অধ্যায়: দূরের পাল্লা
পঞ্চম শ্রেণি - বাংলা
🧠 ৩. এক কথায় প্রশ্নোত্তর (গুরুত্বপূর্ণ তথ্য)
- ১. 'ছিপখান' হলো— একটি সরু নৌকা। ⭐⭐⭐
- ২. সরু নৌকায় মাল্লা বা মাঝি ছিল— তিন জন। ⭐⭐⭐
- ৩. তিনজন মাল্লা বা মাঝি দূরে যাত্রা করে— দিনভর। ⭐⭐⭐
- ৪. দূরে তীরের পাড় ঢাকা— ঝোপঝাড় জঞ্জালে। ⭐⭐⭐
- ৫. শৈবালগুলো রয়েছে— পান্নার টাঁকশালের মতো। ⭐⭐⭐
- ৬. চর জাগলে দেখা যায়— কঞ্চির তৈরি ঘর। ⭐⭐
- ৭. বন-হাঁস তার ডিম ঢাকে— শ্যাওলায়। ⭐⭐
- ৮. ডুবডুপ করে ডুব দেয়— ঘোমটা পরা বউ। ⭐⭐
- ৯. ঘোমটা পরা বউটির কলসি— ঝকঝকে। ⭐
- ১০. ঘোমটা পরা বউটির মন— উন্মন্ / উদাস। ⭐
- ১১. নৌকাটি এগিয়ে যায়— মন্থর গতিতে। ⭐
✍️ ৪. শূন্যস্থান পূরণ
সেট-১ ⭐⭐⭐
- ক. ছিপখান্ তিন দাঁড়।
- খ. চৌপর দিন-ভোর দ্যায় দূর-পাল্লা।
- গ. পাড়াময় ঝোপঝাড়।
- ঘ. বন-হাঁস ডিম তার শ্যাওলায় ঢাকছে।
- ঙ. দ্যায় ডুব টুপ টুপ ঘোমটার বৌটি।
সেট-২ ⭐⭐
- ক. পাড়ময় ঝোপঝাড় জঞ্জাল।
- খ. জলময় শৈবাল পান্নার টাঁকশাল।
- গ. কঞ্চির তীর-ঘর ঐ-চর জাগছে।
- ঘ. চুপ চুপ—ঐ ডুব দেয় পানকৌটি।
- ঙ. ঝকঝক কলসির বকবক শোন গো।
- চ. তিন-দাঁড় ছিপখান্ মন্থর যাচ্ছে।
- ছ. তিনজন মাল্লায় কোন্ গান গাচ্ছে।
📝 ৫. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
সংক্ষিপ্ত⭐⭐⭐
প্রশ্ন ১. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতার নদীর পাড় কেমন?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় কবিতার নদীর পাড় ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। এর চারিদিক জঞ্জাল আর জঞ্জাল।
সংক্ষিপ্ত⭐⭐⭐
প্রশ্ন ২. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় নদীতে কে কে ডুব দেয়?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় নদীতে ডুব দেয় পানকৌটি বা পানকৌড়ি। এছাড়াও টুপটুপ করে ডুব দেয় ঘোমটায় মুখ ঢাকা বৌটি。
সংক্ষিপ্ত⭐⭐⭐
প্রশ্ন ৩. মাঝিরা কেমন করে নৌকা চালায়?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় তিনজন মাঝি তিনটি বৈঠা নিয়ে নৌকা চালায়। তারা মন্থর অর্থাৎ ধীর গতিতে নৌকা চালায় এবং নৌকা চালানোর সময় তারা গান গায়।
সংক্ষিপ্ত⭐⭐
প্রশ্ন ৪. নদী থেকে কলসিতে জল ভরার দৃশ্য কেমন?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় ঘোমটা দেওয়া বউটি নদীতে আসে। নদীতে এসে কলসিতে জল ভরে। তার জল নেওয়ার কলসিটা ঝকঝকে। কলসিতে জল ভরার সময় বকবক শব্দ হয়। এমন জল ভরার দৃশ্য সুন্দর।
সংক্ষিপ্ত⭐⭐
প্রশ্ন ৫. বন-হাঁস কী করছে?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় কবি বলেছেন নদীতে চর জেগেছে। নদীর জেগে ওঠা চরে বন-হাঁস ডিম দিয়েছে। ডিমগুলো সে শ্যাওলা দিয়ে ঢেকে রাখছে।
সংক্ষিপ্ত⭐⭐
প্রশ্ন ৬. ঘোমটা দেওয়া বউটি কী করছিল?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় ঘোমটা দেওয়া বউটি নদীর ঘাটে যায়। টুপ টুপ করে ডুব দেয়। কলসিতে পানি ভরে। পানি ভরে ঘোমটা ফাঁকে আনমনে তাকিয়ে থাকে।
সংক্ষিপ্ত⭐
প্রশ্ন ৭. শৈবালকে কেন টাঁকশাল বলা হয়েছে?
উত্তর: টাঁকশাল হলো টাকা তৈরির স্থান যেখানে অনেক টাকা বা মূল্যবান সম্পদ থাকে। নদীর পানিতে সবুজ রঙের শৈবাল জন্মে। শৈবাল মূলত প্রকৃতির মূল্যবান একটি জলজ উদ্ভিদ যার সঙ্গে কবি টাঁকশালের তুলনা করেছেন। কারণ শৈবাল প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে যা প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এই উপমার মাধ্যমে কবি প্রাকৃতিক সম্পদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রাচুর্যকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
সংক্ষিপ্ত⭐
প্রশ্ন ৮. কবিতাটি পড়তে ভালো লাগে কেন?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতাটি পড়তে ভালো লাগার কারণ এর ছন্দ ও তাল। কবি মিল-শব্দ ব্যবহার করে কবিতাটিকে গতিময় করেছেন। এই গতিময়তা এবং নদী ও নদীর তীরের সুন্দর একটি বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বলে কবিতাটি পড়তে ভালো লাগে।
📚 ৬. বর্ণনামূলক / রচনামূলক প্রশ্ন ও উত্তর
বর্ণনামূলক⭐⭐⭐
প্রশ্ন ১. মাঝিরা কীভাবে দূরে যাত্রা করে?
উত্তর: মাঝিরা দূরে যাত্রা করার জন্য তিন দাঁড়ের সরু নৌকা নেয়। নৌকা বাইতে সেখানে তিনজন মাঝি থাকে। তারা ধীরে ধীরে নৌকা বায়। নৌকা বাইতে বাইতে তারা গান গায়। সারাদিন তারা এভাবে দূরের যাত্রা করে।
বর্ণনামূলক⭐⭐⭐
প্রশ্ন ২. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতার মাঝিরা সারা দিন কী কী করে?
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় একটি নৌকায় তিনজন মাঝি রয়েছে। তিনজন মাঝি তিনটি দাঁড় নিয়ে সারা দিন দূরে থেকে দূরে যাওয়া-আসা করে। তারা মাঝেমধ্যে নৌকা বাইতে বাইতে গান গায়। তারা মন্থর গতিতে এগিয়ে চলে এবং যাওয়া আসার মাঝে প্রকৃতির নানা দৃশ্য দেখে।
মাঝিরা নৌকা বেয়ে যেতে যেতে নদীর পাড়ের ঝোপঝাড় ও জঞ্জাল দেখে। নদীর পানিতে জমে থাকা শৈবাল দেখে। এছাড়াও তারা দেখে চরের কঞ্চির তৈরি ঘর, বন-হাঁসের শ্যাওলায় লুকিয়ে রাখা ডিম, পানকৌড়ির পানিতে ডুব দেওয়া এবং নদীর ঘাটে ঘোমটা পরা বউয়ের কলসিতে পানি নেওয়ার দৃশ্য। এভাবেই মাঝিরা তাদের সারা দিন কাটায়।
মাঝিরা নৌকা বেয়ে যেতে যেতে নদীর পাড়ের ঝোপঝাড় ও জঞ্জাল দেখে। নদীর পানিতে জমে থাকা শৈবাল দেখে। এছাড়াও তারা দেখে চরের কঞ্চির তৈরি ঘর, বন-হাঁসের শ্যাওলায় লুকিয়ে রাখা ডিম, পানকৌড়ির পানিতে ডুব দেওয়া এবং নদীর ঘাটে ঘোমটা পরা বউয়ের কলসিতে পানি নেওয়ার দৃশ্য। এভাবেই মাঝিরা তাদের সারা দিন কাটায়।
বর্ণনামূলক⭐⭐
প্রশ্ন ৩. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় প্রকৃতির যে রূপ বর্ণনা করা হয়েছে তা নিজের ভাষায় লেখ।
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় একটি নদীর তীরের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নদীর পাড়গুলো বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও জঞ্জালে পরিপূর্ণ হয়ে আছে। চরের বুকে বন-হাঁসেরা ডিম পাড়ে এবং সেই ডিমগুলো পরম যত্নে সবুজ শ্যাওলা দিয়ে ঢেকে রাখে। নদীর শান্ত পানিতে পানকৌড়ি নামের পাখিগুলো মনের সুখে ডুব দেয়। পানির ওপরে ভেসে থাকা সবুজ শৈবাল বা শ্যাওলাগুলোকে দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতি সবুজ রঙের দামি শাড়ি বিছিয়ে রেখেছে। এই মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়েই তিন মাঝির একটি সরু নৌকা ধীর গতিতে গান গাইতে গাইতে এগিয়ে চলে।
বর্ণনামূলক⭐⭐
প্রশ্ন ৪. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় নদীর ঘাটে গ্রামীণ বধূর কর্মকাণ্ড ও মনের ভাব কেমন তা বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় গ্রামীণ বধূর একটি চমৎকার ও স্বাভাবিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। গ্রামের ঘোমটা পরা বধূটি নদীর ঘাটে আসে জল নেওয়ার জন্য। তার হাতের কাঁসার বা মাটির কলসিটি ছিল একদম ঝকঝকে। ঘাটে এসে সে কলসি ডুবিয়ে পানি ভরে, আর তখন পানির ভেতরে ‘বকবক’ করে একটি সুন্দর শব্দের সৃষ্টি হয়। পানি ভরা শেষ করে বধূটি ঘাটে দাঁড়িয়ে থাকে এবং তার মাথার ঘোমটার ফাঁক দিয়ে নদীর পানে আনমনে তাকিয়ে থাকে। তার এই তাকিয়ে থাকার মধ্যে একটি উদাস বা উন্মন্ ভাব প্রকাশ পায়।
বর্ণনামূলক⭐
প্রশ্ন ৫. "জলময় শৈবাল— পান্নার টাঁকশাল"— এই পঙ্ক্তিটির দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
উত্তর: এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি নদীর পানির ওপর ভেসে থাকা শ্যাওলার প্রাচুর্য ও তার অসীম সৌন্দর্যকে বুঝিয়েছেন। ‘টাঁকশাল’ হলো এমন একটি সুরক্ষিত জায়গা যেখানে সরকারি মুদ্রা বা টাকা তৈরি করা হয় এবং যেখানে প্রচুর ধন-সম্পদ জমা থাকে। অন্যদিকে ‘পান্না’ হলো একটি মূল্যবান সবুজ রঙের রত্ন। কবি দেখতে পান যে, নদীর জলময় অংশে প্রচুর সবুজ রঙের শৈবাল বা শ্যাওলা জমে আছে। সূর্যের আলোয় এই সবুজ শৈবালগুলোকে দেখতে হুবহু চকচকে মূল্যবান পান্না রত্নের মতো মনে হয়। প্রকৃতি যেন সেখানে বিপুল পরিমাণ সবুজ রূপের ধন-সম্পদ জমা করে রেখেছে, এই চমৎকার বিষয়টি বোঝাতেই কবি শৈবালকে পান্নার টাঁকশালের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
🎯 ৭. বহুনির্বাচনি প্রশ্ন (MCQ)
১. ছিপটিতে কতটি দাঁড় ছিল?
⭐⭐⭐২. ছিপে কত জন মাল্লা ছিল?
⭐⭐⭐৩. কারা দিন-ভর দূরে পাল্লা দেয়?
⭐⭐⭐৪. নদীর পাড়ময় কী রয়েছে?
⭐⭐⭐৫. শৈবাল কোথায় জন্মে?
⭐⭐⭐৬. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় কীসের টাঁকশালের কথা বলা হয়েছে?
⭐⭐⭐৭. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় ঘরগুলো কোথায় অবস্থিত?
⭐⭐⭐৮. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় ঘরগুলো কী দিয়ে তৈরি?
⭐⭐⭐৯. কে শ্যাওলা দিয়ে ডিম ঢেকে রাখে?
⭐⭐⭐১০. বন-হাঁস কোথায় ডিম পাড়ে?
⭐⭐⭐১১. ঘোমটা দেওয়া বউ কী নিয়ে নদীতে আসে?
⭐⭐১২. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় পানকৌটি কী করে?
⭐⭐১৩. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় উল্লিখিত কলসি দেখতে কেমন?
⭐⭐১৪. মাল্লারা নৌকা বাইতে বাইতে কী করে?
⭐⭐১৫. ছিপ কেমন গতিতে যায়?
⭐⭐১৬. ‘উন্মন্’ শব্দের অর্থ কী?
⭐⭐১৭. ‘মাল্লা’ শব্দের অর্থ কী?
⭐⭐১৮. ‘পান্না’ কোন রঙের রত্ন?
⭐⭐১৯. টাকা তৈরির কারখানাকে কী বলে?
⭐⭐২০. ‘মন্থর’ শব্দের অর্থ কী?
⭐⭐২১. ‘চৌপর’ শব্দের সঠিক অর্থ কোনটি?
⭐২২. ‘ছিপ’ বলতে মূলত কেমন নৌকাকে বোঝায়?
⭐২৩. ‘জঞ্জাল’ শব্দের অর্থ কী?
⭐২৪. ‘দিনভর’ শব্দের অর্থ নিচের কোনটি?
⭐২৫. ‘পাড়ময়’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
⭐২৬. নদীতে কলসিতে পানি ভরার সময় কেমন শব্দ হয়?
⭐২৭. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
⭐২৮. বউটি কীভাবে নদীতে ডুব দেয়?
⭐২৯. ‘তীর’ শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
⭐৩০. ‘ঝকঝকে’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
⭐৩১. ‘উন্মন্’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
⭐৩২. ‘মন্থর’ শব্দের বিপরীত শব্দ কোনটি?
⭐৩৩. ‘দাঁড়’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
⭐৩৪. ‘দূরের পাল্লা’ কবিতায় মূলত কীসের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে?
⭐৩৫. মাঝিরা কোন গতিতে নৌকা চালিয়ে এগিয়ে যায়?
⭐