বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০২৬ - রাখাল ছেলে
১ শব্দার্থ লিখন
  • ১. আবির রং: লালচে রং।
  • ২. কুটির: কুঁড়েঘর।
  • ৩. কোথা ধাও: কোথায় ছুটে চলেছ?
  • ৪. চামর: পাখা।
  • ৫. নাও: নৌকা।
  • ৬. নীল-নোয়ানো: নীল আকাশ নেমে এসেছে এমন।
  • ৭. প্রভাত হাওয়া: সকাল বেলার বাতাস।
  • ৮. বাঁকা গাঁয়ের পথ: গ্রামের বাঁকা রাস্তা।
  • ৯. বারেক: একবার মাত্র।
  • ১০. মিঠেল রোদ: কোমল রোদ।
  • ১১. সবুজ ঘেরা গাঁ: সবুজ গাছগাছালিতে ভরা গ্রাম।
  • ১২. সাঁঝ-আকাশ: সন্ধ্যার আকাশ।
  • ১৩. সোনার পাতায় ছাওয়া: শুকনা সোনালি পাতা দিয়ে ঢাকা।
২ বাক্য গঠন (১০টি)
সেট ১ (৫টি)
একলা ঘরে | রঙিন মেঘ | কলার পাতা | শিশির-ঝরা | ছোটো কুটির
  • একলা ঘরে: সাঁঝের বেলা মা একলা ঘরে বসে আমার জন্য অপেক্ষা করছেন।
  • রঙিন মেঘ: পুব আকাশে রঙিন মেঘের ভেলা ভেসে চলেছে।
  • কলার পাতা: কলার পাতা বাতাসে চামরের মতো দুলছে।
  • শিশির-ঝরা: ভোরে শিশির-ঝরা ঘাসের ওপর দিয়ে হাঁটতে খুব ভালো লাগে।
  • ছোটো কুটির: নদীর ধারে ওই ছোটো কুটিরটি আমার দাদার।
সেট ২ (৫টি)
বারেক | আবির রং | মিঠেল রোদ | প্রভাত হাওয়া | নাও
  • বারেক: হে রাখাল ছেলে, বারেক ফিরে চাও।
  • আবির রং: সন্ধ্যার আকাশ আবির রঙে রেঙে উঠেছে।
  • মিঠেল রোদ: শীতের সকালে মিঠেল রোদ গায়ে মাখতে খুব আরাম লাগে।
  • প্রভাত হাওয়া: প্রভাত হাওয়া আমাদের মনকে সতেজ করে দেয়।
  • নাও: নদীতে পাল তোলা নাও ভেসে যাচ্ছে।
৩ শূন্যস্থান পূরণকরণ (১০টি)
নির্দেশনা: উপরের বক্স থেকে সঠিক শব্দটিতে ক্লিক করলে তা নিচের ফাঁকা স্থানে বসে যাবে। ভুল হলে ফাঁকা স্থানের শব্দে ক্লিক করে সেটি মুছে ফেলা যাবে। সবগুলো পূরণ হয়ে গেলে 'উত্তর মেলাও' বাটনে ক্লিক করো।
সেট ১ (৫টি)
কোথায় বারেক সোনার নীল-নোয়ানো চামর সবুজ পাতায় শিশির
১. রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! _____ ফিরে চাও।
২. বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে _____ চলে যাও?
৩. ওই যে দেখো _____ সবুজ ঘেরা গাঁ।
৪. কলার পাতা দোলায় _____ শিশির ধোয়ায় পা।
৫. সেথায় আছে ছোট্ট কুটির _____ পাতায় ছাওয়া।
সঠিক উত্তর:
১. বারেক
২. কোথায়
৩. নীল-নোয়ানো
৪. চামর
৫. সোনার
সেট ২ (৫টি)
রঙিন স্বপন আবির পাপড়ি মটরশুঁটি সাঁঝ মিঠেল ফুল
৬. সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া _____ রঙে নাওয়া।
৭. পুব আকাশে ছাড়ল সবে _____ মেঘের নাও।
৮. সারা রাতের _____ আমার মিঠেল রোদে হাসে।
৯. সরষে ফুলের _____ নাড়ি ডাকছে মোরে তাই।
১০. চলতে পথে _____ জড়িয়ে দু-খান পা।
সঠিক উত্তর:
৬. আবির
৭. রঙিন
৮. স্বপন
৯. পাপড়ি
১০. মটরশুঁটি
৪ বহুনির্বাচনি প্রশ্নের উত্তর (৫০টি)
নির্দেশনা: সঠিক উত্তরে ক্লিক করো। উত্তর সঠিক হলে সবুজ এবং ভুল হলে লাল দেখাবে। উত্তর দেওয়ার পর নিচে ব্যাখ্যা দেখতে পাবে।
১. 'রাখাল ছেলে' কবিতাটির কবির নাম কী?
(ক) শামসুর রাহমান (খ) জসীমউদ্দীন (গ) সুকুমার বড়ুয়া (ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
উত্তর: (খ) জসীমউদ্দীন।
ব্যাখ্যা: পাঠ্যবইয়ে এই কবিতাটি পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের লেখা।
২. রাখাল ছেলে কোন পথ বেয়ে চলে যাচ্ছে?
(ক) সোজা পথ (খ) শহরের পথ (গ) বাঁকা গাঁয়ের পথ (ঘ) পাহাড়ের পথ
উত্তর: (গ) বাঁকা গাঁয়ের পথ।
ব্যাখ্যা: "বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?"
৩. 'বারেক' শব্দের অর্থ কী?
(ক) বারবার (খ) অনেকবার (গ) একবার মাত্র (ঘ) সব সময়
উত্তর: (গ) একবার মাত্র।
ব্যাখ্যা: শব্দার্থ অংশে বারেক অর্থ একবার মাত্র দেওয়া আছে।
৪. গ্রামটিকে কিসের ঘেরা বলা হয়েছে?
(ক) ইটের ঘেরা (খ) পাহাড় ঘেরা (গ) সবুজ ঘেরা (ঘ) দেয়াল ঘেরা
উত্তর: (গ) সবুজ ঘেরা।
ব্যাখ্যা: "ওই যে দেখো নীল-নোয়ানো সবুজ ঘেরা গাঁ" বলা হয়েছে।
৫. 'নীল-নোয়ানো' কথাটির অর্থ কী?
(ক) নীল আকাশ নেমে এসেছে এমন (খ) নীল রঙের পাতা (গ) নীল রঙের ফুল (ঘ) নীল জল
উত্তর: (ক) নীল আকাশ নেমে এসেছে এমন।
ব্যাখ্যা: দূর থেকে দেখলে মনে হয় নীল আকাশ গ্রামের ওপর নুয়ে পড়েছে।
৬. রাখাল ছেলের পা কী ধুইয়ে দেয়?
(ক) নদীর জল (খ) বৃষ্টির জল (গ) শিশির (ঘ) পুকুরের জল
উত্তর: (গ) শিশির।
ব্যাখ্যা: "শিশির ধোয়ায় পা" বলা হয়েছে।
৭. কিসের পাতা চামর দোলায়?
(ক) কলার পাতা (খ) আমের পাতা (গ) নারিকেল পাতা (ঘ) তাল পাতা
উত্তর: (ক) কলার পাতা।
ব্যাখ্যা: "কলার পাতা দোলায় চামর" বলা হয়েছে।
৮. 'চামর' শব্দের অর্থ কী?
(ক) চামড়া (খ) চামচ (গ) পাখা (ঘ) ছাতা
উত্তর: (গ) পাখা।
ব্যাখ্যা: আগেকার দিনে ব্যবহৃত একধরনের পাখাকে চামর বলা হতো।
৯. রাখাল ছেলের কুটিরটি কেমন পাতায় ছাওয়া?
(ক) সবুজ পাতায় (খ) রুপার পাতায় (গ) সোনার পাতায় (ঘ) শুকনো পাতায়
উত্তর: (গ) সোনার পাতায়।
ব্যাখ্যা: "সোনার পাতায় ছাওয়া" বলা হয়েছে, অর্থাৎ রোদে শুকনো পাতা সোনার মতো ঝলমল করছে।
১০. কুটিরটি কোন রঙে নাওয়া বা স্নান করা?
(ক) নীল রঙে (খ) সাদা রঙে (গ) কালো রঙে (ঘ) আবির রঙে
উত্তর: (ঘ) আবির রঙে।
ব্যাখ্যা: "সাঁঝ-আকাশের ছড়িয়ে-পড়া আবির রঙে নাওয়া" বলা হয়েছে।
১১. 'আবির রং' বলতে কেমন রং বোঝায়?
(ক) নীলচে রং (খ) লালচে রং (গ) সবুজ রং (ঘ) হলুদ রং
উত্তর: (খ) লালচে রং।
ব্যাখ্যা: সূর্যাস্তের সময় আকাশের লালচে বা গোলাপি রং।
১২. একলা ঘরে বসে রাখাল ছেলেকে কে ডাকছে?
(ক) তার ভাই (খ) তার বোন (গ) তার মা (ঘ) তার বন্ধু
উত্তর: (গ) তার মা।
ব্যাখ্যা: "সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা"।
১৩. পুব আকাশে কী ছাড়ল?
(ক) ঘুড়ি (খ) পাখি (গ) রঙিন মেঘের নাও (ঘ) বিমান
উত্তর: (গ) রঙিন মেঘের নাও।
ব্যাখ্যা: "পুব আকাশে ছাড়ল সবে রঙিন মেঘের নাও" বলা হয়েছে।
১৪. 'নাও' শব্দের অর্থ কী?
(ক) না বলা (খ) নতুন (গ) নৌকা (ঘ) নদী
উত্তর: (গ) নৌকা।
ব্যাখ্যা: মেঘগুলোকে আকাশে ভেসে চলা নৌকার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
১৫. 'কোথা ধাও' কথাটির অর্থ কী?
(ক) কোথায় ঘুমাও (খ) কোথায় ছুটে চলেছ? (গ) কোথায় বসো (ঘ) কোথায় গাও
উত্তর: (খ) কোথায় ছুটে চলেছ?
ব্যাখ্যা: দ্রুতবেগে কোথায় যাচ্ছ বোঝাতে এই কথা বলা হয়েছে।
১৬. রাখাল ছেলে ঘুম হতে জেগে কী দেখে?
(ক) রোদ (খ) শিশির-ঝরা ঘাস (গ) বৃষ্টি (ঘ) মেঘ
উত্তর: (খ) শিশির-ঝরা ঘাস।
ব্যাখ্যা: "ঘুম হতে আজ জেগেই দেখি শিশির-ঝরা ঘাসে"।
১৭. রাখাল ছেলের স্বপন কোথায় হাসে?
(ক) চাঁদের আলোয় (খ) মিঠেল রোদে (গ) ঘাসে (ঘ) জলে
উত্তর: (খ) মিঠেল রোদে।
ব্যাখ্যা: "সারা রাতের স্বপন আমার মিঠেল রোদে হাসে"।
১৮. 'মিঠেল রোদ' অর্থ কী?
(ক) কড়া রোদ (খ) কোমল রোদ (গ) দুপুরের রোদ (ঘ) বিকেলের রোদ
উত্তর: (খ) কোমল রোদ।
ব্যাখ্যা: সকালের মিষ্টি বা কোমল রোদকে মিঠেল রোদ বলা হয়েছে।
১৯. রাখাল ছেলের সাথে খেলা করতে কে চায়?
(ক) প্রভাত হাওয়া ভাই (খ) নদীর জল (গ) আকাশের চাঁদ (ঘ) মাঠের গরু
উত্তর: (ক) প্রভাত হাওয়া ভাই।
ব্যাখ্যা: "আমার সাথে করতে খেলা প্রভাত হাওয়া ভাই"।
২০. 'প্রভাত হাওয়া' বলতে কী বোঝায়?
(ক) দুপুরের বাতাস (খ) সন্ধ্যার বাতাস (গ) সকাল বেলার বাতাস (ঘ) রাতের বাতাস
উত্তর: (গ) সকাল বেলার বাতাস।
ব্যাখ্যা: প্রভাত মানে সকাল, হাওয়া মানে বাতাস।
২১. কোন ফুল পাপড়ি নেড়ে রাখাল ছেলেকে ডাকছে?
(ক) গোলাপ (খ) শাপলা (গ) সরষে ফুল (ঘ) জবা
উত্তর: (গ) সরষে ফুল।
ব্যাখ্যা: "সরষে ফুলের পাপড়ি নাড়ি ডাকছে মোরে তাই"।
২২. চলতে পথে রাখাল ছেলের দু-খান পা কে জড়িয়ে ধরছে?
(ক) ঘাস (খ) কাঁটা (গ) লতা (ঘ) মটরশুঁটি
উত্তর: (ঘ) মটরশুঁটি।
ব্যাখ্যা: "চলতে পথে মটরশুঁটি জড়িয়ে দু-খান পা" বলা হয়েছে।
২৩. মটরশুঁটি ডেকে কী বলছে?
(ক) গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা! (খ) গাঁয়ের রাখাল গান গেয়ে যা! (গ) গাঁয়ের রাখাল ঘুমিয়ে যা! (ঘ) গাঁয়ের রাখাল কাজ করে যা!
উত্তর: (ক) গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা!
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির সবকিছুই যেন তার সাথে খেলতে চাইছে।
২৪. কোথা থেকে রাখাল ছেলের ডাক এসেছে?
(ক) শহর থেকে (খ) নদী থেকে (গ) সারা মাঠ থেকে (ঘ) স্কুল থেকে
উত্তর: (গ) সারা মাঠ থেকে।
ব্যাখ্যা: "সারা মাঠের ডাক এসেছে, খেলতে হবে ভাই!" বলা হয়েছে।
২৫. রাখাল ছেলে কখন কথা কইবে বলে জানিয়েছে?
(ক) দুপুর বেলা (খ) সাঁঝের বেলা (গ) ভোর বেলা (ঘ) রাতের বেলা
উত্তর: (খ) সাঁঝের বেলা।
ব্যাখ্যা: "সাঁঝের বেলা কইব কথা এখন তবে যাই!" বলা হয়েছে।
২৬. 'সাঁঝ' বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে?
(ক) সকাল (খ) দুপুর (গ) সন্ধ্যা (ঘ) মধ্যরাত
উত্তর: (গ) সন্ধ্যা।
ব্যাখ্যা: সাঁঝ-আকাশ মানে সন্ধ্যার আকাশ।
২৭. রাখাল ছেলে কেন তাড়াহুড়ো করে যাচ্ছে?
(ক) তাকে স্কুলে যেতে হবে (খ) সারা মাঠ ও প্রকৃতি তাকে খেলার জন্য ডাকছে (গ) তাকে বাজারে যেতে হবে (ঘ) তাকে ঘুমাতে হবে
উত্তর: (খ) সারা মাঠ ও প্রকৃতি তাকে খেলার জন্য ডাকছে।
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে সে মাঠে যাচ্ছে।
২৮. 'কুটির' শব্দের অর্থ কী?
(ক) রাজপ্রাসাদ (খ) কুঁড়েঘর (গ) দালান (ঘ) ইটের বাড়ি
উত্তর: (খ) কুঁড়েঘর।
ব্যাখ্যা: গরিব মানুষের থাকার ছোটো ঘর বা কুঁড়েঘর।
২৯. এই কবিতায় কোন ঋতুর সুন্দর বর্ণনা পাওয়া যায়?
(ক) গ্রীষ্ম (খ) বর্ষা (গ) শীত বা হেমন্তের সকাল (ঘ) শরৎ
উত্তর: (গ) শীত বা হেমন্তের সকাল।
ব্যাখ্যা: শিশির-ঝরা ঘাস, মিঠেল রোদ ও সরষে ফুলের বর্ণনা শীত বা হেমন্তের সকালের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
৩০. জসীমউদ্দীন বাংলা সাহিত্যে কী নামে পরিচিত?
(ক) বিদ্রোহী কবি (খ) রূপসী বাংলার কবি (গ) পল্লিকবি (ঘ) বিশ্বকবি
উত্তর: (গ) পল্লিকবি।
ব্যাখ্যা: তিনি গ্রামের প্রকৃতি ও মানুষের জীবন নিয়ে লিখতেন বলে তাকে পল্লিকবি বলা হয়।
৩১. কবিতায় রাখাল ছেলের মা কোথায় বসে আছে?
(ক) উঠানে (খ) একলা ঘরে (গ) নদীর ঘাটে (ঘ) গাছের নিচে
উত্তর: (খ) একলা ঘরে।
ব্যাখ্যা: "সেই ঘরেতে একলা বসে ডাকছে আমার মা"।
৩২. 'সাঁঝ-আকাশ' শব্দের অর্থ কী?
(ক) সকালের আকাশ (খ) সন্ধ্যার আকাশ (গ) রাতের আকাশ (ঘ) দুপুরের আকাশ
উত্তর: (খ) সন্ধ্যার আকাশ।
ব্যাখ্যা: সাঁঝ মানে সন্ধ্যা।
৩৩. 'সোনার পাতায় ছাওয়া'—এখানে 'সোনার পাতা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) স্বর্ণের তৈরি পাতা (খ) রোদ পড়ে সোনালি রং ধারণ করা খড় বা পাতা (গ) গাছের পাতা (ঘ) হলুদ পাতা
উত্তর: (খ) রোদ পড়ে সোনালি রং ধারণ করা খড় বা পাতা।
ব্যাখ্যা: সূর্যের আলোয় কুঁড়েঘরের চালের খড়গুলো সোনার মতো চকচক করছে।
৩৪. মটরশুঁটি কীভাবে রাখাল ছেলেকে বাধা দিচ্ছে?
(ক) কাঁটা ফুটিয়ে (খ) দু-খান পা জড়িয়ে (গ) হাত ধরে (ঘ) ডাক দিয়ে
উত্তর: (খ) দু-খান পা জড়িয়ে।
ব্যাখ্যা: মটরশুঁটির লতা তার পা জড়িয়ে ধরে খেলতে ডাকছে।
৩৫. রাখাল ছেলের পেশা কী?
(ক) মাছ ধরা (খ) গরু-ছাগল চরানো ও মাঠে কাজ করা (গ) কাপড় বোনা (ঘ) লোহা পেটানো
উত্তর: (খ) গরু-ছাগল চরানো ও মাঠে কাজ করা।
ব্যাখ্যা: রাখালরা মাঠে পশু চরায়।
৩৬. রাখাল ছেলেকে কে বারবার ডাকছে?
(ক) কবি (খ) তার বাবা (গ) তার মা (ঘ) তার বন্ধু
উত্তর: (ক) কবি।
ব্যাখ্যা: কবিতায় একজন প্রশ্নকারী (কবি) তাকে ডেকে ডেকে প্রশ্ন করছেন এবং রাখাল উত্তর দিচ্ছে।
৩৭. 'স্বপন' শব্দের অর্থ কী?
(ক) সোপান (খ) স্বপ্ন বা ঘুম (গ) বাস্তব (ঘ) আশা
উত্তর: (খ) স্বপ্ন বা ঘুম।
ব্যাখ্যা: সারা রাতের দেখা স্বপ্ন বা ঘুম বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩৮. রাখাল ছেলের মন কোথায় পড়ে আছে?
(ক) শহরের অট্টালিকায় (খ) খোলা মাঠে ও প্রকৃতির মাঝে (গ) নদীর ধারে (ঘ) বিদেশের মাটিতে
উত্তর: (খ) খোলা মাঠে ও প্রকৃতির মাঝে।
ব্যাখ্যা: মাঠের ডাকে সে পাগল হয়ে ছুটে যাচ্ছে।
৩৯. রাখাল ছেলে কবিতায় কোন ফুলের কথা আছে?
(ক) শাপলা (খ) সরষে ফুল (গ) কদম ফুল (ঘ) বেলি ফুল
উত্তর: (খ) সরষে ফুল।
ব্যাখ্যা: সরষে ফুলের পাপড়ি নাড়ার কথা বলা হয়েছে।
৪০. 'পাপড়ি নাড়ি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) পাতা নাড়া (খ) ফুলের পাঁপড়ি বাতাসে দুলিয়ে ইশারা করা (গ) ডাল ভাঙা (ঘ) ফুল ছেঁড়া
উত্তর: (খ) ফুলের পাঁপড়ি বাতাসে দুলিয়ে ইশারা করা।
ব্যাখ্যা: ফুলগুলো বাতাসে দুলছে, যেন তাকে ইশারা করে ডাকছে।
৪১. পুব আকাশে মেঘের রং কেমন?
(ক) সাদা (খ) কালো (গ) রঙিন (ঘ) নীল
উত্তর: (গ) রঙিন।
ব্যাখ্যা: সকালের সূর্যের আলোয় মেঘগুলো রঙিন হয়ে উঠেছে।
৪২. কবিতায় কোন সবজির নাম উল্লেখ আছে?
(ক) আলু (খ) পটল (গ) মটরশুঁটি (ঘ) বেগুন
উত্তর: (গ) মটরশুঁটি।
ব্যাখ্যা: মটরশুঁটি তার পা জড়িয়ে ধরেছে।
৪৩. রাখাল ছেলে কখন মাঠ থেকে ফিরবে বলে মনে হয়?
(ক) দুপুরে (খ) বিকেলে (গ) সাঁঝের বেলা (ঘ) রাতে
উত্তর: (গ) সাঁঝের বেলা।
ব্যাখ্যা: সে বলেছে, সাঁঝের বেলা ফিরে এসে কথা বলবে।
৪৪. 'ও ভাই এবার আমায় ছাড় না!'—এ কথা কে বলেছে?
(ক) মটরশুঁটি (খ) রাখাল ছেলে (গ) কবি (ঘ) মা
উত্তর: (খ) রাখাল ছেলে।
ব্যাখ্যা: প্রশ্নকারীকে সে অনুরোধ করছে তাকে ছেড়ে দিতে যাতে সে মাঠে যেতে পারে।
৪৫. রাখাল ছেলের জীবন কেমন?
(ক) খুব কষ্টে ভরা (খ) প্রকৃতির সাথে একাত্ম ও আনন্দময় (গ) খুব বোরিং (ঘ) বিলাসবহুল
উত্তর: (খ) প্রকৃতির সাথে একাত্ম ও আনন্দময়।
ব্যাখ্যা: সে প্রকৃতির সান্নিধ্যে খুব আনন্দে আছে।
৪৬. 'সবুজ ঘেরা গাঁ' বলতে কী বোঝায়?
(ক) ঘাস দিয়ে ঘেরা গ্রাম (খ) গাছপালা ও তরুলতায় ঘেরা প্রাকৃতিক গ্রাম (গ) সবুজ দেয়ালের গ্রাম (ঘ) সবুজ নদীর গ্রাম
উত্তর: (খ) গাছপালা ও তরুলতায় ঘেরা প্রাকৃতিক গ্রাম।
ব্যাখ্যা: গ্রামবাংলার চিরসবুজ রূপ বোঝানো হয়েছে।
৪৭. 'দুখানা পা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) একটি পা (খ) দুটি পা (গ) তিনটি পা (ঘ) চারখানা পা
উত্তর: (খ) দুটি পা।
ব্যাখ্যা: রাখাল ছেলের দুটি পা।
৪৮. এই কবিতায় মূলত কী প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) রাখাল ছেলের দুঃখ (খ) গ্রামবাংলার সকালের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রাখাল ছেলের আনন্দ (গ) শহরের জীবন (ঘ) নদীর বর্ণনা
উত্তর: (খ) গ্রামবাংলার সকালের অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং রাখাল ছেলের আনন্দ।
ব্যাখ্যা: এটি কবিতার মূল বিষয়বস্তু।
৪৯. জসীমউদ্দীন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
(ক) ঢাকায় (খ) ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে (গ) সিলেটে (ঘ) বরিশালে
উত্তর: (খ) ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে।
ব্যাখ্যা: পল্লিকবির জন্মস্থান ফরিদপুর।
৫০. 'রাখাল ছেলে' কবিতাটি পাঠ করলে আমাদের মনে কীসের সৃষ্টি হয়?
(ক) দুঃখবোধ (খ) প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও মুগ্ধতা (গ) বিরক্তি (ঘ) ভয়
উত্তর: (খ) প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও মুগ্ধতা।
ব্যাখ্যা: প্রকৃতির এত সুন্দর বর্ণনা পড়ে আমাদের মনে মুগ্ধতা সৃষ্টি হয়।
৫ বিপরীত শব্দ ও সমার্থক শব্দ
বিপরীত শব্দ (২০টি)
প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ প্রদত্ত শব্দবিপরীত শব্দ
বাঁকাসোজাহাসেকাঁদে
গাঁ (গ্রাম)শহরভাইবোন / শত্রু
নীলসাদাপুবপশ্চিম
একলাদলবদ্ধ / সবার সাথেপ্রভাতসন্ধ্যা / সাঁঝ
ছোটোবড়োআজকাল
সকালসাঁঝ / সন্ধ্যাঘুমজাগরণ
ছাওয়াখোলা / উন্মুক্তরোদবৃষ্টি / ছায়া
রঙিনবর্ণহীন / সাদা-কালোযাইআসি
মিঠেলকড়াছেলেমেয়ে
সবুজশুষ্ক / বিবর্ণসারাঅল্প
সমার্থক শব্দ (১০টি)
প্রদত্ত শব্দসমার্থক শব্দ
গাঁগ্রাম, পল্লি
পথরাস্তা, সরণি, মার্গ
আকাশগগন, আসমান, অম্বর
মেঘজলদ, বারিদ, ঘন
হাওয়াবাতাস, পবন, সমীরণ
নাওনৌকা, তরণী
মামাতা, জননী, গর্ভধারিণী
রোদরৌদ্র, আলো, কিরণ
ফুলপুষ্প, কুসুম
স্বপনস্বপ্ন, নিদ
৬ সংক্ষিপ্ত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: 'রাখাল ছেলে' কবিতাটি কে লিখেছেন?
উত্তর: 'রাখাল ছেলে' কবিতাটি লিখেছেন পল্লিকবি জসীমউদ্দীন।
প্রশ্ন ২: রাখাল ছেলে কোন পথ দিয়ে কোথায় যাচ্ছে?
উত্তর: রাখাল ছেলে গ্রামের বাঁকা পথটি বেয়ে খোলা মাঠে বা গন্তব্যে চলে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ৩: রাখাল ছেলের গ্রামটি কেমন?
উত্তর: রাখাল ছেলের গ্রামটি নীল আকাশ নুয়ে পড়া সবুজ গাছপালায় ঘেরা।
প্রশ্ন ৪: রাখাল ছেলের পা কে ধুইয়ে দেয়?
উত্তর: রাখাল ছেলের পা সকালের শিশির ধুইয়ে দেয়।
প্রশ্ন ৫: কলার পাতা কীসের মতো দোলে?
উত্তর: কলার পাতা বাতাসে চামর বা পাখার মতো দোলে।
প্রশ্ন ৬: রাখাল ছেলের ছোটো কুটিরটি কেমন?
উত্তর: রাখাল ছেলের ছোটো কুটিরটি সোনার মতো রোদে ঝলমল করা পাতায় ছাওয়া।
প্রশ্ন ৭: একলা ঘরে বসে রাখাল ছেলেকে কে ডাকছে?
উত্তর: একলা ঘরে বসে রাখাল ছেলেকে তার মা ডাকছে।
প্রশ্ন ৮: পুব আকাশে কী দেখা যাচ্ছে?
উত্তর: পুব আকাশে রঙিন মেঘের নৌকা বা নাও ভেসে যেতে দেখা যাচ্ছে।
প্রশ্ন ৯: ঘুম থেকে জেগে রাখাল ছেলে কী দেখে?
উত্তর: ঘুম থেকে জেগে রাখাল ছেলে শিশির-ঝরা ঘাস দেখে।
প্রশ্ন ১০: রাখাল ছেলের সারা রাতের স্বপ্ন কোথায় হাসে?
উত্তর: রাখাল ছেলের সারা রাতের স্বপ্ন সকালের মিঠেল বা কোমল রোদে হাসে।
প্রশ্ন ১১: রাখাল ছেলের সাথে কে খেলা করতে চায়?
উত্তর: রাখাল ছেলের সাথে প্রভাত হাওয়া বা সকাল বেলার বাতাস খেলা করতে চায়।
প্রশ্ন ১২: কোন ফুল পাপড়ি নেড়ে রাখাল ছেলেকে ডাকছে?
উত্তর: সরষে ফুল তার পাপড়ি নেড়ে রাখাল ছেলেকে ডাকছে।
প্রশ্ন ১৩: চলতে পথে কে রাখাল ছেলের পা জড়িয়ে ধরে?
উত্তর: চলতে পথে মটরশুঁটির লতা রাখাল ছেলের দু-খান পা জড়িয়ে ধরে।
প্রশ্ন ১৪: মটরশুঁটি রাখাল ছেলেকে ডেকে কী বলছে?
উত্তর: মটরশুঁটি ডেকে বলছে, "গাঁয়ের রাখাল একটু খেলে যা!"
প্রশ্ন ১৫: রাখাল ছেলের কাছে কোথা থেকে ডাক এসেছে?
উত্তর: রাখাল ছেলের কাছে সারা খোলা মাঠ থেকে খেলার ডাক এসেছে।
প্রশ্ন ১৬: রাখাল ছেলে কখন কথা বলবে বলে জানায়?
উত্তর: রাখাল ছেলে এখন মাঠে যাচ্ছে এবং সে সাঁঝের বেলা বা সন্ধ্যায় ফিরে এসে কথা বলবে বলে জানায়।
প্রশ্ন ১৭: 'কোথা ধাও' কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: 'কোথা ধাও' কথাটির অর্থ হলো 'কোথায় ছুটে চলেছ?'।
প্রশ্ন ১৮: 'সাঁঝ-আকাশ' বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: 'সাঁঝ-আকাশ' বলতে সন্ধ্যাবেলার আকাশকে বোঝায়।
প্রশ্ন ১৯: 'আবির রং' কী?
উত্তর: 'আবির রং' বলতে সূর্যাস্তের সময়কার লালচে বা গোলাপি রংকে বোঝায়।
প্রশ্ন ২০: রাখাল ছেলের পেশা কী?
উত্তর: রাখাল ছেলের পেশা হলো মাঠে গরু-ছাগল চরানো এবং প্রকৃতির মাঝে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানো।
৭ বিস্তৃত-উত্তর প্রশ্ন (২০টি)
প্রশ্ন ১: রাখাল ছেলে কেমন পথ ধরে, কোথায় যাচ্ছে?
উত্তর: রাখাল ছেলে গ্রামের মেঠো বা বাঁকা পথ বেয়ে দ্রুত পায়ে মাঠে চলে যাচ্ছে। প্রশ্নকারী কবি তাকে বারবার ডাকছেন, কিন্তু খোলা মাঠ ও প্রকৃতির প্রবল আকর্ষণে সে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়াতে চাইছে না; সে আপন মনে তার গন্তব্যের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
প্রশ্ন ২: গ্রামটিকে 'সবুজ ঘেরা' বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে চারপাশে থাকে অবারিত ফসলের মাঠ, আম-জাম, কলার বাগান এবং লতাপাতার সমারোহ। চারদিকের এই ঘন গাছপালা ও সবুজ তরুলতার আধিক্যের কারণে দূর থেকে গ্রামটিকে সবুজে ঢাকা মনে হয়। তাই গ্রামটিকে 'সবুজ ঘেরা' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: রাখাল ছেলে কেন মায়ের কাছে যেতে চায়?
উত্তর: রাখাল ছেলে সারাদিন খোলা মাঠে প্রকৃতির সাথে খেলা করে ও কাজ করে। কিন্তু তার ছোটো কুটিরে তার মা একলা বসে তার জন্য অপেক্ষা করেন। সে জানে, দিনশেষে ঘরে ফিরে মায়ের কোলে যে স্নেহ ও শান্তি পাওয়া যায়, তা আর কোথাও নেই। তাই সে সাঁঝের বেলা মায়ের কাছে ফিরে যেতে চায়।
প্রশ্ন ৪: কবিতা থেকে গ্রামের সকালের বিবরণ দাও।
উত্তর: কবিতায় গ্রামের সকালের এক অপরূপ সতেজ ও স্নিগ্ধ রূপ ফুটে উঠেছে। সকালে ঘাসের ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু চকচক করে। পুব আকাশে রঙিন মেঘ ভেসে বেড়ায়। সকালের মিঠেল বা কোমল রোদ চারদিক আলোকিত করে তোলে। প্রভাতের স্নিগ্ধ হাওয়া বয় এবং সরষে ফুল বাতাসে দুলতে থাকে। মটরশুঁটির লতা পায়ে জড়িয়ে ধরে। সব মিলিয়ে এক আনন্দময় পরিবেশ।
প্রশ্ন ৫: কবিতার প্রকৃতির সাথে তোমার চারপাশের প্রকৃতির তুলনা করো।
উত্তর: কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতি হলো নির্মল, সবুজ ও শিশিরস্নাত গ্রামবাংলার প্রকৃতি, যেখানে খোলা মাঠ, কুঁড়েঘর, সরষে ফুল ও মটরশুঁটি রয়েছে। কিন্তু আমি যদি শহরে বাস করি, তবে আমার চারপাশের প্রকৃতি ইট-পাথরের দালানকোঠা ও যানজটে ঘেরা, যেখানে সকালের শিশির বা ফসলের মাঠ দেখা যায় না। আর যদি আমি গ্রামে থাকি, তবে কবিতার প্রকৃতির সাথে আমার চারপাশের প্রকৃতির বেশ মিল রয়েছে।
প্রশ্ন ৬: 'নীল-নোয়ানো' কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: 'নী-নোয়ানো' কথাটির অর্থ হলো নীল আকাশ যেন নিচে নেমে এসেছে বা নুয়ে পড়েছে। দিগন্ত বিস্তৃত খোলা মাঠে দাঁড়ালে মনে হয় যেন দূরের গ্রামটির সবুজ গাছপালার ওপর বিশাল নীল আকাশ আলতো করে ঝুঁকে পড়েছে। এই অপূর্ব প্রাকৃতিক দৃশ্য বোঝাতেই কবি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন।
প্রশ্ন ৭: কলার পাতা কীভাবে চামর দোলায়?
উত্তর: চামর হলো আগেকার দিনে রাজদরবারে ব্যবহৃত একধরনের বিশেষ পাখা। সকালের স্নিগ্ধ বাতাসে গ্রামের কলার বড়ো বড়ো পাতাগুলো যখন এপাশ-ওপাশ দোলে, তখন কবির কাছে মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই পাখা বা চামর দুলিয়ে রাখাল ছেলেকে বাতাস করছে।
প্রশ্ন ৮: রাখাল ছেলের কুটিরের সৌন্দর্য বর্ণনা করো।
উত্তর: রাখাল ছেলের কুটিরটি বা ঘরটি অত্যন্ত সাধারণ হলেও প্রকৃতির ছোঁয়ায় তা অসাধারণ হয়ে উঠেছে। কুটিরের চাল শুকনো সোনালি পাতা বা খড় দিয়ে ঢাকা, যা রোদের আলোয় সোনার মতো চকচক করে। আর সূর্যাস্তের সময় সন্ধ্যার আকাশের ছড়িয়ে-পড়া লালচে আবির রঙে পুরো কুটিরটি যেন রঙিন হয়ে ওঠে।
প্রশ্ন ৯: 'পুব আকাশে ছাড়ল সবে রঙিন মেঘের নাও'—লাইনটি বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: ভোরের বেলা যখন সূর্য পুব আকাশে ওঠে, তখন তার লালচে-সোনালি আলো মেঘের ওপর পড়ে মেঘগুলোকে রঙিন করে তোলে। বাতাসে সেই রঙিন মেঘগুলো যখন ধীরে ধীরে ভেসে চলে, তখন কবির কাছে মনে হয় যেন আকাশে রঙিন মেঘের ছোটো ছোটো নৌকা বা নাও ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন ১০: রাখাল ছেলের সারা রাতের স্বপ্ন কীভাবে মিঠেল রোদে হাসে?
উত্তর: সারা রাত ঘুমের ঘোরে রাখাল ছেলে আগামীকালের আনন্দময় দিন ও খেলার স্বপ্ন দেখে। সকালে ঘুম থেকে উঠে যখন সে ঘাসের ওপর শিশির এবং মিষ্টি রোদ দেখে, তখন তার সেই স্বপ্নগুলোই যেন বাস্তবের রূপ পেয়ে সকালের সেই কোমল বা মিঠেল রোদের আলোয় আনন্দে হাসতে থাকে।
প্রশ্ন ১১: প্রভাত হাওয়া ও সরষে ফুল কীভাবে রাখাল ছেলের সাথে যোগাযোগ করছে?
উত্তর: সকাল বেলা যখন স্নিগ্ধ বাতাস বয়, তখন মনে হয় প্রভাত হাওয়া যেন রাখাল ছেলের ভাই হয়ে তার সাথে খেলা করতে চাইছে। সেই বাতাসে যখন হলদে সরষে ফুলের পাপড়িগুলো দুলতে থাকে, তখন রাখাল ছেলের মনে হয় সরষে ফুলগুলো যেন হাত নেড়ে বা ইশারা করে তাকে খেলার জন্য কাছে ডাকছে।
প্রশ্ন ১২: মটরশুঁটি কীভাবে রাখাল ছেলেকে মাঠে যেতে বাধা দিচ্ছে বা ডাকছে?
উত্তর: রাখাল ছেলে যখন মাঠের পথ ধরে ছুটে যায়, তখন রাস্তার দুই ধারের মটরশুঁটির লতাগুলো তার দুই পা জড়িয়ে ধরে। কবির কল্পনায় মনে হয়, মটরশুঁটিগুলো যেন তাকে জড়িয়ে ধরে আদর করে বলছে, "ও গাঁয়ের রাখাল ছেলে, তুই আমাদের সাথে একটু খেলা করে যা!"
প্রশ্ন ১৩: 'সারা মাঠের ডাক এসেছে, খেলতে হবে ভাই!'—কথাটি কে, কেন বলেছে?
উত্তর: কথাটি রাখাল ছেলে প্রশ্নকারীকে (কবিকে) বলেছে। সকালের মনোরম প্রকৃতি, প্রভাত হাওয়া, সরষে ফুল, মটরশুঁটি—সবাই যেন তাকে মাঠে যাওয়ার জন্য ডাকছে। প্রকৃতির এই অমোঘ আকর্ষণে সে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে, তাই সে প্রশ্নকারীকে তাকে ছেড়ে দিতে বলছে যাতে সে মাঠের ডাকে সাড়া দিয়ে খেলতে পারে।
প্রশ্ন ১৪: রাখাল ছেলে কখন এবং কেন কথা বলবে বলে জানিয়েছে?
উত্তর: রাখাল ছেলে জানিয়েছে যে সে সাঁঝের বেলা বা সন্ধ্যায় কথা বলবে। কারণ, এখন সকালবেলা এবং সারা মাঠ তাকে খেলার জন্য ডাকছে। সারাদিন মাঠে কাজ ও প্রকৃতির সাথে খেলা শেষে, সন্ধ্যায় যখন সে তার কুটিরে ফিরবে, তখন সে স্থির হয়ে বসে সবার সাথে কথা বলার সময় পাবে।
প্রশ্ন ১৫: কবি জসীমউদ্দীনকে কেন পল্লিকবি বলা হয়?
উত্তর: জসীমউদ্দীন তাঁর কবিতায় গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের জীবন, হাসি-কান্না, রাখাল ছেলে, মাঠ-ঘাট, নদীনালা এবং প্রকৃতির অত্যন্ত নিখুঁত ও জীবন্ত চিত্র অঙ্কন করেছেন। বাংলার পল্লী বা গ্রামের রূপ তার কাব্যে সবচেয়ে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে বলে তাঁকে 'পল্লিকবি' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রশ্ন ১৬: এই কবিতায় রাখাল ছেলের জীবনের কোন দিকটি প্রধান হয়ে উঠেছে?
উত্তর: এই কবিতায় রাখাল ছেলের জীবনের বাঁধনহারা স্বাধীনতা, আনন্দ এবং প্রকৃতির সাথে তার গভীর ঐক্যের দিকটি প্রধান হয়ে উঠেছে। সে কোনো জাগতিক নিয়মকানুনে আবদ্ধ নয়, বরং সে মুক্ত বিহঙ্গের মতো প্রকৃতির কোলে উড়ে বেড়ায় এবং প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের সাথে তার যেন এক নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।
প্রশ্ন ১৭: 'শিশির ধোয়ায় পা'—এর মাধ্যমে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: হেমন্ত বা শীতের ভোরে ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু শিশির জমে থাকে। রাখাল ছেলে যখন খালি পায়ে সেই ঘাসের ওপর দিয়ে হেঁটে যায়, তখন শিশিরের ছোঁয়ায় তার পা ভিজে যায়। কবির কল্পনায় মনে হয়, প্রকৃতি যেন পরম স্নেহে তার নিজের জল দিয়ে রাখাল ছেলের পা ধুইয়ে দিচ্ছে।
প্রশ্ন ১৮: এক শব্দে উত্তর দাও: গাঁয়ের পথটি কেমন? কুটিরটি কেমন? সকালের রোদটা কেমন? কোন আকাশে রঙিন মেঘ দেখা যাচ্ছে? ঘুম থেকে ওঠার পর কেমন ঘাস দেখা যায়?
উত্তর:
গাঁয়ের পথটি কেমন? -> বাঁকা
কুটিরটি কেমন? -> ছোট্ট
সকালের রোদটা কেমন? -> মিঠেল
কোন আকাশে রঙিন মেঘ দেখা যাচ্ছে? -> পুব আকাশে
ঘুম থেকে ওঠার পর কেমন ঘাস দেখা যায়? -> শিশির-ঝরা
প্রশ্ন ১৯: কবিতায় যেসব জিনিসের কথা আছে, সেগুলোর রং লেখো: কলার পাতা, গাঁয়ের পথ, কুটিরের পাতা, সাঁঝ-আকাশ, মেঘ, সরষে ফুল, মটরশুঁটি।
উত্তর:
কলার পাতা -> সবুজ
গাঁয়ের পথ -> মাটি বা ধূসর রঙের (কাব্যে বাঁকা বলা হয়েছে)
কুটিরের পাতা -> সোনালি
সাঁঝ-আকাশ -> আবির বা লালচে
মেঘ -> রঙিন
সরষে ফুল -> হলুদ
মটরশুঁটি -> সবুজ
প্রশ্ন ২০: 'রাখাল ছেলে' কবিতাটি তোমার কেন ভালো লেগেছে?
উত্তর: 'রাখাল ছেলে' কবিতাটি আমার খুব ভালো লেগেছে কারণ এই কবিতায় সকালবেলার গ্রামবাংলার প্রকৃতির এত সুন্দর ও জীবন্ত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যা পড়লে চোখের সামনে যেন একটা ছবি ভেসে ওঠে। রাখাল ছেলের স্বাধীন জীবন, মটরশুঁটির লতা জড়িয়ে ধরা এবং সরষে ফুলের পাপড়ি নাড়ার দৃশ্য আমাকে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়।
৮ কবিতার মূলভাব লিখন
মূলভাব:
পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের লেখা 'রাখাল ছেলে' কবিতায় গ্রামবাংলার ভোরের এক অপরূপ ও সতেজ প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং রাখাল ছেলের আনন্দময় জীবনের কথা ফুটে উঠেছে। সকালবেলায় রাখাল ছেলে বাঁকা পথ ধরে যখন মাঠে যায়, তখন প্রকৃতির সবকিছু যেন তাকে পরম স্নেহে কাছে ডাকে। কলার পাতা তাকে বাতাস করে, শিশির তার পা ধুইয়ে দেয়, প্রভাত হাওয়া ও সরষে ফুল তাকে খেলার সাথী বানাতে চায় এবং মটরশুঁটি তার পা জড়িয়ে ধরে। রাখাল ছেলের ছোট্ট কুটিরটি সোনার পাতায় ছাওয়া এবং সন্ধ্যায় মা সেখানে তার জন্য অপেক্ষা করেন। প্রকৃতির ডাকে ব্যাকুল রাখাল ছেলে তাই এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে সারা মাঠের সাথে খেলতে ছুটে যায় এবং সাঁঝের বেলা ঘরে ফিরে কথা বলবে বলে জানায়। এটি প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্কের এক অপূর্ব চিত্র।
৯ পদ নির্ণয় ও ক্রিয়ার কাল (১০টি)
সেট ১: পদ নির্ণয় (৫টি)
  • ১. রাখাল ছেলে মাঠে যাচ্ছে।
  • ২. পুব আকাশে রঙিন মেঘ ভাসছে।
  • ৩. সে সাঁঝের বেলা কথা বলবে।
  • ৪. মা একলা বসে ডাকছে।
  • ৫. প্রভাত হাওয়া এবং সরষে ফুল তাকে ডাকছে।
উত্তর: ১. বিশেষ্য (নাম পদ); ২. বিশেষণ (মেঘের গুণ/অবস্থা); ৩. সর্বনাম (নামের পরিবর্তে); ৪. ক্রিয়া (কাজ করা বোঝাচ্ছে); ৫. অব্যয় (দুটি পদকে যুক্ত করেছে)।
সেট ২: ক্রিয়ার কাল নির্ণয় (৫টি)
  • ১. রাখাল ছেলে কোথায় চলে যাও?
  • ২. সে গতকাল মাঠে খেলেছিল।
  • ৩. সাঁঝের বেলা আমি কথা কইব (বলব)।
  • ৪. পুব আকাশে রঙিন মেঘ দেখা যায়।
  • ৫. শিশির আমার পা ধুইয়ে দিচ্ছিল।
উত্তর: ১. বর্তমান কাল (ঘটমান বর্তমান); ২. অতীত কাল; ৩. ভবিষ্যৎ কাল; ৪. বর্তমান কাল (সাধারণ বর্তমান); ৫. অতীত কাল (ঘটমান অতীত)।
১০ প্রশ্ন তৈরি ও বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (১০টি)
সেট ১: প্রশ্ন তৈরি (৫টি)
অনুচ্ছেদ: রাখাল ছেলে বাঁকা গাঁয়ের পথ বেয়ে মাঠে চলে যায়। সকালের শিশির তার পা ধুইয়ে দেয়। তার ছোট্ট কুটিরটি সোনার পাতায় ছাওয়া। একলা ঘরে বসে তার মা তাকে ডাকছে। সে সাঁঝের বেলা ফিরে এসে সবার সাথে কথা বলবে।
  • ১. (কোথায়):
  • ২. (কী):
  • ৩. (কেমন):
  • ৪. (কে):
  • ৫. (কখন):
উত্তর:
১. রাখাল ছেলে বাঁকা গাঁয়ের পথ বেয়ে কোথায় যায়?
২. সকালের শিশির তার কী ধুইয়ে দেয়?
৩. তার ছোট্ট কুটিরটি কেমন পাতায় ছাওয়া?
৪. একলা ঘরে বসে তাকে কে ডাকছে?
৫. সে কখন ফিরে এসে সবার সাথে কথা বলবে?
সেট ২: বিরামচিহ্ন প্রয়োগ (৫টি বাক্য)
  • প্রদত্ত অনুচ্ছেদ: রাখাল ছেলে রাখাল ছেলে বারেক ফিরে চাও বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও ওই যে দেখো নীল নোয়ানো সবুজ ঘেরা গাঁ কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা সেথায় আছে ছোট্ট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া
  • সঠিক রূপ:
    "রাখাল ছেলে! রাখাল ছেলে! বারেক ফিরে চাও।
    বাঁকা গাঁয়ের পথটি বেয়ে কোথায় চলে যাও?"
    "ওই যে দেখো নীল-নোয়ানো সবুজ ঘেরা গাঁ,
    কলার পাতা দোলায় চামর শিশির ধোয়ায় পা,
    সেথায় আছে ছোট্ট কুটির সোনার পাতায় ছাওয়া,"
১১ যুক্তবর্ণ বিভাজন ও শব্দগঠন (১০টি)
  • ট্ট = (ট + ট) = ছোট্ট, বাট্টা
  • প্ত = (প + ত) = সুপ্ত, লিপ্ত, দীপ্ত
  • ন্ত = (ন + ত) = শান্ত, প্রান্ত, অনন্ত
  • ঙ্গ = (ঙ + গ) = রঙ্গ, অঙ্গ, জঙ্গল
  • ন্ধ = (ন + ধ) = বন্ধ, গন্ধ, অন্ধ
  • ম্ব = (ম + ব) = কম্বল, লম্বা
  • জ্ঞ = (জ + ঞ) = জ্ঞান, বিজ্ঞান
  • চ্ছ = (চ + ছ) = ইচ্ছা, আচ্ছাদন
  • ক্ষ = (ক + ষ) = রক্ষা, শিক্ষা
  • ল্ল = (ল + ল) = পল্লি, উল্লাস
১২ এককথায় প্রকাশ (২০টি)
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১. নীল আকাশ নেমে এসেছে এমননীল-নোয়ানো
২. লালচে বা গোলাপি রংআবির রং
৩. একবার মাত্রবারেক
৪. কোথায় ছুটে চলেছ?কোথা ধাও
৫. সকাল বেলার বাতাসপ্রভাত হাওয়া
৬. গরিব মানুষের থাকার ছোট ঘরকুটির / কুঁড়েঘর
৭. শুকনা সোনালি পাতা দিয়ে ঢাকাসোনার পাতায় ছাওয়া
৮. সন্ধ্যাবেলার আকাশসাঁঝ-আকাশ
৯. সবুজ গাছগাছালিতে ভরা গ্রামসবুজ ঘেরা গাঁ
১০. মাঠে পশু পালন করে যে ছেলেরাখাল ছেলে
বাক্যাংশএককথায় প্রকাশ
১১. যা আগে দেখা যায়নি এমনঅপূর্ব
১২. ঘুমিয়ে যা দেখা হয়স্বপন / স্বপ্ন
১৩. মিষ্টি বা কোমল রোদমিঠেল রোদ
১৪. জলের ছোট ছোট বিন্দু যা ভোরে ঘাসের ওপর জমেশিশির
১৫. নদীর জলে চলাচলের বাহননাও / নৌকা
১৬. ফুলের রঙিন পাপড়িসমূহপাপড়ি
১৭. এক প্রকার লম্বা লতানো সবজিমটরশুঁটি
১৮. যে পথ আঁকাবাঁকাবাঁকা পথ
১৯. যে নিজে নিজে থাকেএকলা
২০. যাকে সহজে ভোলানো যায় নানাছোড়বান্দা