তৈরি কুটির পণ্যগুলোকে পরিবেশবান্ধব পণ্য বলা যায়।
প্রশ্ন ১৩: হাতপাখার ব্যবহার ও গুরুত্ব বর্ণনা করো।
উত্তর: বিদ্যুৎবিহীন গ্রামীণ এলাকায় বা তীব্র গরমের সময় হাতপাখা একটি অতি প্রয়োজনীয় বস্তু। তালপাতা, বাঁশ, বেতের চটা বা কাপড় দিয়ে তৈরি এসব হাতপাখা হাতে ঘুরিয়ে খুব সহজেই বাতাস পাওয়া যায়, যা শরীরকে শীতল করে স্বস্তি দেয়। এটি দামে সস্তা হলেও পরিবেশবান্ধব এবং গরমের দিনে সাধারণ মানুষের পরম বন্ধু।
প্রশ্ন ১৪: "কুটির পণ্যগুলো আকর্ষণীয় হয়ে থাকে"—কথাটির যথার্থতা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: কুটির পণ্যগুলো কারখানায় তৈরি যান্ত্রিক পণ্যের মতো একঘেয়ে হয় না। প্রতিটি পণ্য কারিগরের নিজ হাতে অনেক যত্ন ও শৈল্পিক ভাবনায় তৈরি হয়। নকশিকাঁথার রং-বেরঙের সুতোর কাজ, জামদানির নিখুঁত মোটিফ, মাটির পাত্রের আলপনা এবং বেতের আসবাবপত্রের বুনন—এগুলো এতটা নিপুণ হয় যে তা যেকোনো মানুষের চোখ জুড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো সত্যিই খুব আকর্ষণীয়।
প্রশ্ন ১৫: মসলিন কাপড়ের কদর বা মূল্য এত বেশি ছিল কেন?
উত্তর: মসলিন কাপড়ের কদর এত বেশি থাকার কারণ ছিল এর অসাধারণ বুনন কৌশল। এটি এতই মিহি ও সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো যে, এর ওজন ছিল খুবই নগণ্য। বলা হতো, আস্ত একটি মসলিন শাড়ি একটি ছোট আংটির ভেতর দিয়ে অনায়াসে পার করে দেওয়া যেত। এমন জাদুকরি সূক্ষ্মতা ও আরামদায়ক হওয়ার কারণেই রাজপরিবার ও বিদেশি বণিকদের কাছে এর মূল্য ছিল আকাশচুম্বী।
প্রশ্ন ১৬: কুলা ও চালুনির মধ্যে পার্থক্য কী এবং এগুলো কী কাজে লাগে?
উত্তর: কুলা এবং চালুনি উভয়ই বাঁশ বা বেতের চটা দিয়ে তৈরি কুটির পণ্য। তবে এদের গঠনে ও কাজে পার্থক্য আছে। কুলা হলো একদিক খোলা এবং তিনদিক সামান্য উঁচু একটি ডালা, যা দিয়ে ধান, চাল বা শস্য থেকে ময়লা ও তুষ ঝেড়ে পরিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে, চালুনি হলো নিচে জালের মতো ছিদ্রযুক্ত একটি গোলাকার পাত্র, যা দিয়ে আটা, চাল বা গুঁড়ো জিনিস চেলে বা ছেঁকে বড় দানা আলাদা করা হয়।
প্রশ্ন ১৭: কুটির শিল্প কীভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে?
উত্তর: কুটির শিল্পে অল্প পুঁজিতে এবং স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পণ্য তৈরি করা যায়। এর মাধ্যমে গ্রামের অসংখ্য নারী ও কারিগরের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে নাগরিক জীবনে এর প্রবল চাহিদা থাকায় এবং বিদেশে (যেমন জামদানি, পাটজাত পণ্য) রপ্তানি হওয়ায় এটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিশাল অবদান রাখছে।
প্রশ্ন ১৮: নবীন মেলায় গিয়ে কী কী করল তা অনুচ্ছেদ অবলম্বনে লেখো। (অনুশীলনী ৬ অনুযায়ী)
উত্তর: নবীন তার মামা-মামির সাথে মেলায় ঘুরতে গিয়েছিল। সে মেলায় নানা রকম জিনিস দেখে খুব আনন্দ পাচ্ছিল। হঠাৎ মামি তাকে নাগরদোলায় চড়তে বললে সে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। মামা দশ টাকা দিয়ে একটি টিকিট কেটে দেন। এরপর নবীন ভয়ে ভয়ে নাগরদোলায় চড়ে বসে এবং চরকির মতো ঘুরতে থাকা নাগরদোলার রোমাঞ্চ উপভোগ করে।
প্রশ্ন ১৯: "শীতলপাটিও বাংলাদেশের নিদর্শন হিসেবে মর্যাদা পেয়েছে"—ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: শীতলপাটি কোনো সাধারণ মাদুর নয়। মুর্তা গাছ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ছাল তুলে অত্যন্ত মসৃণ ও নকশাদার বুননে এটি তৈরি করা হয়। এর শীতলতা ও শৈল্পিক বুনন এতটাই অনন্য যে এটি শুধু ব্যবহার্য পণ্য নয়, বরং বাংলার লোকশিল্পের একটি গর্বিত স্মারক। ইউনেস্কোও শীতলপাটিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে, তাই এটি বাংলাদেশের একটি মর্যাদাশীল নিদর্শন।
প্রশ্ন ২০: "কুটির শিল্প" অধ্যায়টি পড়ে তুমি কী শিখলে?
উত্তর: এই অধ্যায়টি পড়ে আমি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ কুটির শিল্প সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। মসলিন, জামদানি, শীতলপাটি ও নকশিকাঁথার মতো বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম যে আমাদেরই ঐতিহ্য, তা জেনে গর্ববোধ করেছি। এছাড়াও মাটি, বাঁশ, বেত, পাট ও ধাতু দিয়ে কারিগররা কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন ও গৃহসজ্জার জিনিস তৈরি করেন, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি।